বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পেত্নীর তাড়া

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এম. রকি মাহমুদ (০ পয়েন্ট)

X ধুপ করে কারেন্ট চলে গেল । সময় দেখলাম রাত প্রায় ১২টা । গরমের ছুটিতে বাড়িতে এসে এই এক বিপদে পরেছি । যখন তখন কারেন্ট চলে যায় । ঢাকায় তো একটা নিয়ম মাফিক কারেন্ট যায় আর আসে কিন্তু এখানে গেলে আর আসার নাম থাকে না । তার উপর আমাদের এই এলাকাটায় ছন্নছাড়া গরম পরছে । কাল দেশের সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি উঠেছিল । আজও কম কিছু না । জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি মাঝে মাঝে বিদুৎ চমকাচ্ছে । তারমানে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে । কিন্তু পরিবেশ কেমন একটা ভ্যাবশা গরম । এই অবস্থায় ঘরে বসে থাকার উপায় নেই । আমি দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলাম । আমাদের বাড়ির ঠিক ডান পাশে বিশাল বাশের ঝার । ঠিক আমার বাধরুমটার পাশে । রাতের বেলা বাথরুমে গেলে মনে হয় কেউ যেন বাধরুমের ছাদের উপর হাটছে । আসলে যখন বাতাস হয় বাশের কোঞ্চি গুলো ছাদের সাথে আঘাত করে তাই মনে হয় কেউ যেন ছাদের উপর হাটছে । প্রথম বার শুনলে যে কারো ভয় লেগে যেতে পারে । কিন্তু আমার কিছু মনে হয় না । বাড়ির সীমানা পেরিয়ে বড় একটা কানা পুকুর আছে । বর্ষা কালে খুব পানি জমে কিন্তু এখন একদম শুকনো । প্রতিদিন বিকালে এখন ঐ পুকুরে ক্রিকেট খেলা হয় । দুর থেকে দেখতে ভালই লাগে । কেমন একটা স্টেডিয়াম স্টেডিয়াম ভাব । কানা পুকুরটার পাশে মকছেদ হাজির আম বাগান । অবশ্য আম বাগান না বলে আম বাগানের ছেলে বললেই ভাল । আগে অনেক বড় বড় গাছ ছিল । কিছুদিন আগে সবগুলো কাছ কেটে ফেলা হয়েছে । ওখানে আবার লাগানো হয়েছে আমের চারা । সেই হিসাবে শিশু আমের বাগান । আমি কানা পুকুরের পাড়ে একবার আম বাগানটার দিকে তাকালাম । যাবো কি ঠিক বুঝতে পারছি না । আমি খুব যে সাহসী তা বলবো না তবে একেবারে ভীতু না । তার উপর এতো রাতে একা একা ঐ আম বাগানের মধ্যে যাওয়া ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না । ভুতপেত্নী না হোক সাপটাপের ভয় তো আছে । আর চারিদিকে ঘুরঘুটে অন্ধকার । ঢাকার মত না । রাত ১২ মানে এখানে নিশুতি রাত । তাছাড়া মা আমার এরকম রাত জাগার অভ্যাসটা খুব ভাল করে জানেন । খুব ভাল করে বলে দিয়েছেন আম বাগানের দিকে যেন না যাই । ভয়টয় পেতে পারি । তার অবশ্য কারনও আছে । মাস ছয়েক আগের কথা । তখন আম বাগানে সব গাছ গুলোই ছিল । একদিন সকাল বেলা শোনা যায় একটা আম গাছের ডালে ওড়না পেচিয়ে একটা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে । আমি নিজে দেখতে গেছিলাম সেই লাশ । কি এক বিভত্ৎশ দৃশ্য ! আমি এখনও ..! থাক এখন মনে করতে চাই না ! আমি আর একটু কাছে গেলাম আম বাগান ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চমকালো । আমিও চমকালাম ! একবার মনে হল আমি ভুল দেখলাম । কিন্তু আমি ঐদিকটাতেই তাকিয়ে ছিলাম । ভুল হবার কথা নয় । যে কয়েক মুহুর্তের জন্য বিদ্যুৎ চমকালো ঐ সময় দেখলাম পুরো আম বাগান টা যেন পুরোনো সেই রুপে ফেরৎ এসেছে । মানে পুরো বাগান জুরে কেবল বড় বড় আম গাছ ! কিন্তু তা কি করে হয় ? আমি তো বিকেল বেলাতেও এখানে ছিলাম । তখনও তো এমন কিছুই ছিল না । গাছ গুলো ছিল সব ছোট ছোট । আমার সমান হবে । এখনই আমার ঘরে ফিরে যাওয়া উচিত্ । কিন্তু এক অদম্য কৌতুহল আমাকে আম বাগানটার দিকে নিয়ে গেল । আমার যেন মনে হচ্ছে আমাকে ঐ খানে যেতেই হবে । যখন আম বাগানে প্রবেশ করতে যাবো ঠিক তখনই আবারও বিদ্যুৎ চমকালো । এবং আমি আবারও একই দৃশ্য দেখলাম । পুরো বাগানটা বড় বড় গাছে ভর্তি । আমি মন্ত্রমগ্ধের মত বাগানে প্রবেশ করলাম । আর একটা অদ্ভুদ ব্যাপার আমি লক্ষ্য করলাম যে চারিপাশে কেমন জানি একটা আবছা আলোয় আলোকিত হয়ে গেল । আগে যেমন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না , এখন সব কিছু দেখা যাচ্ছে । আমি অবাক হয়ে সব গাছগুলোকে দেখছি । আমি জানতাম যে মানুষ কেবল মরা মানুষ দেখে অথবা বলা চলে কেবল মানুষের ভুতই মানুষ দেখতে পায় । আমি তো মরা গাছের ভুতও দেখতে পাচ্ছি । জগদিস চন্দ্র বসু যে আবিষ্কার করেছিলেন গাছের প্রান আছে আর আজ আমি আবিষ্কার করলাম সেই প্রান মরে ভুতও তৈরি হতে পারে ! কিন্তু তাই বলে কেবল গাছের ভুতই দেখবো মানুষের ভুত দেখবো না এটা কেমন হয় ? কেন জানি শুধু গাছের ভুত দেখে ভয় পেতে ইচ্ছে করছে না । যদি দু একটা ... আমার মনের কথা মনেই রয়ে গেল । একটা গাছের সামনে আসতেই আমি দ্বিতীয়বারের মত সেই বিভৎশ দৃশ্যটা দেখতে পেলাম । দেখলাম আমগাছের নিচু একটা ডাল থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় সেই মেয়েটা ঝুলে আছে । মেয়েটার হাত দুটো সামনে নিশ্চল হয়ে আছে । গলাটা অস্বাভাবিক ভাবে একদিকে কাত হয়ে আছে । সব থেকে ভয়ংকর লাগছে মেয়েটার জ্বিব্বাহ টা । অর্ধেকটার বেশি বের হয়ে আছে । কেমন একটা গা ঘিনঘিন করা অবস্থা । আর চোখ গুলো যেন এখন জ্বীবন্ত । জ্বলজ্বল করছে ! আমার সাহস হল না ঐ খানটাতে দাড়িয়ে থাকার । ঘুরে এক দৌড় মারলাম । বাগান থেকে বাড়ির পায়ে হাটা দুমিনিটের পথ । দৌড়ে গেলে তিরিশ সেকেন্ডও লাগার কথা না । কিন্তু আমার কাছে মনে হল যেন তিরিশ বছর ধরে আমি দৌড়াচ্ছি । চারিপাশে কোন কোন আওয়াজ নেই কেবল আমার দৌড়ানো আর বুকের স্পন্দনের আওয়াজ ছাড়া । আমার আসলে মনে হচ্ছে যে আমি দৌড়াচ্ছি কিন্তু আসলেই কি আমি দৌড়াচ্ছি ? তাহলে এতো সময় লাগবে কেন ? হঠাৎ আমার পিছনে কিছের যেন আওয়াজ পেলাম । কেউ কি আসছে ? ধুপধুপ আওয়াজ পাচ্ছি পিছনে । আমার আর পিছনে তাকানোর সাহস হল না । আমি আমার দৌড়ানোর গতি আরো একটু বাড়িয়ে দিলাম । যে করেই হোক আমাকে বাড়ির গেট টা পর্যন্ত পৌছাতেই হবে । ঐ তো দেখা যাচ্ছে গেট । কারেন্ট চলে এসেছে বোধহয় ! চল্লিশ পাওয়ারের বাল্বটাও জ্বলছে । ঐ আলো যেন আমার দৌড়ানোর গতি আরো একটু বাড়িয়ে দিল । পেছনের ধুপধাপ করে এগিয়ে আশাটাও যেন একটু বেড়ে গেল ... . ভাই-বোনেরা যদি ভালো লাগে তবে 1+ Star দিয়ো...&...কেমন লাগলো কমেন্ট কইরো... (আর.এম.রকি মাহমুদ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পেত্নীর তাড়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now