বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

People You May Know

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X পিপল ইউ মে নো তে মেয়েটার আইডি বেশ অনেকদিন ধরে-ই ঘুরছে। কোন মিউচুয়াল ফ্রেন্ড নাই... ...তাও অযথা ঘুরছে! যতবার-ই সামনে আসে, আমি একবার করে সে আইডিতে ঢুকি, প্রোফাইল পিকচারটায় ক্লিক করে কয়েক সেকেন্ড দেখি, আবার হোমপেজে ফিরে আসি। মেয়েটার চেহারায় একটা আলাদা মাধুর্য আছে! কিছু চেহারার সৌন্দর্য্য বের করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা লাগে না। এ মেয়েটার চেহারা অমন-ই। একবার ভাবলাম, একটা রিক্যুয়েস্ট পাঠিয়ে দি! মেয়েটা যদি রিক্যুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে, তাহলে "হাই" লিখে মেসেজ আমি-ই প্রথমে পাঠাবো। তারপর একবার কথা শুরু হয়ে গেলে প্রতিদিন একটু একটু করে মেসেজিং করবো। মেসেজের মাত্রা যাতে না কমে সে বিষয়ে খুব নজর রাখতে হবে। ...দিনকে দিন মেসেজিং এর টাইম বাড়াতে হবে! মেসেজিং হতে হতে মেয়েটা হয়তো কখনও একবার হলেও আমার কথা ভাববে! আমায় প্রথমবারের মতন নিজ থেকে-ই নক দেবে! দিনে রাতে অনেক মেসেজিং হবে! মেসেজিং করতে করতে মেয়েটা হয়তো আমার সাথে মেসেজিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! একটা সময় আমি হুট করে ফোন নম্বর চেয়ে বসবো! সেও চট্ করে মোবাইল নম্বর জানিয়ে আমায় অবাক করে দেবে! আমার সারা রুমে শত শত ২০ টাকার ইউজড রিচার্জ কার্ড গড়াগড়ি খাবে। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেও কথা ফুরাবে না! একদিন প্ল্যান হবে, দেখা হবে আমাদের! আমরা একসাথে বসে কোথাও ফুচকা খাবো, আবার কোথাও বা সমুচা খাবো! রিক্সায় হুট তুলে ঘুরে বেড়াবো দু'জন! রিক্সায় হুটহাট মাথায় মাথায় গুঁতো লাগবে। ও বলবে, "আরেকটা বাড়ি খাও, নাইলে শিং উঠবে!" আমার গল্পের প্রধান নারী চরিত্র হয়ে যাবে ও! আমাদের প্রতিদিন দেখা হতে শুরু করবে। প্রতিদিন একই বিষয় গুলোতে বিরক্ত ধরে যাবে! ফুচকা চটপটি বিস্বাদ হতে শুরু করবে! রিক্সার হুট তোলা থাকলে মাথায় মাথায় বারবার গুঁতো লাগাটা পেইন হয়ে উঠবে। ও বিরক্ত নিয়ে বলবে, "ধুর! বারবার বাড়ি দিতেছো ক্যান! আরেকটা খাও, শিং উঠবে নাইলে!" বারবার মোবাইলের কার্ড ঘষে রিচার্জ করতে পেইন লাগবে। মোবাইলে অযথা ট্যাঁ ট্যাঁ করলে বিরক্ত লাগবে! দেখা করতে যাওয়া পেইন লাগবে! রেস্টুরেন্টের বিল বেশি আসা শুরু করবে! একটা সময় ও বিরক্ত করা শুরু করবে, "এই, আমার বাসায় পাত্র দেখতে আসবে, চলো না পালিয়ে যাই?" পালাতে গিয়ে শ্বশুর আর পুলিশের সম্মিলিত বাহিনীর পেঁদানিও খেতে হতে পারে! বয়সের আগে বিয়ে করতে গিয়ে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে! শ্বশুর আমার বউকে, আর আমার বাবা আমাকে ত্যাজ্য করবে! লোহার দোকানে চাকরী নিয়ে প্রতিদিন লোহা পিটাতে হবে। পাশের বস্তির মহিলাদের সাথে মিশে মিশে আমার বউ বাচ্চারা গালাগালিও শিখে যাবে! আমার বাচ্চারা একে অন্যকে গালাগালি দেবে, আর আমার বউ আমাকে বিছরি বিছরি গালি দেবে! অশান্তি, অত্যাচার, অভাবে আমি পাশের বস্তির তেঁতুলগাছে ঝুলে ফাঁসি খেয়ে সুইসাইড করবো! আমার বউ আমার শখের ভাত খাওয়ার থালাটা হাতে করে নিয়ে আমার একগাঁদা বাচ্চা-বুচ্চা নিয়ে ভিক্ষা করবে! আমার বড় ছেলেটা মুচি হয়ে যাবে। মেজোটা হোটেলে থালা ধুবে! উফ্! আর না! আর সহ্য করতে পারছি না এত কষ্ট! আমার একটা ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠানোর ফলে যদি আমার বউ, বাচ্চা, বাচ্চি সবার এমন কঠিন দিন দেখা লাগে, তাইলে থাক। পাঠালাম না ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট। হোমপেজে ফেরত এসে নোটিফিকেশনটা চেক করে ডাটা কানেকশন অফ করে রেখে দিলাম! কি যেন একটা বিশাল শান্তি লাগছে! মনে হচ্ছে আমার ভবিষ্যতকে আমি ব্ল্যাকহোলে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে ফেলেছি! পিপল ইউ মে নো!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ People You May Know

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now