বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"পাত্রী দেখা"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X পাত্রী দেখা এইযে মা আমার , নাম কি তোমার ? জি , সুলতানা লিজা কি কর তুমি ? জি, পড়াশুনা করি কিসে পড় অনার্স প্রথম বর্ষ পরিবারে কে কে আছে ? মা বাবা , ভাই বোন যদিও এসব সম্পর্কে পাত্রপক্ষকে আগেই অবগত করা হয়েছে । মা তুমি একটু দাঁড়াবে? (মেয়েটি দাঁড়ালো ) ঠিক আছে । এবার একটু হেঁটে দেখাও। হ্যাঁ ঠিকই আছে । এবার বসো । তো মা তোমার চুল গুলো একটু খুলবে ? মেয়েটি ইতস্তত করছিল কিন্তু পাত্রের চাচী কোনপ্রকার তোয়াক্কা না করেই মাথার ঘোমটা টেনে ফেলে দিল । এরপর ঘরভর্তি লোকজনের সামনেই মাথার খোঁপাটা খুলে চুলগুলো মুঠোয় ধরে পরিমাপ করতে করতে পাত্রের মা সহ উপস্থিত সব মহিলাগনকে ইশারায় দেখাল । মা এবার তোমার দাঁতগুলো দেখাওতো এবার মেয়েটি কোনপ্রকার বিব্রত না হয়ে তার প্রশস্ত দন্ত চোঁয়াল আরো প্রশস্ত করলো যেন ক্লোজআপের নতুন এডের এডমিশন দিতে এসেছে । আর যেন বলতে লাগল "কাছে এসো, কাছে এসো , কাছে এসোনা । এরপর আরো অনেক কিছু দেখা হলো । যেমন হাতের আঙ্গুল ., পায়ের নোখ , কানের লতিও বাদ যায়নি । সবকিছুই বেশ ভালোভাবেই বিশ্লেষণ করা হলো । তুমি রান্না করতে পারো ? জি, পারি । তো মা , বিয়ের পর পড়াশোনার ইচ্ছে আছে ? জি আছে তাহলে তো হবেনা । আমরা কি স্কুল চালাবো নাকি যে মাষ্টারনি লাগবে । ঘর সামলাবে কে তাহলে ? তার জন্যে আবার কি আলাদা মেয়ে রাখবো নাকি ? মেয়েটির চেহারায় ফুটে উঠা স্পষ্ট অসহায়ত্বকে পাত্তা না দিয়ে মুখ চালাতে লাগল পাত্রের মা। না এবার হাত ও চালাতে লাগল পাত্রের মা । সামনে থাকা খাবারের প্লেট গুলো এক একে খালি হলো । অধীর আগ্রহ আর করুনার দৃষ্টি নিয়ে মেয়ের বাবা তাকিয়ে আছে পাত্রের মায়ের দিকে । আর যেন বলছে " নিয়ে আমাকে উদ্ধার করুন" এবার পাত্রের মা পাত্রের দিকে একটি আংটি এগিয়ে দিয়ে বললেন নে বাবা এটা পরিয়ে দেয় । পাত্র যখন আংটি পরাতে উদ্যত হয় ঠিক তখনই মেয়ের বাবা অনেকটা জোরেই বলে উঠলেন আংটিটা রেখে দিন , পরের বার মেয়ে দেখতে কাজে লাগবে। পাত্রপক্ষের প্রায় সবাই একসাথেই বলে উঠলো মানে ? মানে এই বিয়ে টা হচ্ছে না । আমার মেয়েটাকেতো আপনারা বাজারের পন্যের জায়গাটাও দিলেন না । কারণ মানুষ বাজারের পন্যকেও এরকম ভাবে দেখেনা । আপনাদের কে অনেক ধন্যবাদ এখানে এতো কষ্ট করে আসার জন্য । আপনারা এবার আসতে পারেন । মেয়েটি তার চোখে স্পষ্ট জল অনুভব করলো । যে জলে রয়েছে বাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর ভরসা । বি:দ্র: পৃথিবীর সব মেয়ের বাবাকেই দুর্বল মনে করবেন না । কারণ মাঝেমধ্যে মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে তারাও বাপের বাপ হয়ে যায় । কিছুটা নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর কিছুটা কাল্পনিক উৎস হতে সংগৃহীত । লিখা:সুলতানা লিজা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "পাত্রী দেখা"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now