বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
গ্রামের পুরনো বটতলার মোড়। সেখানেই বসে আছে দুজন পুরনো বন্ধু—মাহবুব আর আনোয়ার। বয়সের ভারে দু’জনের হাঁটাচলা ভারী, দাঁতে দাঁত ঠুকলে ঝনঝন করে, কিন্তু কথায় কথায় এখনও সেই কৈশোরের হাসি ঝরে পড়ে। হাতে এক কাপ কাঁচা চায়ের পেয়ালা, সামনে ভাঙা বেঞ্চ, আর পাখিদের কিচিরমিচির।
মাহবুব হঠাৎ গম্ভীর মুখ করে আনোয়ারকে জিজ্ঞেস করল—
“শোন তো, পৃথিবীর সবচেয়ে পাতলা বইটির নাম কী জানিস?”
আনোয়ার ভুরু কুঁচকে তাকাল।
“পাতলা বই? কোনটা আবার?”
মাহবুব হেসে বলল—
“নারী সম্পর্কে পুরুষ যা জানেন।”
এক মুহূর্তের নীরবতার পর, দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল। এত জোরে হাসল যে পাশের দোকানদার ভেবেছে বুঝি পাগল হয়ে গেছে।
________________________________________
আনোয়ার চোখ মুছে বলল,
“ঠিকই তো! সারাজীবন বউকে বুঝতে গিয়ে মাথার চুল সাদা হয়ে গেল, তবু কিছুই বোঝা হলো না। পাতলা বই তো নয়, বইয়ের মলাটও লেখা হয়নি।”
মাহবুব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আমার বউ তো প্রতিদিন নতুন এক অধ্যায় লিখে। আমি প্রথম পাতায় ঢুকি, বের হতে হতে দেখি শেষ পাতা উধাও। এইজন্যই মনে হয় বইটা এত পাতলা।”
________________________________________
তাদের এই কথোপকথন শুনে পাশে বসা এক কিশোর হেসে ফেলল। সে বলল,
“কাকু, তাহলে আপনারা সারাজীবন কী শিখলেন?”
মাহবুব গম্ভীর মুখে বলল,
“শিখলাম, যত বুঝতে চাইব, ততই জট পাকাবে। তাই এখন শুধু শুনি, মাথা নাড়ি, আর বলি—‘হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছো।’”
আনোয়ার হেসে যোগ করল,
“আর মাঝে মাঝে একটু বাড়তি যোগ করি—‘তুমি ছাড়া কেউ এত বুদ্ধিমান হতে পারে না।’ ব্যস, সংসার সুখের সমুদ্র।”
________________________________________
দুজনের কথোপকথন যেন এক নতুন নাটক। চায়ের দোকানে যারা বসে ছিল, তারা হাসতে হাসতে পেট চেপে ধরল। একজন মন্তব্য করল,
“কাকুরা তো সংসারের বড় দার্শনিক!”
আনোয়ার তখন গলায় হাত বুলিয়ে দার্শনিকের ভঙ্গিতে বলল,
“সংসার মানেই হলো—নারীকে না বোঝার এক অন্তহীন চেষ্টা।”
মাহবুব তৎক্ষণাৎ যোগ করল,
“আর পুরুষ মানেই হলো—চেষ্টা করেও হেরে গিয়ে শেষে খুশি থাকা।”
________________________________________
চা শেষ হয়ে এলে দোকানদার জিজ্ঞেস করল,
“কাকু, আরেক কাপ দেবেন?”
মাহবুব মাথা নেড়ে বলল,
“না রে ভাই, বেশি চা খেলে রাতে ঘুম আসে না। তখন বউয়ের চোখমুখের নতুন ‘পাতা’ পড়তে হয়।”
আনোয়ার দম ফাটিয়ে হেসে বলল,
“দেখলি? নারী সম্পর্কে পুরুষের জানা পাতলা বইয়ে আজ নতুন লাইন যোগ হলো—‘রাতে চুপচাপ ঘুমোনোই নিরাপদ।’”
________________________________________
এভাবেই হাসতে হাসতে তারা বুঝল, জীবনের সাফল্য-বিফলতা সবকিছুর ওপরে দাঁড়িয়ে আছে তাদের এই বন্ধুত্ব আর রসবোধ। যে বন্ধুত্ব বার্ধক্যের বোঝাও হালকা করে দেয়।
মাহবুব শেষমেশ বলল,
“শোন আনোয়ার, বইটা পাতলা হলেও আমাদের জীবনের গল্পটা কিন্তু মোটা। হাসি-কান্নায় ভরা, ভুলে ভরা, প্রেমে ভরা।”
আনোয়ার মৃদু হেসে উত্তর দিল,
“ঠিকই বলেছিস ভাই। পাতলা বইটা কখনো শেষ হবে না, কিন্তু বন্ধুত্বের বইটা দিন দিন আরও মোটা হবে।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now