বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন-০৫

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "তো কি? এটা শুধুই একটা মাথা মাত্র। এর উপরে ভাঙাও বটে।" "পার্সি এটা যেই সেই কোন অটোমেটন না। তুমি কি ব্রোঞ্জ ড্রাগনের গল্প শুনো নি?" অ্যানাবেথ জিজ্ঞেস করল। আমি শূণ্য দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম। অ্যানাবেথ ক্যাম্পে আমার চেয়ে বেশি বছর যাবৎ থাকে। সে সম্ভবত ক্যাম্প নিয়ে আমার চেয়ে হাজারটা বেশি গল্প জানে, যেগুলো সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই নেই। তবে সিলেনার চোখ বড় হয়ে গেল। "তুমি কি পুরোনো রক্ষকের কথা বলছ? কিন্তু সেটা তো শুধুই একটা কিংবদন্তী মাত্র!" "কিসের পুরোনো রক্ষক? কিসের কিংবদন্তী?" আমি দ্বিধান্বিত বোধ করছি। অ্যানাবেথ গভীর একটা নিঃশ্বাস নিল। "পার্সি, মনস্টারদের আক্রমণ থেকে ক্যাম্প রক্ষা করতে এখন থালিয়ার গাছের জাদুকরী শক্তি ব্যবহার হয়। কিন্তু এটা তার থেকেও আরও অনেক আগের কথা। কাউন্সেলররা নানা ধরণের নিরাপত্তা পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্যাম্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করত তখন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ব্রোঞ্জ ড্রাগন। হেফাস্টাস কেবিন তাদের বাবার আশির্বাদ নিয়ে এটা বানিয়েছিল। মনে করা হয় এটা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে একাই এক দশকেরও বেশি সময় যাবৎ ক্যাম্প পাহারা দিয়েছে। এরপর প্রায়....পনের বছর আগে একদিন হঠাৎই এটা বনের মধ্যে হারিয়ে যায়।" "আর তুমি ভাবছ এটাই ঐ ড্রাগনের মাথা?" "তাই হওয়া উচিৎ। মিরমেকসরা মূল্যবান ধাতু খোঁজার সময়ই হয়তো খুঁজে পেয়েছে এটাকে। তারা সম্পূর্ণ ড্রাগনটাকে খুড়ে তুলতে পারেনি। আর এজন্যই হয়তো তারা এর মাথাটা কেটে আলাদা করেছে। সুতরাং বাকি শরীরটাও খুব বেশি দুরে থাকার কথা না।" "কিন্তু এটাকে ছিড়ে আলাদা করা হয়েছে। এটা কোন কাজেই লাগবে না।" "আমার মনে হয় না।" অ্যানাবেথের চোখ সরু হয়ে এল। আমি জানি এখন ওর মাথা দ্বিগুণ গতিতে কাজ করছে। "আমরা এটাকে হয়তো আবার জুড়ে দিতে পারব। আর এরপর যদি এটাকে চালু করতে পারি...." "তাহলে এটা চার্লিকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারবে", সিলেনা শেষ করে দিল বাক্যটা। "দাঁড়াও দাঁড়াও", আমি বললাম। "এখানে খুব বেশি 'যদি'র ব্যবহার দেখতে পাচ্ছি। যদি আমরা খুঁজে বের করতে পারি, যদি আমরা এটাকে চালু করতে পারি, যদি এটা আমাদের সাহায্য করে। আর তুমি না বললে এটা পনের বছর আগে হাওয়া হয়ে গেছে?" অ্যানাবেথ মাথা নাড়ল। "কেউ কেউ বলে এটার মোটরগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই এটা নিজেকে বন্ধ করে দিতে নির্জন বনে চলে যায়। কিংবা এর মাথার তারও ছিড়ে যেতে পারে। কেউ আসল সত্যটা জানে না।" "তুমি তাহলে একটা তারছিড়া ধাতব ড্রাগনকে পুণরায় চালু করতে চাইছ?" "আমাদের চেষ্টা করতেই হবে!" অ্যানাবেথ জোর দিয়ে বলল। "এটাই বেকেনডর্ফের একমাত্র আশা। এছাড়া এটা হেফাস্টাসের কোন চিহ্নও হতে পারে। ড্রাগনটার উচিৎ হেফাস্টাসের একজন ছেলেকে সাহায্য করা। বেকেনডর্ফও চাইবে আমরা চেষ্টাটা করি।" বুদ্ধিটা আমার কাছে একদমই পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু অন্য দিকে আমার কাছে এর চেয়ে ভাল কোন উপায়ও নেই। আমাদের সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। আর সিলেনাকে দেখে মনে হচ্ছে খুব দ্রুত কিছু একটা না করলে সে যেন পাগলই হয়ে যাবে। বেকেনডর্ফও হেফাস্টাসের চিহ্নের ব্যাপারে কিছু একটা বলেছিল। হয়তো এখনই সেটা খুঁজে বের করার উপযুক্ত সময়। "আচ্ছা ঠিক আছে", সম্মত হলাম আমি। "চল এবার একটা মুন্ডুহীন ড্রাগন খোঁজা যাক।" . আমার মনে হচ্ছে আমরা অনন্তকাল ধরে একটা ড্রাগন খুঁজে যাচ্ছি। কারন সম্ভবত সেই সময় আমার চিন্তায় ভীত অবশ বেকেনডর্ফের কথা ভাসছিল। যার আশেপাশে শক্ত খোলসবিশিষ্ট ভয়ংকর দর্শন কিছু পতঙ্গ তার নিস্তেজ হবার অপেক্ষায় আছে। পিঁপড়ার পদচিহ্ন অনুসরণ করাটা অবশ্য কঠিন কিছু ছিল না। তারা বনের মধ্য দিয়ে ড্রাগনের মাথাটা টেনে নেবার সময় মাটিতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আর আমরা ঠিক সেই দাগ ধরেই আবার মাথাটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রায় পৌনে এক মাইল চলে গেলাম। আমি সময় নিয়ে ক্রমেই দুশ্চিন্তিত হয়ে পড়ছি। হঠাৎ তখনই অ্যানাবেথ অস্ফূটস্বরে বলে উঠল, "অমর দেবতাগণ!" আমরা এসে দাঁড়িয়েছি আগ্নেয়গিরির মুখের মত বড় একটা গর্তের কিনারায়। দেখে মনে হচ্ছে এখানে কেউ একটা ঘরের সমান বড় অগ্নিকুন্ড নিক্ষেপ করেছে। গর্তের পাশগুলো পিচ্ছিলভাবে নেমে গেছে, এখানে সেখানে উঁকি দিচ্ছে গাছের ছেড়া শিকড়। পিঁপড়ার পদচিহ্ন গর্তের একদম নিচ পর্যন্ত চলে গেছে। আর সেখানটায়ই মাটিতে গেথে আছে একটা ধাতব স্তুপ। স্তুপের উপরের দিকের নলের মত অংশ থেকে ছেড়া তার বেরিয়ে আছে। "ড্রাগনটার গলা", আমি বললাম, "কি মনে হয়? পিঁপড়াগুলো এই গর্ত খুড়েছে?" "উল্কাপাত বলে বেশি মনে হচ্ছে..." "হেফাস্টাস", সিলেনা আচমকা বলে উঠল। "হেফাস্টাসই তৈরি করেছেন গর্তটা। তিনি চেয়েছিলেন যেন আমরা ড্রাগনটা খুঁজে পাই। তিনি চেয়েছিলেন যেন চার্লিকে...." সিলেনার গলা ভেঙে গেল। ফুপিয়ে উঠল সে। "আহা! চলতো এবার এই পাজি ড্রাগনটার মাথা জুড়ে দেয়া যাক", আমি বলে উঠলাম। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now