বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাঞ্জাবী
-বিবর্ণ শামীম
.
- প্রত্যয়,এই দিকে আয় খুজে পেয়েছি।
নীলাদ্রির
ডাক শুনে পেছনে থাকায় প্রত্যয়।
- কি পেয়েছিস?
- দেখতো এই পাঞ্জাবীটা কেমন? তোকে
খুব
মানাবে।
পাঞ্জাবীটা সত্যি অনেক সুন্দর,পাঞ্জাবী
দেখে
প্রত্যয়ের খুব পছন্দ হয় কিন্তু এত দাম দিয়ে
কেনার ইচ্ছে নেই তাই নীলাদ্রিকে বলে দেয়
তার
পছন্দ হয়নি।তবে মনে মনে ঠিক করে রাখে
পাঞ্জাবীটা কিনবে নতুন টিউশানির টাকা
পেলে,হয়ত কাল পরশুর মধ্যে টাকা পেয়ে
যাবে।
তখন পাঞ্জাবীটা কিনে নীলাদ্রিকে সারপ্রাইজ
দেয়া যাবে।যা টাকা নিয়ে এসেছিল তা দিয়ে
মা,বাবা, দুই বোন আর নিজের জন্য কিছু শপিং
করে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসল প্রত্যয়।
নীলাদ্রিকে রিকশায় তুলে দিয়ে মেসের দিকে
চলল প্রত্যয়।
প্রত্যয় মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে।ঢাকায় একটা
বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত বিভাগে অনার্স ২য় বর্ষে
পড়ছে।মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেরা যেরকম হয়
প্রত্যয়ও এর বাইরে নয়।সাদামাটা জীবন যাপন
করে,টিউশানি করে নিজের খরচ চালায় যদিও
কৃষক বাবা প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে চান কিন্তু
প্রত্যয় তা ফিরিয়ে দেয়।উপরন্তু মাঝে মধ্যে
টাকা জমিয়ে দুই বোনের জন্যে কিছু নিয়ে যায়
বাড়ী ফেরার সময়।দারুণ আড্ডাবাজ, আর
পরিশ্রমী প্রত্যয় বেশ ভালোই মানিয়ে নিয়েছে
ইট কংক্রিটের এই শহরে।নীলাদ্রি প্রত্যয়ের
ক্লাসমেট।তার চেহারা যত বেশি মায়াবী তার
চেয়ে বেশি মায়াবী তার আচরণ। দারুণ গল্পবাজ
এই মেয়েটি একবার কথা বলা শুরু করলে আর
কাউকেই কথা বলার সুযোগ দেয় না।একদিন
খুনসুটি করতে গিয়ে প্রত্যয়ের সাথে ঝগড়া
হয়,প্রত্যয় নিজের উদ্যোগে ঝগড়া মিটিয়ে
ফেলে
এরপর থেকেই ওরা একে ওপরের নাড়ি
নক্ষত্রের
খবর জানে।
রাতে প্রত্যয়ের বাড়ীর কথা মনে হয় তাই
মোবাইলটা হাতে নিয়ে কল করে ওর
মাকে,কয়েকবার রিং হতেই অপর প্রান্ত থেকে
ভেসে আসে প্রত্যয়ের চিরচেনা সেই সুর,
- হ্যালো,মা?
- প্রত্যয়, কেমন আছিস বাবা?
- এইতো মা ভালোই,তোমরা সবাই কেমন
আছো?
- সবাই ভাল।তুই কবে আসবি বাবা?
- দুই-তিন দিন পর।
- সাবধানে আসিস বাবা।
- মা তোমার কন্ঠ এরকম শুনাচ্ছে কেন? তুমি
কি অসুস্থ?
- না রে বাবা,একটু ঠান্ডা লাগছে।ঠিক হয়ে যাবে।
- ঠিক হবে না ছাই,নিজের খেয়াল না রাখলে
এরকম তী হবেই।আমি আসলে ডাক্তারের কাছে
নিয়ে যাব।নিজের খেয়াল রেখো মা।
- আচ্ছা বাবা।
- মা এখন রাখি।
- আচ্ছা বাবা।
প্রত্যয় ফোনটা রেখে ভাবতে লাগলো নিশ্চয়
ওর মা ওর কাছে কিছু লুকিয়েছেন।ওর বাবা মা ওর
জন্য কত কষ্ট করে যাচ্ছেন,তাদের কবে একটু
সুখ দেবে,বোন দুইটাকে লেখাপড়া করিয়ে
অনেক
দূর নিয়ে যেতে হবে,কত সপ্ন ওদের ঘিরে।
অথচ
বাড়ীতে কি এমন হয়েছে যে তার কাছে
লুকাতে
হবে এই ভেবে প্রত্যয়ের আর ঘুম আসে না।
মাঝ
রাতে এসএমএসের রিংটোন শুনে কল্পনা থেকে
বাস্তবে ফিরে প্রত্যয়। মায়ের মোবাইল থেকে
ওর বোন হৃদি এসএমএস করছে।এসএমএস পড়ে
জানতে পারে ওর বাবার শ্বাসকষ্টটা
বেড়েছে,ঘরে
ইনহেলার কেনার টাকা নেই তাই কয়েকদিন ধরে
বিছানায় পড়ে আছেন।
পরদিন প্রত্যয় টিউশানির টাকা পেয়ে বাবার
জন্য ইনহেলার আর ঔষধ কিনে ,বাসের টিকেট
কেটে মেসে ফিরে।মেসে ফিরে গোসল
করে ব্যাগ
গুছিয়ে বাস স্টপের দিকে রওনা দেয়।বাসের
জন্যে
অপেক্ষা করছে এমন সময় পেছন দিক থেকে
ভেসে আসে মিষ্টি সেই সুর
- কিরে হারামি, বাসায় যাচ্ছিস বিদায় নিয়ে যাবি
না?
- সরি রে।বাবা একটু অসুস্থ তাই তাড়াহুড়ো
করে যাচ্ছি।রাগ করিস না।
- ওকে সাবধানে যাস।আর এই প্যাকেটটা রাখ
ঈদের দিন সকালে খুলবি।এই বলে নীলাদ্রি
র্যাপিং করা একটা প্যাকেট প্রত্যয়ের দিকে
এগিয়ে দেয়।
- এইটা কি?
- বললাম তো ঈদের দিন সকালে খুলবি। চুপচাপ
বাসে গিয়ে উঠ,বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেছে।
সাবধানে যাস আর ভাল থাকিস,আংকেল
আন্টিকে সালাম দিস আর ঈদের পর চলে
আসিস।তোকে খুব মিস করব।
- তোকেও মিস করব।ভাল থাকিস।
ধীরে ধীরে বাস চলতে শুরু করল গন্তব্যের
দিকে।
বাড়ীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বেশ রাত হয়ে গেল
প্রত্যয়ের।দরজায় মা বলে ধাক্কা দিতেই মা
দরজা খুলে দিলন।আসলে তিনি প্রত্যয়ের
অপেক্ষায় ছিলেন। ঘরে ডুকতেই প্রত্যয়কে
জড়িয়ে ধরলেন ওর মা।
- কত শুকিয়ে গেছিস! খাওয়া দাওয়া ঠিকমত
করিস না? নিজের খেয়াল রাখিস না? লেখাপড়া
নিয়ে এত চিন্তা করিস কেন?
- আস্তে মা,এত প্রশ্ন করলে উত্তর দেব
কেমনে? বাবা কোথায়?
- এইতো শুয়ে আছেন পাশের ঘরে।
প্রত্যয় পাশের ঘরে গিয়ে দেখে তার বাবা শুয়ে
আছেন,প্রত্যয়কে দেখে তার বাবা উঠে
বসলেন।
প্রত্যয় তার ব্যাগ খুলে ইনহেলার আর ঔষধ
এগিয়ে দিল।ঔষধ রেখে প্রত্যয়ের বাবা
প্রত্যয়কে
জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন।
- দেখছো প্রত্যয়ের মা,আমি বলছিলাম না
আমার বাপজান আমার ঔষধ নিয়া আসব,আমার
বাপজান একদিন অনেক বড় হবে, সবাইকে
ছাড়িয়ে যাবে,তখন আর আমাদের কষ্ট থাকবে না
দেইখো প্রত্যয়ের মা।
- ভাইয়া.......... হৃদি আর নিধির চিৎকার শুনে
পেছনে তাকিয়ে দেখে হাসি হাসি মুখ নিয়ে তার
দুইবোন দাড়িয় আছে মায়ের পাশে।
- আমাদের জন্যে কি আনছো ভাইয়া?
- আমার ছেলে কত কষ্ট করে আসছে আর
আমার
মহারাণীরা আসছেন তাদের জন্যে কি আনছে তা
জিজ্ঞেস করতে, যাও এখান থেকে বলে ধমক
দেন
প্রত্যয়ের মা।
- আহ মা থামো তো।ওদের জন্যে কিছু না
এনে
কি বাড়ী আসতে পারি।প্রত্যয় তার ব্যাগ থেকে
মায়ের শাড়ি,বাবার শার্ট আর বোনদের ড্রেস
বের করে দেয়।সবাই এত খুশী যে কেউ কথা
বলছে না। সবাইকে খুশী করতে পেরে
প্রত্যয়ও
মনে মনে খুব খুশী । মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ
করে এমন খুশী করতে পারে না সেই জায়গায়
সে
সামান্য কিছু টাকায় পরিবারের সবাইকে এরকম
খুশী করতে পেরে খুব তৃপ্তি পায়।
- মা খুব খিদে পেয়েছে বলে প্রত্যয় নিরবতা
ভাঙে।
- হাত মুখ ধুয়ে রান্না ঘরে আয় বলে প্রত্যয়ের
মা রান্না ঘরের দিকে চলে যান উনার পেছন
পেছন হৃদি নিধিও রান্না ঘরের দিকে মা'কে
অনুসরণ করে।
ঈদের দিন গোসল করে এসে প্রত্যয়
নীলাদ্রির
এসএমএস পেয়ে জিহ্বা কামড় দেয়।গ্রামের
বন্ধুদের অনেক দিন পর কাছে পেয়ে আড্ডায়
এতই মগ্ন ছিল দুই দিন নীলাদ্রির কোন খুজ
নেয় নি।"কি রে হাদারাম, বাড়িতে গিয়েই আমাকে
ভুলে গেলি? জানি আমার গিফটের প্যাকেটের কথা
ভুলে গেছিস।এক্ষুনি প্যাকেটটা খুলে দেখ"
এসএমএস পড়ে নিজের মাথায় চাটি মারে
প্রত্যয়। এতটা আত্মভোলা কেমনে হল বুঝতে
পারে না।প্যাকেট খুলে প্রত্যয় এতটাই অবাক
হয়েছে যে এর আগে কখনো সে এরকম
অবাক হয়
নি।তার সেই পছন্দ করা পাঞ্জাবীটা নীলাদ্রি
তাকে গিফট করছে। প্রত্যয় ভেবে পায় না
মেয়েটা
থাকে এত ভাল বুঝতে পারে কেমনে! সত্যি
মেয়েটাকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে নিজেকে
খুব
ভাগ্যবান মনে করছে ।আরেকটা এসএমএস
পেয়ে
প্রত্যয়ের ভ্রম ভাঙে। "এত কি ভাবছিস? আমি
তোর বন্ধু সুতরাং তোকে ভাল করেই বুঝতে
পারি।এখন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নামাজে যা
দেরি হয়ে যাচ্ছে"। প্রত্যয় পাঞ্জাবীটা পরে
আয়নার সামনে দাড়ায় সত্যি ওকে খুব মানিয়েছে
পাঞ্জাবীটা।নীলাদ্রির সারপ্রাইজটা ওর ঈদের
আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
যার এরকম বন্ধু
আছে তার প্রতিটা মুহুর্তই ঈদের মত;
এ কথা ভাবতে ভাবতে ঈদগাহের দিকে এগিয়ে যায়
প্রত্যয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now