বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্যাঁচ খুলন যাইতোনা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বার বার সকালের ঘটনা টা ই মনে পড়ছে... ঘটনা টা হলো সকালে ভার্সিটি তে যাওয়ার সময়... ভার্সিটি গেইটের ৩০-৪০ হাত দূরত্বে রিকাশার সাথে আমার ওড়না প্যাঁচিয়ে বিড়াট এক কান্ড করে ফেলেছি... বিড়াট কান্ড কেন...! না আমি ওড়না ছেড়ে দিচ্ছি না রিকশা ওয়ালা চাকা থেকে ওড়না খোলার কোনো দিক খুঁজে পাচ্ছে.. আর সে জন্য পেছনে বড় জ্যাম বেঁধে গেছে... . রিকশা ওয়ালা বার বার বলছে " আফা আপনি ওড়না পুরা টা ছাইড়া দেন নাহয় প্যাঁচ খুলন যাইতোনা " আর আমি ত মইরা যাবো তবুও ওড়না ছাড়বোনা অবস্থা .. ,. পেছন থেকে হর্ণ আর মানুষজনের চেঁচামেচির শব্দ যেন কানের ১২ টা বাজতেছিলো তবুও আমি ওড়না ছাড়ছিনা... . এমন অবস্থায় এক ছেলে এসে পেছনের গাড়ি সরিয়ে রিকশা টাকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো আর ধীরে ধীরে ওড়না চাকা থেকে খুলতে থাকলো.... আর অবশেষে খুলেই গেলো... কত জনে আমাকে কত কি বলে ফেলছে ইতি মধ্যে আমি ওসব খেয়াল ই করলাম না.. ছেলেটা ও যেন কি বলেছিলো বাট আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম... দেন ছেলেটার পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম... . এতটুকু ত বুঝলাম ছেলেটা আমাদের ভার্সিটিতেই পড়ে আর আমার ডিপার্টমেন্টে ই কিন্তু কোন ইয়ার তা জানিনা... . এবার বলি আমার কথা.. আমি তানিশা বিবিএ ১ম সেমিস্টারে এ পড়ছি আর আমাদের ক্লাসের সবচে হাবলু টাইপ মেয়েটা আমি.. সব সময় চুপচাপ থাকি আর কেউ জোড়ে ধমক দিলেই ব্যা ব্যা করে কেঁদে ফেলি... কার্টুন দেখতে দারুন ভালোবাসি.. কিছুটা ভীতু স্বভাবের ও আমি আর অল্পতে নার্ভাস হয়ে যায়।' . তবে আমার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড আছে ইরা সে ব্যাপক স্মার্ট তাই ত ওর সাথে থাকলে কেউ টের পাইনা যে আমি কত টা হবালু কারণ ও সব সামলে নেয়... . কিন্তু সকালের সেই উপকারি ছেলেটার প্রেমে পড়েছে এই হাবলু মেয়েটা সেটা ত কাওকে বলা যাবেনা কজ সবাই মজা নিবে তাই এমন কি ইরা কে ও না... . এর পর প্রায় ছেলে টাকে আমি ক্যাম্পাসে দেখি.. আর হাবলুর মত তাকিয়ে থাকি... মাঝেমাঝে চোখাচোখি হলে ও মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আমার দিন টা ই সুন্দর করে দেয়..... . ইরা কিছু টা টের পেয়ে গেছে আমার যে মতিগতি সুবিধার না সেটা তবে কার দিকে তাকায় সেটা সিউর না ... . বহু কষ্টে আমি জানতে পারলুম সেই ছেলেটার নাম ইভান কারণ তার বন্ধু তাকে এই নামে ই ডাকতে শুনেছি ব্যাস ফেবু ত সার্চ দিয়া শত শত ইভানের মাঝে তার ছবি দেখে ই তাকে চিনে ফেল্লাম.. আর জানতে পারলাম ডিটেলস দেখে যে সে আমাদের ভার্সিটি তে বিবিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে ফিন্যান্স নিয়ে... . ইরা সেদিন ফাইনাল ইয়ারের একটা ভাইয়ার কাছ থেকে নোটস এর ব্যাপারে কথা বলছিলো আর আমি ইরার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম..... আমার হাত পা কাঁপছিল ভয়ে কারণ ভাইয়া টার সাথে ইভান ও ছিলো.. সবাই নরমাল মুডে অাছে ভূমিকম্প কেবল আমার উপর দিয়ে যাচ্ছে.. কিন্তু ও আমার দিকে আড় চোখে তাকালো কেন সেটা বুঝলাম না.. নাকি ও বুঝে গেছে আমার ভিতর কি চলছে!! . . আমি যে প্রেমে পড়ছি সেটা আমাদের বাসার কাজের মেয়ে রোজিনা পর্যন্ত বুঝে গেছে আমার হাবভাব দেখে মেবি... আজ কাল রোজিনা পর্যন্ত আমারে নিয়া মজা নেই হায়রে কপাল . আজ প্রায় এক মাস যাবত ইভান কে ক্যাম্পাসে দেখিনা অবশ্য এর কারণ ও জানি ফেবু তে দেখলাম.. ইন্টার্নশীপ এট মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক... . আর আমি ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে এই দুঃখে কেঁদে বালিশ ভেজাতে লাগলাম... .. দেখতে দেখতে পহেলা বৈশাখ চলে আসছে আর ইরা চায় আমি ও ওদের সাথে ঘুরতে বের হই শাড়ি পড়ে । আমি আর শাড়ি পুরাই আজব কম্বিন্যাশন বলা যায় আর ঘুরাঘুরি করার অভ্যেস ও আমার খুব একটা নেই... . তবুও মনে এই ক্ষীণ আশা যদি সে ক্যাম্পাসে আসে আজ তাহলে চোখের দেখা টুকু হলে ও দেখতে পারবো.. এই আশায় আমি শাড়ি পর্যন্ত পড়ে ফেলেছি... . ফ্রেন্ডরা সবাই মিলে সেজেগুজে প্রথমে ক্যাম্পাসে ই গেলাম কিছুটা ঘুরাঘুরির পর ইভান কে আবিষ্কার করলাম একটা সুন্দরি মেয়ের সাথে দাড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলছে... . আল্লাহ এটা দেখার জন্য আজ আমি এখানে আসছি ! জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি ওদের দেখে ... . ওদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটতে গিয়ে বেখেয়ালে হুচুট খেয়ে পড়ে গেলাম আর সবাই হাসাহাসি শুরু করেছে আমাকে নিয়ে কিন্তু ইরারা কোথায়! ওরা আমাকে ফেলে কোথায় গেলো..!!!. পরিস্থিতি এত টাই খারাপ যাচ্ছে যে আমি না কেঁদে পারলাম না ... কান্না করে দেয়ার পর দেখলাম ইভান আমার দিকে আসছে... . : এই মেয়ে কাঁদছো কেন? ( ইভান) ,. আমার ত কান্না বন্ধ ই হচ্ছে না আর কান্না করা কালিন আমি মোটামুটি সাহসি হয়ে উঠি.. . : যে মেয়ে ঠিক মত ওড়না সামলাতে পারেনা সে শাড়ি পড়ে কিভাবে হাঁটবে তা পড়ার আগে ভাবা উচিত ছিলো.. (ইভান) . :আমি শাড়ীর জন্য পরিনি . : ত!! . : আপনি ওই মেয়েটার সাথে কেমন করে হেসে হেসে কথা বলছেন ওটা দেখতে গিয়ে পরে গেছি... . : মানে আমার সাথে তোমার পড়ে যাওয়ার কি সম্পর্ক! . : জানি না. বাট আমার ভালো লাগে না আপনি কোনো মেয়ের সাথে কথা বললে ( কান্না চলছে) . : তার মানে আমার বন্ধুরা ঠিক ই বলতো যে তুমি আমার দিকে ই হা করে তাকায় থাকতা ( ইভান একটু হেসে হেসে বললো) . # আমি ত একবার হু বলে ফেলছি আবার না ও বলছি বাট ওত আমার মত গাধা না যে বুঝবেনা কোন টা সত্য.. , : আচ্ছা চলো হাঁটা যাক . : আমার জুতো ছিড়ে গেছে . ওকে তোমার জুতা হাতে নাও আমাকে এটা বলেই ইভান নিজের জুতা ও হাতে নিয়ে ফেললো দেন বললো চলো হাঁটি... . : আপনি আমার সাথে হাঁটবেন ( আমি কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে আস্ক করলাম) . : হুম তোমার ত আমাকে অন্য কোনো মেয়ের সাথে ঘুরতে বা কথা বলতে দেখলে ভালো লাগে না তাই আর কি করা তোমার সাথে হাঁটি নাহয় ( মুচকি হেসে কথা খানা বললো) . # আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি আর ও টিসু দিয়ে আমার চোখের লেপ্টে যাওয়া কাজল গুলো মুছে দিতে লাগলো...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্যাঁচ খুলন যাইতোনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now