বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পালিত বাবা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rafi Orton (০ পয়েন্ট)

X -"বাবা।" -"বল।" এই বলে আফজাল মিয়া মাথা পত্রিকা থেকে মাথা তুলে তাকালেন তার ছেলের দিকে। পত্রিকায় তিনি মন দিয়ে বিপাশা বসুর ফিটনেস রহস্য মন দিয়ে পড়ছিলেন। মন্টু তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে, তার বুকের ভেতর থেকে কষ্টের একটা দলা পাকিয়ে উঠতেসে। সে জানে না, কিভাবে সে এতো বড় নিষ্ঠুর সত্য বাবাকে বলবে। ...... -"কি হলো? বল?" -"মা কোথায় বাবা? " -"দেখ হয়তো রান্নাঘরে।" -"একটা কথা বলতাম, বাবা।" আফজাল মিয়া চোখ সরু করে ছেলের দিকে তাকালেন। কি বলতে চায় সে? -"বলে ফেল।" -"এমন একটা কথা বলবো, যে তুমি আর মা সহ্য করতে পারবে না।" আফজাল মিয়ার সরু চোখ বড় হয়ে গেলো। -"কি হয়েছে?" -"বাবা তোমার বয়স কত? " -"ছাপ্পান্ন।" -"মা?" -"চল্লিশ/বিয়াল্লিশ।" -"তারমানে তোমরা ছাব্বিশ বছর ধরে আমার বাবা মা। আমি আজ ছাব্বিশ হলাম।" -"হ্যাঁ। তো?" -মা কে ডেকে আনো যাও। আমি বসলাম। তোমাদের একটা সত্য কথা বলবো।" .......... আফজাল মিয়া আর রহিমা বেগম বসে আছেন ছেলের সামনে। রহিমা বেগম উসখুস করছেন, তার হিন্দি সিরিয়াল শুরু হবে একটু পর। আফজাল মিয়ার মাথাতে শুরু বিপাশা বসুর যোগব্যায়াম ছাড়া আর কিছু নেই। মন্টু বেশ কয়েকবার গলা খাঁকারি দিলো। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, -"ছাব্বিশ বছর ধরে আমি তোমাদের তিলে তিলে মা বাবা হিসেবে বড় করেছি। তোমরা ভাবতেসো আমি তোমাদের সন্তান। আসলে আমি তোমাদের পালক এনেছি। তোমরা আমার আসল মা বাবা না। তোমাদের আমি কুড়িয়ে এনেছি।" ........ পুরো ঘরে অদ্ভুত একটা নৈশব্দ নেমে আসলো। আফজাল সাহেবের বাম কিডনী টিনটিনিয়ে ব্যথা করছে।রহিমা বেগম হতবিহবল। -"আমি বিশ্বাস করি না।" আফজাল মিয়া বিড়বিড় করে বললেন। -"এই কারণে আমরা কেউ তোর চেহারা পাই নি। তাই না? " ডুকরে কেঁদে উঠে বললেন রহিমা বেগম। -"মাফ করে দিও তোমরা। সত্যি টা তোমাদের জানা দরকার ছিলো।" মন্টু কোনোরকমে বললো। -"তাহলে আমরা কার বাবা মা?" আর্তনাদের সুর আফজাল মিয়ার কন্ঠে। -"সে বেঁচে নেই। তোমাদের রেখেই সে নিউমোনিয়াতে মারা যায়। তারপর আমি জন্ম নিয়েই তোমাদের পেলে পুষে বৃদ্ধ করেছি।" ....... অতঃপর রহিমা বেগম দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলেন। আর আফজাল মিয়া কষ্টে রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। মন্টুর চোখে পড়ল পত্রিকাটা। সে ভাবলেশহীন ভাবে পত্রিকা নিয়ে বিপাশা বসুর ফিটনেস রহস্য আর অনিলবাবু কাপুরের বুক ভর্তি লোমের রহস্য পড়া শুরু করলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পালিত বাবা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now