বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টুনটুনি পাখি তার বাসা তৈরি করার আগে দুটি কি তিনটি পাতা সেলাই করে একটা বাটির মতো তৈরি করে
মানুষ যেমন নানারকম জিনিস দিয়ে নানা কায়দায় নিজেদের বাড়ি বানায় ‘কেউ ইট, কেউ পাথড়, কেউ বাঁশ-কাদা, কেউ বা মাটি, কারো এক-চালা, কারো দো-চালা, পাখিরাও সে রকম নানা জিনিস দিয়ে নানা কায়দায় নিজেদের বাসা বানায়।’ কেউ বানায় কাদা দিয়ে, কেউ বানায় ডাল-পালা দিয়ে, কেউ বানায় পালক দিয়ে, কেউ বানায় ঘাস দিয়ে। তার গড়ন-ই বা কত রকমের! কারো বাসা কেবল একটি ঝুড়ির মতো, কারো বাসা গোল, কারো বাসা লম্বা চোঙার মতো। এক একটা পাখির বাসা দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়, তাতে বুদ্ধি-ই বা কত খরচ করেছে, আর পরিশ্রমই বা করেছে কত। পাখির বাসা তোমরা অনেকেই দেখেছো মনে হয়। কেমন সুন্দর করে শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে তার বাসাটি সে তৈরি করে। পাছে কোনো জন্তু বা সাপ আক্রমণ করে সেজন্য বাসায় ঢোকার রাস্তা তলার দিকে। শত্রুকে জব্দ করার আর একটা উপায় তারা করে। আর তা হলো অনেক সময় তারা বাসার গায়ে আর একটা গর্তের মতো মুখ তৈরি করে রাখে, সেটা কেবল ঠকানোর জন্য, তার ভেতর দিয়ে বাসার মধ্যে ঢোকা যায় না।
টুনটুনি পাখি তার বাসা তৈরি করার আগে দুটি কি তিনটি পাতা সেলাই করে একটা বাটির মতো তৈরি করে তার মধ্যে নরম ঘাস পাতা দিয়ে সে তার বাসাটি বানায়। সেলাইয়ের সুতো সাধারণত রেশমেরই ব্যবহার করে। কাছে রেশম না থাকলে যে সুতো পায় তাই দিয়েই করে। সেলাইয়ের সুঁচ হলো তার সরু ঠোঁটজোড়া। বাসাটা অনেকটা দোলনার মতো ঝুলতে থাকে। খুব ছোট জাতের পাখিরা হিংস্র জন্তু আর সাপ-গিরগিটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রায়ই ওই রকম দোলনার মতো বাসা তৈরি করে থাকে। অনেক জাতের পাখি আবার মাটিতেই বাসা বাঁধে। গাছে বাসা তারা পছন্দই করে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বাসাই তৈরি করে না। নিজেরা গাছের আড়ালে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আর মাটিতে গর্ত করে তার মধ্যে ডিম পাড়ে। মোরগ, তিতির, পেরু এরা সবাই এই জাতের। আবার কোনো কোনো পাখি সুন্দর করে লতা-পাতা দিয়ে কুঞ্জবনের মতো বানায়। অস্ট্রেলিয়ার ‘কুঞ্জ-পাখি’ (ইড়বিত্ নরত্ফ) তার বাসার সামনে খুব সুন্দর লতাকুঞ্জ তৈরি করে। পাখিটি আকারে ছোট বটে, কিন্তু কুঞ্জটি কিন্তু ছোট হয় না। এদের আবার রংচঙে জিনিসের বড় সখ। ভাঙা কাঁচ, পাথর, রঙিন জিনিস, যা সামনে পাবে এনে বাসার চারদিকে সাজিয়ে রাখবে।
কোনো কোনো পাখি থুতু দিয়ে বাসা তৈরি করে। তালচোঁচ পাখি এই জাতের। পালক, ঘাস এসব জিনিস থুতু দিয়ে জোড়া লাগিয়ে তার বাসা তৈরি হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া দ্বীপপুঞ্জে এক জাতের তালচোঁচ আছে, তারা কেবলই থুতু দিয়ে নিজের বাসা বানায়। চীন দেশে এ বাসার খুব আদর, তারা এর ঝোল বানিয়ে খায়। এ জন্য সে দেশে এর দামও খুব বেশি।
অনেক জাতের পাখি কাদা দিয়েও তাদের বাসা বানায়। আফ্রিকার ফ্লামিঙ্গোর বাসা কাদার তৈরি। একটা ঢিপির মতো কাদা সাজিয়ে তার মাঝে একটা গর্ত করে ফ্লামিঙ্গো ডিম পাড়ে। আরও অনেক জাতের পাখিও কাদার বাসা বানায়। তাদের অধিকাংশই আফ্রিকার।
তোমরা অনেকেই বোধহয় কাঠ-ঠোকরা দেখেছো। এরা ঠোঁট দিয়ে ঠোকর মেরে গাছের গায়ে গর্ত করে তার ভেতর বাসা বানায়। দুষ্টু ছেলেরা ছানা চুরি করার লোভে কাঠ-ঠোকরার বাসার গর্তে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে অনেক সময় সাপের কামড় খায়, কারণ সাপেরা কাঠ-ঠোকরার বাসা ডাকাতি করে অধিকার করতে বড় পটু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now