বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাহাড়ি কন্যা

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পাহাড়ি কন্যা।। লেখক- রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু জানালার খোলা মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। বাতাস এসে আমার ছোট্ট চুল গুলোকে উড়ানোর চেষ্টা করছে। বাতাসের চেষ্টা কিন্তু বৃথা। শত চেষ্টা করে ও সে আমার চুল গুলোকে উড়াতে পাচ্ছে না! শীতের শুরু কিন্তু শীতের সে পুরানো আমেজ কেন জানি না? পাচ্ছি না। গ্রামের বন্ধুরা বলছিল গ্রামে নাকি শীত জেঁকে বসেছে। কিন্তু শহরে তা আমি একদম টের পাচ্ছি না। শুধু সকালে একটু কুয়াশা। সবাই বলে শীতকাল নাকি বেড়ানোর জন্য আদর্শ। কিন্তু পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ সময় বর্ষাকাল। আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ। কিন্তু বর্তমানে শুধু তিনটি ঋতু অস্তিত্ব আছে!!! সামনে কয়েকদিন ভার্সিটি বন্ধ। তাই বন্ধুদের জোরাজোরিতে পাহাড় ভ্রমণের জন্য তৈরি হয়ে গেলাম। কেন জানি না পাহাড়ের কাছে আমি খুবই দুর্বল। পাহাড় আমাকে চুম্বকের মত টানে। আমাদের চট্টগ্রাম-শহর পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানেরর কারণে এই শহরের সুন্দর্য অন্যরকম। তবু পার্বত্যচট্টগ্রাম আমাকে সবসময় টানে। কাল আমরা তিন বন্ধু যাচ্ছি পাহাড়ের সৌন্দর্য পরিলক্ষিত করব বলে। ঐ নীল তোর সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দিছি। এখন খেতে আয় পাহাড়ে গিয়ে কী হাবিজাবি খাবি আল্লাহ জানে। আম্মুর ডাকে আমার ঘোর ভাঙলো। আম্মু সবসময় আমার এই ছন্নছাড়া জীবনের বিরুদ্ধে! তবু আমার জেদের সাথে পেরে ওঠে না। যাচ্ছি আমরা বান্দারবন। ছোট্ট একটি লজ আগে থেকে বুক করে রেখেছিলাম। আমার ভ্রমণ সঙ্গী আমার অন্য দুই বন্ধু হচ্ছে নীলয় এবং নীরব। ভার্সিটিতে আমাদের এই 'নী' জুটিটা খুব জনপ্রিয়। লজে পৌছালাম রাতে। সকালে লজের জানালা দিয়ে যখন মেঘ এসে অন্যপাশ দিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছিল। তখন দৃশ্যপট অসাধারণ ছিল। প্রকৃতির কূলে ছিলাম আমরা। আমাদের লজটি একটু নির্জন জায়গায়। বান্দারবন শহরের অনেক বাইরে। আসলে ইচ্ছে করে এই নির্জনতাকে বেছে নিয়েছিলাম আমরা তিন বন্ধু। সকাল তখন পাঁচটা তিন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম। পাহাড়ে সূর্যদয় দেখব। বেরিয়ে পড়লাম তিন বন্ধু কুয়াশার কারণে রাস্তা ভালোমত দেখা যাচ্ছিল না। আমরা হাটতে হাটতে একটি পাহাড়ি ছোট্ট রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে একটি ছোট ঝরনা। কাছে গিয়ে দেখি এক পাহাড়ি কন্যা কলসিতে জল ভরছে। মেয়েটি যেন মায়াবতী। তার রূপ আমাদের বিমোহিত করেছিল। সে কলসি ভরে ধীরে ধীরে কুয়াশার ভিতরে হারিয়ে গেল। আমরা শুধু তার হারিয়ে যাওয়া দেখছি। আমরা ছোট্ট ঝরনার পাড়ে আবার ফিরব সিদ্ধান্ত নিয়ে লজে ফিরলাম। দুপুরবেলা আমরা স্নান করব বলে আবার ঝরনার কাছে আসলাম। আবার সে পাহাড়ি কন্যার সাথে দেখা। সে কলসি ভরে সবুজ পাহাড়ি রাস্তার ভিতর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে লাগলো। আমরা স্নান করে লজে ফিরছি। আজ আর বাইরে যাওয়ার প্লান নাই। আমরা আগে ও অনেক পাহাড়ি মেয়ে দেখছি। কিন্তু এই কন্যার এত্ত সৌন্দর্যরূপের মায়াই পরে গেলাম। এত্ত সুন্দর! পরদিন আমরা আবার ঝরনার পাড়ে গেলাম। আবার সে মায়াবী কন্যার সাথে দেখা। এবার তার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বললাম। সামনে কী কোন পাড়া আছে? মেয়েটি ভাঙ্গা বাংলাতে বলল আছে আসেন আমার সাথে। আমরা তার পিছু পিছু পাহাড়ি পথে চলতে লাগলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ কয়েকটি লোক এসে মেয়েটির সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মেয়েটি পাহাড়ি খাদে পড়ে গেল। আমাদের চিৎকার না............ মেয়েটি খাদের অতলে হারিয়ে গেল। আমরা লোকগুলোকে তাড়া করলাম। লোকগুলো পাহাড়ের মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। আমরা তিন বন্ধু তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। আমরা ত কিছুই করতে পারলাম না। ঠিক তখনি একটি পাহাড়ি লোক আমাদের কান্না করতে দেখে এগিয়ে এল। তিনি আমাদের তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তার বাড়িতে গিয়ে একটি ছবি দেখে আমরা আটকে ওঠলাম। এই মেয়েটিই ত সে পাহাড়ি কন্যার ছবি। ছবির ওপর ফুলের মালা। আমরা লোকটিকে সব কিছু খুলে বললাম। লোকটি বলল মেয়েটি তার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে পানি আনতে গিয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে মৃত্যু হয় তার। এ কথা শুনার পর আমরা আমাদের বোধ শক্তি হারিয়ে ফেললাম! এটা কিভাবে সম্ভব!!! যে মেয়েকে গত তিন দিন ধরে দেখছি! আমরা কী ভূল দেখছি? না তিনজন মানুষ ত একসাথে ভূল দেখতে পারে না! মেয়েটির বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা এখন ফিরে যাচ্ছি লজে। মাচা ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি ঐ লোকগুলো যাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে মেয়েটি পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়। আমরা তিনজন চিৎকার দিয়ে ওঠলাম। মেয়েটির বাবা ঘর থেকে বের হয়ে আসে। আমাদের চিৎকার শুনে। আমরা মেয়েটির বাবাকে ঐ লোকগুলোর কথা বলি। মেয়েটির বাবা সেরাবাহিনীর কাছে লোকগুলোর নামে নালিশ করে। সেনাবাহিনীর কাছে লোকগুলো পাঁচ বছর আগে মেয়েটিকে হত্যার কথা, স্বীকার করে। আজ আমরা চট্রগ্রামে ফিরে যাচ্ছি, ফিরে যাওয়ার আগে আমরা আবার সে ঝরণার ধারে গেলাম, পাহাড়ি কন্যাকে দেখার আশায়। ঝরণার ধারে পড়ে আছে সে কলসি। আর সবুজ ঘাসে লিখা ধন্যবাদ। মনের অজান্তে দুচোখ অশ্রুজলে ভিজে গেল। (কাল্পনিক ভূল মার্জনীয় সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাহাড়ি কন্যা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now