বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুভ এখন নিজকে প্রেমিক ভাবছে। যা আগে ভাবেনি। মিনু চাকমাকে চিঠি পাঠানোর পর এবার ভাবছে কতদিন পর চিঠির উত্তর আসবে। চিঠির উত্তর আসলেই ধরে নেয়া যাবে মিনু চাকমা আসলেই শুভকে ভালবাসে কি না? এবারের চিঠিতে শুভ তুমি করে বলেছে। ছদ্ম নাম দিয়েছে। মিনুকে চিঠি পাঠানোর ঠিক পনেরোদিন পর শনিবারে কলেজ অফিসে শুভর নামে চিঠি এসেছে। শুভ মহাখুশীতে হাতে পাবার সাথে সাথে খুলে পড়তে লাগলো।
প্রাণপ্রিয় সৈকত,
আশা করি তুমি ভাল আছো। সৈকত তোমার চিঠি পেয়ে মনে হয় আকাশের চাঁদ পেয়েছি। এতদিন ধরে তোমার এই রকম একটা চিঠির আশা করেছিলাম। তা আজ আমার মনের আশা পুরণ হয়ছে। আমি চাকমা মেয়ে বলে আমাকে কষ্ট বা ছেড়ে ফেলে দিবে না তো?
আমি আই এ পাশ করেছি। বর্তমানে এখানকার এনজিওর কাজে সাথে জড়িত আছি। সৈকত আমি তোমাকে ভালবাসী। তুমি আমার ধর্ম-কর্ম নিয়ে ভেবো না। আমি নিজেকে তোমার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবো। আমি তোমার মন মত চলবো তবে তুমি শুধু আমাকে ভালবাসবে।
ইতি তোমার
প্রিয়তমা
মিনু চাকমা
শুভ চিঠি পড়ে আবার খামে ডুকিয়ে পকেটে রেখে দিল। শুভ এবার বন্ধুদের নিকট আগের মত খোলামেলা কথা বলেনি। জিয়া এবং সাকিলকে শুধু জানিয়েছে যে, মিনু চাকমা চিঠির উত্তর দিয়েছে। জিয়া জিজ্ঞেস করেছে ,কি লিখেছে? শুভ বলল, আই লাভ ইউ লিখেছে। এবার তিনজনেই একসাথে হেসে ফেলল। সাকিলের পরামর্শ হলো মনকে কয়েকটা কার্বন কপি করে রাখবি। কেউ চাইলে কার্বন কপি দিবি আর মুল কপি তোর কাছে রাখবি। তাহলে জীবনে কষ্ট পাবি না। জীবনে একবার মন দিয়ে দিলে মজনু হয়ে ঘুরতে হবে। তারচেয়ে ভাল কাউকে দিবি না। একজন প্রেম বিশেষজ্ঞের মত কথা বলল সাকিল।
রাতে শুভ ছাত্রদের পড়ানোর পর নিজে পড়তে বসে। কলেজে পড়া না পারলে কলেজের স্যারের অপমান করে। স্কুলে তো বেতের মাইর দিতো কিন্তু এখানে বেতে মাইর না দিলেও অপমান করে কঠিনভাবে। শুভ কলেজের বাড়ির কাজ শেষ করে মিনু চাকমকে লিখতে বসেছে। রাত গভীর হলে প্রেমপত্র লিখতে সহজ হয়। মনের আবেগ কাজ করে। প্রেমময় হয় চিঠির ভাষা।
প্রিয়তমা মিনু চাকমা,
রাত এখন ১২টা বাজে। সবায় ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু আকাশের তারাগুলো জ্বল জ্বল করছে। চারপাশে ঝিঝিপোকা ডাকছে। মন চায় তোমাকে নিয়ে তারার দেশে চলে যায়। যেখানে বসে তোমার সাথে গল্প করব। প্রেমের আলাপ করব।
মিনু চাকমা, আমি তোমাকে ভালবাসী। আমি তোমাকে না দেখলে মনের মাধুরীতে মনে হয় তুমি আমার পাশেই বসে আছো। আমি এইচ এসসি পরীক্ষা দেব আর তুমি পাশ করে ফেলেছ। তুমি আমার চেয়ে এগিয়ে আসছো তাই আমাকে কি ছলনায় মারবে না তো?
মিনু চাকমা, তোমার পাহাড়, তোমার ধর্ম, তোমার সমাজ নয়। আমি তোমাকে চাই। আমি প্রতিদিন তোমার কথা ভাবী। তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। তুমি কি আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখো? আমাকে নিয়ে ভাবো? তোমার কল্যান কামনা করি
ইতি
তোমারই প্রিয় সৈকত।
শুভ যে ঠিকানা দিয়েছে তা মিনু চাকমার আসল ঠিকানা নয়। এই ঠিকানাটি সন্তুষ দত্তের। আর সন্তুস দত্তই একমাত্র মিনু চাকমাকে জানে। অন্য কেউ মিনু চাকমাকে চিনবে না। মিনু চাকমা নামে কোন চিঠি আসলে সন্তুষ দত্ত মিনু চাকমাকে জানিয়ে দেয়। মিনু চাকমা সন্তুষ দত্তদের এলাকায় এনজিওর কাজ করে। আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করে যায় মিনু চাকমা। নারিয়ারচরের পাহাড়ি এলাকায় কাজ করে। কাজ করার ফেরার পথে সন্তুষ দত্তের দোকান। দোকানদার মিনু চাকমা দেখেই মিনু চাকমাকে খামটি দিল। মিনু চাকমা সৈকতের চিঠি পেয়ে খুবই আনন্দিত উদ্ভাসিত হয়েছে। মিনু চাকমা ভাবছে। পাহাড় যাবে সৈকতে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now