বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>
১.
চোখে মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি নিয়ে টিভির দিকে
তাকিয়ে আছে ত্রিনা । কলকাতার সুপারহিট হিরো
দেবের একটা মুভি চলছে স্টার জলসা মুভিজে ।
ত্রিনা টেলিভিশন খুবই কম দেখে , তবে কিছুদিন
হল বাসায় এসে ত্রিনা লক্ষ্য করেছে সেও তার
বাসার মানুষজনের সাথে কিভাবে কিভাবে যেন
কলকাতার বাংলা মুভির মুগ্ধ দর্শক হয়ে গিয়েছে ।
ত্রিনার ধারনা পুরো কৃতিত্বটাই রাহেলা বুয়ার । ত্রিনা
হাসি আটকে রাহেলাকে জিজ্ঞেস করল ,'' এইটা
কি মুভি দেখ , রাহেলাপু ?'' রাহেলা টিভি থেকে
চোখ না সরিয়েই জবাব দিল ,'' এইটাতো '' ফাগলু
'' , কেন আপনে দেখেন নাই ?আমি এই নিয়া
ছয়বার দেখলাম । জলসা '' মফিজে'' প্রায়ই দেয়
। '' ত্রিনার গলা ফাটানো হাসি শুনে রান্নাঘর থেকে
প্রায় তেড়ে আসলেন রেবেকা সুলতানা ।
মেয়েটা বাসায় এসেছে প্রায় একমাস হতে চলল
,এই কয়দিনে একবারো সে এভাবে প্রান খুলে
হাসেনি । রেবেকা উৎকণ্ঠা চেপে মেয়েকে
বললেন ,'' কি হয়েছে ত্রিনা ? এভাবে হাসছিস
যে ?'' ত্রিনা কোনমতে হাসি চাপতে চাপতে
বলল ,'' কই আম্মু ? হাসতেছি না তো , আমি
জলসা '' মফিজে'' দেবের ''ফাগলু''
দেখতেছি । হিহিহি ।'' রেবেকা একটা নিঃশ্বাস
ফেলে রাহেলার দিকে মুখ শক্ত করে তাকিয়ে
বললেন ,'' তোর ব্যাপারটা কি রাহেলা ? রাতের
রান্না না করে সিনেমা দেখতে বসছিস ? রান্নাঘরে
যা ! আমি বেগুন ভেজে রাখছি , তুই মাছটা রেধে
ফেল ।'' রাহেলা খোপা বাঁধতে বাঁধতে উঠে
গেল ,তার চোখে মুখে আফসোসের ছাপটা
টিভির পর্দায় দেবের মুখে রিফ্লেক্ট হচ্ছে ।
ত্রিনা হাসি থামিয়ে চুপচাপ অনুভুতিহীন চোখে টিভির
পর্দায় চোখ রাখল । মুভিটা বেশ উন্নতমানের
অবান্তর ,এখানে নায়িকা কোয়েলের জন্যে
এমন কোন মারামারি নেই যা দেব করছে না । এই
অবান্তর জিনিস গুলি আবার দর্শক খুব মজা নিয়ে
দেখে , আর এই একই জিনিস ত্রিনার আত্মাটাকে
কুচি কুচি করে কাটে । নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে তার
- সিনেমার ভিতরের জগতটায় ভালবাসার এত পাগলামি ,
বাইরের জগতটায় একজনের জন্যে
আরেকজনের মনে এইটুক ভালবাসা সারাজীবন
বেঁচে থাকলে কি এমন ক্ষতি হত ? হঠাত করেই
ত্রিনার চোখের সামনে দেব আর
কোয়েলের মুখটা ঝাপসা হয়ে আসে ।
রেবেকা সুলতানা সোফায় বসে টিভির সাউন্ড
ভলিউম কমিয়ে নিলেন । তারপর ত্রিনাকে বললেন
, '' সাব্বির ফোন করেছিল ?'' ত্রিনা মাথা নাড়িয়ে
বলল , '' আম্মু , ওর কি ফোন করার কথা ?
চাইলেও তো পারবেনা , আমার মোবাইল নাম্বার
চেঞ্জ করেছি ।'' '' বাসার টি এন টি নাম্বার তো
আর বদলায় নি ।'' ত্রিনা মায়ের মুখের দিকে
চেয়ে বলল , '' কোন নাম্বারেই ফোন
আসেনি আম্মু ।''
টিভির পর্দায় আর মন থাকে না ত্রিনার । ভালবাসা তাকে
হঠাত করেই সব দিয়ে আবার সব কেড়ে
নিয়েছে । ভীষণ ভালবাসত সে সাব্বিরকে ।
অগোছালো চুলের মোটা চশমা পরা এই
ছেলেটা ত্রিনার সমস্ত শিরা উপশিরাকে ভালবাসার
আত্মিক বাধনে বেঁধে রেখেছিল । বিয়ের পাঁচ
ছয়মাস পরে এই সাব্বিরের ধীরে ধীরে দূরে
সরে যাওয়াটা ত্রিনার কাছে অনেকটা শিরা ধমনী
ছিড়ে যাওয়ার মতই হয়েছে । সাব্বির কিভাবে যেন
মেঘের মত রঙ পালটে ফেলেছিল । অফিস , মিটিং
, ক্যারিয়ার আর সারাক্ষন বসের তোষামোদ করা ,
যে বস কিনা একজন সুন্দরী আধুনিকা ...... আর
ভাবতে পারেনা ত্রিনা । গলার কাছে কি যেন একটা
আটকে থাকে তার , সেটা না নামে , না উঠে
আসে , কেবলই দম বন্ধ করে দিতে চায় । তবুও
কি যেন বেঁধে রাখত ত্রিনাকে , এত অবহেলার
পরেও সাব্বিরকে যে ভীষণ ভালবাসত সে ।
কিন্তু শেষরক্ষা হল কই ? সাব্বির যেদিন নিজের
মুখে বলল ,'' তুমি , তোমার ভালবাসার চাইতে
ক্যারিয়ার আমার কাছে অনেক বড় , বুঝেছ ?'' ,
ত্রিনা সেদিন তাল হারিয়ে মেঝের ওপর বসে
পড়েছিল । মেঝের ওপর কাঁচের মতন তার হৃদয় টা
ভেঙ্গে গেছে , সাব্বিরের কানে সেই শব্দ
কোন দিন পৌঁছাবার নয় । ক্যারিয়ার কি ত্রিনার ছিল না ?
কই সে তো পারল না ক্যারিয়ারের সাথে
সাব্বিরকে একই স্কেলে দেখতে । তাই
অনেক কিছু ভেবে নীরবে সরে এসেছে
সে সাব্বিরের জীবন থেকে । তবুও ভাল থাকুক
সাব্বির ।
'' এই ডিসিশান টা না নিলেই হত না তোর , তাইনা ?''
মায়ের ডাকে চমকে ওঠে ত্রিনা । কয়েক মুহূর্ত
চুপ থেকে বলে , '' না আম্মু , হত না ।'' '' খুব
বেশি বুঝিস তোরা । আর মেয়েরা তো ঘর
করেনা ।'' '' আম্মু আমি তো বলেছি ,
যেখানে ভালবাসার লেশমাত্র নেই সেখানে ...''
'' চুপ থাক । ভালবাসা ,না ? বাংলাদেশের কয়টা ঘরে
ভালবাসা আছে বলে মেয়েরা সংসার করছে ?
অবহেলা ছাড়া কিচ্ছু নেই ওদের ।'' ত্রিনা উঠে
দাড়াল , এই প্রশ্নের জবাব সে জানে , কিন্তু
দিতে ইচ্ছে হচ্ছেনা । ত্রিনা কিভাবে বুঝাবে
সবাইকে যে সাব্বিরকে সে এখনও ভালবাসে ।
কিন্তু ওর সাথে ঐভাবে থাকতে গেলে এই
ভালবাসাটুকু টিকবে না । ত্রিনা চায়না সাব্বিরের জন্যে
তার ভালবাসাটুকু মরে যাক । কিন্তু এসব আম্মু কে
শুনিয়ে তো লাভ নেই , তাই নিজের ঘরের
দিকে পা বাড়িয়ে বলল ,'' আমি ঘুমাবো আম্মু ,
সকাল সাতটায় ট্রেন আমার, রাতে খেতে
ডেকো না ।''
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now