বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অতৃপ্ত অাত্মা
-লিংকন ভদ্র
আমি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও আজকাল বেশ কিছুদিন ধরে বিজ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করেছি।যার দরুন অবৈজ্ঞানিক কোনো কিছুই আমি বিশ্বাস করতে নারাজ।অশরীরী আত্মা,ভূত বা তেমন কোন ভিন্ন জগৎয়ের শক্তি বা সুপার ন্যাচারাল পাওয়ার কে তো বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,
এদিকে অনেকদিন পর আমার বাড়িতে বন্ধু রাজনের আগমনে আমি আজ অত্যন্ত আনন্দিত।রাজন পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও আত্মা এবং ভূতের ব্যাপারে তার বিশেষ আগ্রহের কোনো কমতি নেই।
আমি তার আগ্রহকে সম্মান জানাই।তবে তার মানে এই নয় যে, আমি ভুতকে সমর্থন করি বা সমর্থন করি ভয়ানক আত্মার গল্প।
যাই হোক চলুন এবার মূল বিষয়ে আসি।
লোকমুখে শুনে আসতেছি,
আমার বাড়ি থেকে মাইল দুয়েক দুরের একটি স্কুলে নাকি ভূত আছে।সেখানে নাকি মধ্যরাতে পথিকগণ নারীদের আর্তনাদ এর শব্দ শুনতে পায় ।
আমি অবশ্য এসব মোটেও বিশ্বাস করিনা।বরং এসব গ্রামের লোকের তৈরি গুজব বলেই মনে করি।
রাজনকে মজা করে বললাম, তুই তো ভূতের ব্যাপারে অনেক উৎসাহী, চল গভীর রাতে ঔই ভূতুরে স্কুলে যাই।দেখে আসি
দু-একটা ভুত পাই কিনা।
লক্ষ্য করলাম, রাজন এ প্রস্তাবে বেশ আগ্রহী।এবং সে তার শরীরী ভাষায় বুঝিয়ে দিল যে, সে যেতে চায়।
আমি মনস্থির করলাম, যাই হোক অন্ততপক্ষে একটি রাত আমাকে রাজনের সহিত ঔই স্কুলে থাকতেই হবে।
যার দরুন যদি গ্রামের মানুষ মিথ্যে ভয় থেকে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারে তাতেই আমাদের সার্থকথা নিহিত।
তার আগে স্কুলটার সম্পর্কে কিছু বলে নিই।
স্কুলটার নাম ১নং টিকুরিয়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়।এখানে আমি পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলাম।
স্কুলটি ৪ রাস্তার মোড়ে অবস্থিত এবং সন্ধা হতেই সেখানে নিরবতা বিরাজ করে।
আমিও রাতে ওখানে আগে কোনোদিনই যাই নি।
শুনেছি ওখানে নাকি আগে শ্মশান ছিল।এবং এই শশ্মানে জমিদার অনিরুদ্ধ ঠাকুরের ১০ জন স্রীকে জোর করে চিতার অগ্নিতে দাহ করা হয়েছিল।বিশেষ করে তার একমাত্র ছোট ভাই জয় ঠাকুর সমস্থ সম্পত্তি লাভের নিমিত্তে মধ্যরাতে সতীদাহ প্রথাকে কাজে লাগিয়ে ১০ জন স্রীকে সহমরণে যেতে বাধ্য করেন।
শুনেছি তার পর থেকেই ওখানে নাকি গভীর রাতে পথিকগণ প্রায়শই কয়েকজন মেয়ের আর্তনাদের শব্দ শুনতে পায়।
১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর,বৃটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীতে সতিদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করার পর রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা রদের বছর দুয়েক আগের ঘটনা এটি।
অপরদিকে আমি আর রাজন মাঝরাতে ঔই স্কুলে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিছিলাম।এর মধ্যেই আমাদের ভূতুরে স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারটা অনেকে জানতে পেরেছিল।
আমি ২টা চার্জ লাইট,২টা লাঠি আর বসে সময় কাটানোর নিমিত্তে কিছু মুড়ি- চানাচুর সাথে নিয়ে গেলাম।
১৬ ফেব্রুআরি ২০১৮,
আমরা রাত ১২ টার দিকে রওনা হলাম।
পথিমধ্যে এক বৃদ্ধ মানুষ আমাদের বলল,বাবারা তোমারা শিক্ষিত হয়ে কেন যে ভূত,প্রেত বা বাইরের জগৎয়ের শক্তিকে বিশ্বাস করো না সেটা তো জানি না।তবে আমি চাই, তোমরা যাতে ওখানে না যাও,কি না কি হয়।
আমি একটু মুছকি হেসে বললাম, দাদু আমাদের কিছুই হবে না।আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।
আমরা আবার হাঁটতে শুরু করলাম।এখন বাজে ১২:২০,
আমরা প্রায় স্কুলের নিকটে চলে আসলাম।
অমাবস্যাতিথির অন্ধকার রাতের ভয়ানক নিরবতায় অজানা ভয়ে আমাদের গাঁ যেন ছমছম করছে।কারো মুখে কোনো টু-শব্দ টুকু নেই...আমরা আস্তে করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। হঠাৎ হঠাৎ ঘুঘু পাখির ডাকের সহিত ভয়ানক নিরবতা আমার হৃদয়ে আতংকের সঞ্চার করেছিল।ভয়ে রাজনেরও চোখ-মুখ শুকিয়ে আসছে।আমি ওকে অভয় দিয়ে বললাম, আরে ভয় কিসের, ভয়ের বাস তো আমাদের দুর্বল হৃদয়ে।
আমি একটু একটু ভয় পেলেও ওকে বুঝতে দেইনি।
দরজা ধাক্বা দিয়ে সবে মাত্র স্কুল ঘরে প্রবেশ করলাম।তারপর যা হল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় তবুও ক্ষুদ্র প্রয়াস করলাম মাত্র।
রাজন আর আমি সবে স্কুলঘরের মাঝখানের কক্ষটিতে
প্রবেশ করলাম। ঠিক তখনই অাস্তে আস্তে সেই ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রথমে আমরা দুজন চার্জ লাইট দিয়ে ঘরটা দেখে নিলাম, দুই চারটা ভাঙ্গা চেয়ার-টেবিল ছাড়া আর কিছুই নাই।
কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকজন নারী কন্ঠের আর্তনাদে অামরা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম।প্রথমে ভাবলাম কেউ হয়ত রেকর্ড করা ভয়ানক আওয়াজের দ্বারা আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
ব্যাপারটা রাজনকে বলতে যাব, এমন সময় লক্ষ্য করলাম স্কুল ঘরটা ক্রমান্বয়ে যেন বিলিন হয়ে যাচ্ছে।নিজের নেত্রকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।দেখতে দেখতে সেখানে এক অগ্নিকুন্ড তৈরি হয়েছে আর তার মধ্য থেকে জ্বলন্ত ১০ টা মেয়ের অসহ্যকর যন্ত্রনার আর্তনাদে আমারা দুজন ভয়ে মৃতপ্রায়।
মেয়েগুলো হাত পা বাঁধা অবস্থায় অগ্নিতে প্রচন্ড কষ্ঠে কাতরাচ্ছিল।
রাজন তো এ দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারাল।আমি যে পালাব সে শক্তি আমি হারিয়েছি। পা যেন স্কুলের মেঝেতে আটকে গেছে।
অগ্নিকোন্ড থেকে ১ম সারীর মেয়েটি বলছে, হে অনিরুদ্ধ ঠাকুর, তুমি আমাাকে ৮ বছর বয়সে বিয়ে করেছ, যখন দাম্পত্য জীবন কি আমি জানতামই না, ঠিক তখনি তোমার সহিত সহমরণ আমাকে যা পীড়া দিয়েছে তা আমার আত্মাকে অল্প কিছু সুখ পাবার জন্যে অতৃপ্ত করে দিয়েছে।
২য় সারির মেয়েটি বলল, জলন্তু অগ্নির শিখা যখন আমার মস্তক গলিত করল, ঠিক তখনি আমার আত্মা ঔই ধরনের পুরুষ আর এই নির্মম নিয়ম নির্মাতাদের অগ্নিতে পুরিয়ে তৃপ্তি পেতে চায়। তাই তো আমরা প্রত্যেকদিন অপেক্ষা করি পুরুষজাতির প্রাণ হরণের হেতু।
এদিকে আমার জ্ঞান আছে কিন্তু অগ্নির ভেতরের জলন্ত মেয়েগুলোকে বুঝতে দেইনি, ওরা ভেবেছে আমরা হয়ত মারা গেছি।
তারা একে অন্যের কাছে বলাবলি করছে।আমাদের জীবনেন মূল্য যাদের কাছে নাই, তাদের নিঃশেষ না করা পর্যন্ত আমরা তৃপ্ত হব না।
অপর একটি মেয়ে বলছিল, আমি ছোট ঠাকুরকে বলেছিলাম যাতে আমার পুতুলের বিয়েটা দিতে দেয়, তারপর যেন ওরা আমায় চিতায় তোলে। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেনি।
এদিকে,
আমি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ওদের বলতে বাধ্য হলাম।
হে রমনীগণ তোমরা তোমাদের হৃদয়ে মিথ্যে ঘৃণা পোষে রেখেছ।
তখনি মেয়েগুলো ওদের জ্বলন্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে থাকাল। এবং বলল :
কিভাবে আমাদের ঘৃণা ভুল?
প্রমাণ কর, নইলে তোকে অবশ্যই হত্যা করব।
আমি ভয়ার্ত কন্ঠে বললাম :এখন আর প্রাচীন কুসংস্কার এর ন্যায় ক্ষতিকর, অপ্রয়োজনীয় প্রথাসমূহকে আমরা পালন করি না।
এখন আমরা অাধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অনেক সভ্য। তোমরা শুধু শুধু মিথ্যা ঘৃনাকে লালন করছ এবং দীর্ঘাকৃতি করছ তোমাদের আত্মমুক্তির পথ।
আমি বেঁচে আছি এটা জেনে আত্মাগুলো অনেক ক্ষেপে গেল এবং হিংস্র রুপ ধারণ করে আমাকে ঘিরে ধরল।
আমি ঠিৎকার করে বলতে লাগলাম, দয়া করে তোমরা একটু সচেতন চিত্তে আমার কথাগুলো ভেবে দেখো।
এর পর কি হল আমার কিছুই মনে নেই।
হয়ত আমরা দুজনই বেহুশ হয়ে পড়েছিলাম।
সকালের রবি যখন আমাদের মুখমন্ডলে এসে পড়ল,ঠিক তখনি আমরা জাগ্রত হয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে বাড়ি চলে আসলাম।
অনেকে অনেক প্রশ্ন করলেও কাউকে কোনো উত্তর দেইনি।
ঔই মেয়েগুলোর জন্যে আমার সত্যিই অনেক খারাপ লাগছে। আমি জানি না,ওরা আমার কথায় ত্যাগ করেছে কিনা তাদের লালিত ঘৃনা বা পেয়েছ কি তারা মুক্তি।
(পড়ার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ♥)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now