বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাকে মুখে খেতে খেতে নেয়াজ বলল, ‘ উম...কী বললি?’
-না, কিছু না। তুমি খাও তো। জলভরা চোখ খুব সাবধানে সামলিয়ে রাখলো। কারো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটাও কী ভয়ানক রকমের বৃথা প্রচেষ্টা! ভাবতে ভাবতেই নিজুর খাওয়াটা দেখতে থাকলো রিন্তি। কীভাবে খাচ্ছে লোকটা? যেন কতদিন খায় নি! মুখে একটা ছেলেমানুষি আনন্দ। ধুর! জ্বালা, আবার ভিজে উঠছে চোখের পাতা। এই লোকটা এত উদাসীন কেন? নিজের প্রতি তো বটেই তাকে ঘিরে আরো যে কয়টি মানুষ অন্তরঙ্গতার বৃত্ত রচনা করতে চায়, তাদেরও সে দেখেও দেখে না! কেন?
-বড্ড ঝাঁল দিয়েছিস মাছে। একটু পানি দে তো।
-কে বললো তোমায় যে আমিই রেঁধেছি? আর ঝাঁল বুঝি নতুন খাচ্ছো!
-তুই রাঁধিস নি? ন্যাকা! এই ঝাঁল তুই ছাড়া আর কে দেবে? আগেও কাঁচা মরিচ ছিলি, এখনো তো মনে হচ্ছে তাই-ই আছিস! (মুখ টিপে হেসে ফেললো নিজু)
-এই, ভালো হবে না বলে দিচ্ছি! আর ক’বে থেকে এত নগণ্য বিষয় খেয়াল রাখতে শিখলে? সবকিছু ভুলে যাওয়াতেই তো তোমার যত আনন্দ! হুলটা ফুটিয়েই দিলো।
-রিন্তি! আহত গলায় বলে উঠল নেয়াজ। খাওয়া থামিয়ে চেয়ে রইল একদৃষ্টে।
-ও কী! থামলে কেন? চালিয়ে যাও।
বেশ বুঝতে পারছে রিন্তি কী বলতে চাইছে। কিন্তু এতকাল পরে আবার ওসব কেন? আচ্ছা, সে কি নিজেও চায় নি পাথর চাপা ব্যথাগুলোকে আবার কোন এক মতিভ্রমে বুকে তুলে নিতে? হঠাত কেমন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবে ফিরে আসতে সময় লাগে না! এবং আবার প্রসঙ্গান্তর।
-হ্যাঁ রে, আমাকে চিনলি কী করে?
-চিনলাম কী করে? ফিক করে হেসে ফেলে রিন্তি। কলিং বেল শুনে দরজার পিপহোলে তাকিয়ে দেখি পাঞ্জাবি গায়ে একটা মস্ত ভল্লুক দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ভল্লুকটার চোখে একটা পুরাতন খ্যাপা পাগলার দৃষ্টি! সে কি ভোলার মত?
-কী!! আমি ভল্লুক, খ্যাপা পাগল? দাঁড়া খেয়ে নেই...মজাটা টের পাবি তখন।
-এহ! ভয়ে মরেই গেলাম...আয়নায় চেহারা দেখেছো নিজের? এত অযত্ন কেন নিজের প্রতি? কেন নিজেকে এত কষ্ট দেয়া?
কিছু একটা বলতে যাবে তখনি কলিংবেলটা তারস্বরে বেজে উঠলো...
‘কে আবার এলো এই সময়ে?’ বলতে বলতে রিন্তি এগিয়ে যায়। দরজা খুলে,
-মা? তুমি? এই সময়ে? শরীর খারাপ করে নি তো?
-আরে, অত ব্যস্ত হোস না। আমি ঠিকই আছি। কতদিন পর ছেলেটা আসতে চাইল...মনটা এখানেই পড়ে থাকলো। পরে অনেক বলে কয়ে ম্যানেজ করে চলে আসলাম। কই, হতভাগাটা কই?
খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। হাত ধুয়ে ফিরেই দেখে রাহনুমা ওরফে রানু খালা দাঁড়িয়ে আছেন। বুকটা কেমন মুচড়ে উঠলো। তড়িঘড়ি পা ছুঁতে যাবে...অমনি ‘ফটাশ!!!’ বেমক্কা চড় খেয়ে নেয়াজ হতভম্ব হয়ে গেলো। তারপর রানু খালা নিজুকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনর্গল কেঁদে চললেন...কী করে পারলি বাবা?...আমাকে এতদিন কষ্ট দিয়ে থাকতে?... একটুও মনে হয়নি?...এত পাষাণ কী করে হলি? বিলাপ চলতেই থাকলো। বহুদিনের জমে থাকা কষ্টের বরফ প্রায় ভুলে যাওয়া মমতার উষ্ণ জোয়ারে গলে গলে যেতে থাকলো। নেয়াজের চোখেও জল। রিন্তিও কাঁদছে। কখনো কখনো কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। আবেগ ভারী হলে ক’ফোটা উষ্ণ জলই এক সমুদ্রের কথা বলে দেয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now