বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- মামা,এক কাপ লাল চা দেন।
- চিনি কম না বেশি?
- বেশি আর লিকার কড়া দিয়েন।
- আইচ্ছা।মামা গেঞ্জি তো উল্টা পড়ছেন।
নিজের দিকে তাকাল হাসান।লাল টি-শার্ট উল্টোই পরেছে।তবে অনিচ্ছাককৃত নয়,ইচ্ছে করেই।কারণ তার ছাত্র রনি বলেছে,স্টাইলটা তাকে মানিয়েছে।কাল তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে টিউশনিতে ভুলে উল্টো করেই টি-শার্ট পড়ে যায়।এটা এখন স্টাইল, ভুল নয়।
"এই নেন চা,মামা!"
ইদানীং ক্লাসে ঘুম ঘুম ভাব আসে হাসানের,একদিন ঘুমিয়েও গিয়েছিল। কয়েকদিন এর জন্য স্যার ক্লাসে দাড় করিয়েছেন।শুধু দাড় করান না,ক্লাসে ব্যায়াম করতে হয় ঘুম চলে যাওয়ার জন্য।প্রথম প্রথম যখন ভার্সিটি তে যেত তখন এরকমটা হত না,প্রথম সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর থেকে হয়।
আরেকটু পর ভার্সিটির বাস আসবে।চা শেষ করতে করতেই বাস চলে আসে।সবদিনের মত জানালার পাশে মেয়েটি বসে আছে,কানে হেডফোন।বাসে উঠার সময় একবার চোখাচোখি হয়,তারপর মেয়েটি আবার বাইরে তাকিয়ে থাকে।হাসান মেয়েটির সিটের পেছনের সিটে বসে।ইদানীং মেয়েটি এটি লক্ষ করে।বাস চলে, বাতাসে মেয়েটির কয়েকটা চুল উড়ে পেছনে আসছে,হাসান আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে।
- এই যে শুনছেন?
- হ্যা,বলুন।
- আপনার চুল গুলো ঠিক করুন,শ্যাম্পুর স্মেল এ আমার এলার্জি আছে।
-হুম।
- আর শুনুন, ক্লাস শেষে আমরা কিছুক্ষণ ক্যান্টিনে বসতে পারি।
- (অবাক হয়ে ভেবে বললো) আচ্ছা।
বাসে সবার সাথে কথা হলেও,ঐ মেয়েটির সাথে কথা হয় নি কখনো।এতদিন পর হটাৎ এত কথা বলাতে মেয়েটি বেশ অবাক হয়েছে।মানুষ অবাক হলে,অবাক হওয়া মুখটি অনেক নিষ্পাপ দেখায়।এই জন্য মানুষকে অবাক করতে বেশ ভালো লাগে হাসানের।নিজেকে উঁচু উঁচু মনে হয় এখন।মেয়েরা এখন থেকে তাকে দেখবে।কারণ পাঁচ দিন আগে তার নামে ক্রাশ কনফেশন বেরিয়েছে।প্রথম কনফেশন ক্লাসে বেশ সাড়া ফেলেছে। "অচেনা মায়াবিনী" নামে কোনো এক আইডি থেকে লেখা হয়েছিল এটি।অনেকে তো তাকে মায়াবিনী ডাকা শুরু করেছিল।
.
- নিতু একটা কথা কি জানো?
- না,জানি না।
- ক্লাসে আমি তোমার দিকে তাকিয়ে।
- হ্যা,এটা জানি।
- তাহলে একটু আগে বললে যে জানো না।
- তখন তো বুঝতে পারিনি তুই এটা বলবি।
নিতুর সাথে কথার প্যাঁচে প্রায়ই পড়তে হয় হাসানের।হাসান নিতুকে তুমি করেই বলে,তুই ডাকতে পারে না।মেয়েদের তুই ডাকতে কেমন জানি লাগে ওর।নিতুকে যেদিন প্রথম দেখেছিল হাসান তখন মোটেও এরকম চঞ্চল মনে হয় নি।নিতু যখন ক্লাসের প্রথমদিন সবার সামনে দাঁড়িয়ে পরিচয় দিচ্ছিল, তখন তো ভয়ে কথাই বলতে পারছিল না।
পরেরদিন, ডিপার্টমেন্ট এর সামনে বসে আছে হাসান।নিতু ঢুকছিল ক্লাসে..
"এই মেয়ে সালাম দাও নি কেন?" নিতু তখন হা করিয়ে তাকিয়ে হাসানের দিকে।ভয়ে ভয়ে মানুষ যে কথা গুলো,সব গুলো কথা বলতে পারে না, কিছু কথা জড়ো হয়ে যায় মুখে,তখন ঠোঁট কাপে।মুখ খানিকটা লাল হয়ে।যেটা নিতুর ক্ষেত্রে হয়েছিল।নিতু শুধু ভাইয়া ভাইয়া বলছিল। পরে অবশ্য বলে দিয়েছিল নিতুকে, যে সে সেইম ডিপার্টমেন্ট,সেইম ব্যাচ।
এই নিতুর মাঝে এখন বেশ তফাৎ, কথা বলতে পারে অনেক,রাগী। হাসান নিজেই ভয় পায় মাঝে মাঝে যখন ভ্রু কুঁচকিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকায়।তবু সে নিতুর ভয়ংকর সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
.
বাস চলছে, আর অন্যদিকে গান শোনার জন্য হেডফোন এর প্যাঁচ খুলছে হাসান। মাঝে মাঝে রাগ উঠে প্যাঁচ খুলার সময়,তখন সে প্যাঁচসহ হেডফোন কানে দিয়ে ফেলে।তখন অবশ্য পাশে বসা মানুষটি অবাক তাকায় হাসানের দিকে।হাসান তার দিকে তাকাতেই ঐ মানুষটি চোখ ফিরিয়ে নেয়।তখন বড্ড হাসি পায় হাসানের।ফোনটি হাতে নিতেই মাহফুজের ফোন।
- "হ্যালো মামা,তোমার নামে নতুন কনফেশন।মানুষ তো তোমার উপর ক্রাশ খেয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছে,এখন বমি বমি ভাব হচ্ছে।। ট্রিট দিবা আজকে মনে থাকে যেন।"
-"ওরে বেডা, এত ট্রিট ট্রিট করলে তোর নিজেরই বমিবমি ভাব হবে।"
নতুন কনফেশন হয়েছে হয়ত।হাসান একটু হাসলো।প্রথম ক্রাশ কনফেশনটি হাসান নিজেই দিয়েছিল এক ফ্রেন্ডের ফেইক আইডি থেকে "অচেনা মায়াবিনী"।অচেনা মায়াবিনী এত সুন্দর করে লিখেছিল যে ক্লাসের সবাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।কেউ কেউ বলেছিল,"তোর অচেনা মায়াবিনী কে খোঁজে বের করার দরকার।আর দুশমন বন্ধু গুলো লেগে গিয়েছিল ট্রিটের জন্য।
আজকের কনফেশনটা চেক করা দরকার।
.
নিতু যখন কথা বলে ছোট ছোট হাসি দেয়।হাসতে হাসতে যখন কথা বলে তখন মনে হয় গাছ থেকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল গুলো মাটিতে ঝড়ছে,ইচ্ছে করে ফুল মাটিতে পড়ার আগেই ধরে ফেলতে হাসানের। এই কারণে নিতুর সাথে কথা বললে, মাঝেমাঝে কথা ভুলে যায় হাসান।
নিতুকে হাসানের ভালো লাগে, শুধু ভালো না বেশ ভালো লাগে।এটা নিতুকে বলেছে সে।কিন্তু নিতু ওকে কথার প্যাঁচে ফেলে দেয়।
- নিতু, তুমি একটা খুনি!
- মানে? কাকে খুন করলাম।
- তোমার চোখের চাহনিতে খুন করো আমায় বারবার।
কিছুক্ষণ পর নিতু একটা নাম্বার দিয়ে বললো,"উনাকে ফোন দিয়ে মামলা কর।"নাম্বারটি সত্যি একজন পুলিশের ছিল।
-নিতু,তোমার জন্য আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় প্রতিদিন।
নিতু এক ডাক্তার এর নাম্বার দেয় আর ব্যান্ডেজ করিয়ে আনতে বলে।
রাতে রুমমেট যখন তার গার্লফ্রেন্ডের কথায় ব্যস্ত থাকে,তখন হাসানের বেশ একা লাগে।রুমমেট বা বন্ধু যখন তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে বলে,তখন তার সিংগেল বন্ধুটির খারাপ লাগে সেটা তারা বুঝে না। হাসানও কোনো উপায় না পেয়ে নিতু কে ফোন দেয়,"নিতু,তোমার জন্য আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।" পরেরদিন ক্লাসে নিতু হেমায়েতপুরের একজন ডাক্তার এর কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলে,উনার সাথে যোগাযোগ কর।
নিতুকে মাঝে মাঝে আজব লাগে ওর।আবার রাগও উঠে।কিন্তু নিতু সামনে আসতেই রাগ কিভাবে জানি চলে যায়।হাজার বার ভালো লাগার কথা বলার পরেও নিতু কখনো সিরিয়াসলি নেয় নি।এখন দরকার ছাড়া কথা হয় না ওর সাথে তেমন।
.
ফোনের ডাটা কানেকশন অন করতেই টুং শব্দ হলো,নিতুর মেসেজ। "আজ প্রথম ক্লাস শেষে লাইব্রেরীতে আমার সাথে দেখা করবি?" "আচ্ছা।"
হয়ত দরকার তাই মেসেজের রিপ্লেটাই আগে দিল।কনফেশন পড়ছে হাসান,কনফেশনটি হাসানকে লিখেছে না অচেনা মায়াবিনী কে লিখেছে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়লো। সারমর্ম ছিল,
"তোমাকে ভালোলাগে সেটা কতবার বলবো,একটু কষ্ট করে বুঝে নিও।অচেনা মায়াবিনী তুমি যেই হও না কেনো,ওর দিকে তাকানো বন্ধ করে দিবে।
ইতি
নিষ্ঠুর তুমি..."
নিষ্ঠুর তুমিকে খুজে বের করতেই হবে।বাস ভার্সিটি তে এসে গেল।নামার সময় জানালার পাশে বসা মেয়েটার সাথে আবার চোখাচোখি হল।
হাসান লাইব্রেরী তে চলে গেল।সেখানে গিয়ে দেখে নিতু লাল শাড়ি পড়ে বসে আছে।হয়ত আজ বসন্তের প্রথম দিন বলে।
কিন্তু ওর তো এত আগে বসে থাকার কথা না।
- তুমি এখনি বসে আছো যে!! প্রথম ক্লাস শেষে আসবে বলছিলে।
- আমি জানতাম তুমি এখন আসবে।তাই বসে আছি।
- হা হা হা।তারপর নিষ্ঠুর তুমির মন আজ নরম হল।
- তোমাকে কতবার না করছি এটা বলবা না,নাম ধরে ডাকবা।
- নিতুর পূর্ণরূপ নিষ্ঠুর তুমি ই হয়।
- নরম হবে কি করে তুমি কখনো ভালোবাসি বলেছো।ভালোবাসি বললে মেয়েদের মন নরম হয়।
- তাই? তাহলে এখন তুমিই আগে বলো।
- উঁহু, মেয়েরা আগে বলে না,ছেলেদের আগে ভালোবাসি বলতে হয়।
- ভালোবাসি...
- কাকে?
"এই যে শুনছেন?" কে জানি পিছন থেকে ডাকছে।
পিছনে তাকিয়ে দেখে বাসের জানালার পাশে বসা মেয়েটি।"আমি আজ ক্যান্টিনে আসতে পারবো নাহ,আমার ল্যাব আছে।"
নিতু তাকিয়ে আছে চোখ বড় বড় করে।আজ ভয় লাগছে না হাসানের,এ তাকানোর মাঝে মনে হচ্ছে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে।একটু পর হাসানের হাতের উপর নিতু হাতটি রাখলো,ফিসফিসিয়ে বললো,"ভালোবাসি।"হাসানের ইচ্ছে করছে, লাইব্রেরীতে বসেই চিৎকার করে বলতে,"নিতু তোমাকে ভালোবাসি।"
.
নিতু এখন আর তুই ডাকছে না হাসানকে,তাদের গল্পটি মোড় নিয়েছে,গল্পটির নতুন নাম হয়েছে "আমি-তুমি"..কিছু অনুভূতি বলে বুঝানো যায় না,ব্যাখা নেই এইসব অনুভূতির।প্রিয় মানুষটার মুখে ভালোবাসি শুনলেই বুকের ভেতরে কেমন জানি হয়।এক অজানা শক্তি যা মুখে হাসি ফোটাতে পারে,পারে দুঃখ ভুলাতে।একবার শুনলে বার বার শুনতে ইচ্ছে করে আর বারবার বুকের ভেতরটায় হিমশীতল হাওয়া বয়ে যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now