বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--- রুমের চারপাশে ফুলের সমারোহ আর ছোটছোট ক্যান্ডল জ্বালানো। বাসর ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বিছানায় ফুলের পাপরি গুলো পরে আছে, আর সেই বিছানার মাঝে বসে আছে তানিশা। আজ সে তার ভালবাসার মানুষটাকে নিজের করে পেতে চলেছে। যার সাথে পথ চলার জন্য জীবনের ছোটছোট অদেখা স্বপ্ন গুলো হৃদয়ে বুনেছে। বিন্দু বিন্দু করে জমিয়েছে হৃদয়ে ভালবাসার অথৈ সাগর। চলেছে ভালবাসার এক নতুন পর্ব লিখতে। কাব্যকে এতো সহজে পেয়ে গেছে ভাবতেই নিজের অজান্তে তার ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো। কখন থেকে কাব্যর অপেক্ষা করছে, কিন্তু সে আসার কোনো নাম নেই। তাই তানিশা বিছানা ছেড়ে উঠে রুমের চারপাশে দেখতে লাগলো। আজ থেকে এই রুমটা তার প্রিয়জনের সাথে সাথে তারও হয়ে গেলো।
হঠাৎ কাব্য দরজা নক করে রুমে এসে কাবার্ড থেকে তার একটা গেঞ্জি আর জিন্স নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো। পরনের শেরওয়ানিটা চেঞ্জ করে তানিশার সাথে কোনো কথা না বলে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদে চলে গেলো। তানিশা পুরো থ হয়ে দাড়িয়ে আছে। কাব্য তার সাথে কোনো কথাই বলল না। কাব্য ছাদে গিয়ে দোলনায় বসে দুহাটুতে কনুই রেখে দুহাত দিয়ে মুখ চেপে রেখেছে। আজ তার মন খুব খারাপ। তানিশার থেকে এটা সে আসা করেনি। তানিশাকে বলে ছিল কাব্যর হৃদয় জুড়ে অন্যকেউ বিচরণ করে। কাব্য যে শুধুমাত্র তার কণাকে ভালবাসে। তাহলে তানিশা এই বিয়ে করলো কেন? কেনই বা কাব্যর জীবনটা অযথা নষ্ট করলো? যদি কখনো কণার মুখোমুখি হয় তখন কি জবাব দিবে কণার কাছে? ভাবতেই মাথা ঝিমঝিম করছে।
তানিশা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ঘুমিয়ে পরেছে। রাত প্রায় ২ টা বাজে কাব্য তার রুমে গিয়ে দেখে তানিশা বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। পুরো রুমের দিকে তাকিয়ে কাব্যর ভিতরটা হাহাকার করে উঠলো। কণাকে নিয়ে এই বাসর রাতে কত স্বপ্ন দেখেছে। শুধুমাত্র তানিশার জন্য আজ তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো। অনেকটা বিরক্তি নিয়ে তানিশার দিকে তাকিয়ে আছে। ইচ্ছে করছে তাকে মাথায় তুলে একটা আছাড় মারতে। কিন্তু সেটাও সম্ভব না,, কারণ তার মা বাবার আদুরী বৌমা বলে কথা। কাব্যর এখন ঘুমাতে হবে। কিন্তু এই মেয়ে বিছানায় ঘুমালে কাব্য কোথায় ঘুমাবে?? তাই কাব্য তানিশাকে ডাকতে লাগলো,,,
কাব্য : এই যে,, এই মিস তানিশা,, উঠেন।
তানিশা : আমি মিস না,, মিসেস তানিশা মাহমুদ বলেন। ( ঘুমঘুম গলায় )
কাব্য : whatever.... আমার বিছানা ছেড়ে উঠেন। আমি ঘুমাবো,,
তানিশা : বিছানায় অনেক জায়গা আছে। আর আমি কি আপনার পুরো বিছানায় নিয়ে ঘুমিয়ে আছি নাকি? আপনি ঐ পাশে শুয়ে পরেন।
কাব্য : আমি আমার bed কারো সাথে share করিনা। ( দাঁতে দাঁত চেপে )
তানিশা : সেটা আমাকে বিয়ে করার আগে ভাবা উচিৎ ছিল।
কাব্য : what do you mean...?? ( ভ্রু কুচকে )
তানিশা : I mean... আমি আপনার অর্ধাঙ্গী। আপনার উপর এবং আপনার সব কিছুর উপর আমার পূর্ণ অধিকার আছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আর হ্যা বেশি বকবক করবেন না। কারণ আমি এখন ঘুমাবো। ( মিটমিট করে চোখ খোলে )
কাব্য : আমি আপনাকে আমার অর্ধাঙ্গী মানি না। আমার কোনো কিছুতেই আপনার কোনো অধিকার নেই। তাই ভালোই ভালোই বলছি চুপচাপ আমার বিছানা ছেড়ে চলে যান। ( রেগে গিয়ে )
তানিশা : sorry my dear husband... আমি কোথাও যাবো না। আপনি মানেন আর না মানেন আমি আপনার অর্ধাঙ্গী। এই সত্যি'টা মানতে আমি আপনাকে বাধ্য করবো। আর আমার পাশে না ঘুমাতে চাইলে আপনি নিচে ঘুমাতে পারেন। আমার কোনো আপত্তি নেই।
--- বলেই তানিশা একগাল হেসে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পরলো। কাব্যর ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে এই মেয়েকে বিছানা থেকে টেনে নিচে ফেলে দিতে। একদিনে এসেই এমন ভাবে অধিকার খাটাচ্ছে মনে হচ্ছে তার বিয়ে করা বৌ? ওহহ হ্যা এটা'তো তার বিয়ে করা বৌ। কাব্য মন থেকে না মানলেও বিয়ে'টাতো হয়েছে। ভাবতেই কেমন লাগছে, প্রথম দিনে এমন অত্যাচার? বাকিটা জীবন কি করবে আল্লাহই জানে?? কাব্য তার বিছানা ছেড়ে কোথাও ঘুমাতে পারেনা। তাই কোনো উপায় না পেয়ে বিছানার মাঝখান কয়েকটা ছোটছোট বালিশ দিয়ে তানিশার পাশে শুয়ে পরলো।
ভোরে তানিশার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। শুয়া থেকে উঠে কাব্যর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, ফর্সা গায়ের রং, এলোমেলো চুল। সব মিলিয়ে কাব্যকে ঘুমের মধ্যে এতটা নিষ্পাপ দেখাচ্ছে তানিশা নিজের অজান্তে তার ঠোঁট দুটি কাব্যর ঠোঁটে ছুয়ে দিলো। কাব্যর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে না থেকে বিছানা ছেড়ে উঠে নামাজ পরে, কাব্যকে ডাকতে লাগলো,,,
তানিশা : এই যে Mr husband আর কতক্ষণ ঘুমাবেন? উঠেন।
কাব্য :...
তানিশা : Mr husband এখন না উঠলে আমি কিন্তু গায়ে পানি ঢেলে দিবো।
কাব্য :...
তানিশা : উঠবেন না??
কাব্য :...
--- তানিশা টেবিলে রাখা এক গ্লাস কাব্যর গায়ে ঢেলে দিলো। আচমকা ঘুমের মধ্যে কাব্যর গায়ে পানি পরতেই সে লাফ দিয়ে উঠে বসে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো,,,
তানিশা : কি হলো? কখন থেকে ডাকছি আপনাকে?
কাব্য : তাই বলে আমার গায়ে পানি ঢেলে দিবেন? ( বিষম খেয়ে )
তানিশা : হুম। কাল থেকে এই সময়ে উঠার অভ্যাস করে নিলেই হবে। এখন নামাজ পরে আসেন।
কাব্য : পরবো না।
--- বলেই কাব্য আবার বিছানায় শুয়ে পরলো,,,
তানিশা : পরবেন না মানে?
কাব্য : আমি নামাজ পরি না।
তানিশা : তারমানে এতদিন আপনি আমার সাথে মিথ্যা বলেছেন? ( থ হয়ে )
কাব্য : আমি আবার আপনার সাথে মিথ্যা বললাম কবে? ( বিষম খেয়ে )
তানিশা : বলেননি? আপনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেন। নামাজ কায়েম করেন। সম্পর্কের মূল্যায়ন করেন। এই করেন সেই করেন। করেন কি আপনি? ঘোড়ারডিম ( প্রচন্ড রেগে )
কাব্য : বিয়ের আগে আপনার সাথে আমার দেখাই হলো মাত্র একদিন। তখন'তো আমি আপনাকে শুধু কণার কথা বলে ছিলাম। তার থেকে বেশি কিছু বলিনি। আর আমি এতকিছু বলতে যাবো কেন! তাও আবার আপনাকে!! ( শুয়া থেকে উঠে চিন্তিত হয়ে )
তানিশা : না মানে আমাকে না, কণাকে হয়তো বলতেন আরকি। ( আমতা আমতা করে )
কাব্য : wait... আমি এগুলো কণাকে বলতাম! আপনি জানলেন কি করে?? ( অবাক হয়ে )
তানিশা : আপনি অযথা কথা বলে সময় নষ্ট করছেন। তাড়াতাড়ি নামাজে যান নাহয় আপনার জন্য ভালো হবে না বলে দিলাম।
কাব্য : যাবো না কি করবেন?
তানিশা : কণাকে বলে দিবো। আপনি হয়তো কণাকে চিনেন না। আমি কিন্তু খুব ভালো করে চিনি।
--- তানিশা কথাটা বলতে বলতেই কাব্য উঠে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে নামাজে চলে গেলো। তানিশা রান্নাঘরে গিয়ে একা সবার জন্য নাস্তা তৈরি করে খাবার টেবিলে সাজিয়ে রেখেছে। সবাই নাস্তার টেবিলে এসে অবাক!! নতুন বৌ এতো তাড়াতাড়ি নাস্তা তৈরি করে ফেললো? বাহ এমন বৌ আজকের যুগে কয়জনের ভাগ্যে মিলে? কাব্যর মা সেই পরিমাণ খুশি,,,
কাব্যর মা : আরে বাহহ্ আমার বৌমা'তো একদিনে ঘরোয়া হয়ে গেছে।
তানিশা : আন্টি please... বৌমা বলবেন না। আপনি আমাকে আগের মতো তানিশা বলে ডাকেন। বৌমা কেমন জানি পর পর লাগে।
মা : তুই আমাকে আন্টি বলে ডাকলি কেন? মা বলে ডাকবি। বুঝলি?? নাহয় আমি কিন্তু বৌমা বলেই ডাকবো।
তানিশা : হুম মা এখন বসেন।
কাব্যর বাবা : তোমাদের ডাকাডাকি শেষ হলে নাস্তা করা যাক?
তানিশা : জ্বি বাবা, আপনি বসেন আমি দিচ্ছি।
--- তানিশা সবাইকে নাস্তা দিয়ে কাব্যর পাশে বসে পরলো। বিষয়টা কাব্যর কাছে মোটেও ভালো লাগছে না। তানিশা কাব্যকে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,,,
তানিশা : Mr husband আমরা হানিমুনে কোথায় যাচ্ছি?
কাব্য : জাহান্নামে। ( বিরক্তি নিয়ে )
তানিশা : impossible... তোমাকে নিয়ে আমি জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি।
কাব্য : আমাকে তুমি করে বলছেন কেন?
তানিশা : এ্যামা তুমি আমার প্রাণের স্বামী তোমাকে আপনি করে বলার মতো পাপ আমি করতে পারি? ছি ছি,,
কাব্য : আমার পিছনে কেন লেগে আছেন? আপনি খুব ভালোই করে জানেন যে আমি কণাকে ভালবাসি। আমি কিন্তু কণাকে পেয়ে গেলে আপনাকে ডিবোর্স দিয়ে দিবো। কথাটা মনে থাকে যেন।
তানিশা : আমি মা বাবার অনুমিত ছাড়া কোথাও যাবো না। ( অনেকটা জোরে )
মা : কোথায় যাবি না?
তানিশা : মা আপনার ছেলে বলছে আজকে বিকালে বাহিরে ঘুরতে যাবে। সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে dinner করে আসবে।
--- কাব্য চোখদুটি বড়বড় করে তানিশার দিকে তাকিয়ে আছে। এই মেয়ে'তো দেখি অত্যাচারীর সাথে এতবড় মিথ্যাবাদীও। কাব্য কোথাও যাবে না এই মেয়েকে নিয়ে। কাব্যর মা বলল,,,
মা : এতে অনুমিত নেয়ার কি আছে? যা ঘুরে আয় দুজনে।
কাব্য : না মানে,, মা আজকে আমার অফিসে অনেক কাজ আছে।
তানিশা : তুমি'তো এক্ষণ বললে ঘুরতে যাওয়ার কথা। আবার এক্ষণ তোমার অফিসে কাজ চলে আসলো? ( মন খারাপ করে )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now