বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-৫

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md. Reaz Hosen (০ পয়েন্ট)

X অপালা পাশের একটা ভালো বাড়ির ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকতে লাগলো।অত্যাচারের প্রথম ধাপ হিসেবে বেছে নিল ঘুমাতে না দেওয়া।তার ঠিক করা লোকেরা রাতে এসে তার বাড়ির আশেপাশে প্রচুর শোরগোল করত।।অসীম ঘুমাই কম,সেটুকু ঘুমও কেড়ে নিল।অন্যান্য ভাবেও অত্যাচার করতে লাগলো।রাস্তায় বেতনের টাকা ছিনতাই,মারধর করতে লাগলো।এগুলো অপালা দেখত আর হাসত।এভাবে বিশ দিন তার ওপর অমানুষিক অত্যাচার করলো।তরপর চিঠি লিখলো। =>আমাকে ইগনর করেছিলি,ঝামেলা বলেছিলি।এখন দেখ কেমন লাগে।আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে নে।মাফ করে দেব। কিন্তু অসীম কোনো জবাব দিলো না। অপালা সিরিয়াস সিদ্ধান্ত নিল। আজ একুশ তম দিন।অসীমের আজ ছুটি।বাইরে বেরিয়েছে।আজ প্রকৃতি অনেক সুন্দর।ঘন মেঘবিহীন নীল অকাশ।সোনালী হলুদ পাখি যেন অসীমকে লক্ষ্য করে ছুড়ছে সূর্য।পাখির কিচির-মিচির,ফুলের সৌরভ অসীমকে মাতাল করে দিচ্ছে।অনেক দিন পর অসীমের মন আজ ভালো হয়েছে।সে ভাবছে সে এই সুন্দর ধরণী ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না।সে কিছুদুর হাটল।তারপর একটু থামল।সে শুধু দেখতে পেল তার সামনে দিয়ে দুইজন লোক মটরসাইকেল নিয়ে চলে যাচ্ছে।যখন সে চোখ খুলল সে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলো। নয়ন কাছে গিয়ে বলল =>>>তোর এখন কেমন লাগছে?আমারতো তোকে পাওয়ার আসায় ছেড়ে দিয়েছিলাম।৭ দিন জ্ঞান শুন্য অবস্থায় ছিলি। অসীম জবাব দিল না।সে চারদিকে তাকাচ্ছে আর ভাবছে।সে এখানে কেন?আরো ভাবছে অসীম আমরা বললো কেন।বাইরের দিকে তাকাতে খালাকে দেখল সে। =>>>তোকে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলাম।কি হয়েছিল।কে করছিল একবার বল।আমি তারে দেইখা নিব(রাগান্বিত স্বরে)। কোনো কথা না বলে অসীম উঠে দাড়াল এবং চলে যেতে লাগলো। =>>>কোথায় যাচ্ছিস।তোকে আরো কিছুদিন এখানে রেস্ট নিতে হবে। অসীম শুধু বলল,অনেক করেছিস।বলেই চলে গেল।হাটতে একটু কষ্ট হচ্ছিল।সে গেটের কাছে যেতেই অপালা উপর থেকে দেখে অবাক হয়ে গেল। অপালা তাকে আবার চিঠি দিল।এবারও কাজ হলো না।তাই সে আবার ফোন করল। রাগের মাথায় চিৎকার দিয়ে বলল =>এবার আর কাচা কাজ করবি না।তাহলে তোদের খবর আছে। জোরে বলায় অসীম তা শুনতে পেলো।অসীম ভয় পেলো না কারণ অসীমেরও এই পৃথিবী আর ভালো লাগেনা।আজ ২৯ দিন।না অসীমের আর ভালো লাগছে না।কিছু কাজ বাকি পড়ে আছে।তার বন্ধু নয়ন আর তার খালাকে শেষ কিছু কথা বলা দরকার।তারা অনেক করেছে।তাদের সাথে কথা বলে চলে আসল।আজ ২৯ দিন। অপালা এবার বিপদে পড়লো।রহস্যজনকভাবে তার সকল কর্মচারীরা সব উধাও হয়ে গেল। কোনো খবর নেই।তারাই অপালার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে যেত।কিন্তু তারা কাল থেকে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।বাসায় ফোন দেওয়ার চেষ্টা করল কেউ ফোন ধরছে না।বাসায়ও গেল।কিন্তু সেখানে সে নতুন দাড়োয়ান দেখতে পেল দাড়োয়ানকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল তার নতুন মালিক এই বাড়ি কিনে নিয়েছে।সে তার বান্ধবীদের বাড়ি গেল কিন্তু তারাও তাকে তাড়িয়ে দিল।একসময় এই বান্ধবীরাই তার বাসায় আসত তার কাছ থেকে টাকা নিত,আরো অনেক কিছু।এগুলো ভেবেই তার মাথা ঘুরাচ্ছে।আবীরকে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করলো।আজও তার ফোন বন্ধ।সেই যে ৩০ দিন আগে আবীর গেছে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।পথে শাওনের সাথে দেখা।শাওন তার ছেলের সাথে বাজারে যাচ্ছিল।ছেলেটা শাওনকে আব্বু আব্বু বলে ডাকছিল।শাওন অপালাকে দেখে বলল =>>>বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু তোমার বাবা আর নেই।তোমার বাবাকে চক্রান্ত করে তার বিরোধী দল হত্যা করেছে এবং সকল সম্পতি দখলে নিয়েছে। বাবার মৃত্যের খবর শুনে সে সেখানেই কেদে দেয়।পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে তার।সে শাওনকে কষ্ট দিয়েছিল।শাওন বলেছিল উপরে আল্লাহ আছেন।তিনি সব দেখছেন।একদিন তোমার অহংকার চূর্ন হবে। কিন্তু শাওনের আজ খারাপ লাগছে তার এই অবস্থা দেখে।তিনদিন পর সে অনেক কষ্টে তার ফ্লাটে ফিরল। আজ ২ তারিখ।বাসায় ফিরার ১০ মিনিট পর বাড়িয়ালী আন্টি ভাড়ার কথা বলে গেলেন। দুইদিন কিছু খায়নি সে।তাই কাছে থাকা শেষ ১০০ টাকা নিয়ে দোকানে যাচ্ছিল।কিন্তু পথ চলার সময় তা হারিয়ে ফেলল।আজ চারদিন সে না খেয়ে আছে।তার আজ অনেক কথা মনে পড়ে সে কতজনকে কষ্ট দিয়েছে,কতজনের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে।সে ভাবে আর কাদে।একদিন এক ছেড়া কাপড় পড়া বাচ্চা তার কাছে এসে বলেছিল =>>আফা চারদিন ধরে না খাইয়া আছি কিছু খাইতে দেন।সেদিন অপালা কি করেছিল তা ভেবে কাদে।আজ সে চারদিন না খেয়ে থাকার জ্বালা বোঝে।বাড়িয়ালী আন্টির আওয়াজে সে বাস্তবে ফিরলো =>>>ভাড়া নেওয়ার সময় কি বলিনাই ১ তারিখে ভাড়া দিতে হবে।কাল ভাড়া না দিলে পুলিশে দিমু।জেলে যাইতে না চাইলে ভাড়ার কথা জানি মনে থাকা।১৫ হাজার টাকা সে এখন কোথায় পাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-১
→ অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-৬
→ অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-৪
→ অসুখীর ভালোবাসা-পর্ব ২
→ অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-৩
→ অসুখীর ভালোবাসা পর্ব-৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now