বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত্বের ভয়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অস্তিত্বের ভয় - একলা কিশোর তখনো আমার কলেজের প্রফেসর হিসেবে চাকুরী জীবনের সূত্রপাত ঘটেনি। সদ্য এম এ পাশ করে বেকারত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি জগৎ সংসারে। একটা মেয়ের সাথে ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে বেশ ঘনিষ্টতা হয়েছিলো। তার সামনেও যেতে পারছিনা একটা চাকুরীর অভাবে। কোন মুখে তাকে বিয়ের কথা বলবো একটা চাকুরী ছাড়া বলুন। এখানে গল্পের শালীনতা রক্ষায় একটা কথা একটু পরিষ্কার করা দরকার। ঘনিষ্টতা বলতে সে সময়ে আজকালকার মত বিছানা পাটির ব্যাপার স্যাপার ছিলনা। এই ধরুন আধহাত দূরে বসে বাদাম খাওয়াটাই ছিলো ঘনিষ্টতা। তখনও অবশ্য বুড়োরা বলতো - আহ দেশটা এক্কেবারে রসাতলে গেলো। যাহোক তো এমনই এক ঘোর দুঃসময়ে জীবনের প্রথম একটা চাকুরীর অফার পেলুম। চাকুরীটা ছিলো একটা ঘোর গ্রামে। তখন আমার প্রায় ডুবন্ত অবস্থা , খড়কুটো হলেও ধরে বাচার চেষ্টা চালাচ্ছি সেখানে সাক্ষাত কচুরিপানা ছেড়ে দেবো ? তা কিকরে হয় ? কাজেই বাক্স প্যাটরা নিয়ে রওনা হলাম বসুমতি গ্রামের উদ্দেশ্যে। সেখানকারই একটা স্কুলের হেডমাস্টার আমি। এ টি ওর ভাষ্যমতে গাধার বাচ্চা কাচ্চা ঠেঙিয়ে মানুষ করার ভার পড়লো আমার ঘাড়ে। এতো বড় ভার নিয়েও তখন বেশ দিব্যি দিন চলে যাচ্ছিলো আমার। টাকা পয়সার খরচা তেমন নেই। যা পাচ্ছি প্রায় অর্ধেকটাই জমিয়ে যাচ্ছি। এভাবেই প্রায় মাস তিনেক পেরিয়ে গেলো এরপরের মাসেই এই ২০১৫ সালে বসে ২০০১ সালের একটা ঘটনা লেখার মত কান্ডটা ঘটে গেলো। তখন সবে নভেম্বর মাস। কনকনে শীত কাকে বলে তা বেশ টের পাচ্ছিলুম। এমনই কোনও এক দিনে আমার নামে একটা চিঠি এলো। চিঠিটা পৌছুতে পৌছুতে প্রায় সন্ধ্যে। ইলেকট্রিসিটি নেই তাই রাতের আধার হারিকেন দিয়েই কাটাতে হয়। আমিও হারিকেনের আলোয় চিঠিটা পড়তে শুরু করলাম। দু তিন পাতার চিঠিতে মিলিয়ে ঝুলিয়ে যা লেখা আছে তা হলো - আমার বিয়ে। আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমাকে বাচান। - চিঠি দাত্রী কিন্তু সেই মেয়েটিই। যাহোক চিঠি পড়ে আমি বাজারে গেলুম। হবু শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছি একটা বড়সড় মাছ কেনা তো উচিত। কোথায় যেন পড়েছিলাম মনের দরজার সাথে পেটের দরজার নাকি একটা বিশেষ যোগসূত্র আছে। শীতের রাতে চাদর গায়ে জড়িয়ে বাজার থেকে মাছ কিনে গন্জ্ঞের উদ্দেশ্যে হাটা ধরলাম। সেখান থেকেই বাস পাওয়া যাবে ঢাকার। বসুমতি থেকে গন্জ্ঞের দূরত্ব প্রায় মাইল তিনেক। হেটে হেটে যেতে হবে তাই এক প্যাকেট সিগারেটও কিনেছিলাম। শীতের রাতে বেশ কাজে দেবে। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করলাম। হু হু করে বাতাস বইছে। তিন চারটে কাঠি নষ্ট করেও সিগারেটটা যখন ধরছিলো না তখন সামনে একজন লোক এসে দাড়ালো বাতাস আগলে। এবারে সিগারেটটা জ্বালালাম। - ধন্যবাদ। লোকটা আমার কথার যেন ধারই ধারলো না এমন ভাবে বললো - মাস্টার না ? - জ্বী। কিন্তু আপনাকে তো ঠিক... - আমি মোস্তফা শেখ। আগে এই গেরামের মেম্বার আছিলাম। এখন আর তেমন বাইরে বাইর হইনা। তাই বোধহয় দেখেননাই। - বাইরে বের হন না কেন ? - লোকে ডরায়। খারাপ মেম্বার আছিলাম তো তাই। - তা এখন যিনি আছে আছেন তিনি কি ভালো নাকি ? - নাহ। হ্যায় আরও বেশী বদ। ভালার ভেক ধইরা আছে। বেশী বদ দেইখাই তো আমারে সরাইতে পারছে। থাউজ্ঞা সেইসব কথা। তা আপনে এতো রাইতে মাছ লইয়া কি গন্জ্ঞে যান ? - জ্বি। একটু ঢাকা যাবো। - তা একা একা কি ডর লাগে না ? - কিসের ভয় ? - ভুতের। গেরামে তো এহন স্কন্ধকাটা , নিশির পরে মেছো ভুতে ছাইয়া গেছে। আপনেরে যদি ধরে ? - আপনি ভুতে বিশ্বাস করেন ? দেখছেন কখনো ? - আমি অনেক কিছু জানি ভুতগো ব্যাপারে। - তাই নাকি ? আচ্ছা তাহলে বলেন তো ভুতেরা শুধু মাছ কেন খায় ? ডিম দুধ , মাংসে কি তাদের অরুচি আছে ? কিংবা মাছেই তাদের এতো লোভ কেন ? - আপনারে কেডায় কইলো যে ভুতেরা মাছ খায় ? হেগো খাওন দাওনের প্রতি কুনো লোভ নাই। লোভ তো থাহে মাইনষের। এই যেমন ধরেন আমি। মেম্বর যহন আছিলাম তহন কত লোকের ট্যাহা লুটছি। কত লোক জানে মইরা গেছে। এহন বুঝি লোভ করাডা ঠিক না। যহন দেহি হেই মরা মানুষগুলান আমার দিকে ঘৃনা নিয়া তাকায় তহন বুঝি লোভ খারাপ জিনিস। লোভ থাহে দেহের আত্মার থাহেনা। দেহের অস্তিত্ব আছে আত্মার নাই। ভুত হইলো আত্মা। হেরা চায় সেই অস্তিত্ব। হের লাইগাই তো হেরা ভয় দেহায়। মাছ কাইড়া নেয়। যাতে মাইনষে তাগো অস্তিত্ব বুঝে। যাতে মাইনষে ভয় পায়। যাতে মাইনষে বুঝে খারাপ কাম করা ঠিক না , লোভ করা ঠিক না। গ্রামের অশিক্ষিত একজন লোকের কাছে এমন গভীর কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। চার নাম্বার সিগারেটটা যখন হাতে ছ্যাকা দিলো তখন সৎবিত ফিরে পেলাম। লোকটি আবার বলতে শুরু করলো - মাস্টার সাহেব। অশিক্ষিত হইয়া বেশী বেশী জ্ঞানের কথা কইয়া ফালাইছি। ক্ষ্যামা কইরেন অধমরে। আর আপনের গন্জ্ঞ আইসা পড়ছে। আপনে যান। আমি আর যামুনা। ফিরা যামু। আসলেই গন্জ্ঞ এসে পড়েছে। আমি খেয়ালই করিনি। আমি আর কথা বাড়ালামনা হাটা ধরলাম। চার পাঁচপা হেটেই পেছনে ফিরে দেখি লোকটি আধারের গর্তে ঢুকে গেছে। লোকটিকে আমার বেশ মনে ধরে গেছে। সেবারে গ্রামে ফিরলাম প্রায় মাসখানিক পর। সাথে নতুন বউ। গ্রামে ফিরে মনে পড়লো মেয়র সাহেবের কথা। একদিন সহকারী শিক্ষক মইনুদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলাম - প্রাক্তন মেয়র মোস্তফা শেখকে চিনেন ? - জ্বি স্যার ১০ বছর এই গ্রামে আছি। চিনবোনা কেন চিনি। যেমন বাজে মেয়র তেমনি বাজে লোক ছিলেন। মরে গেছে ভালোই হয়েছে স্যার। আমি বেশ আশ্চর্য হলাম ? - মরে গেছে ! - জ্বি স্যার বছর দুয়েক আগেই তো। রেল লাইনের ধারে পড়ে ছিলো লাশ। বুক ফেড়ে দিয়েছিলো কেউ। পুলিশও এসেছিল। তবে তেমন কিছু করতে পারেনি। খারাপ লোক। কে না কে মেরেছে তার কি আর হদিস আছে ? আমি কিছু বললাম না। শুধু বললাম - অ। আচ্ছা। জানতাম না। এরপর আর বেশিদিন সে গ্রামে থাকতে হয়নি। মাসপাঁচেকের মধ্যেই ঢাকা শহরে কলেজের প্রফেসারির চাকুরিটা পেয়ে গেলুম আর গ্রাম ছাড়লুম। তবে স্মৃতিটা ছাড়তে পারলুম না। মাঝে মাঝে ভাবি ভাগ্যিস দেশের সব লোকের আমার মত এমন স্মৃতি নেই। তাহলে আর লোকে খারাপ কাজ করতো কিকরে ? তার মাঝে ভয় থাকতো না ? আরেকটা অশররী জগতের অস্তিত্বের ভয়। রক্ত হিম করা ভয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
→ অস্তিত্বের ভয়
→ অস্তিত্বের প্রয়োজনে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now