বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত্ব

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X এক পেছনে মেয়েলী একটা কন্ঠ শুনে হাঁটা ব›ধ করল মার্টিন, ঘুরে তাকাতেই দেখল এক ষোড়সী তরুণী ওরই দিকে এগিয়ে আসছে। মেয়েটি কাছে আসতেই তাকে চিনতে পারল ও। এই মাত্র যে রেস্তোরাঁ থেকে লাঞ্চ সেরে এসেছে সেই রেস্তোরাঁর বারকিপের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছে ও এই মেয়েটিকে। ‘দুঃখিত ম্যাম…’ হ্যাটের ব্রীম স্পর্শ করে নড করল মার্টিন,‘আমি কি লাঞ্চের বিলটা পরিশোধ করেই এসেছিলাম?’ ‘অবশ্যই! কিন্তু আমি তোমাকে সেজন্যে ডাকিনি…’ মিষ্টি কন্ঠে কথাটা বলল মেয়েটি। ক›ঠ যেমন মিষ্টি তেমন মিষ্টি চেহারাটাও। মায়া মায়া মুখটিই বলে দেয় এই মেয়ের দিকে দ্বিতীয়বার চোখ ফেরাতে বাধ্য হবে যে কেউ। ‘তুমি মনে হয় ভুল করে এই জিনিসটা ফেলে এসেছিলে-’ বলে হাতে ধরা কাগজের টুকরোটি বাড়িয়ে দিল সে। টনক নড়ল মার্টিনের। কাগজের টুকরোটা হাতে নিয়ে ওতে নজর বোলাতেই বুঝতে পারল ঝামেলা হবে। কিন্তু মেয়েটির হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকাতেই ভুল ভাঙ্গলো ওর। সূর্যের আলোয় চিক্চিক্ করছে তার মখমলের কালো পোশাক। ‘ভয় পেও না…মি: স্টেঞ্চার, কারো ব্যক্তিগত সম্পদে হস্তপে করা পছন্দ করি না আমি। তাই ফিরিয়ে দিতে এলাম।’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসিটাই যেন মার্টিনকে উপহার দিল মেয়েটি। মনে মনে হাঁফ ছাড়ল মার্টিন। বারটেবিলে মেয়েটির দৃষ্টি আকর্ষন করে এই চিরকুটটা ফেলে এসেছিল ও। স্রেফ মজা করার জন্য। প্রত্যত্তুরে একটুকরো বিরক্তির নিঃশ্বাসই আশা করেছিলো মেয়েটির কাছ থেকে। এখন যখন সামান্য এই কাগজের টুকরোটা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সামনে এসে দাঁড়াল মেয়েটি ভেবেছিল নির্ঘাত গোন্ডগোল বাধাবে এ। কিন্তু এখন ভাবছে মেয়েটি এই কাগজের টুকরোর রেশ ধরে যেছে পড়ে কথা বলার চেষ্ঠা করছে কেন ওর সাথে? ‘ধন্যবাদ ম্যাম!’ মৃদু হাসল মার্টিন,‘কিন্তু আমি কি জানতে পারি তুমি এই কাগজের টুকরোটাকে এত গুরুত্ব দিলে কেন?’ ‘দুঃখিত, মিষ্টার…’ ‘মার্টিন, মার্টিন ল্যাসলোর।’ ‘হ্যাঁ, মিষ্টার মার্টিন, তোমাকে এই শহরে আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না। সম্ভবত: এখানে এই প্রথমই এসেছো এবং এখানকার পরিবেশ সম্মন্ধে তোমার কোন ধারণাই নেই। যদি তাই হয় তাহলে আমি আশা করব এই মুহূর্ত থেকে তুমি নিজেকে গুছিয়ে রাখার চেষ্ঠা করবে।’ এখন ব্যাপারটা পুরোপুরি পরিস্কার হল মার্টিনের কাছে। আসলে মেয়েটি ওকে অত্যন্ত চাতুরীর সঙ্গে শাসানোর জন্য এসেছে। রেগে গেলে এ নিশ্চয়ই এভাবেই মনের জাল মেটায়? অথচ এতন মেয়েটির এ আচরনকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রশ্রয় ভেবে ভুল করছিল ও। দ্রুত নিজেকে গুটিয়ে নিল মার্টিন। ‘অবশ্যই ম্যাম,তোমার উপদেশ আমার মনে থাকবে…’ বলল সে। ‘শুনে খুশি হলাম।’ বলে ঘুরে দাঁড়াল মেয়েটি। নিতম্বে ঝড় তুলে বারের দিকে হাঁটা ধরল। ‘তুমি নিজে যেমন সুন্দর তেমনি তোমার কথাবার্তাও খুব সুন্দর ম্যাম। তোমার সাথে অবশ্যই আমার আবার দেখা হচ্ছে…’ পিছন থেকে মেয়েটিকে যেন বিদায় জানালো মার্টিন। হাতের কাগজটাকে ছিঁড়ে কুটিকুিট করে বাতাসে উড়িয়ে দিল ও। বিশেষ কিছু কাগজটায় লিখেনি ও। কেবল একটা লাইনই লিখেছিলো:‘তোমার তুলনা তুমি নিজেই ম্যাম।’ যাক্! মজাটা মজার ল্যাটাতেই চুকে গেল! মেয়েটা বুদ্ধিমান, চাইলেই ওকে ধোলাই খাওয়াতে পারত। হয়ত নিজের ব্যক্তিত্ব জারি করার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি। তাই ঝামেলা টেনে আনেনি। তবে মার্টিনের বুঝতে বাকি নেই যে এই মেযেটির সামান্য একটা ইশারাই শহরের তাবৎ ছেলেপেলের আগমনে ওর ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। ‘তোমার নামটাই জানা হলো না ম্যাম!’ বারের দরজা টেলে ভেতরে মেয়েটিকে প্রবেশ করতে দেখে নিজের পথ ধরল মার্টিন। হাঁটার মধ্যেই একটা সিগারেট রোল করে ঠোঁটে ধরাল। শহরের ধূলোমলিন ফুটপাত ধরে হাঁটছে ও। নাকে এসে ঝাপ্টা মারছে উৎকট গন্ধ। সেইসাথে চোখ মুখে এসে পড়ছে ধূলোবালি। ব্যানডানা তুলল ও নাক বরাবর। রাস্তার দুু’পাশটা দেখতে দেখতে এগোচ্ছে ও। সারিবদ্বভাবে দুপাশেই বড়ছোট প্রচুর দালানকোঠা দাঁড়িয়ে আছে। লিভারী ষ্টেবল,জেনারেল ষ্টোর, সেলুন, বার,ক্যাফে হাইসম, ল-অফিস,গির্জা…সবই আছে। কিন্তু এইমুহুর্তে মার্টিনের কল্পনায় পরিস্কার একটা হোটেলের পরিচ্ছন্ন কামরার ছবি ভাসছে। গত ছত্রিশঘন্টা একটানা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এই গ্রীনটাউনকে আবিস্কার করেছিল ও। নিজের প্রিয় কালো স্টালিয়নটাকে তো প্রথমেই আস্তাবলের হসল্যারের হাতে সপে দিয়ে এসেছিল ঘন্টা দেড়েক আগেই। এখন ওর নিজেরও একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার। প্রথমে গোসল এবং ঘন্টা তিনেকের সীমিত অথচ শরীর মন ফুরফুর করার জন্য যথেষ্ট পরিমান ঘুম প্রয়োজন। একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে সিগারেটটা আঙুলের ফাঁকে নিয়ে এদিক-ওদিক দৃষ্ঠি ফেলল মার্টিন। ওর দৃষ্টি খুঁজছে একটি ভাল হোটেলের সাইনবোর্ড। হাঁটতে হাঁটতে চৌরাস্তায় চলে এল ও। ডানে বাক নিয়ে এগোল খানিকটা, নজরে পড়ল বড়সর একটা দালান। কাঠের রঙ ফালি ফালি হয়ে চটে গেছে বিধায় আত্মপ্রকাশ ঘটেছে র‌্যাদা করা কাঠের। তবে ব্যাটউইং দরজার উপরে জাকঝমকপূর্ণভাবে লেখা ‘স্যালিম্যান হোটেল এন্ড সেলুন’ কথাটি উৎসাহী লোকেদের স্বাগতম জানাতে আকর্ষনীয় ভূমিকা পালন করছে। হাতের সিগারেটটা মাটিতে ফেলে বুট দিয়ে পিষে হোটেলের দরজার দিকে এগোল মার্টিন। রাস্তার ওপাশে প্রচুর লোকজন চলাচল করছে ফুটপাথ ধরে। সবাই যার যার ধান্ধায় ব্যস্ত। আগত নতুন আগন্তুকের প্রতি কারোরই নেই আগ্রহ। কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না ওর দিকে। মার্টিন জানে নতুন মুখের আর্বিভাব এখানে বিচিত্র কিছু নয়। হোটেলের দরজার সামনে উপযুক্ত আকৃতির বারান্দা ও সিড়ি অ্যাডজাষ্ট করা। ওখানে আসতে না আসতেই ভেতর থেকে ছিটকে বেড়িয়ে এল এক লোক। অপ্রস্তু^ত অবস্থায় বেরিয়ে আসায় তাল হারিয়ে গিড়ে যাচ্ছিল, মার্টিনের সাথে ধাক্কা খেল। মাথা থেকে হ্যাট পড়ে গেল তার । একটু সরে দাঁড়িয়ে লোকটাকে সামলানোর সুযোগ দিল মার্টিন। লোকটাও নিজেকে সামলে নিল ঠিকই কিন্তু অনেক বেশি গিলে ফেরায় মাতলামীর মাত্রাটাকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছে না। তার হ্যাটটা ঝুঁকে মাটি থেকে তুলে হাতে ধরিয়ে দিল মার্টিন। লোকটার বিধ্বস্ত চেহারা দেখেই বুঝতে পারছে ভেতর থেকে মাল খেয়ে এসছে এ। ‘নিজেকে সামলাও খরগোশ কোথাকার!’ চাপা বিরক্তির সাথে মাথা ঝাকাল ও। ‘যাচ্ছেল!’ খ্যাপা কন্ঠে বলল মাতাল,‘তুমি যেতে পার ব›ধু!’ তারপর মাতালের তাচ্ছ্বিল্য বলতে যা বুঝায় সেরকম মন্তব্য করেই কথাটা বলল। এবং উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। যেন কিছুই ঘটেনি। হোটেলের ভেতর ঢুকল মার্টিন। লম্বা কাউন্টার। পেছনের দেয়ালে থরে থরে সাজানো চাবির জোটা একটা সেলফের ভিতর তালা দিয়ে আটকানো। খদ্দেরের আগমন ল্য করে এগিয়ে এল বারটেন্ডার। হ্যাংলা শুকনো ও পাতলা গড়নের শরীর। কালো চামরা আর মুখে বসন্তের দাগ লোকটার। নিগ্রো। ‘হাউডি মিষ্টার। গ্রীনটাউনের একমাত্র হোটেল স্যালিম্যান-এ স্বাগতম’ নির্মল অথচ খসখসে কন্ঠে মার্টিনকে অভ্যর্থনা জানাল বারটেন্ডার। ‘ধন্যবাদ, আমার একটা কেবিন প্রয়োজন।’ সেলুনের দিকে তাকিয়ে জানাল মার্টিন। জনা দশেক খদ্দের ছড়িয়ে ছিটিয়ে যার যার টেবিল দখল করে তাস,হুইকি অথবা ফালতু গল্প গুজবে মত্ত হয়ে আছে। কেউই ওর দিকে তাকালো না। ‘একটাই মাত্র কেবিন খালি আছে স্যাহ।’ মার্টিনের একহারা সুঠাম সুদর্শন দেহায়বয়বের ওপর নজর বুলিয়ে যন্তুষ্ট চিত্তে বলল বারটেন্ডার। ঘুরে পেছনের কী-বোর্ড খেলার জন্য এগাল সে। ‘এখন আশা করব গোসলের যাবতীয় ব্যবস্থাই করে রাখা আছে?’ ‘অবশ্যই স্যাহ্।’ কী-বোর্ড থেকে একটা চাবি নিয়ে এসে মার্টিনের হাতে দিল নিগ্রো। হাসিমুখে জানিয়ে দিল রুমের লোকেশন-‘ডানের সিঁড়ি দিয়ে দো-তলায় উঠে সোজা চৌদ্দ নম্বার কেবিন।’ চাবি হাতে নিয়ে রুমের ভাড়া মিটিয়ে দিল মার্টিন। জানিয়ে দিল সন্ধ্যা না শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নেবে ও। তারপর সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। ওকে মালপত্রহীন দেখে একটু আবাকই হল বারটেন্ডার। ‘মিষ্টার মার্টিন-’ খাতায় পরিচয় রেজিষ্ট্রি করার সময় মার্টিনের নাম জানা হয়ে গেছে নিগারের,‘মনে হচ্ছে তুমি খালি গায়েই ,এসেছো?’ ‘তুমি ঠিকই ধরেছো স্যালিম্যান,’ ঘাড়ের ওপর দিয়ে মুখ ফিরিয়ে হাসল মার্টিন। এই নিগ্রো কংকালই যে স্যালিম্যান জানা হয়ে গেছে ওরও। কিছু কেনাকাটা করতে হবে। ‘সন্ধ্যা পরেই তোমার সাথে কথা হবে স্যালিম্যান।’ কোমরের দু পাশের দুই সিক্সগানের দিকে তাকিয়ে হাসল স্যালিম্যান। ও জানে ওগুলো বেশিন আর ওখানে থাকবে না। দুই স›ধ্যা শেষে হোটেলের সেলুনটাতেই এসে বসল মার্টিন। প্রচুর লোকের সমাগম ঘটেছে এখন স্যালিম্যানের বারে, সবার ওপর নজর ঘুরিয়ে আনল ও। কাউন্টারে স্যালিম্যানকে ব্যস্তভাবে ফরমাইশ খাটতে দেখল। লেবার ছেলেটাকে ডেকে হুইস্কির অর্ডার দিল মার্টিন। হাতের কাছে একটা পুরনো খবরের কাগজ দেখে ওটাতেই ডুব দিল। শরীর মন দুটোই এখন ওর ফুরফুরে আর সতেজ হয়ে আছে। বিকেলটা একঘুমে পার করার ইচ্ছে থাকলেও ঘুম না আসায় সেটা হয়ে ওঠেনি । তবে বিছানার কাছে বেশ কিছু কই বই ছিল বলে ওগুলো ঘেটেগুটেই সময়টা কাটিয়েছে ও। হঠাৎ মার্র্র্টিনের খেয়াল হল কিছু কেনাকাটা করতে হবে ওকে। সেইসাথে রাতের সাপারটির সেই ঝন্ঝনে তরুনীর রেস্তোরাঁয় গিয়ে সারবে বলে ঠিক করেছে। মেয়েটি যথেষ্ঠ দেখিয়েছে ওকে। মনে হচ্ছে মেয়েটার সাথে জমবে ভাল। মেয়েটির শীতল আকর্ষনীয় চাহুনী আর মনোমুগ্ধকর হাসি মার্টিন কিছুতেই ভুলতে পারছে না। ও জীবনে কোনদিন কোন মেয়েকে নিয়ে এভাবে ভাবেনি। যদিও মার্টিন জানে যে ওর অনিশ্চিত জীবনের সাথে কোন মেয়েকে জড়ানো চলবে না। তবে হাঁ- নিজের একটা অবস্থান যদি কোথাও মোটামুটি স্থায়ী করা যায় তাহলে হয়ত একজনকে না একজনকে জড়াতেই হবে। আপাতত মেয়েটার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল মার্টিন। গ্লাসের শেষ হুইস্কিটুকু গলায় ঢেলে উঠে দাঁড়াল। শহরের মতিগতি সম্মন্ধে এটা সেটা জানার বড় ইচ্ছে ছিল স্যালিম্যানের কাছ থেকে, কিন্তুু তাকে খদ্দেরের ভীড়ে ঘটনোর চিন্তা বাধ দিয়ে লেবারের কাছে থেকে বিলটা চুকিয়ে দিল ও। তাকে জানিয়ে দিল সাপারটা বাইরেই সারবে। তারপর হোটেল থেকে বেরিয়ে এল। গ্রীনটাউনকে ক্যাটল টাউন বললে ভুল হবে না। উত্তরের ট্রেইল ধরে মার্টিন যখন এই শহরে এসে ঢুকে তখন আসার সময়ই দেখেছে ত’নভূমীর এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রচুর র‌্যাঞ্জ হাউস। একেকটা করালে কম করে হলেও সাত-আটশো গরু মজুত আছে। অবশ্য কিছু কিছু র‌্যান্স আছে যা নিতান্তই ছোট, শ’তিনেকের বেশি গরু ট্র্র্র্যাকেল করা ওসব জায়েগায় সম্ভব নয়। মার্টিন প্রথমে আস্তাবলে গিয়ে ওর ষ্ট্যলিয়নটার প্রতি পরিচর্যার ধরন দেখে এল। খুশি হয়ে আসার সময় হসল্যার ছেলেটাকে কিছু বখশিশ দিল। বিনিময়ে অবশ্য ছেলেটিও ওকে জানিয়ে দিল বেশকিছু টাটকা খবর। ইদানীং নাকি এদিকটায় অবাঞ্ছিত যত আগন্তুকের আবির্ভাব ঘটেছে। খুনাখুনি না হলেও গ্রীনটাউনে গুলাগোলি প্রায়ই হচ্ছে। আইনের কোন বালাইই নেই শহরে। এই তো, ক’দিন আগেও ব্যাংক ডাকাতি হল। জ্যারির র‌্যাঞ্চ থেকে চুরি হল পাক্কা আশিটা গরু। আরো কত কি! দরজির দোকানে এসে পছন্দসই বেশকিছু পোশাক আর একজোড়া বুটের অর্ডার সাবমিট করল মার্টিন। যাবার পথে জিনিসগুলো নিয়ে যাবে ও। চর্বির ডিপো অথচ হুবুহু শিম্পাঞ্জীর মত দেখতে দর্জি লোকটা ওকে জিজ্ঞেস করেছিল যে সে এখানে ব্যবসা করতে নাকি কাজের ধান্ধায় এসেছে। উত্তরে মর্টিন শুধু লোকটার পারিশ্রমিক টেবিলে রেখে বেরিয়ে এল। পেছন থেকে লোকটার সাবধানবানী কানে এল ওর, ‘নিজেকে গুটিয়ে রেখো স্ট্রেঞ্জার। শহরে এমন কিছু লোক আছে যারা কারণ বা অজুহাতের ধারও ধারে না।’ একটা জেনারেল স্টোরে ঢোকার ইচ্ছে ছিল মার্টিনের। কিন্তু তার হাঁটাহাঁটি করতে মন সায় দিল না, ফলে রওনা হল ও রেস্তোঁরার দিকে। কি জানি কেন ওর মনে হচ্ছে ঐই ঠান্ডা প্রকৃতির মেয়েটি যেন ওকে ডাকছে! দ্রুত পা হাঁকাল মার্টিন। ‘জে এন্ড জেনি রেস্তোরাঁ’ নামটা থেকে আন্দাজ করছে মেয়েটির নামই সম্ভবত জেনি। রেস্তোরাঁয় ঢুকেই মার্টিনের আশা ছিল জেনির মুখটা নজরে আসবে। কিন্তু তার জায়াগায় বারকীপিংয়ে দেখা গেল ষোল-সতেরো বছর বয়সী এক তরুনকে। যথেষ্ট মিল আছে জেনির সাথে এই ছেলের, চেহারার মিল। ‘ইভনিং স্ট্রেঞ্জার! জ্যানের ডাগআউটে স্বাগতম!!’ ছেলেটার ক›ন্ঠস^র শুনে মার্টিন নিñিত হল এ অবশ্যই জেনির ভাই না হয়েই যায় না। কিন্তু ছেলেটার আশেপাশে জেনিকে দেখতে পেল না ও। ‘ধন্যবাদ জ্যান, সাপারের ঝামেলা মিটাতে এলাম।’ ীন হেসে বলল মার্টিন। টেবিলের ওপর তিনটে ডলার রাখল। মেন্যুটা জানিয়ে দিল। ‘পেটপুরে খেতে চাই আমি।’ ‘নিঃসন্দেহে মিষ্টার…’ ‘মার্টিন, মার্টিন ল্যামলোর।’ ‘হ্যাঁ মিষ্টার মার্টিন, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে না তুমি অন্যদের মত টাউট আগন্তুক?’ নিস্পৃহ ক›েঠ বলল জ্যান, ‘সে হিসেবে একটা প্রশ্ন করতে পারি?’ ‘নিশ্চয়ই করতে পারো,’ মার্টিন একটা সুযোগ খুঁজছে, কোনভাবে যদি জ্যানকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া যায় জেনি কোথায় তাহলে ওর অশান্ত মনে কিছুটা স্বস্তি আসত। ‘তুমি কি এ শহরে থাকবে কিছুদিন?’ ‘সেটা নির্ভর করছে সময়ের ওপর। সেইসাথে আমার কোমরে ঝোলান পিস্তল দু’টোও আমকে স্বীদ্ধান্ত নিতে সহযোগীতা করবে।’ ‘তবে তোমার পকেটের অবস্থা অনুমান করে বুঝতে পারছি তুমি কাজের ধান্ধায় আসনি।’ বুদ্ধিমান ছেলে, ভাবল মার্টিন। ‘তুমি ঠিক ধরেছো। আর পকেটের একটা ব্যবস্থা করতে আমাকে ব্যাংকের ধারস্ত হতে হবে। যদিও শুনেছি ক’দিন আগে নাকি ব্যাংক লুট হয়েছে…’ ‘সে েেত্র অন্য ব্যাংকে টুঁ মারতে পার তুমি।’ মার্টিন বুঝতে পারল ছেলেটাকে কৌশলে হোক আর যেভাবেই হোক, জেনির কথা জানতে চাইলেই ধারা পড়ে যাবে। ছেলেটো ওকে খাঁটি ভদ্রলোক বলেই ধরে নিয়েছে। ‘মেয়েটার চিন্তা বাদ দাও খোরগোশ কাহিকে!’ নিজের মুদ্রাদোষটাই মার্টিনকে ঝেড়ে ধমক লাগল। টেবিলের পাশে সরে এল ও। খাবারের প্লেটগুলো আসতেই গ্রোগ্রাসে গিলল। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই চলে এল কফির মগ। ওতে চুমুক দিতে দিতেই নেহাত অভ্যাস বশে এবং পূনরায় জেনির চিন্তা মাথায় আসায় চারপাশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি চালাল। ভাবছে মেয়েটা গেল কোথায়? ওদের কি কোন র‌্যাঞ্চ হাউস আছে নাকি? থাকারই কথা, হয়ত এখানকার ডিউটি শেষ তাই ফিরে গেছে ঘরে। হঠাৎ দরজা খোলা ও বন্ধের ‘দড়াম!’ শব্দটা মার্টিনের চিন্তাধারায় ব্যাঘাত ঘটাল। তাকিয়ে দেখল চারজনের একটি বাখোয়াজ কিশোরের দল এসে ঢুকেছে রেস্তোরাঁয়। পরনে ফানেলের শার্ট আর সুইস প্যান্ট। মাথার হ্যাটগুলো পিঠে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সন্দেহ নেই- ওরা প্রত্যেকেই ঝামেলাবাজ ছেলেপুলে। পাত্তা না দিয়ে কফির মগে মনোযোগ দিচ্ছিল মার্টিন, কিন্তু ‘চটাশ!’ শব্দটা ওর কানে যেন বজ্রাঘাত করল। চেয়ে দেখল জ্যান গালে হাত দিয়ে কাঁপছে। রাগে না ভয়ে তা ওর চেহারা দেখে বোঝা গেল না। কাউন্টার টপকে ওর দু’পাশে দাঁড়িয়েছে দুই চ্যালা, এ পাশে দাঁড়ানো নেতা গোছের লম্বা ছেলেটা জ্যানের কলার খামছে ধরে ঝাঁকাচ্ছে। বোঝা গেল চড়টা এই মেরেছে। ‘আমার লোকের গায়ে হাত তোলার সাহস দেখিয়েছো তুমি জ্যান,’ গর্জে উঠল ছেলেটা। ‘সুতরাং এখন তো তোমাকে অল্প কিছু সহ্য করতেই হবে!’ ‘তোমার লোক আমাদের গরু চুরি করেছিল।’ নিজের কালারটা ছাড়িয়ে বলল জ্যান। যে গালে চড় খেয়েছে সেখানটায় পাঁচ আঙুলের দাগটা মার্টিনের নজরে আসছে। ‘শুধু তাই নয়, আমার বোনের সাথে অশ্লীল ব্যবহার করেছে ল্যারি আর ক্যাট।’ ‘জেনিকে তো আমারও কিছু বলতে ইচ্ছে করে। শুধু কি তাই, রাজি থাকলে বিছানায়…’ ‘যথেষ্ঠ বলেছো ভিকি!’ এবার আক্রোশে ফেটে পড়ল জ্যান। আঙুল তুলে শাসাল, রেগে গেছে ভীষন। ‘আমার বোন সম্পর্কে আর বাজে কথা বলেছো তো-’ ‘দুলাভাই বলে ডাকবে নাকি!’ খ্যাঁক খ্যাঁক করে বিকট শব্দে হেসে উঠল ভিকি নামের বদমাশটা। ওর দেখাদেখি অন্যরাও তাল মেলাল। প্রচন্ড রাগে ভিকিকে ঘুষি মারতে যাচ্ছিল জ্যান, পাশের দু’জন ওকে ঝাপ্টে ধরল। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও পারল না জ্যান। ওর অন্য গালে কষে আরেকটা চড় বসাল ভিকি। আর্তনাদ করে উঠল জ্যান। ওর অসহায় অবস্থা দেখে খিল্খিলিয়ে হাসল সবগুলো শয়তান। হঠাৎই রেস্তোরাঁর ভেতর যেন বাজ পড়ল! প্রথমে গুলির এবং এক সেকেন্ডের ব্যবধানে কিছু একটা গুড়িয়ে যাওয়ার শব্দ কানে গেল সবগুলো টাউটের। কয়েক মূহূর্তের জন্য গোটা রেস্তোঁরা জুড়ে নেমে এল নিস্তব্ধতা। ‘ব্যাপার কি মিস্টার?’ মার্টিনের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠল ভিকি। এতন যেন কেউই মার্টিন কে দেখেনি সেরকম দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল সবাই। মার্টিন চেয়ারটা দেয়ালে ঠেকিয়ে তার দু’পা টেবিলে তুলে হাতে ধরা পিস্তলটাকে ঘোরাচ্ছে। ঠোঁটে বিদ্রুপের হাসি। পিস্তলের নল থেকে কুন্ডলী পাকিয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়া। ‘আমার কফির মগটা তোমার অসহ্য কথাবর্তা সহ্য করতে না পেরে ঠিক তোমার খুপরি বরাবর রওনা হয়েছিল,’ শান্তস্বরে ব্যাখ্যা করল মার্টিন। ‘আমার পিস্তলের বুলেট ওটাকে চুরমার করে না দিলে ওটা তোমার খুলি চুরমার করে দিত ভিকি!’ ভিকি সামান্য নড়ে উঠতেই আবার শোনা গেল গুলির শব্দ। সবাই বিষ্ফারিত দৃষ্টিতে দেখল ভিকির কোমরে ঝোলানো পিস্তলটা মাটিতে পড়ে গেছে। ‘যেভাবে আছো সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে বন্ধুরা।… আর তোমরা দু’জন, হ্যাঁ- জ্যানকে ছেড়ে দিলে খুশি হব।’ অত্যন্ত ধীরে ও শান্ত গলায় বলল মার্টিন। ‘জ্যান, ওদের কোমর থেকে জঞ্জালগুলো তুলে নাও। এবং আমার কাছে এনে জমা দাও।’ কাজে লাগল জ্যান। পিস্তলগুলো জমা করে এনে রাখল মার্টিনের সামনে। বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করার সাহস পেল না চার গুন্ডার কেউ। যে লোক বেকায়দা অবস্থায়ও দশ কদম দূরের হোলষ্টার থেকে পিস্তল খসাতে পারে সে অবশ্যই ফালতু কেউ নয়। সুতরাং তর্ক করার স্পর্ধা দেখাল না কেউ। তবে ভেঙচি কাটলো ভিকি। ‘তুমি আবার আমদের মধ্যে গুতোতে এলে কেন মিষ্টার?’ বিরক্ত কন্ঠে বলল সে। ‘কারন, অতিরিক্ত ঝামেলা আমি পছন্দ করি না,’ জবাব দিল মার্টিন। ‘কিন্তু আরো বাকি আছে, জ্যান,’ বলে জ্যানের দিকে তাকল। ‘তোমার দু’গালে মোট দশ আঙুলের ছাপ আছে, মিষ্টার ভিকির গালেও আমি তা দেখতে চাই!’ জ্যানের মুখে হাসি। ওর বুঝতে বাকি নেই যে মার্টিনের মত একজন ওর পাশে থাকতে কোন চিন্তা নেই। তাই ভিকির দিকে পা বাড়াল ও। ‘বেশি বাড়াবাড়ি করছো তুমি আগন্তুক!’ নিশপিশ করে উঠল ভিকি, জ্যানের দিকে কটমট করে তাকাল। তার অগ্নিদৃষ্টিকে উপো করে কাছে এল জ্যান। পরমুহুর্তে প্রচন্ড জোরে ‘চটাশ!’ শব্দটা প্রতিধ্বনি তুলতেই দেখা গেল হুমড়ি খেয়ে ফোরে পড়ে গেছে ভিকি। ‘ব্রেভো জ্যান ব্রেভো! কিন্তু আরেকটা যে বাকি রইল?’ পিস্তল ধরা হাত দিয়েই তালি বাজালো মার্টিন। যেন দৃশ্যটা দারুন উপভোগ করেছে ও। ভিকিকে টেনে তুলতে এগোল জ্যান। কিন্তু ইশারায় তাকে বাধা দিয়ে টলমল করে উঠে দাঁড়াল ভিকি। ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়াচ্ছে ওর। হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে রক্ত মুছল ও। অন্য তিন সঙ্গীরা বেকুবের মত দাঁড়িয়ে আছে স্তম্ভিত হয়ে। কারোরই মুখে কথা ফুটছে না। ‘তোমার সাহসের তারিফ না করে পারছি না স্ট্রেঞ্চার।’ গমগমে স্বরে বলল ভিকি। ‘তবে জেনে রেখো-সুযোগ আমারও আসবে।’ হাতের পিস্তলটা হোলষ্টারে পুরে সিগারেট রোল কথা শুরু করল মার্টিন। যেন কিছুই শুনছে না। ভিকির দৃষ্টি গিয়ে পড়ল এবার জ্যানের উপর। ‘আর তুমি জ্যান, তোমার সাথে আমার অবশ্যই বোঝাপড়া হবে। তোমার বিষয়টা আপাতত স্টকে তুলে রাখলাম…’ ‘আমাদের অস্ত্রগুলো ফেরত দাও।’ ভিকির এক চ্যালা চেঁচাল। ‘সম্ভবত জ্যানদের গরুগুলো তোমরা ফেরত দাওনি, ওদের গরুগুলো ফেরত দেয়ার সময় র‌্যাঞ্চের ফোরম্যান যেই হোক না কেন তার কাছ থেকে বুঝে নিও।’ নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল মার্টিন। ‘দেখ….’ কর্কশ কন্ঠ জারি করতে যাচ্ছিল ভিকি, বাধা পেল। ‘জ্যান, খোরগোশগুলোকে আমার চোখের সামনে থেকে সরে যেতে বল। নচেৎ আমার পিস্তলটা দ্বিতীয়বার খাপমুক্ত হলে স্রেফ রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে।’ আর একটি কথাও বলার সাহস পেল না ছেলেগুলো। ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়িয়ে রওনা হল সবাই। তবে বারবার ফিরে তাকাল। ভঙ্গিটা যেন এমন-‘ঠিক আছে, আমরাও দেখে নেব!’ ‘বন্ধুরা, আবার এসো!’ পেছন থেকে চেঁিচয়ে ওদেরকে গুডবাই জানাল মার্টিন। তাকিয়ে দেখল জ্যান অবাক-বিস্ময়ে একদৃষ্ঠিতে তাকেই দেখছে। তুড়ি বাজিয়েও জ্যানের পলক নাড়াতে পারল না মার্টিন। জ্যান যেন একজন ‘ভদ্রলোক’কে নতুন করে আবিষ্কার করল। জ্যানের বিষয়টা চাপা পড়ল আচমকা দরজা খোলা শব্দে। মার্টিন দেখলো হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকেছে ওরই কল্পনার ঝড় জেনি! অসম্ভব উত্তেজিত দেখাচ্ছে ওকে। যেন ভয়ানক দুঃসংবাদ পেয়ে ছুটে এসেছে। ‘তুমি ঠিক আছো তো জ্যান!’ চিৎকার করে জ্যানের দিকে ছুটে এল জেনি। জড়িয়ে ধরল ভাইকে। ‘ফর গড শেক…!’ ফোঁপাল মেয়েটি। তিন হাতজোড়া বুকের ওপর বেঁধে পিলারের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শেরিফ। দীর্ঘ, সুঠামদেহী-কিন্তু সুদর্শন নয়। চেহারায় ব্যাক্তিত্বের ছিটেফোঁটাও নেই, তবে দৃষ্টিতে রয়েছে অসম্ভব আত্মপ্রত্যয়ী ভাব। শীতল অথচ চঞ্চল চোখজোড়াই বলে দেয় ভীষণ চতুর ও চালাক লোকটা। প্রয়োজনে পেছন থেকে আঘাত হানতেও দ্বিধা করবে না বিন্দুমাত্র। সম্ভবত: শেরিফ এতন যার জন্য অপো করছিল তাকে দেখতে পেল। যতটুকু সম্ভব নিজের মধ্যে ব্যাক্তিত্ব জাহিরের ব্যর্থ চেষ্টা করল সে। ধীর পদেেপ এগিয়ে আসছে জেনি। নিজের চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে ও। ভাবছে গতকাল রাতে মার্টিন নামের যে লোকটা তার ভাইকে শয়তান ভিকির হাত থেকে উদ্ধার করেছে তার কথা। বারবার মনের মধ্যে লোকটার পৌরষ্যদীপ্ত অথচ হাস্যোজ্জ্বল মুখটা ভেসে উঠছে। লোকটা কে? গ্রীনটাউনে আসার পেছনে কি তার কোন উদ্দেশ্য আছে? এই শহরে সচরাচর ব্যবসা বা কাজের ধান্ধা ছাড়া কেউ তেমন একটা আসে না। যারা আসে তারা হয় রাসলার নচেৎ আউট-লদের কেউ। কিন্তু মার্টিনের মত মিশুক আর নরম স্বভাবের মানুষ কি সে রকম কেউ হতে পারে? অবশ্যই না। ‘দুঃখিত ম্যাম!’ জেনির চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটাল শেরিফ। তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল।’ হ্যাট খুলে বাউ করল সে। ‘কি ব্যাপার শেরিফ, কখন ঘুম ভাঙলো তোমার!’ যেন ভীষন অবাক হয়েছে তেমন ভান করল জেনি। মেয়েটার খোঁচা মেরে কথা বলার অভ্যাসটা আর গেল না! মনে মনে খিস্তি আওড়াল শেরিফ। তারপর মুখে হাসি ফুটিয়ে আসল প্রসঙ্গে এল। ‘ম্যাম, তোমার রেস্তোরাঁয় নাকি গতকাল গন্ডগোল বেধেছিল?’ ‘স্বপ্নে বুঝি তাই দেখেছো?’ কন্ঠ নাচিয়ে বলল জেনি। নিরবে অপমানটা গায়ে মাখল শেরিফ। বিব্রতবোধ করছে সে। যদিও সে জানে জেনির মুখের ওপর কথা বলা মানে চিরতরে চাকরীটা খোয়ানো। নিজেকে সামলে নিল শেরিফ। বলল, ‘মার্টিন ল্যাসলোর সম্পর্কে তোমার সতর্ক হওয়া উচিত ম্যাম, তুমি হয়ত জানো না….’ বাধা দিল জেনি। ‘আমি ভাবছি তোমার জায়োগায় ঔই লোকটাকেই কিভাবে বসানো যায়।’ ‘তা বসিয়ো ম্যাম, কিন্তু…’ ‘ফালতু কথা বলে সময় নষ্ট করা আমার ধাতে সয়না শেরিফ। তুমি বলেছো, আমি শুনে নিয়েছি। এবার বিদায় হও।’ ঝাঝাঁলো কন্ঠে বলল জেনি। যদিও বুঝতে পারছে আপমানটা অতিরিক্তই হয়ে গেছে। কিন্তু শেরিফ ওর আচরনে বিন্দুমাত্র বিচলিত হল না। বরং জেনির কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপো করল। তারপর বলল, ‘ম্যাম, বোঝার চেষ্টা কর প্লীজ! মার্টিন এর ব্যাপারে তোমার সাথে দরকারী আলাপ করা প্রয়োজন।’ জবাব দিল না জেনি। কিছুন তীè দৃষ্টি নিয়ে শেরিফের দৃঢ়তা পর্যবেন করল। ব্যাপার কি? লোকটা মার্টিন সম্পর্কে এত উদ্ধিগ্ন কেন? মার্টিন কি তবে কোন আইনভঙ্গকারী বাউন্ডুলে? অবশ্য এমনও হতে পারে নিরপরাধ হয়েও আইনের চোখে অপরাধী। কারও সরল মুখশ্রী তো আর মনের ধান্ধা জানান দিতে জানে না! সুতরাং দেখাই যাক না শেরিফ কি বলে। মাথা ঝাঁকাল জেনি। বলল, ‘ঠিক আছে- কি বলতে চাও ভনিতা না করে সরাসরি ঝট্পট বলে ফেলো।’ ‘এখানে নয় ম্যাম, চল- আমার অফিসে গিয়ে বসা যাক।’ মুহুর্তনেক ইতস্তত করল জেনি। কিন্তু কিছু একটা ভেবে রাজি হয়ে গেল। আন্তরিক হাসি দেখা গেল শেরিফের ঠোঁটে। কাছেই তার অফিস। ইশারায় জেনিকে আগে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে পিছন পিছন সেও রওনা হল। হোটেলের কেবিনের জানালা থেকে মার্টিন ল্য করল তার স্বপ্নের রানী জেনি একটা লোকের সাথে কথা বলছে। লোকটার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সে জেনিকে কিছু একটা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। কিন্তু জেনি তাকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছে না। লোকটা কে? জেনির কাছে কি চায়? কেমন জানি চেনা চেনা লাগছে না লোকটাকে? হাঁ,মনে পড়েছে- গতকাল স্যালিম্যানের হোটেল থেকে বেরিয়ে এসে মাতাল অবস্থায় মার্টিনের সাথে ধাক্কা খেয়েছিল এই লোকটাই। কিন্তু এই মাতাল জুয়াড়ীটা জেনির কাছে কি চায়? যদিও তাকে এই মুহূর্তে দেখে মনেই হচ্ছে না যে সে মাতালামী করে বেড়ায়। এক্কেবারে ফিটফাট ফুলবাবু। ‘ধ্যত্তেরী চাই! এই সব কি ভাবছি আমি?’ বিড়বিড় করে নিজেকে গালি দিল মার্টিন, ভাবল, জেনি তো এই শহরের মেয়ে। শহরের তাবৎ লোকজন ওকে সমীহ করে বেড়ায়। সুতরাং যে কেউ প্রয়োজনের খাতিরে ওর সাথে কথা বলতে পারে। এ নিয়ে এত সন্দেহ কিসের? মার্টিন দেখল, জেনি লোকটার সাথে ফুটপাতের ওপাশের ডানদিকের গলিতে গিয়ে ঢুকল এবং লোকটাকে কিসব জিজ্ঞেস করতে করতে গলির ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। জানালার সামনে থেকে সরে এল মার্টিন। আপাতত জেনির চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল ও। কাঠের দেয়ালে টাঙানো ুদে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুন নিজের চেহারা সুরত জরিপ করল। দেড়-দু’দিনের নাকাটা দাড়ি-গোঁফ ইতমধ্যেই জঙ্গলের রূপধারন করতে শুরু করছে। দাড়ি-গোঁফের ওপাশে মার্টিনের চোহারা দেখে মনেই হবে না ও সবে মাত্র পঁচিশ বছরে পা রেখেছে। অথচ দেখলে মনে হয় পাক্কা ত্রিশ বছরের তাগড়া জোয়ান। তাছাড়া সদ্য গজিয়ে উঠা দাড়ি-গোঁফ ওর আসল চেহারাতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এবং মার্টিন আশা করছে, তার আসল চেহারা যেন কারো চোখে দ্রুত শনাক্ত হতে না পারে। আর সে এটাও চায় না যে কেউ যেন ওর সম্পর্কে অতিরিক্ত আগ্রহ প্রকাশ করুক। কেননা, আজ পর্যন্ত মার্টিনকে নিয়ে যারা মাত্রাতিরিক্ত কৌতুহলী হয়েছিল তাদের কাউকেই সে বেঁচে থাকতে দেয়নি। পেছনে ফেলে আসা অতীতের কথা ভেবে মার্টিনের ঠোঁটে ক্রুর হাসির রেখা ফুটে উঠল। ঘাড়ের উপর দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বিছানার উপর রাখা মানি বেল্টের উপর প্রত্যাশিত নজর বুলাল ও। ওখানটায় পুরো পাঁচ হাজার ডলার আছে। আপাতত এগুলো একটা ব্যাংকে জমা রেখে কাজ শুরু করা যেতে পারে। যতদূর মনে হচ্ছে গ্রীন টাউনের লোকজন অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো পছন্দ করে না। যদি তাই হয় তবে এখানে একটা র‌্যাঞ্চ হাউস করার স্বপ্ন আছে ওর। যদিও মার্টিন জানে এসব করতে গেলে এখানকার প্রভাবশালী লোকদের দৃষ্টি এড়ানো সম্ভব না। আইনের ভেড়াজালের উটকো ঝামেলা তো আছেই। অবশ্য এদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে পারলে এব্যাপারে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদিও মার্টিন এটাও জানে যে-ওর লেজে বেশকিছু ঝামেলা জড়িয়ে আছে, এবং এগুলোকে পরিষ্কার করতে না পারলে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা সম্ভব না। কিন্তু মনে হচ্ছে এখনও জঞ্জাল সাফ করার সময় হয়নি। ওর হিসেব হতে জঞ্জালগুলো নিজ থেকেই ঝড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। অথবা বলা যায় অন্য কেউ একজন ওর হবেই কাজটা করে দিতে পারে। এবং সম্পূর্ন ওর অজান্তেই! মোটকথা, সবকিছু সুবিধেমত এগোলেই হল, বাকিটা মার্টিন নিজেই সামাল দিতে পারবে। প্রয়োজন হবে না আর কারও… ঠক্! ঠক্! ঠক্! কেবিনের দরজায় শব্দ হতেই বাস্তবে ফিরে এল মার্টিন। স্যালিম্যানের কন্ঠ শুনে দরজা খুলে দিল। করিডরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা। এতই শুকনো যে, কেবিনে ঢুকতে হলে কুঁজোই হতে হবে মনে হয়। কিন্তু কেবিনে ঢুকল না স্যালিম্যান। বাইরে দাঁড়িয়েই বলল, ‘গুড মর্নিং স্যাহ্্, আশা করি রাতটা ভালই কেটেছে।’ ‘অবশ্যই বন্ধু, তোমার হোটেলটা সত্যিই চমৎকার! আমি সন্তুষ্ট।’ দরজার চৌকাটে হেলান দিয়ে দাঁড়ানোবস্তায় বলল মার্টিন। ‘ধন্যবাদ স্যাহ্,’ হাসির মাত্রা দ্বিগুন হল হ্যালিম্যানের। ‘স্যাহ্, তোমার খোঁজে মিস্টার রাবার্টসন নিচে দাঁড়িয়ে আছে।’ ‘রবাটসন!’ ‘ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের ফোরম্যান। সম্ভবত মিষ্টর জ্যারি তাকে পাঠিয়েছে।’ ‘তুমি কি জে এন্ড জেনি রেস্তোরাঁর মালিকের কথা বলছো?’ ‘ঠিক ধরেছো স্যাহ্!’ ‘ঠিক আছে, তুমি নিচে গিয়ে তাকে অপো করতে বল। আমি একটু পরেই আসছি।’ বলেই স্যালিম্যানের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল মার্টিন। স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বিছানার কাছে গিয়ে গায়ের শার্টটা খুলে ফেলল। ওর লোমশ চওড়া বুক আর পেঠানো মাসল দেখে কেউ বুঝতে পারবে এ শরীরে অসম সাহস ও শক্তি মজুত আছে। প্রসস্থ কাঁধ, মজবুত ও বলিষ্ঠ দেহ ওর। বিছানা থেকে মানিবেল্টটা তুলে নিয়ে শোল্ডারে বাঁধল ও, তারপর গতকাল রাতে দর্জির কাছ থেকে কেনা নতুন চকচকে ফানেলের শার্টটা উপরে পরল। নিজেকে যতটুকু সম্ভব পরিপাঠি করে গুছিয়ে নিয়ে কোমরে নিজের গানবেল্ট ঝুলিয়ে বের হয়ে এল কামরা থেকে। ভাবছে, মিষ্টার জ্যারি তাকে কি কারনে ডেকে পাঠাতে পারে। জবাব একটাই, তার ছেলেকে গন্ডগোলের হাত থেকে রা করার জন্য হয়ত একগাদা ধন্যবাদ ও প্রসংশার বুনোবাক্য জারি করা। সেই সঙ্গে ভিকির ব্যাপারে সতর্ক করা। হাঁ, এপর্যন্ত হলে ভালই- কিন্তু লোকটা যদি ওর সম্পর্কে অন্যকোন প্রশ্ন করে বসে? এসব ব্যাপার খুব কমই সহ্য করতে পারে মার্টিন। তবে এপর্যায়ে সেরকম কিছু হলে কোন সমস্যা নেই। নতুন আগত আগন্তুক সম্মন্ধে জানার আগ্রহ টুকটাক সবারই থাকে। ধীর পদেেপ নিচে নেমে এল মার্টিন। কাউন্টারের সামনে এক বেটেখাট মোটাকৃতির লোককে দাঁিড়য়ে থাকতে দেখল। কাউবয় পোশাক পরনে, মাথার হ্যাটটা টাকের ওপর বসানো। বয়স চল্লিস পঞ্চাশের মত হবে। গোলগাল, মোটকু মার্কা চেহারা। বুটের ভারি শব্দ শুনে ঘুরে সিঁড়ির দিকে তাকালো লোকটা। মার্টিনকে দেখতে পেয়ে ীন হাসল। ভাবলেশহীন চেহারা ঠিকই, কিন্তু আন্তরিক কন্ঠে এগিয়ে এল। ‘হ্যালো মিষ্টার, তুমি নিশ্চয়ই মার্টিন?’ লোকটার সামনে এসে দাঁড়াল মার্টিন। ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসি ফুটিয়ে হত বাড়িয়ে দিল। ‘ঠিকই চিনেছো মিষ্টার রাবার্টসন।’ ওর সাথে হাত মিলিয়ে চোখজোড়া কুঁচকালো রবার্টসন। বলল, ‘উঁহু! আমাকে শুধু রবার্ট ডাকলেই চলবে।’ তারপর মার্টিনকে মেকি জরিপের ভঙ্গিতে নিজের বিশাল ভ্র“ জোড়া নাচালো, ‘হুম! জ্যান তবে মিথ্যে বলেনি-তুমি সত্যিই সুদর্শন!’ ‘ধন্যবাদ!’ নিজের প্রশংসা শুনে মোটেও বিচলিত হল না মার্টিন। ও জানে, রবার্টের মত লোকেরা খুউবই মিশুক প্রকৃতির হয়। আর এধরনের লোককে ওর কাছে স্বভাবতই ভাল লাগে। এরা নির্ভেজাল মানুষ। যেছে পড়ে ঝামেলা বাধানো পছন্দ করে না। আবার ঝামেলাবাজদের ছেড়েও কথা বলে না। হোটেল থেকে বেরিয়ে এল দু’জনে। হিচরেইলে রবার্টের ঘোড়াটা বাধা ছিল। ওটার পাশে নিজে স্ট্যালিয়নটা দেখে অবাক হল না মার্টিন। কারন, হর্সল্যার ছেলেটাকে ও আগে থেকেই বলে রেখেছিল ওর ঘোড়াটা যেন হোটেলের সামনে রেখে যায়। দু’জনেই নিজেদের ঘোড়ার চড়ে বসল। ধীর পদেেপ রওনা হল ওদের ঘোড়া। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই শহরের পুবদিকের কিছু দোকানপাটের ওপাশে অস্বাভাবিক ধোঁয়া আর হৈচৈ কানে এল ওদের। ভ্র“ কুঁচকাল দু’জনেই। তবে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল সেদিকে। ব্যাপারটা কি দেখা দরকার। ঘটনাস্থলের দিকে যতই ওরা এগিয়ে যাচ্ছে ততই লোকজনের চিৎকার আর চোঁচামেচি কানে জোড়াল আঘাত হানছে। স্পস্টই বোঝা যাচ্ছে যে ওখানটায় আগুন ধরেছে এবং আগুন নেভানোর প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে সবাই। চার হুড়মুড় করে শেরিফের অফিসে এসে ঢুকল একটা লোক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে ভূতের তাড়া খেয়ে একশো কিলো একটানা ছুটে এসেছে। হাপরের মত হাঁপাচ্ছে সে। জেনিকে শেরিফের সাথে কথা বলতে দেখে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ল লোকটা। যেন কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তাকে উদ্ধার করল শেরিফ। ‘ঠিক আছে, কি বলতে চাও বলে ফেল!’ কর্কশ কন্ঠ শেরিফের। অন্য সময় হলে বিনা অনুমতিতে অফিসে প্রবেশের অপরাধে লোকটার চৌদ্দগোষ্ঠী যাচাই করে ফেলত সে। নিজেকে সামলে নিয়ে কপালের ঘাম মুছল লোকটা। বলল, ‘শেরিফ, নেভিসের পত্রিকা স্টল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে! কারা যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল বেচারার দোকানে।’ ‘হোয়াট!’ ঝট্ করে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল শেরিফ। পরমুহূর্তে জেনির দিকে তাকিয়ে কন্ঠ স্পস্ট করল। ‘হ্যাঁ, বেচারা নেভিস মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।’ ‘কি বলছো! তাড়াতাড়ি চল এখুনি!’ বলে ডেস্ক থেকে নিজের হ্যাটটা মাথায় চাপিয়ে জেনির দিকে তাকিয়ে বরল, ‘স্যরি ম্যাম, আমাকে যেতে হচ্ছে। তুমি অবশ্য আমার কথাগুলো বিবেচনায় রেখ। পরে তোমার সাথে দেখা হবে।’ বলে আর দেরী না করে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল সে। জেনিও উঠে দাঁড়িয়ে ছিল। তার দিকে তাকিয়ে মাথার হ্যাট খুলে নড্ করল লোকটা। তারপর খেয়াল হতেই সেও অফিস ছাড়ল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে শেীরফ আবিষ্কার করল অস্থিরতা থেমে গেছে। কেবল মৃদু গুঞ্জন আর কথোপকথন চলছে সবার মাঝে। ঘোড়ায় বসেই দেখল নেভিসের দোকানের অবস্থা। একবারে ছাড়খার। লাগোয়া দু’টো দোকানে কিছুটা আগুনের ছাঁচ্ লাগলেও তেমন কোন তি হয়নি। কিন্তু নেভিসের দোকান পুড়ে একেবারে কালো ছাঁইয়ের স্তুপ ভনে গেছে। পানি দিয়ে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ। তবে কুন্ডুলী পাকিয়ে ধোঁয়ার রেশটা এখনও রয়ে গেছে। লোকজনের একটা ঝট্লার ওপর এবার নজর গেল শেরিফের। ঘোড়া ছেড়ে সেদিকে এগোল সে। তাকে দেখে লোকজনের গুঞ্জন ফিস্ফিসানিতে পরিনত হল। ভীড় ভাঙল সবাই। শেরিফ প্রথমে দেখল ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের ফোরম্যান রবার্টসনের বিরক্ত কুঞ্চিত মুখ। আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে মার্টিন! ‘শেরিফ!’ রবার্টসনের ঝাঁঝালো কান্ঠস্বর।‘ নিবোধ এই লোকগুলোকে সামলাও দয়া করে!’ ‘আমি জানতে পারি হচ্ছেটা কি এখানে?’ রবার্টসনের কথার খেঁই ধরে বলল শেরিফ। ‘এরা সবাই দাবী করছে আমি নাকি মি.নেভিসের দোকানে আগুন লাগানোর ব্যাপারে জড়িত!’ মার্টিনের নির্লিপ্ত জবাব। ‘অথচ মি.মার্টিনকে আমি এইমাত্র হোটেল থেকে নিয়ে এসেছি…’ বলল রবার্টসন। ‘না, মিথ্যে কথা!’ ভীড়ের মধ্য থেকে কেউ একজন চেঁচাল। ‘হ্যাঁ, এই লোকটাই দোকানে আগুন ধরিয়েছে…!’ অন্য একজন বলল। হৈচৈ শুরু হয়ে যাচ্ছিল, শেরিফ হাত তুলে বজ্রকন্ঠ জারি করল,‘তোমার কি থামবে!… নেভিস কোথায়?’ ভীড়ের মধ্য থেকে একজন বেরিয়ে এল। খর্বকায় চেহারা। চোখ দু’টো জবা ফুলের মত ঢগঢগ হয়ে আছে। কান্নার ফল। ‘তোমার কি বক্তব্য জানতে পারি হে?’ শেরিফের প্রশ্ন। ‘হ্যাঁ শেরিফ, এই লোকটাই আমার দোকান পুড়িয়েছে!’ আঙুল তুলে মার্টিনকে দেখাল নেভিস। কিন্তু মার্টিনকে বিন্দুমাত্র বিচলিত দেখা গেল না। যে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ‘কি করে বুঝলে, সে কি তোমার সামনে দাঁিড়য়ে দোকানে আগুন লাগিয়েছিল?’ ‘না, লোকটা আগুন লাগিয়ে পালাচ্ছিল- আমি তাকে দেখতে পাই।’ বলে একজনের হাত থেকে একটা হ্যাট তুলে নিয়ে শেরিফকে দেখাল। ‘পালাবার পথে এর মাথা থেকে এই হ্যাটটা পড়ে যায়।’ শেরিফ হ্যাটটা হাতে নিল। মার্টিন অবাক হল ওটা সত্যিই ওর নিজের হ্যাট দেখে। এখন ওর মাথায় হ্যাট নেই। হঠাৎ মনে পড়ল গতরাতে ওর কেবিনে অন্ধাকরের মাঝে খুট্খুট শব্দ হচ্ছিল। এখন বুঝতে পারছে চোরটা ভীষন চতুর। কিন্তু?… ভিকির কাজ নয় তো! ‘এটা কি তোমার হ্যাট মি. মার্টিন?’ শেরিফের প্রশ্ন। ‘হ্যাঁ..’ ইতস্তত কন্ঠ মার্টিনের,‘ কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না এটা এখানে এল কি করে?’ ‘যেখানে তুমি স্বয়ং এসেছিল তাই!’ কর্কশ কন্ঠ নেভিসের। ‘তুমি কি আমার চেহারা দেখেছো?’ ‘অবশ্যই, তুমি…তোমার গা জ্বলানো হাসিটা আমার এখনও মনে আছে।’ ‘বাজে কথা বলো না নেভিস! ভাল করে মনে করে দেখ কার চেহারা তুমি দেখেছিলে?’ শেরিফের কর্কশ ধ্বনি। ‘বলেছি তো, এই লোকটাই কাজটা করেছে।’ ‘অতএব…’ যেন আর করার কিছুই নেই এমন ভঙ্গিতে মার্টিনের দিকে তাকাল শেরিফ। ‘বুঝতেই পারছো স্ট্রেঞ্চার, তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে…’ ‘এ হতে পার না শেরিফ!’ হাঁক ছাড়ল রবার্টসন। ‘তুমি ইচ্ছে করলে স্যালিম্যানের সাথে কথা বলতে পার।’ ‘সবই হবে রবার্ট, কিন্তু প্রথম যে কাজটা…’ ‘তিপূরন চাই আমদের!’ ভীড়ে প্রচন্ড গুঞ্জন উঠল। ‘দেখ শেরিফ, আমি তিপূরণ দিতে রাজি আছি কিন্তু আমি দোষী নই।’ মার্টিন এগিয়ে এসে শেরিফের পাশে দাঁড়াল। ‘আমি নিরুপায়। তোমাকে অবশ্যই আমার সাথে যেতে হবে। অফিসিয়াল ডিউটি।’ শ্রাগ করার ভঙ্গি করে বলল শেরিফ। আর কথা বলল না মার্টিন। জানে লাভ হবে না। যদিও এব্যাপারে সে মোটেও বিচলিত নয়। কারণ এধরনের কাঁচা দুষ্টুমী ভিকি ছাড়া আর কেউ করবে না। ‘তুমি চিন্তা কর না মি.মিস্টার আমি…’ রবার্টসন কিছু বলতে চাচ্ছিল। বাধা দিয়ে হাসল মার্টিন। ‘ভেব না, আমার কোন সমস্যা হবে না!’ বলে লোকজনের ভীড়ে একবার নজর বুলাল ও। তখুনী দেখতে পেল ভিকিকে, সাথে ওর চ্যালা-চামুন্ডারাও আছে। শয়তানী হাসি ওদের ঠোঁটে! কিন্তু মার্টিন শুধু ওদের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ্পী দিল আর মুচকি হাসল। ‘মার্টিন ল্যাসলোর একজন বাউন্টি হান্টার ম্যাম..’ অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলা শেরিফের এই একটি বাক্যই বারবার প্রতিধ্বনিত্ব হচ্ছে জেনির মনে। গ্রীনটাউনে বাউন্টি হান্টার! এরমানে বড় রকমের একটা গোলমাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে শহরে। বাউন্টি হান্টাররা শখ করে ঘুুরে বেরায় না। পুরস্কারের বিনিময়ে কুখ্যাত আউট-ল অথবা দাগী পলাতক আসামীর খুপরী উড়িয়ে দেয়াই এদের কাজ। আর যদি মার্টিন একজন বাউন্টি হান্টার হয়ে থাকে তবে সে কার খোঁজে এখানে এসেছে? জেনির জানা মতে শহরে এপর্যন্ত এমন কোন আগন্তুকের আগমন ঘটেনি যার নামে ওয়ান্টেড জারি করা হয়েছে। তাছাড়া শহরে যেসমস্ত দঙ্গলবাজেরা চুটকী করে বেড়াচ্ছে তাদের কারো নামে এখন পর্যন্ত কোন আইনী পদপে গৃহিত হয়নি। প্রকাশ্যেই লাফাঙ্গা করে বোড়াচ্ছে সবাই। সুতরাং মার্টিন ল্যাসলোর লোকটার এই শহরে আসার পেছনে অন্য কোন কারন থাকলেও থাকতে পারে। জেনি অবশ্য শেরিফের কথা প্রথমে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু শেরিফ যখন হটলিস্ট মেমো ওর চোখের সামনে মেলে ধরে বলল,‘গতকাল স্যালিম্যানের হোটেলের সামনে মাতাল সেজে কাগজটা হাতিয়েছি ম্যাম…’ তখন সরাসরি মেমোর তালিকায় মার্টিনের বুলবিট ছবি দেখে আর সংশয় থাকেনি ওর মনে। মার্টিন ল্যাসলোর একজন বাউন্টি হান্টার এব্যাপারে আর কোন সন্দেহ নেই। অন্যকোন মেয়ে হলে শেরিফ তাকে মার্টিন সম্পর্কে আগাম সতর্কতার বিষয়ে জানানোর ধারই ধারত না। এটা খুব ভাল করেই জানে জেনি, এবং কেন সেটা আরো ভাল করে জানে। কিন্তু ঔই চিন্তায় চিন্তিত নয় জেনি। শেরিফ অফিস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেও বেরিয়ে এসেছে অফিস থেকে। নিজেদের রেস্তোঁরায় ঢুকে সোজা গিয়ে কিচেনে ঢুকেছে ও। ওর বাবা মিস্টার জ্যারি যখন জানতে পারবে মার্টিন একজন বাউন্টি হান্টার তখন ভদ্রলোকের মাথায় কেবল একটা ধান্ধাই কাজ করবে- আর সেটা হচ্ছে মার্টিনকে ভাগানো। এমনিতেই র‌্যাঞ্চ নিয়ে ভীষন ঝামেলার মধ্যে দিন কাটছে, তার ওপর বাড়তি ঝামেলা বাধলে ঠিকে থাকাই দায় হয়ে পড়বে শহরে। ‘কিন্তু এসব নিয়ে আমি ভাবছি কেন!’ মাথা ঝারা দিয়ে নিজেকে ধমক লাগাল জেনি। বেসিনে হাত ধুয়ে আয়নার সামনে ঝুলানো তোয়ালেতে হাত মুছল, তখুনী আয়নার কাঁচে নিজের পেছনে কাউকে দেখতে পেয়ে ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল ও। ‘জনসন!’ উল্লাসিত ভাবাবেগ প্রকাশ পেল জেনির কন্ঠে। সামনে দাঁড়ানো যুবকের আপাদমস্তক মেপে শান্তকন্ঠে বলল, ‘তোমার তো আজ গ্লীটারসিটিতে থাকার-’ বাধা পেল জেনি। ‘উহু…গ্লীটারসিটিতে থাকার বদলে আমার এখন পরপারের বাসিন্দা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অফসোসের বিষয় আমি এখন তোমার সামনে!’ চাপা রসিকাতর সাথে বলল যুবক। ‘বাজে বক না তো! সত্যি করে বল ব্যাপার কি?’ অভিমানি কন্ঠে জিজ্ঞেস করল জেনি। ‘যা বলেছি তাই সত্যি ম্যাম…দেখতেই তো পাচ্ছো! গ্লীটারে যাওয়া হয়েছে তো ঠিকই, কিন্তু পথে বোরহানের আউট-ল’রা হামলা করেছিল, ভাগ্যিস্ ঔই সময় অচেনা ঔই আগন্তুক হাজির না হলে আমাকে হয়ত…’ জনসনের ঠোঁট চাপা দিল জেনি। ঘনিষ্ট হয়ে এল জনসনের সামনে। ‘ওভাবে বলো না তো! শুনতে খারাপ লাগে।’ জনসন মুচকী হেসে ওকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছিল কিন্তু দ্রুত নিজেকে গুটিয়ে নিল জেনি। বলল, ‘কিন্তু হয়েছিল কি?’ ‘গ্লোসি মাউন্টেনে তাবু ফেলেছিলাম আমরা, ফায়ার কস্টে করে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, হঠাৎই অন্ধকার ফুঁড়ে কোথ্থেকে বৃষ্টির মত গুলির ঝড় আমাদের কাবু করে ফেলল। ওখানকার ট্রেইল দিয়েই যাচ্ছিল এক আশ্বারোহী, আমাদের ইশারা পেয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এল। বলতে পার ওর উসিলায়ই সে যাত্রা বেঁচে গেছি আমরা। যদিও ডাউডি সামান্য আহত হয়েছে। কিন্তু জিনিসপত্রের কোন তি হয়নি।’ ‘যাক্, তেমন কিছু হয়নি।’ ফস্ করে শ্বাস ছাড়ল জেনি, ‘লোকটা কি তোমাদের সাথেই এসেছে?’ ‘না, সে আমদের আগেই চলে এসেছে। আমি তখন গ্লীটারে পূনরায় রওনা দিয়েছি। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল সামনে কোন শহর আছে কিনা। আচ্ছা, সর্বশেষ কে এসেছে শহরে বলতে পার তুমি?’ ‘মার্টিন নামের একজন,’ জানাল জেনি। উৎকন্ঠায় কপালে ঘাম জমেছে ওর। ‘আরে হ্যাঁ! লোকটা তো এ নামই আমাদেরকে বলেছিল। যাক্, ওকে ধন্যবাদ দেয়ার একটা সুযোগ তবে পাওয়া গেল!’ ‘তার আগে তিুমি এখন আমাকে এটা বল যে নাস্তা সেরেছো কিনা।’ প্রসঙ্গ পাল্টে ঘুরে দাঁড়াল জেনি। ওর কথা শুেেন চোখমুখ কুঁচকে ফেলল জনসন। পেটে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, ‘তুমি কি করে ভাবলে শহরে থাকতে আমি তোমারটা ছাড়া অন্যকারো তৈরী ন্সাতা খাব?’ বলতে বলতে জেনিকে পেছন থেকে ঝাপ্টে ধরল ও। নিজেকে ছাড়াতে পেছনদিকে জনসনকে কাতুকুতু দিতে লাগল জেনি। কাতুকুতুর চোটে ওকে ছাড়তে বাধ্য হল জনসন। পরনেই দু’জনে দুষ্ঠুমী হাসিতে ফেটে পড়ল। লাজুক হেসে জনসনের বুকে মুখ লুকালো জেনি। ও জানে না ফোরম্যান রাবার্টসনের এই পুত্রের মাঝে কি আছে, কিন্তু ও এটা জানে এই একজনকেই ভালবাসা যায়। স্বপ্ন সাজাতে হলে স্বপ্নের এই পুরুষই ওর একমাত্র ভরসা…। পাঁচ খুব বেশি সময় শেরিফের অফিসে বসে থাকতে হল না মার্টিনকে। রবার্টসনের বদৌলতে ছাড়া পেয়ে গেল ও। তবে জামিনের পুরোটা না হলেও কিছুটা দিতেই হল। শেরিফের অফিস থেকে বেরিয়ে আসার সময় মার্টিন স্পষ্ট ল্য করল কিছু দূরে একটা পিলারের গায়ে হেলান দিয়ে এদিকেই নজর রাখছিল একটা লোক। ওদেরকে বেরিয়ে আসতে দেখে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল লোকটা। পাত্তা না দিয়ে নিজেদের ঘোড়ার চেপে বসল ওরা। শহরকে পেছনে ফেলে রওনা দিল ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের দিকে। আঁকাবাঁকা এবড়ো-খেবড়ো ট্রেইল ধরে ওরা দু’জনে যখন মাঝারি গতিতে রাইড করছে তখন রবার্টসন মার্টিনকে জিজ্ঞেস করল,‘গত পরশু দিন তুমি কোথায় ছিলে মি.মার্টিন?… জানতে চাচ্ছি কোথ্থেকে এসেছো তুমি ?’ রবার্টসনের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে হাসল মার্টিন। জানাল,‘গ্লীটার সিটি নামের একটা শহর। ওখান থেকেই একটানা এখানে, যদিও গ্লীটারসিটিতেও ছিলাম অন্যখান থেকে এসে!’ এবার ওর দিকে তাকলো রবার্টসন। লোকটার ভাবলেশহীন রসিক চোহারায় কৌতুহলের রেখা ফুটে উঠল। ‘গ্লীটাসিটি! আশ্চর্য!! এখন তুমি নিশ্চয় অস্বীকার করবে না যে এখানে আসার পথে তুমিই গ্লোসি মাউন্টেনে একদল আ্যম্বুশকারীর হামলা থেকে একটা ওয়াগ্যান সামলে ছিলে লোকসুুদ্ধ?’ ‘এবং ওভার চীফ জনসন নামের ছেলেটা তোমারই লোক। ওদের কাছ থেকেই শহরের ঠিকানা পেয়েছিলাম আমি। নচেৎ দেিনর কাপাসির দিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে রওনা হাতাম আমি। ছেলেটাই বলেছিল ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের কাজে সে গ্লীটারে যাচ্ছিল, সে কি ফিরেছে?’ ‘হ্যাঁ, আজ ভোরেই কাজ সেরে ফিরেছে। ও আমার ছেলে। পুরো ঘটনাটার কথাই শুনেছি ওর মুখে।’ ‘আর কি শুনেছো?’ সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করল মার্টিন। হঠাৎই আড়ষ্ট হয়ে গেল ওর মন। ‘আর কিছু জিজ্ঞেসও করিনি।’ দুলতে দুলতে জবাব দিল রবার্টসন,‘তবে জ্যারি মনে হয় এতনে তোমার সম্পর্কে সব খোঁজ খবর নিয়েই ফেলেছে। নতুন যারাই আসে তাদের আগাগোড়া যাচাই করা ওর অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। গত কয়েকদিন আগের ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় ওর অনেক টাকা গচ্ছা গেছে। আমাদের নিজেদের লোকদের মধ্যেই কেউ জোচ্চুরি করে গরু সরানো ব্যাপারে সাহায্য করছে রাসলারদের। ঘটনাগুলো ঘটছে তখুিনি যখন নতুন কারো আগমন ঘটে শহরে এবং ঘটনা ঘটার পর বেমালুম উধাও হযে যায় নতুন মুখ! মূলত: এসব কারণেই নতুন আগন্তুকদের উপর কড়া নজরদারী রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে জ্যারি। তবে…’ ‘তবে আমাকে দেখে নিশ্চয়ই তেমন কেউ মনে হচ্ছে না তোমার?’ রাবার্টসনের কথা শেষ করল মার্টিন। ‘সুতরাং, তুমি নিশ্চিত থাকো-র‌্যাঞ্চে পৌঁছেই তুমি আমার সম্পূর্ন অন্যরকম পরিচয় পাবে মি.জ্যারির মুখে।’ বলেই মুখ বাঁকা করে হাসল ও। যে কথা শুনবে বলে ভেবেছিল তা না শুনায় আড়ষ্ঠ ভাবটা উধাও হল ওর। আয়েশ করে বসল এবার নড়েচড়ে। ওকে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে শ্রাগ করল ফোরম্যান। একটু থেমে প্রসঙ্গ পাল্টালো। জিজ্ঞেস করল, ‘তোমাকে জেলের ভাত খওয়ানোর শখ ছিল মনে হয় ভিকি শয়তানটার!’ ‘হঠাৎ একথা বলছো কেন?’ ‘সবে শহরে এসেছো তুমি, লোকজনের সঙ্গে এখনো আলাপ পরিচয় হয়ে ওঠেনি। নেভিসকে টাকা দিয়ে তোমাকে জেলে ঢুকানো চেষ্টা করেছিল ব্যাটা! তুমি কি বুঝতে পেরেছো?’ ‘হুম্ম…আর তাই তো ফিরে গিয়ে নেভিসের কলার ঝাপ্টো ধরে অযথা সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না!’ নির্লিপ্ত স্বরে মাথা ঝাঁকাল মার্টিন। ‘তবে এটুকু জেনে রেখো, যুঁতসই জবাব যদি না দিতে চাও তাহলে একটা দিনও শান্তিতে চলাফেরা করতে পারবে না। বুলেট ছোঁড়ার মুরদ বিচ্ছিুটার নেই, কিন্তু পদে পদে জ্বালিয়ে মারবে।’ ‘অসুিবধে নেই, মজাই পাব। অন্তত নিজের অবস্থানটা বুঝে না ওঠা পর্যন্ত ছেলেটার সাথে হাডুডু খেলে শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যাবে।’ ‘ভালই বলেছো!’ বলে ঘোড়ার গতি কমাল রবার্টসন। মার্টিন দেখল ওদের ডানপাশে ট্রেইলের উঁচু ঢিবির নীচে মোটামুটি এক তৃণভূমির বুকে ছোট্ট একটা লেক, লেকের তীর ঘেষে ফুলের বাগান আর বাগানের একটা পাশে ভেড়াবেষ্টনীর ভেতর দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক র‌্যাঞ্চ হাউস। ওটার পেছনে ছবির মত প্রকৃতি ছড়িয়ে আছে। কিছু পাহাড়ী খালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘাস খাচ্ছে প্রচুর গরু। কটনউড গাছের বন ছড়িয়ে রয়েছে র‌্যাঞ্চের উত্তর পাশে। বনের দূরত্বটা অনেক দূর পর্যন্ত বি¯তৃত। ‘এসে গেছি, এটাই আমাদের র‌্যাঞ্চ।’ স্যাডল ছেড়ে জানাল ফোরম্যান। ঘোড়ার পিঠ ছেড়ে লাগাম পাকড়াও করল মার্টিন। নিরবে ফোরম্যানকে অনুসরণ করে হাঁটতে লাগল। র‌্যাঞ্চের গেট পর্যন্ত জমির বুকে আজব যত লতাগুল্মোর রাজত্ব। ইউক্যালিপ্টাস্ ঝাড়েরও কমতি নেই এদিক-সেদিক। রবার্টসনের সাথে গেট পেরুলো মার্টিন। বাগানের মাঝখান দিয়ে কংক্রিট বিছানো সরু রাস্তাটা গিয়ে ঠেকেছে র‌্যাঞ্চ হাউজ স্টোরে। চোঁকামুখো হ্যাংলামার্কা এক কাউবয় এসে ওদের ঘোড়া দু’টো সরিয়ে নিয়ে গেল। আরো জনা পাঁচেক কাউবয় কাজ করছে লিভারিতে। কেউ ফিরেও তাকায়নি ওদের দিকে। নিজেদের কাজে ব্যস্ত সবাই। পাশের একটা কুকশ্যাক থেকে কুন্ডুলী পাকিয়ে চিমনি দিয়ে বেরিয়ে আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার রেশ। আগোছালো হলেও পরিবশটা মন্দ নয়। করাল, ছাউনি, কুকশ্যাক, বাঙ্কহাউস এসবই মূল র‌্যাঞ্চ হাউসের বারান্দায় ওঠার সরু রাস্তার দু’পাশে নির্দিষ্ট করে তৈরী করা হয়েছে। আবার লেকের পাড়ে গৃহপালিত পশুর খামার হাউসও দেখা যাচ্ছে। সূর্যের আলো প্রতিফলিত হওয়ায় চিকচিক করছে লেকের পানি। চারিদিকে নজর বুলাতে বুলাতে র‌্যাঞ্চহাউসের বারান্দার গ্যালারিতে এসে উঠল ওরা। ঠিক তখুনী ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একলোক। দেহের গড়ন ও আকৃতি হুবুহু রবার্টসনের কাছাকাছি। পরনের পোশাক দেখলেই বোঝা যায় লোকটা সৌখিন। পা থেকে গলা অবধি রবার্টসনের মানিকজোড় বলে চালিয়ে দেয়া যায় লোকটাকে। চোহারায়ও রসিকতার ছটা লেগে আছে, তবে খুবই অভিব্যক্তিহীন চোখ। মুখের অবয়ব দেখেই বোঝা যায় আভিজাত্যের কোঠায় আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে জীবনে। গায়ের রঙটায় তামাটে ভাজ পড়লেও হলুদ চুল আর গোঁফের অন্তরালের চেহারাটাই বলে দিচ্ছে এ লোকটাই জ্যারি, এখানকার কর্ত। রবার্টসনের সঙ্গে মার্টিনকে দেখতে পেয়ে ভুরু কুচকালো সে। চেহারায় ঝিলিক মারল জেনির অবয়ব, চোখজোড়া বলে দিল জ্যানের ছটাক। হ্যাঁ, বাপ হিসাবে এ লোকই উপযুক্ত। ‘আমাদের শহরের নতুন অতিথি জ্যারি-’ ইঙ্গিতে মার্টিনকে দেখাল রবার্টসন। ‘কিন্তু তোমার চেহারা বলছে অন্যকিছু।’ ‘বসে পড় তোমরা’ বলে বারান্দায় রাখা একটা চেয়ারে বসে বেঞ্চ দেখাল জ্যারি। বসার ফাঁকে মার্টিনের আপাদমস্তক জরিপে ভুলল না। ‘এত দেরী হল কেন তোমার রবার্ট?’ ‘শহরে ছোট্ট একটা ঝামেলা হওয়ায়…’ বলতে বলতে নিজের গলায় ঝোলানো হ্যাট খুলে কাঠের দেয়ালে হুকে লটকালো রবার্টসন। ‘বুঝতেই পাচ্ছো! কিন্তু এখন তুমি আমাকে সব খুলে বল।’ ‘বলছি….হাইডি মি. মার্টিন, তোমাকে সরাসরি দেখে ভাল লাগছে।’ মার্টিনের দিকে তাকিয়ে হাসলো র‌্যাঞ্চার। জবাবে নড্ করে সম্মান প্রদর্শন করল মার্টিন। ও ভেবিছিল স্বাভাবিক ভদ্রতা জারি করার জন্যেই লোকটা ওকে ডেকে পাঠিয়েছে। কিন্তু কথাবার্তার ধরন দেখে মনে হচ্ছে অন্যকিছু। দাঁড়িয়ে ছিল ও, বেঞ্চটাতে বসে পড়ল। জায়েগাটা নিরাপদ। ‘প্রথমেই তোমাকে একাধারে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমি মি.মার্টিন- তুমি গতকাল রাতে জ্যানকে ভিকির সাথে ঝগড়া করা থেকে বিরত রেখে রেস্তোরাঁটা অত রেখেছো। অন্যদিকে জনসনকে মারাত্মক ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচিয়েছো…’ বুক পকেট থেকে একটা কিছু বের করার ফাঁকে বলছিল জ্যারি, বিরতী পেয়ে মার্টিন বলল, ‘বিনিময়ে নিজের যথেষ্ঠ স্বার্থও সিদ্ধি হচ্ছে আমার মি.জ্যারি, আমি…’ বাধা পেল ও। ‘তুমি যা বলতে চাইছো আমি হয়ত তা বুঝতে পারছি সান, কিন্তু ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। তুমি পশ্চিমের মানুষ, হয়ত রুতার মাঝেই বেড়ে উঠেছে, তাই হঠাৎ হঠাৎ হয়তবা পরিস্তিতির সাথে নিজের সামাঞ্জস্য বের করতে সময় ব্যয় কর।’ পকেট থেকে বের করা কয়েক টুকরো কাগজ রবার্টসনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল জ্যারি। ওগুলো হাতে নিয়ে মনোযোগ দিল রবার্টসন। ওর টাক মাথা চক্চক্ করে উঠল নাড়া পেয়ে। ‘তুমি ঠিক কি বলতে চাইছো মি.জ্যারি…’ বুঝতে পারছে না কিছু মার্টিন, সু একটা সন্দেহ দানা বেঁধেছে ওর মনে। বুঝতে পারছে না র‌্যাঞ্চার আসলে কোন প্রসঙ্গটা টেনে আনছে আস্তে আস্তে। ‘একটু ভেবে দেখ মি.মার্টিন, এ শহরে ঢুকার সাথে সাথেই তোমাকে ছোট্ট হলেও একটা ঝামেলার মধ্যে দিয়ে আসতে হয়েছে। ঢিঙাতে হচ্ছে উটকো কিছু জঞ্জালের জড়তা, অথচ তুমি হয়ত কল্পনাও করতে পারবে না-মাস খানেক আগেও এশহরের অবস্থা মোটেও এমন ছিল না। শহরবাসী বা র‌্যাঞ্চার বল সবাই খুব নিশ্চিন্তেই নিজেদের কাজ করত অনায়াসে। খুউবই শান্তশিষ্ট ছিল শহরের পরিবেশ। কিন্তু এখন- অহরহ ঝামেলা বাধছে শহরে। গরু চোরের প্রকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে ব্যাংক ডাকাতী, পাশাপাশি অনাহুত আগন্তুকদের সংখ্যা বাড়ছে। এসবের পেছনে কাদের মদদ আছে জানি না, কিন্তু সুবিধাভোগী কিছু লোক চাচ্ছে এ শহরটাকে নিজেদের স্বর্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠা করতে। অন্তত চলমান আলামত দেখে তাই মনে হয়।’ হাত নেড়ে, ঘাড় নাচিয়ে কথাগুলো বলল র‌্যাঞ্চার। নিজের জায়েগায় নড়েচড়ে বসল মার্টিন। র‌্যাঞ্চারের কথা শুনে মনে হচ্ছে ওর পরিচয়টা ওদের কাছে আর অজানা নেই। এবং যে কোন কারনেই হোক, র‌্যাঞ্চার ওকে বোঝাতে চাইছে লোকটা ওর শহরে আসার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত। অর্থাৎ… রবার্টসনকে কাগজগুলোর ওপর থেকে মুখ তুলে তাকাতে দেখে মার্টিন ওদের দু’জনের দিকে দৃষ্টি নাচিয়ে জানতে চাইল,‘তোমরা নিশ্চয়ই আমাকে এমন কেউ ভাবছো না যাদের কারণে ক্রমশ: তোমাদের শহরের পরিবেশ বিকৃত হচ্ছে?’ ‘ইচ্ছে করে বোকার মত প্রশ্ন করাটা তোমাকে মানায় না সান! অবশ্য সত্যিই হয়ত তুমি আমার কথার তাৎপর্যটা আঁচ্ করতে পারছো না। সুতরাং সরাসরিই তোমাকে ব্যাপারটা বলে ফেলি-’ রবার্টসনের দিকে মুখ ফেরাল র‌্যাঞ্চার,‘কি বল রবার্ট?’ ‘সেটাই ভাল হবে, অন্তত এগুলো দেখে তাই মনে হচ্ছে।’ হাতের কাগজগুলো দেখিয়ে সম্মতি জানাল রবার্টসন। কাগজগুলো নিজের হাতে নিয়ে মার্টিনের হাতে দিলে র‌্যাঞ্চার। বলল, ‘এগুলো দেখলেই তুমি বুঝতে পারবে আমি তোমাকে ঠিক কি বলতে চাইছি মি.মার্টিন।’ ওর ধারনাই ঠিক। সম্ভবত: জনসনই ওর ব্যাপারে গ্লীটারসিটিতে যাচাই করে এগুলো জোগাড় করে এনেছে, অথবা কোনওভাবে খবরের পত্রিকার সাথে লিফলেট আকারে এগুলো এ শহরে পৌঁছেছে। আর যদি তাই হয় তবে তো নিজের পরিচয় গোপন করে কোন লাভ নেই। ‘মি.জ্যারি, এখন আমি বুঝতে পারছি তুমি কি বলতে বা বোঝাতে চাইছো আমাকে। আসলে তোমার ধারনা আমি একজন বাউন্টি হান্টার, আর তাই নিশ্চয়ই এশহরে কোন কুখ্যাত অপরাধীর খোঁজে এসেছি। এবং তাই হলে শহরের বর্তমান পরিস্তিতি ভবিষ্যতে পুরোপুরি হুমকির মুখে। অর্থাৎ তোমাদের ধারনা আমার কারণে শহরের কোন ধরনের গন্ডোগোল বাধলে এ শহর পুরোপুুরি তলিয়ে যাবে।’ ‘ঠিক তাই, এবং সেরকম কিছু হলে পরিস্তিতি আমাদের মত র‌্যাঞ্চারদের নিয়ন্ত্রনের বাইর্ েচলে যাবে। ফলে এ শহরটাকে ঠিকিয়ে রাখা…’ মার্টিনকে উঠে দাঁড়াতে দেখে থামল মি.জ্যারি। ‘তোমরা আমাকে শহর ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছো, তাই তো? কিন্তু এই জিনিসটা দেখে কি তোমাদের মনে হয়’ শোল্ডারে ঝোলানো মানিব্যাল্টের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে লাগল মার্টিন-‘আমি এখনও পুরাতন পেশায় ঘুরে বেড়াচ্ছি?’ ‘কি বলতো চাচ্ছো তুমি?’ চেহারার রসিক ভাবচা উধাও হয়ে সেখানে কিঞ্চিত অসন্তুষ্টির রেখা ফুটে উঠল র‌্যাঞ্চারের। ‘ভাল করে খোঁজ নিয়ে দেখ আমি বর্তমানে একজন ভবঘুরের চেয়েও জঘন্য অবস্থানে আছি। হ্যাঁ, ক’দিন আগেও ঔই পেশায় ছিলাম, কিন্তু জমানো টাকাগুলো আমাকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করিয়েছে। সুতরাং, পেশাটা এখন আমার পরিচয় নয়। আশা করি বোঝাতে পেরেছি?’ স্মিত হাসল মার্টিন। ‘বেয়াড়া ছোকরা!’ চাপা নিঃশ্বাস ছাড়ল রবার্টসন। ‘এরমানে এ শহরেই থাকবে বলে স্বীদ্ধান্ত নিয়েছো তুমি?’ ‘আলবৎ! এবং সম্বল যা আছে তা দিয়ে একটা কিছু করার ব্যাপারে তোমার সহযোগীতা পাবার প্রস্তাব ব্যক্ত করছি। বিনিময়ে এতটুকু নিশ্চয়তা দিচ্ছি অন্তত আমার কারণে তোমাদের শহরের বিন্দুমাত্র তি হতে দেব না।’ বিকারহীনভাবে একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল মি.জ্যারি ও রবার্টসন। দুই মানিকজোড়কে নিরাশ করে গুডবাই জানাল মার্টিন। নিজের ঘোড়াটা ফেরত পেয়ে আগের ঔই চোকামুখো কাউহ্যান্ডকে যখন ও হাসিমুখে একটা ধন্যবাদ জানাচ্ছিল তখন র‌্যাঞ্চহাউসের জানালার ওপাশ থেকে আস্তে আস্তে এক মহিলাকে সরে যেতে দেখে বুঝল মহিলাটি অবশ্যই জেনির জন্মদাত্রী। ছয় ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের ফোরম্যান রবার্টসন হার্টের ছেলে সেকেন্ড কাউহ্যান্ড জনসন হার্ট সুদর্শন বলতে বা বুঝায় সেরকম কেউ নয়। কিন্তু যথেষ্ট আকর্ষনীয় চেহারা আর বিশালাকায় দেহের অধিকারী হওয়ায় ওর দিকে দ্বিতীয়বার ফিরে তাকাবে যেকেউ। বয়সের তুলনায় বাড়ন্ত শরীরটা ছয় ফিট উচ্চতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় শহরের অন্যান্য তরুনদের মাঝে নিজের একটা আলাদা দাপট বা অবস্থান অনেক আগেই আদায় করে রেখেছে সে। শহরের সবাই জানে- জনসন সশস্ত্র অবস্থায় যতটুকু না ভয়ংকর তারচে’ অধিকতর ভয়ংকর সে খালিহাতে। বাপের মতই সারান মুখে হাসি টেনে সবার সঙ্গে সমাঞ্জস্য বজায় রেখে চলাফেরা করে ও। কিন্তু একবার যদি সে কারো উপর রেগে যায় তবে ধরে নিতে হবে আকাশ ভেঙে পড়েছে। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া কোমড়ে হোলস্টার ঝোলায় না জনসন। খালিহাতেই জনপাঁচেক দূর্ভাগাদের আধমরা করে দেওয়া ওর জন্য পান্তাভাত। তাই শহরের ছেলেরা ওর থেকে নিরাপদ দূরত্ত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করে। যদিও জনসন কমবয়সী কারো সাথেই কখনো অবন্ধুত্বপূর্ন আচরন করে না। তবে শহরের সবচে’ প্রভাবশালী র‌্যাঞ্চার ম্যাথিউ রাস্ট-এর ছেলে ভিকি রাস্টের সঙ্গে ওর সম্পর্ক সম্পূর্ন ব্যতিক্রম। ভিকিকে দু’চোখে দেখতে পারে না জনসন। এবং ও খুব ভালো করেই জানে ভিকি ওর সামনে এলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য হবে ও। এবং ব্যপারটা ভিকিরও অজানা নয়। নিজের হ্যাংলামার্কা গড়নের দিকে তাকিয়ে ভয় না পেলেও নিতান্তই নিরাপত্তার খাতিরে জনসনের নজরের আড়ালে চলাফেরা করে ও। কারনটা হল গ্রীনটাউনে ব্যক্তিগত ঝগড়াঝাঁটি ব্যক্তিগতভাবেই সেরে ফেলা আইনতভাবে শহরের ছেলেরা মেনে চলে। সেেেত্র জনসনের বিরুদ্ধে ওর হয়ে লড়াই করার সাহস ভিকির চ্যালাদের নেই। তাই ভিকি যথাসম্ভব আড়ালে অবডালে বসেই দাঙ্গা ফ্যাসাদ অব্যহত রেখে ঘুরে বেড়ায়। জনসন ভিকির ব্যাপারে একটা কথা ভেবে বেশ অবাকই হচ্ছে, গত কয়েকদিন আগে ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চ থেকে যে আশিটা গরু চুরি গেছে তার সাথে ভিকিরই দু’জন সঙ্গী জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কেননা, ঘটনার দিনই ওদের ব্র্যান্ডের ছ’সাতটা গরু হাতিয়ে নিয়ে গ্লীটারে রওনা দিচ্ছিল ছেলেগুলো। কিন্তু জ্যান ওদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। অবশ্য এমনও হতে পারে শহরে যেহারে এখন গরু চুরির প্রকোপ বেড়েছে সে সুযোগটাকেই কজে লাগিয়ে বখে যাওয়া ছেলেগুলো নিজেদের জুয়া খেলার টাকা ঝোগাড়ের জন্য দু’চারটা গরু অগোচরেই চুরি করে নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। এতে ওদের কোন তি তো হচ্ছে না বরং সন্দেহটা গিয়ে পড়ছে আসল গরুচোরদের ওপর। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে তো ক’দিন পরে দেখা যাবে বাড়তি লাভের আশায় নিজেদের র‌্যাঞ্চ থেকে ক্রুরাই গরু সরানো শুরু করে দিচ্ছে। সমস্যাটা বেশ ভাবিয়ে তুলেছে জনসনকে। স্পষ্ট বুঝতে পারছে ও, গতকালের গ্রীনটাউন আর আজকের গ্রীনটাউনের মধ্যে বিশাল ফারাকটা কি। দিন যতই গড়াচেছ ততই শহরের সেই শান্ত – কর্মচঞ্চল নির্জঞ্ঝাট মানুষের জীবনের দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। ক’মাস আগেও হোলস্টারে পিস্তাল না ঝুলাওলও চলত, কিন্তু এখন সামন্যতাম নিরাপত্তার জন্যই লোকজন হাতে তুলে নিচ্ছে অস্ত্র। কেমন জানি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। কেন? সমস্যাটা কোথায়? সমস্যার উৎসটাই বা কোথায়? গত দু’মাসে এ-ওর র‌্যাঞ্চ থেকে সবমিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার গরু চুরি গেছে! ব্যাংক ডাকাতী হয়েছে দু’বার। এতেই ফতুর হয়ে যওয়ার দশা অনেকের। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েও পার পাওয়া যাচ্ছে না। কিভাবে জানি নিজেদের কাজ আদায় করে নিচ্ছে দূর্বৃত্তরা। শেরিফ বহুবার পাসি নিয়ে দূর্বৃত্তদের খোঁজার চেষ্ঠা করছে। কিন্তু কাজ হয়নি। দূর্বৃত্তদের ধরা তো দূরের কথা, ট্র্যাকেরও চিহ্ন পর্যন্ত চোখে পড়ে না কোথাও। ডাকাতী করে না হয় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সটকে পড়া যায়, কিন্তু শতশত গরু চুরি করে চোরেরা কিভাবে বেমালুম উবে যায় তা মোটেও বোধগম্য নয় শহরবাসীর কাছে। বোরহান বা কাছাকাছি অন্যকোন আউট-ল গ্যাঙের পে এ কাজ করা সম্ভব নয়, বড়োজোর ডাকাতী ছাড়া। এসবের পেছনে এমন কোন মতাধর আউটফিটের হাত আছে যাদের পশ্চিমে দূর্গম যাত্রাপথে কোমাঞ্চিদের চোখ এড়িয়ে কিংবা কাউন্টির পথ মাড়িয়ে যাতায়াত করার রয়েছে অবাধ দত। আর এমন হলে চুরি করা গরুর বিশাল বহর নিয়ে সহসাই উধাও হওয়া সহজ। কিন্তু ওরা করা? কাদের কাজ এসব? আজ এতগুলো বছর পর শান্তনির্মল, নিরীহ এ শহরটাকে নিয়ে ছিনিমিন খেলার বাতিক কার মাথায় চাপল? শহরের প্রভাবশালী কারো হাত থাকতে পারে- এমন ধারনাটা করাও হাস্যকর স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বাইরের কেউ নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে। যে লোক যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত, সরল একটা শহারকে মুহুর্তেই আহত করার মতা রাখে সে আর যেই তো সাধারন কেউ নয়।…. আর ভাবতে পারল না জনসন, গ্র্রীনটাউনের বর্তমান ভবিষ্যৎটা কি যেটা আর কল্পনা করতে পাছে না ও। কিছুন আগে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে ও। একজনের কাছে শুনেছে নেভিসের পত্রিকার দোকানটা মার্টিন নামের এক নবাগত লোক পুড়িয়ে দিয়েছে। মার্টিন! ডাহা মিথ্যে কথা! এটা অবশ্যই ভিকির কাজ। গতকাল নাকি রেস্তোঁরায় মার্টিনের সাথে গন্ডগোল হয়েছে, ব্যাটা নিশ্চয়ই বদলা নিতে চেয়েছে? ভেবেছে এতে শেরিফ মার্টিনকে জেলে পুরবে। কিন্তু জনসন জানে মার্টিনকে র‌্যাঞ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওর বাবা এসেছে এবং সে সঙ্গে থাকলে মার্টিনের কোন সমস্যা হবে না। তবে নেভিসের দোকানটা পুড়ে যাওয়ায় বেশ সমস্যাই হল। গ্লীটার থেকে নিয়ে আসা পত্রিকাগুলো নিশ্চয়ই পুড়ে ছাই! এ সপ্তাহ আর শহরবাসীর পত্রিকা পড়ার সুযোগ হবে না। প্রতি সপ্তাহেই পত্রিকার বান্ডিল গ্লীটারসিটি থেকে নিয়ে আসার দায়িত্ব ওর। গ্রীনটাউনের নিজস্ব কোন পত্রিকা নেই। ব্যাটা নেভিসকেও কিছু বলার নেই, যে নিশ্চয়ই কাজটা ভিকির ভয়েই করেছে? তাছাড়া জরিমানা-টরিমানা পেলে আর ভিকির কাছ থেকেও কিছু পেলে সবই ওর লাভ। কারন, পূনরায় নতুন দোকান তৈরী করে দেয়ার দায়িত্ব টাউন হলই নেবে। সব ঝামেলার হোতা ঔই ভিকি। শালাকে এবার একটা উচিত শিা না দিলেই নয়। অতিরিক্ত জ্বালাতন করছে ছেলেটা। দু’য়েক হপ্তার জন্য ব্যাটাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করলে মন্দ হবে না। ভিকির খোঁজেই তাই এখন বারের দিকে যাচ্ছে জনসন। ওর জানা আছে ভিকি এ সময়টা প্রায়ই পার্সি’র বারে কাটায়। ভিকি আর ওর সাঙ্গপাঙ্গদের অস্ত্রগুলো কিভাবে মার্টিন কেড়ে নিয়েছিল যে গল্প জ্যানের কাছে শুনেছে জনসন। তবে অস্ত্রগুলো শেরিফের কাছে গছিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতনে ওগুলো নিশ্চয়ই ফেরত নিয়েছে বিচ্ছুগুলো। তবে চিন্তার কিছু নেই, ওকে গান বেল্টহীন দেখলেও ভিকির মত ছিচ্কে ছোঁড়া ওকে গুলি করার মত দুঃসাহস দেখাবে না। কারন, ব্যর্থ হলে বাঁচার উপায় নেই। শহরের ফুটপাত ধরে দ্রুত হাঁটছে জনসন। ওর ঘোড়াটা রেস্তোঁরার হিচর‌্যাকে বাধা আছে। হাঁটার ফাঁকে মার্টিনকে নিয়ে একটা সম্ভাবনার আলো মাথায় উঁকি দিল জনসনের। যতদুর জানতে পেরেছে ছোকরা একজন বাউন্টি হান্টার। গ্লীটারে ছিল দু’রাত। এর আগে কোথায় ছিল কে জানে! তবে ছেলেটা যখন এভাবে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এতে অন্তত এতটুকু আন্দাজ করা যায় যে সে নিশ্চয়ই দাগী কোন আসামীকে খোঁজে বেড়াচ্ছে। আর তাই যদি হয় তাহলে গ্রীনটাউনের আসার পেছনে তার এই এটাই উদ্দেশ্য। এবং সেই আসামী যদি এ শহরেই লুকিয়ে থাকে তবে মার্টিন তাকে নিশ্চয়ই পেয়ে যাবে। এতে লাভ হবে এতটুকুই যে – ঔই লোকটাই হতে পারে শহরে উচ্ছৃঙ্খলা সৃষ্ঠিকারী টাউটদের একজন। তার কাছ থেকে অনেক কিছুই আদায় করা যেতে পারে। অবশ্য এটা নিতান্তই জনসনের সূ অনুমান। যা তেমন গুরুত্বপূর্ন না হলেও যাচাই করার ব্যাপারে অসুবিধে নেই। পার্সির বারের সামনে এসে থামল জনসন। আশেপাশে পরিচিত কাউকে দেখা গেল না। নিঃসংকোচে ভেতরে ঢুকে পড়ল ও। জনাদশেক খদ্দের এ টেবিল ও টেবিল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। অধিকাংশই এসেছে স্রেফ গালগপ্পো করতে। চারদিকটায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে আনল জনসন। দেখল, কোনার একটা টেবিলে ভিকির সাথে তাস খেলছে সম্পূর্ন অপরিচিত একটা লোক। লোকটার পাশে দাঁড়িয়ে তারই মত বেটেখাট অথচ বলিষ্ঠ অন্য আরেকজন। এদের দু’জনের মাথায় একই রকম কালো হ্যাট আর হ্যাটের খোপায় ষ্টিলের চকচকে গোল চেইন ঝুলে আছে। ভিকিকেও ওর একজন সঙ্গী সাপোর্ট দিচ্ছে। তবে ভিকির বিরক্ত কুঞ্চিৎ চেহারা দেখে জনসন বুঝল ওর চাল ঠিকমত যাচ্ছে না। কাউন্টারে হেলান দিয়ে দাঁড়াল জনসন। ওকে দেখে অবাক হয়ে বারটেন্ডার এগিয়ে এল। লোকটাকে অবাক হতে দেখে হাসল জনসন। ‘অবাক হয়ো না পার্সি, তোমার একজন খদ্দের কমাতে এলাম!’ ওর কথা শুনে ভিকির টেবিলের দিকে তাকাল বার টেন্ডার পার্সি। যথেষ্ট বয়েস হয়েছে তার। তবে বয়সের কাছে ওর শরীরটা ঘায়েল হতে এখনও বোধহয় আরো বাকি। মাথার চুল আর চোখের ভুরু, এমনকি নাকের নিচে ঝুলে থাকা গোঁফটুকু পর্যন্ত ধবধবে সাদা হয়ে আছে। অতীতের ওজনে চোহারায় ভাজ পড়েছে, শত সহস্র। তবুও সুটাম শরীর নিয়ে দিব্যি ব্যবসা তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে, বুড়ো পার্সি। ‘তা কমাও,’ থমথমে স্বরে বলল পার্সি। ‘কিন্তু আমার গা বাঁচিয়ে।’ ‘আমার মনে হয় শেরিফকে তোমার খবর পাঠানো উচিত।’ ভিকিকে হঠাৎ ঝট্ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দেখে বলল জনসন। আয়েশী ভঙ্গিমায় তাকিয়ে আছে ওদিকে। ‘স্টুপিড! জোচ্চুরি করছো তুমি আমার সাথে!’ প্রচন্ড জোরে টেবিলে চাপড় মেরে আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার ছাড়ল ভিকি। ‘বোধহয় তোমার কথাই মানতে হবে…’ কানের কাছে পার্সির বলা কথাটা শুনল জনসন। তবে ওর দৃষ্টি এখন ভিকিদের টেবিলে। ভিকির হঠাৎ এ পরিবর্তনে সেলুনের সব খদ্দেরের দৃষ্টি ওদের উপর নিবদ্ধ হল। ‘আমার সব টাকা ফিরিয়ে দাও মিস্টার!’ বসে থাকা আগন্তুকের দিকে চোখ রাঙাল ভিকি। ‘দুঃখিত বন্ধু,’ বসা থেকে উঠে দাঁড়াল আগন্তুক। ‘ন্যায্যভাবে জিতে তোমার টাকা আদায় করেছি আমি।’ গোলমালের আভাস পেয়ে সেলুন ছাড়ল জনাকয়েক খদ্দের। বাকিরা কি হয় দেখার জন্যে এককোনায় জড়ো হল। সবার ওপর নজর ঘুরিয়ে আনল আগন্তুক দু’জন। অন্যজন বলল, ‘তুমি আমাদের অপমান করছো মিস্টার, তোমাকে যথেষ্ঠ সময় দিয়েছি। এখন আমাদের যেতে হবে।’ বলে হাঁটা ধরল দু’জনে। কিন্তু পথরোধ করে দাঁড়াল ভিকি। কোথ্থেকে ওর আরো কয়েকজন সঙ্গী এসে হাজির হল। ‘দেখো মিস্টার,’ প্রথম আগন্তুকের ঠোঁটের কোন থেকে হাসির রেখা উধাও হল। ‘ভদ্রলোককের সাথে কিরকম আচরন করা উচিত তা তোমাদের মেনে চলা দরকার।’ ‘ভদ্রলোক!’ টিটকারী মারল ভিকি। ‘ভদ্রমহোদ্বয়কে ন্যাংটো করে ছেড়ে দিলে কেমন দেখায় ভিকি!’ ভিকির এক সঙ্গী যোগ করল। ‘ওকে…’ অন্য একজন অশ্লীল কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখুনী প্রচন্ড গুলির আওয়াজে সব চাপা পড়ে গেল। মুহূর্তের জন্য কবরের নিস্তব্ধতায় পরিণত হল সেলুন, কিন্তু পরনেই হুশ ফিরল সবার যখন সবাই অবাক বিস্ময়ে দেখল ভিকির এক চ্যালা কপাল ফুটো অবস্থায় দড়াম করে ফোরে পড়ে গেল। আগন্তুক দু’জনের একজনের হাতে ধরা সিক্সগান থেকে ধোয়া বেরুচ্ছে কুন্ডুলী পাকিয়ে। আকস্মিক এমন ঘটনায় জায়গায় জমে গেল ভিকিবাহিনী। এমনকি সবাই! গ্রীনটাউনের ইতিহাসে প্রথম খুন! মেনে নিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন সবার। ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানেই থাকো,’ পিস্তল নাচিয়ে সবাইকে সতর্ক করল একজন আগন্তুক। ‘আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পর ইচ্ছে করলে নাঁচতেও পারবে কিন্তু তোমাদের কোমরে ঝোলানো অস্ত্রগুলো আপাতত আমাদের হাওয়ালে করে দাও।’ একে একে সবাই যার যার অস্ত্র টেবিলে রাখল। সঙ্গীকে নির্দেশ দিল অস্ত্রোগুলো জড়ো করতে আগন্তুক। লোকটা অস্ত্রগুলো একত্র করে সবগুলোর ম্যাগাজিন খালি করে নিল। তারপর দু’জনেই সাবধানে অস্ত্র বাগিয়ে দরজার দিকের এগোতে লাগল। হেলান ছেড়ে অনেক আগেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জনসন। লোক দু’জন একটা খুন করে ওর চোখের সামনে দিয়ে চলে যাবে ভাবতেও অবাক লাগছে। অথচ নিরস্ত্র অবস্থায় কিছুই করার নেই। কিন্তু ওর চোখ একটা সুযোগের অপোয় আছে। লোক দু’জন যখন জনসনকে পাশ কাটিয়ে আস্তে আস্তে সতর্ক পদেেপ দরজার দিকে এগিয়ে গেল তখন আপনাআপনি জনসনের দু’হাত মুঠো হয়ে গেল। ‘বন্ধুরা, দরজার সামনে যাকে প্রথমে নজরে পড়বে আমি চেষ্ঠা করব তার খুপরি বরাবর দু’চারটা ট্যাবলেট পাঠিয়ে দিতে!’ দ্বিতীয় আগন্তুক ভয়ংকর একটা শটগান বাগিয়ে হুমকি দিল। অস্ত্রটা কিভাবে কোটের আড়ালে গুজে রেখেছিল কে জানে! প্রায় দরজার সামনে পৌঁছে গেছে দুই আগন্তুক, ঠিক তখুনী সেলুনের বাইরে দরজার আড়ালে লুিকয়ে থাকা কেউ একজন প্রচন্ড শক্তি দিয়ে সামনের আগন্তুকের বুকে দড়াম করে এক লাথি হাঁকাল। লোকটার লাথির চোটে প্রথম আগন্তুক ধাক্কা খেল দ্বিতীয়জনের সঙ্গে। দ্বিতীয়জন ঠেলা খেয়ে হয়ত অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তাল সামলাতে না পেরে হুড়মুড় করে ছিটকে এসে পড়ল জনসনের গায়ে। প্রস্তুত হয়েই ছিল জনসন। শত্র“র শটগান ধরা হাতটাতে প্রথমে ভয়াবহ এক কোপ বাসাল ও। কঁকিয়ে উঠে শটগান ছাড়ল আগন্তুক। কিন্তু পরনেই মুখে জনসনের বিশাল মুষ্ঠির ধাক্কা সামলোতে না পেরে উড়ে দিযে একটা টেবিলে ছিটকে পড়ল লোকটা। এই ফাঁকে আরেকটা গুলির আওয়াজ কানে এল জনসনের। শেরিফকে চিনতে পারল ও। লোকটার হাতের অস্ত্রটা প্রথম আগন্তুকের হাতের তালু ফুটো করে দিয়েছে। ফলে সিক্সগান ছাড়তে বাধ্য হয়েছে লোকটা। কিন্তু ব্যাটা অস্ত্রটা তোলার জন্য ঝুঁকতেই তার কপাল বরাবর একটা ভয়ংকর লাথি ঝাড়ল শেরিফ। লাথির চোটে শূন্যে সামান্য উঠল লোকটার দেহ, তারপর উড়ে গিয়ে ধাক্কা খেল কাউন্টার ডেস্কে। জনসনের হাতে মার খাওয়া আগন্তুক এই সামান্য সময়ের সদ্বব্যবহার করতে চাইল। নিজের অস্ত্রটা এখন সে প্রায় জনসনের দিকে তাক করেই ফেলেছিল ঠিক তখুনী কোথ্থেকে একটা বুলেট এসে বেচারার গলায় বিঁধল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্য আরেকটা গুলি প্রথম আগন্তুককেও কাউন্টার ডেস্কের সাথে গেঁথে ফেলল মুহূর্তেই। শেরিফের দিকে তাকাল সবাই। কিন্তু শেরিফ হতভম্ব! নিজের হাতের পিস্তল দেখল সে, তারপর জনসনকে নিজের ঘাড়ের ওপর দিয়ে পেছনে কি দেখছে দেখে নিজেও ঘুরে দাঁড়াল। সবাই সীমাহীন বিস্ময় নিয়ে দেখল সেলুনের দরজার সামনে হেলান দিয়ে কৌতুহলী চেহারায় সবার ওপর নজর বুলাচ্ছে একজন। গুলি দু’টো যে সেই করেছে তা বোঝা যাচ্ছে তার কোমরের পাশে দু’হাতে ধরা দু’টি পিস্তল থেকে কুন্ডুলী পাকিয়ে বেরুনো নীলচে ধোঁয়া দেখে। লোকটা আর কেউ নয়- মার্টিন, মার্টিন ল্যাসলোর! সাত পাঁচ ঘন্টা পর। একটা কেবিন। কেবিনের ভেতর মোট চারজন লোক। চৌক কেবিনটা অন্ধকরে আবছা হয়ে আছে। একটাই মাত্র জানালা, তাও বন্ধ। কামরার একপ্রান্তে দেয়ালে ঠেস দেয়া একটা চেয়ারে বসে আছে রুদর্শন এক লোক। তার দু’পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরো দু’জন লোক। উভয়েরই চেহারায় নিষ্ঠুরতার ছাপ স্পস্ট। ওদের সামনে যে লোকটা ঘনঘন অস্থিরভাবে পায়চারি করছে সে হচ্ছে শেরিফ ডালটন। উদ্বিগ্নভাবে বারবার চেয়ারে বসা লোকটার দিকে তাঁকাচ্ছে। কিন্তু চেয়ারে বসা লোকটা ঘোলাটে চেহারায় কামরার মেঝের উপর দৃষ্টি আটকে রেখেছে। ভাবছে কিছু লোকটা। পাশের দুই সঙ্গী অপলক শীতল নয়নে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনছে যেন। এরা লোক বিপজ্জনক। ‘তোমার বক্তব্য হচ্ছে তুমি এসমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত নও? তবে কারা করছে এসব, অ্যাঁ?’ কেবিনের নিরবতা ভাঙল শেরিফ। ‘আজ এতদিন হয়ে গেল, শহরে একটা পতঙ্গ পর্যন্ত মারতে হয়নি কাউকে, অথচ মাত্র কয়েক ঘন্টায়- তিন, তিনটা খুুন হয়ে গেল!’ ‘তুমি বোঝার চেষ্টা কর শেরিফ,’ ঠান্ডা সমঝদারি সুরে বলল চেয়ারে বসা লোকটা। ‘এ পর্যন্ত শহরে যে সমস্ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এর পেছনে যাদেরই হাত থাকুক না কেন তাদের উদ্দেশ্য রাসলিং বা ব্যাংক ডাকাতী নয়। এরা চাচ্ছে শহরের প্রভাবশালী লোকেদের ফতুর করে শহর ছাড়া করা আর পরে শহরকে নিজেদের দখলে নেয়া। বুঝতে পেরেছো আমি কি বলছি?’ ‘তোমার কথায় যুক্তি আছে বোরহান। কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি কে সে? শহরের বাইরের লোক বলতে একমাত্র তুমিই। তাছাড়া সেই রাতে জনসনকে পাহাড়ে কারা আক্রমন করেছিল?’ ‘আমি জানি শহরের লোকজন আমাকেই প্রথমে সন্দেহ করবে। কিন্তু তুমি অন্তত আমাকে ভাল করেই চেনো শেরিফ। আমি আউট-ল ছিলাম। তোমাদের শহরে সুন্দরভাবে জীবন সাজাতের এসেছি। শহরের লোকজন আমাকে তা হতে দিচ্ছে না। তাদের ধারনা ঝুঁকি নিয়ে বাইরের কাউকে আশ্রয় দেয়া ঠিক হবে না। কিন্তু তুমি আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছো শেরিফ। এতকিছুর পর তুমি কি করে ভাবছো…’ ‘আমি তোমাকে সন্দেহ করছি না বোরহান। তুমি খুব ভয়ংকর আউট-ল ছিলে। অন্য দুঃস্কৃতকারীর মতলব তুমিই ভাল ঠাহর করতে পারো। সেেেত্র আমার প্রশ্ন হচ্ছে – তোমার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কে সেই লোক যে এসমস্ত কান্ডকারখানা চালিয়ে যাচ্ছে?’ ‘লোকটা ভীষন চতুর। সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছে। তবে শহরে এপর্যন্ত যে কয়জন লোক এসেছে তাদের উপর কড়া নজরদারী চালাচ্ছে আমার লোকজন। ডেভকে জিজ্ঞেস করে দেখ – সে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে চিহ্নিত করে ফেলেছে।’ ডানপাশে দাঁড়ানো সঙ্গীকে ইশারা করে দেখালো বোরহান। ডেভ লম্বাচুলো, চুল ঝুটি করে বাধা। মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি। সে বলল, ‘শেরিফ, আমি যাদেরকে সন্দেহ করছি তাদের একজন ম্যাথিউ রাস্টের ফোরম্যান। তার কাছে অপরিচিত কয়েকজন লোকের যাতায়াত।’ বামপাশে দাঁড়ানো বোহানের খাশ বডিগার্ড রিভ। সে জানাল, ‘তবে আমাদের বিশেষ তালিকায় যার নাম শীর্ষে তার সম্পর্কে আগাম কিছু তোমাকে জানাচ্ছি না শেরিফ। ব্যাটাকে আরো কয়েকদিন যাচাই করতে তাই।’ ‘অতএব,’ দু’হাত প্রসারিত করল বোরহান। উঠে দাঁড়াল সে, ‘তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারো। আমরাও তোমাকে সব রকম সাহায্য করব।’ ‘ধন্যবাদ তোমাকে। কিন্তু আজকের খুন হয়ে যাওয়া দু’জনকে চিনতে পরেছো?’ ‘এ দু’জনই ম্যাথিউ-এর ফোরম্যান কার্লস্রে সাথে দেখা করত।’ জানাল ডেভ। ‘কি বলছো!’ চেঁচালো শেরিফ। ‘তবে তো কার্লস্রে উপর জোড়াল তদন্ত করা দরকার।’ ‘তুমি যা ভাল মনে করো শেরিফ। তবে একটা কথা-ম্যাথিউ রাস্ট লোকটা যত ভালই হোক তাকেও বাদ রেখো না।’ বোরহান হাসল। ‘তা যা বলেছো, ওর ছেলে ভিকিকে গরাদে ঢুকিয়ে রেখেছি। আপাতত কয়েকদিন ওখানে থাকুক, বড্ড বজ্জাত ছেলেটা। ওর কারণেই ওর সঙ্গী ছেলেটা খুন হল আজ।’ ‘ও হ্যাঁ, মার্টিন নামের ছেলেটাকে ছেড়ে দিলে কেন?’ ‘কিছুই করার নেই। ওর জন্যই তো আজ বাঁচলাম।’ ‘ছেলেটা কিন্তু আমাকে চেনে, আমিও। তবে এতে কোন সমস্যা নেই।’ ‘ও তো বাউন্টি হান্টার।’ ‘ছিল, এখন জীবিকার আশায়…. যাগ্গে, শুনেছি ও নাকি এখানেই থেকে যাবার ফন্দি আঁটছে?’ ‘হ্যাঁ, মনে হয়। প্রথম প্রথম ওকে খারাপই ভাবতাম, এখন ধারনা পাল্টেছে…’ দরজায় খুট্ শব্দ হতেই দরজার দিকে ফিরে তাকাল সবাই। কামরায় ঢুকল শেরিফের এক লোক। সে বলল, ‘যেতে হবে।’ বোরহানের সাথে করমর্দন শেষে বিদায় নিল শেরিফ। বেরোবার আগে ফিরে তাকিয়ে জানতে চাইল, ‘আজ রাতে ফিরে যাবে?’ ‘না, স্যালিম্যানের ওখানে উঠব।’ জানাল বোরহান। শেরিফ চলে যেতেই দুই সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে হাসল সে। বলল, ‘ওকে আপাতত কিছুই জানানোর দরকার নেই যে আমরা আসল ক্রিমিনালকে চিনে ফেলেছি। তোমরা সবরকম প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকবে। তারপর….’ এদিকে শেরিফও রাস্তায় উঠে এসে সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে নিশ্চন্ত ভঙ্গিতে বলল, ‘আর চিন্তা নেই, বোরহান দায়িত্ব নিয়েছে। অচিরেই শহরে শান্তি ফিরে আসবে।’ কিন্তু শেরিফ বা বোরহানের লোকজনের কেউই জানলো না যে, দূরে ফুটপাতে দঁিড়িয়ে থাকা এক পথচারী ওদের যোগাযোগ খেয়াল করেছে। সন্ধ্যার পরে ‘লাইফওয়ে ব্যাংক এন্ড ইনশিউরেন্স’-এ যে লোকটার প্রবেশ ঘটল,সেই ম্যাথিউ রাস্টের ফোরম্যান। কার্লস্ উইপন। লোকটা যেন সাাৎ কংকাল। হাড় টিংটিঙে হ্যাংলা এ লোক কি করে আস্ত একটা রানশ্রে ফোরম্যান হল সেটা জানা বড় দায়। বয়স ত্রিশ-পয়ত্রিশ হবে বৈকি। খোরগোশের দাঁতের মতন দু’পাটি দাঁতের উপরের মাজনটি বেরিয়ে থাকে সবসময়। প্রথম সাাতে যেকেউ বাধেঁর কুঁটি ভেবে ভুল করতে পারে। তবে সবমিলিয়ে কার্লস্ লোকটা ভয়াবহ চতুর। মগজের ঘিলু অনেক সময় কাজ না করলেও প্রয়োজনে হঠাৎই চমক দেখায় স্তুপটা। সুতরাং এ নিয়ে মোটেও ভাবনা নেই কার্লসের। ব্যাংকে ঢুকে ভেতরে কড়া সিকিউরিটি দেখে অবাক হল না কার্লস্। সশস্ত্র গার্ডের সতন্ত্র পায়চারী সতর্ক শান্ত্রীর মত। শিস্ বাজিয়ে ক্যাশিয়ারের কাউন্টারে এসে একটা চেক বাড়িয়ে দিল সে, চেকটা ভাঙিয়ে ওর পাওনা মিটিয়ে দিল ক্যাশিয়ার। টাকা গুনে ব্যাংক ছাড়ল কার্লস্। রাস্তায় নেমে দু’চারপাশে তাকিয়ে যাচাই করে নিল ও। তারপর রওনা দিল ব্যাংকের উল্টোদিকের দর্জির দালানের পেছনে। ওখানে একটা পরিত্যক্ত ছাউনি আছে। জায়গাটা অন্ধকারে ঢাকা। ওখানেই ‘মিস্টার’ ওকে দেখা করতে বলেছে। আজ অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। মিস্টারের কাজে বাধার বৃষ্টি হচ্ছে। যেমন মিস্টার গতকাল কার্লস্কে নির্দেশ দিয়েছিল রাস্টের ছেলে ভিকিকে যেন সরিয়ে দেয়া হয়। সেইজন্যই আজ টম আর হিন্সকে বারে পাঠিয়েছিল কার্লস্। মতলব ছিল টম আর হিন্স এমন কিছু করে ভিকির সাথে দাঙ্গা বাধিয়ে দেবে যাতে করে ঝামেলা গুলাগুলি পর্যন্ত পড়ায়। কার্লস্ ভিকিকে অনেকদিন থেকেই চেনে। ব্যাটা কোমড়ে পিস্তল ঝুলালেও ব্যবহারে মাতালের চেয়েও অজ্ঞ। সুতরাং, টম অথবা হিন্স ভাইদের কেউ একজন ওর খুপরি উড়িয়ে দিলেই হল। বাকিটা সামাল দেয়া গায়ে পানি ঢালার মতই সোজা ছিল। কিন্তু চিন্তা এক, সাাৎ পেল আরেক। ভিকির তো কিছু হলই না উল্টো দু’ভাইয়ের দু’জনই পটল তুলল। পটল তুললেও না হয় ভাল ছিল, কিন্তু হনুমান দু’টোকে যদি কেউ চিনে ফেলে কিংবা কেউ যদি বুঝে ফেলে লোক দু’টো মিস্টারের, তবে মিস্টার ওর কি হালৎ করবে তা কল্পনাও কল্পনা করতে পারবে না! মুহূর্তের জন্য শিউরে উঠল কার্লস্। অজানা শঙ্কাটা বুকের মধ্যে ঢোলের আওয়াজ তুলছে। ভয় হচ্ছে দর্জির দালানের পেছনে কি হয় ভেবে। ‘মিস্টার’ লোকটার কোন নাম জানে না কার্লস্। মিস্টারের লোকজনও তাকে মিস্টার ডাকে বলে ও-ও সে নামেই সম্বোধন করে লোকটাকে। তবে অল্পবয়স্ক ঔই লোকটার অবয়ব, অভিব্যক্তি সবকিছুই স্পষ্ট বলে দেয় যে লোকটা ভয়ংকর। বহু খুনের মরন দৃষ্টির অপলক চাহনীই লোকটার চালচরনে নেকড়ের প্রিতা জানান দেয়। স্পস্ট বলে দেয় লোকটা স্বার্থের জন্য মানুষের রক্তের নদীতে হাসতে হাসতে গা ভেজাতেও বিন্দুমাত্র সংকোচ করবে না। নিজেকে সামলে নিল কার্লস্। রাস্তা পেরিয়ে দর্জির দালানের পাশের ছোট্ট সরু পথটার ভেতরে ঢুকে পড়ল। এবং… মুহূর্তেই উপলব্ধি করল কয়েক জোড়া চোখ ওকে ঘিরে ফেলেছে। সন্তুষ্ঠ ভাবে ছাউনির সামনে এসে দাঁড়াল ও । একটা খুঁটির সাথেও হেলান দিয়ে যে ছায়ামূর্তিটা দাঁড়িয়ে আছে সেই যে মিস্টার তা বুঝতে অসুবিধে হল না কার্লস্রে। লোকটাকে সে সামনাসামনি দেখেছে। লোকটার মতার দাপটই প্রমান করে যে সে সহজে কাউকে অসহায় করে না। সুতরাং, সেেেত্র ভয়ের কোন কারণ নেই। বিনা জিজ্ঞাসাবাদে ওর কোন তি করবে না মিস্টার। তাছাড়া ওর পরামর্শ না পেলে তো মিস্টার কখনোই নিজের কাজে এতটা সফল করতে পারত না। শুধু তাই নয়, ওরই দেয়া পরিকল্পনা মত মিস্টার এমন এক ফাঁদ পেতেছে যে তাতে শহর লুট করা স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিমধ্যেই পরিকল্পনার বারোকলা পূর্ন হয়েছে। বাকি চার কলা পূর্ন হতেই বা কতোন! গলা মৃদু খাকারি দিল কার্লস্, ‘মিস্টার, তোমার কথামতই টম আর হিন্সকে কাজে লাগিয়েছিলাম আমি। ওরা ওদের দোষে নিজেদের জান খুইয়েছে। আমার এখানে কিই বা করার ছিল বল?’ একটু থামল ও। ছায়ামূর্তিটার তরফ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আবার বলতে লাগল, ‘তবে ভিকিকে আপাতত চিন্তা থেকে বাদ দিয়ে আমরা অন্য একটা কাজ করতে পারি মিস্টার। ওর বাপকে যদি ভিকির বদলে… ব্যাটা মাত্রাতিরিক্ত রকম সৎ। নিজের ছেলেকে নিজের মত গড়তে পারেনি ঠিকই, কিন্তু নিজের কাজ ভালই বুঝে সে। কোনভাবেই বাগে আনতে পারছি না ব্যাটাকে। যদি ব্যাটাকে সরিয়ে দেয়া যায় তবে আমার হাতেই পুরো র‌্যাঞ্চের দায়িত্ব বর্তাবে। তখন কি হবে বুঝতেই পাছো মিস্টার… যদিও ভিকি একটা প্রধান সমস্যা, কিন্তু তুমি চাইলে ছোকরাটাকে ফাঁসিয়ে দেয়া যেতে পা।ে’ জবাবের আশায় মাথাটা একটু সামনে ঝুঁকালো কার্লস্। কিন্তু এবারো কোন কথা না শুনে নিজের চাতুরী ঝাড়তে লাগল, ‘মোটকথা, ম্যাথউ রাস্টকে কব্জা করতে পারলেই শহরের অর্ধেক রাজত্ব আমাদের দখলে এসে যাবে। আর ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চকে ফতুর করে দেয়া এক আঙুলের ব্যাপার। ওদের সাথে একটা বিরাট চালানের ড্রিল করা আছে আমাদের। ওটা কোনমতে হাসিল করে লাইফওয়ে ব্যাংকটা উড়িয়ে দিলেই খেল খতম রাজ্য হজম…!’ মুখের কথা মুখেই আটকে নিল কার্লস্। মিস্টারের কোন মন্তব্য না শুনে এবার সত্যি সত্যি অবাক হল ও। দু’কদম আগে বাড়াল,‘কি ব্যাপার মিস্টার…’ পরনেই জায়গায় থমকে দাঁড়াল। মুহূর্তেই অস্বাভাবিকত্বটা ধরে ফেলল ও। এতন দু’হাত নাচিয়ে কথা বলছিল, এবার হাত দু’টো হোলস্টারের দিকে যেতেই সামনে দাঁড়ানো ছায়ামূর্তির থমথমে কন্ঠস্বর ওকে জায়গায় বরফ বানিয়ে দিল। ‘যেমন আছো তেমনই দাঁিড়য়ে থাকো কার্লস্। আমার লোকজন তোমাকে চারিদিক থেকে অস্ত্র তাক করে রেখেছে!’ শেরিফ ডালটন! ছাউনির আব্ছা আলো-আঁধারী থেকে চাঁদের আলোর এসে দাঁড়ালো শেীরফের বিশাল অবয়ব। দু’পা পিছিয়ে গেল কার্লস্। ওকে অভয় দিল মেরিফ, ‘ভয় পেয়ো না কার্লস্। তোমার পরিকল্পনা সত্যিই অতুলনীয়। তবে আপাতত তোমার গানবেল্টটা আমর চাই।’ মুখে খই ফুটছে না কার্লসের। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে যেন। জীবনে এই প্রথম নয়, আরো অনেকবার ওর মগজের স্তুপটা ওর সাথে বেঈমানী করেছে। কার্লস্রে চিন্তা শক্তিটা লোপ পেল অনেকগুলো হ্যামার ককের শব্দে। গানবেল্টা খুলায় হাত দিল সে। বিকেলের ঔই খুনাখুনির ঘটনার পর মার্টিনকে পাকড়াও করল জনসন। ওর শত আকুতি উপো করে ওকে জে এন্ড জেনি রেস্তোরাঁয় রাতের সাপারে হাজির করল । আজকের অভাবনীয় ঘটনাকে স্মরনীয় করে রাখার ইচ্ছে ওর। অস্বস্তিকর চাহনী থেকে নিজেকে রা করার আর কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে মার্টিনও রাজি হয়েছি জনসনের আমন্ত্রনে। বাড়তি আশায় জেনির মুখয়াবয়ব মনের মাঝে ভেসে উঠেছিল ওর। কিন্তু ওর জানা ছিল না মনের দিল দরিয়ায় কি ভায়াবহ ভাঙন ধরবে সাপারে। গত চব্বিশ ঘন্টায় মনের মনিকোঠায় লালিত হওয়া জেনিকে নিয়ে গড়ে ওঠা স্বপ্ন মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল মার্টিনের যখন জনসন হুইস্কি খেয়ে আনমনেই ওকে বলেছিল, ‘প্রার্থনা কর বন্ধু, আমি ফোরম্যান হলেই আমাদের বিয়েটা….’ নিজেকে কিভাবে সামলেছে সেটা মার্টিনের মনে নেই। সাপারের খাবারটা কোনরকম নাকে মুখে তুলে ঠোঁটের হাসিটাকে অত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে রেস্তোঁরা ছেড়েছিল ও। হোটেলে নিজের কামরায় যাওয়ার পথে করিডরে যে লোকটার সামনে পড়ে গিয়েছিলো ও, সেই লোকটাকে,সাথের দু’জনকেও পরিচিত বলে মনে হয়েছিল কিনা সেসব চিন্তা করার প্রয়োজন বোধ করেনি মার্টিন। শুধু নিজের কামরার দরজা বন্ধ করার আগে উপলব্ধি করেছিল যে ঔই লোক তিনজন অবাক হয়ে ওকে পর্যবেন করেছিল। আট একটা চিন্তা অতিরিক্ত ভাবিয়ে তুলেছে বোরহানকে। মোটেও তন্দ্রা আসছে না চোখে সেজন্য। বিছানায় হাত-পা জড়ো করে আছে ঠিকই, দৃষ্টি আটকে আছে অন্ধকার কামরার সিলিং-এর ওপর। ও জানে, ওর ঠিক পাশের কামরাতেই শুয়ে আছে মার্টিন। ভাবনাটা মার্টিনকে নিয়েই। মার্টিনের কামরা থেকে সামান্যতম শব্দও কানে আসেছে না বোরহানের, অথচ ও মার্টিনকে ভালো করেই চেনে। একটানা ঘুমানোর অভ্যেস ছেলেটার নেই। স্পস্ট বোঝা যাচ্ছে মরার মতন নিজের কামরায় পড়ে পড়ে নাক ডাকছে সে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। হলোটা কি? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। আজ কি মাত্রাতিরিক্ত নেশা করে ফেলেছে নাকি মার্টিন? রুমে ফেরার সময় করিডরে ওকে আর ওর দুইসঙ্গীকে দেখেও না চেনার ভান করেছে মার্টিন। তাছাড়া রিভ আর ডেভ চলে যাওয়ার আগে ওর কামরার দরজায় নক্ করেও কোন সাড়াশব্দ পায়নি। ব্যাপারটা কেমন জানি ঘোলাটে ঠেকছে বোহানের কাছে। আর যাই হোক, মাতাল হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার মানুষ অন্তত মার্টিন নয়। কিন্তু এমন নেশাও মার্টিন কখনো করেছে বলে রেকর্ড নেই যেজন্যে তাকে বেসুরো অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে হয়েছে। তাহলে? বোরহান জানে আজ রাতের সাপারটা মার্টিন জনসনের সঙ্গে সেরেছে। এ..ক.. এক মিনিট! যদি এমন হয় শত্র“দের কেউ যেভাবেই হোক কৌশলে মার্টিনদের খাবারে কোন প্রকার ঘুমের বড়ি মিশিয়ে দিয়ে থাকে, তবে? যদি তাই হয় তবে শত্র“পরে উদ্দেশ্য একটাই- ঘুমের ঘোরে রেখেই মার্টিনকে খুন করে ফেলা! সেরেছে! এতনে তবে আসল কারণটা বোঝা গেল! ঝ্ট করে বিছানা ছাড়ল বোরহান। তবে সাবধানে, যাতে শব্দ না হয়। বালিশের তল থেকে নিজের সিক্সগান আর কলিক্স গুড়োর প্যাকেটটা হাতে নিল। কলিক্স গুড়ো দিয়ে শত্রুকে ঘায়েল করা যায় অনায়াসে। এই গুড়ো প্রথমে শত্র“কে শ্বাসরোধে অসহায় করে ফেলে, তারপর দৃষ্টিশক্তিকেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নষ্ঠ করে দেয়। সিক্সগানটা প্যান্টের রাবারে গুজে রাখল বোরহান। কামরার বদ্ধ জানালার ফাঁক-ফোকড় দিয়ে ঢুকে পড়া জ্যোৎøার আলোয় মিটিমিটি আঁধারী হয়ে আছে ঘরটা। আবছাভাবে সবকিছুই নজরে পড়ে। কয়েক কদম দূরের দরজাটার দিকে সতর্ক পদেেপ এগিয়ে গেল বোরহান। ও ঠিক যখন দরজার সামনে এসে খাড়া হল ঠিক তখুনী বাইরের করিডরে একটা অস্পষ্ঠ পদেেপর শব্দ কানে এল ওর। এবং বোরহানের সন্দেহ করার প্রদান কারণ হচ্ছে আগন্তুকের পা টিপেটিপে হাঁটার উপলব্ধি। লোকটা যদি কামরা থেকে বেরিয়ে আসা কেউ অথবা বোর্ডারদের কেউ হত তবে পা টিপে হাঁটার ধারও ধারত না। কিন্তু এলোকের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বোরহান একটু আগে যে ধারনা করেছিল সেইটা সত্যি হতে যাচ্ছে! মার্টিনকে খুন করার জন্যে এগিয়ে আসছে সাাৎ সমদূত। রাতের নিঝুমতা পাকড়াও করেছে স্যালিম্যানের হোটেলটাকেও। এর প্রতিটি করিডর, প্যাসেজওয়ে, রুমগুলো অস্বাভাবিক শান্ত ও নিরবতা পালন করছে। সারাদিনের চাঞ্চল্যকর কোন ঘটনাই প্রভাব ফেলতে সম হয়নি প্রকৃতির বাধাধরা নিয়মটাতে। এখানে-ওখানে ঝুলে থাকা লন্ঠনের ফিকে হয়ে যাওয়া আলোয় অতিপ্রাকৃত একটা নিস্তব্ধতা তৈরী করেছে। কেমন জানি ভৌতিক একটা পরিবেশ। ঠিক এ সময়টাকেই পুঁজি করে ধীর, সতর্ক ও সদাপ্রস্তুত পদপে ঢালছে ছায়ামূর্তিটা। গন্তব্য চৌদ্দ নম্বর কামরা। নিস্তব্ধ, সুনসান পরিবশ। হোটেলের সবাই যেন অঘোরে ঘুমোচ্ছে। একটু একটু করে সামনে বাড়ছে লোকটা। হাতে ধরা ভয়ংকর ধারাল ড্যাগারটা শক্ত করে মুঠিতে চেপে ধরেছে। সাথে আর কোন অস্ত্র আছে বলে মনে হয় না। করিডরের একবারে শেষপ্রান্তে ঝুলানো লন্ঠনের প্রায় নিভু নিভু আলো যেন চোখ পিট্পিট্ করে ওরই দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু শেষতক পুরোপুরিই নিভে গেল আলোটা। এক মুহুর্ত ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ছায়ামূর্তিটা। কান খাড়া করে পরিস্তিতি ঠাহর করার চেষ্টা করল। যদিও জানে কাজ সেরে যেভাবে এসেছে সেভাবে ফিরে যাওয়াটাই আসল কথা, বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন নেই কোন। শিকার লাশ হয়েই আছে, শুধু দেহ থেকে প্রানপাখিটা বের করে দিলেই হল। ‘মিস্টার’ সাফ সাফ বলে দিয়েছে বাহাদুরী দেখানো কোন দরকার নেই। পথের কাঁটা তোল আর ফেলে দাও, ব্যস্। যদিও ব্যাপারটা কাপুরুষের মতই হয়ে যায়। কিন্তু আততায়ী নিজেও খুব ভাল করে জানে মার্টিন ছোকরাটাকে তরতাজা অবস্থায় রেখে তার মোকাবিলা করা পারতপে কোন মানুষের পইে সম্ভব নয়। সে যেই হোক না কেন। সুতরাং অত বাহাদুরী না দেখিয়ে অন্যকোন পন্থায় মিস্টারের কেউ মার্টিনকে সরিয়ে দেয়ার অনিশ্চয়তা গ্রহন করার সাহস পায়নি আবার কাপু“রুষের মতন তাকে খুন করতেও কেউ রাজি ছিল না। প্রথম প্রথম দু’য়েকজন আপত্তি করলেও শেষ পর্যন্ত এই আগন্তুক রাজি হতে বাধ্য হল। মিস্টার অবশ্য তাকে বলে দিয়েছে যে মার্টিনকে কড়া ঘুমের বড়ি হজম করিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ সারারাত, এমনকি আগামীকাল সারাদিনও মরার মত পড়ে থাকাটাও বিচিত্র নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেচারা চোখ খোলারই সুযোগটা হয়ত আর পাবে না। আপন মনেই হাসলো আগন্তুক। একটু পরে আবিষ্কার করল চৌদ্দ নম্বর রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে। অন্ধকারে প্রায় ডুবে গেছে করিডর, অবশ্য কিঞ্চিৎ চাঁদের আলো ঝাপ্সা আলোকিত আলো করে রেখেছে সবকিছু। এই অল্প আলোতেই দু’পাশের প্রান্ত অবধি নজর বুলিয়ে নিশ্চিত হল ছায়ামূর্তিটি। সবই ঠিক আছে। দৌঁড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে ভেবে খালি পায়েই এসেছে সে। কিন্তু তবুও কাঠের ফোরের হঠাৎ হঠাৎ মৃদু শব্দটা ঢাকা দিতে সম হয়নি। তবে মনে হয় না এই সামান্য শব্দটা কোন সমস্যা সৃষ্ঠি করবে। দরজার নবে আলগোছে হাত রাখল আততায়ী। সে ভাল করেই জানে মার্টিন দরজা লক্ করতেই ভুলে গেছে। এবং আগন্তুকের ধারনা সত্যি প্রমান করে খুলে গের দরজা। আধঘন্টা পর। রাতের গভীরতা এতটাই বেড়েছে যে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কিংবা ভবঘুরে কুকুরের হঠাৎ হঠাৎ ঘেউঘেউ শব্দটা পর্যন্ত থেমে গেছে মনে হচ্ছে-সময় যেন তার পথ হারিয়ে ফেলেছে। থেমে গেছে যেন প্রকৃতির স্রোত। ‘তো, মি. সিম্পসন, তোমাকে বারবার সুযোগ দিচ্ছি- আমার প্রশ্নের উত্তর দেবে কিনা বল?’ সামনে চেয়ারে বসা প্রায় উলঙ্গ লোকটাকে বলল বোরহান। লোকটার পরনে স্রেফ আন্ডারওয়্যার। চেয়ারে বসে ঘামছে সে। এ লোকই সেই ছায়ামূর্তি। ‘আ-আমি সত্যি বলছি স্যার, আমাকে বিশ্বাস করুন!’ তোতলাতে তোতলাতে বলল আগন্তুক, অর্থাৎ সিম্পসন। ‘গভীর রাতে চোরের মতন ভয়ংকর একটা অস্ত্র নিয়ে তুমি বাথরূমে যাচ্ছিলে, একথা তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছো?’ হাতের সিক্সগানটার নল ঘুরিয়ে বলল বোরহান। ‘ঠি-ঠিক তা নয় স্যার। আমি টয়লেটে যাচ্ছিলাম ঠিকই কিন্তু চুরিটা-’ ‘তাহলে এঘরের দরজায় উঁকি মারতে গেলে কেন?’ শীতল প্রশ্ন বোরহানের। ‘আমি আপনাকে কি করে বোঝাই স্যার, আ-আমি’ বোরহানকে উঠে দাঁড়াতে দেখে থেমে গেল সিম্পসনের কন্ঠ। বিছানায় বসা ছিল বোরহান । এগিয়ে এসে ঠাশ্ করে সিম্পসনের গালে একটা চড় বসাল ও। ইশারায় বিছানায় পড়ে থাকা মার্টিনের ঘুমন্ত দেহ দেখিয়ে বলল, ‘ও আমার বন্ধু, ওকে জাগিয়ে যদি আমি পুরো ব্যাপারটা খুলে বলি তাহলে মনে হয় আমার জন্য তোমাকে আর পেরেশান হতে হবে না। কি বল?’ ঘরে কোন আলো জ্বলছে না। কিন্তু জোৎøার ম্লান আলোতেই বোরহান স্পষ্ট ল্য করলো সামনে বসা লোকটার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে নগ্ন আতঙ্গ। হাতের উল্টোপিট দিয়ে কপালের ঘাম মুছছে সিম্পসন। কি করবে বুঝতে পারছে না যেন। খাঁচায় আটকে থাকা হনুমানের মতই যেন ছটফট করছে। ‘তাই বলছি-’ আবার বলল বোরহান,‘যদি তুমি আমার প্রশ্নের ঠিকঠাক জবাব দিতে পারো তাহলে শুয়ে থাকা মানুষটি জেগে ওঠার আগ পর্যন্ত তুমি পালানোর একটা সূবর্ন সুযোগ পাবে। এমন কী তুমি চাইলে আমি আজকের রাতের ঘটনাটাই উল্লেখ করব না তাকে।’ প্রথমে কিছুটা সময় ব্যয় করল সিম্পসন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে লাগল, ‘ঠিক আছে, স্যার, বল তুমি কি জানতে চাও?’ ‘হ্যাঁ, এই তো বুদ্ধিমানের মত কথা। তবে মনে রেখো- একবাক্যও যদি মিথ্যে বলার চেষ্টা করেছো তবে আমি স্রেফ তোমার লিঙ্গচ্ছেদ ঘটাব। বাকিটা তোমার কপাল। অর্থাৎ মার্টিনের জন্য শেয়ার রাখব।’ কিছু বলল না বেচারা সিম্পসন, টকটক করে কাঁপতে শুরু করেছে যে। সামনে বসা লোকটার কথা বলা-র ধরনই ওকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে লোকটা যা বলে তা করে দেখাতেরও সংকোচ করবে না। ‘ঠিক আছে, বলো- কার নির্দেশে এখানে এসেছো তুমি?’ ‘মিস্টারের।’ ‘মিস্টার, সেটা আবার কে?’ ‘এ নামেই আমরা তাকে সম্বোধন করি।’ ‘কার্লস্, মানে রাস্টের ফোরম্যানের সাথে তার কোন সম্পর্ক?’ ‘মনে হয় বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু আমাদের সামনে ওরা দু’জন অপরিচিতের মত কেথাবার্তা বলে।’ ‘কার্লস্রে মতো সেও তো এশহরেরই লোক?’ ‘হ্যাঁ, তবে সঠিক বলতে পারি না। সব সময় আমাদের সামনে একটা মুখোশ পরে আসে। চেহারা কখনো দেখিনি।’ ‘তোমার চেহারাও আগে এ শহরে দেখিনি কখনো।’ ‘আমার মত আরো জনা পাঁচেক লোক মিস্টার ভাড়া করে এনেছে শহরে।’ ‘বাড়তি আরো কিরকম লোকবল আছে তার?’ ‘সবমিলিয়ে জনা দশেক তো হবেই।’ ‘এই সামান্য ক’জন লোক নিয়েই যে এতদিন এত বড় রাসলিং আর ব্যাংক ডাকাতী করছিল?’ এবার কোন কথা বলল না সিম্পসন। ব্যাটা সত্য না মিথ্যে বলছে যাচাই করার জন্য জিজ্ঞেস করল, ‘কিন্তু সিম্পসন, মিস্টার এতসব গরু কোথায় সরিয়ে রাখে?’ ‘সরিয়ে রাখবে কোথায়? সমস্ত গরুই রাউন্ড আপে একই সাথে পাচার করে ও উত্তরে। শুধু হিসেবে গড়মিল করে র‌্যাঞ্চারকে বুঝ দেয়।’ ‘তার কাজটায় সহযোগীতা করে কার্লস্, তাই না? এজন্য বলি, শতশত গরু চোখের পলকে উবে যায় কি করে!’ মাথা নাড়ল বিস্মিত বোরহান। ‘কিন্তু সিম্পসন, একাজ তো তার একার পে সম্ভব নয়-অন্যান্য র‌্যাঞ্চের ব্যাপারটা সামাল দেয় কি করে ওরা?’ ‘কি জানি, এটা আমি স্পষ্ট করে বলতে পারব না।’ ‘অস্পষ্ট করেই না হয় বল।’ ‘যতদূর মনে হয় ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের কেউ কার্লস্রে সাথে জড়িত। কিন্তু স্যার, কার্লস্ তো আজ রাতে শেরিফের হাতে ধরা পড়েছে।’ ‘তাই নাকি? ভালো, আমদের কাজ তবে অনেকখানি সহজ হয়ে গেল। আচ্ছা, শেষ একটা প্রশ্ন করছি এবার তোমাকে, মিস্টারের সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় পাওয়া যাবে?’ ‘আমরা দিনের বেলা কোন কাজ না থাকলে আড়ালে থাকি। শুধু রাতে ঘুমানো জন্য রাস্টের র‌্যাঞ্চে চলে যাই। কার্লস্ আমাদেরকে ওদের বাঙ্ক হাউসেই লুকিয়ে রাখে, পরে ভোরের আলো ফোটার আগেই আমর সটকে পড়ি।’ ‘কোথায় গা ঢাকা দাও?’ ‘ওখানে যে পাইন বনের লেকটা আছে না? ঔই জঙ্গলেই।’ ‘হুম…’ গম্ভীর হয়ে পড়ল বোরহান। একবার ঘুমন্ত মার্টিন আরেকবার সিম্পসনের দিকে তাঁকাল ও। সিম্পসনের ঢোক গেলার শব্দটা স্টষ্ট কানে এল ওর। বেচারা এতন অনর্গল বলে গেছে। ‘আচ্ছা, তুমি যদি ফিরে না যাও তবে মিস্টার কি ধারনা করবে বলে মনে করো তুমি?’ ভয় পেয়ে গেল সিম্পসন। নড়েচড়ে বসল চেয়ারে। বলল, ‘আ-আপনি আমাকে ছেড়ে দেবেন বলেছিলেন স্যার….’ ওকে অভয় দিল বোরহান, ‘আহা, অযথা ভয় পাচ্ছো কেন ভায়া-আমি চাচ্ছি তুমি যদি মার্টিনকে না মারো তবে মিস্টার কি অন্য মতলব চালবে?’ ‘তা-তা তো বলতে পারবো না। কি-কিন্তু স্যার, আমি ফিরেও যেতে পারবো না, মিস্টার আমাকে ছাড়বে না।’ ‘আচ্ছা ঠিক আছে,’ নিজের জায়গায় অর্থাৎ বিছানায় গিয়ে বসল বোরহান। ‘কাপড়চোপড়গুলো নাও তুমি।’ ‘আ-আমাকে ছেড়ে দেবে তুমি স্যার?’ ইতস্তত স্বর সিম্পসনের কন্ঠে। ‘বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার? তবে এক কাজ করো- কোনভাবে এমন একটা চিঠি লিখো যেটা পড়লে মিস্টার মনে করবে কাপুরুষের মত মার্টিনকে মারতে তোমার মন সায় দেয়নি কিন্তু এজন্য মিস্টার তোমার তি করতে পারে ভেবে তুমি শহর ছেড়ে চলে গেছো। কি, ঠিক আছে?’ এই প্রথম বোরহান ল্য করল, সাাৎ মৃত্যুর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে এই প্রথমবারের মতন সিম্পসনের চোখের পলক নড়তে শুরু করেছে। ভয়টা আস্তে আস্তে কাটিয়ে ওটার চেষ্টায় ফ্যাকাশে চেহারায় প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে যেন। নয় ‘বন্ধুরা, মিস্টারের কাছ থেকে খবর এসেছে শহরের পরিস্তিতি ভাল নয়, যে কোন মুহূর্তে ঔই হতচ্ছাড়া কার্লস মুখ খুলে বসতে পারে।’ দলের একজন জানাল। ‘কিন্তু মিস্টার তো আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে বিদেয় করে দিচ্ছে, সুতরাং আমাদের এ ব্যাপারে মাথা না ঘামালেও চলবে।’ ‘বিষয় সেটা নয়, ভুলে যেও না সিম্পসন নিখোঁজ। ওকে যে কাজে পাঠানো হয়েছিল সে সম্পর্কে কোন খবর এখন পাওয়াটাও সম্ভব নয়। আমার মনে হয় সিম্পসন ফেসে গেছে। আর সেজন্যই মিস্টার আর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। আমাদের বিদেয় করে হয়ত লেজ ঘুটিয়ে নিজেও সে পালাবে। বলা যায় না, কার্লস যদি মিস্টারের পরিচয় ফাঁস করে দেয় তাহলে মিস্টারের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খেলও খতম হওয়ার সম্ভবনা আছে। কিন্তু আমরা যদি কেটে পড়ি তাহলে মিস্টারের নাগালও কেউ পেল না, আমরাও বাচঁলাম।’ ‘সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু মিস্টারের তো এখন আমাদের সঙ্গে দেখা করার কথা। আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রোদ উঠে যাবে। লোকজন রাস্তায় নামতে শুরু করবে। আমাদের পালানোয় সমস্যা সৃষ্ঠি হবে।’ ‘চিন্তা কর না। আমার মনে হয় এ ঘরটা নিরাপদ। এখানে আমরা নিরাপদ। কার্লস যদি আমাদের ব্যাপারে শেরিফকে বলেও দেয় তাহলে বেচারী শেরিফ আমাদেরকে লেকের পাড়ে গিয়ে খুঁজে মরবে।’ ‘তাহলে….’ কথাটা বলতে গিয়ে থেমে গেল কন্ঠের মালিক। দরজায় কেউ ঠোকা মারছে। মুহূর্তেই সবগুলো চোখ গিয়ে নিবদ্ধ হল বদ্ধ দরজার দিকে। পিস্তল হাতে একজন রাসলার সতর্ক পায়ে এগোল দরজার দিকে। দরজার সামনে এসে দাঁড়াল সে। ‘কে, ডেভিড নাকি?’ সাবধানে কোড আওড়াল রাসলার। ‘না, আমি হর্সল্যার।’ সঠিক জবাবটাই এল ওপাশ থেকে। দরজার কপাট সামান্য ফাঁক করে বাইরে দাঁড়ানো লোকটাকে দেখে নিশ্চিত হয়ে সঙ্গিদের আশ্বস্ত করল রাসলার। নিশ্চিন্ত হয়ে নিজেদের অস্ত্র খাপে পুড়ল সবাই। হন্হন করে যে আগন্তুক রূমে প্রবেশ করল তাকে দেখে অনেকেই মুহুর্ত খানেক আগে যে সতর্কতা অবলম্বন করেছিল তা ঝেড়ে অলসভাবে সবাই বসে পড়ল নয়ত দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড পার হল। এবং পরনেই নিজেদের চরম বোকামীটা আঁচ করতে পেরে জায়েগায় আড়ষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সবাই! কেননা, ততনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। ভয়ংকর সব অস্ত্র তাক করে কামরায় প্রবেশ করেছে একদল গানফাইটার। এবং এরা কারা সেটা বুঝতেও দেরী হল না যখন মুখোশধারী লোকটা মুখোশ খুলতেই দেখা গেল শেরিফের চেহারাটাকে। ‘বন্ধুরা, অবাক হবার কিছু নেই। মিস্টারের ভূমিকায় তোমাদেরকে কৌশলে এখানে আমিই আনিয়েছি। আর তোমরা ইঁদুরের মতন আমার ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমান রেখেছো। এখন নিজেদের অস্ত্র আমার লোকের হাতে তুলে দিয়ে লী ছেলের মত আমাদের সাথে চল। সাবধান, মিস্টার ইতিমধ্যেই তোমাদেরকে খুন করার জন্য আরো লোকজন আমদানী করেছে। কারণ, অনেক আগেই তার কানে তোমাদের পাকড়াও হয়ে যাওয়ার খবর আমরা পৌঁছে দিয়েছি। তার অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে তোমাদের এখন যে কোন মুহূর্তে মেরে ফেলতে পারে।’ রাসলারদের মধ্যে এক ধরনের চাপা গুঞ্জনের সৃষ্টি হল। ধমক দিয়ে সবাইকে থামাল শেরিফ। ‘একদম চুপ সবাই!’ তীè স্বরে সতর্ক করল শেরিফ। পাশে অস্ত্র বাগিয়ে দাঁড়ানো একজনকে নির্দেশ দিল, ‘যাও, সেল থেকে মি. রাস্টের ছেলে ভিকিকে ছেড়ে র‌্যাঞ্চে তাকে পাঠিয়ে দাও। এই সবগুলোকে এবার সেলে পুরবো। এবার দেখি মিস্টারকে আমার কাব্জা থেকে কে বাঁচাতে পারে!’ ঘরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে হনহন করে পায়চারি করছে ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের কর্ত্রী মিসেস জ্যারি। প্রচন্ড রকম উদ্বিগ্ন হলে চোহারা যেমন হয় তোমনি অনিশ্চয়তা ফুটে উঠেছে তার চোহারায়। টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে বসে আঙ্গুল কচলাতে ব্যস্ত জ্যান, তার পাশেই দাঁড়িয়ে জেনি। রাতের গভীরতা অনেক, অনেক দূর পর্যন্ত খানখান নিরবতা। ভোর হতে এখনো ঘন্টা দেড়েক বাকি। পাশের ঘরে মি. জ্যোরির সঙ্গে ভিকির বাবা মি. রাস্টও উপস্থিত। রবার্টসন দেয়ালের সঙ্গে ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে। তার ছেলে জনসন র‌্যাঞ্চের ক্রু-দের নিয়ে সশস্ত্রভাবে বাইরের অন্ধকারে ভবিষ্যত আশঙ্কায় চিন্তিত। কেননা, যেকোন মূহুর্তেই গোলাগোলির শব্দ ভেসে আসবে। ‘কি ভুলটাই না করেছি আমি, একটা কালসাপ এতদিন ধরে আমার ঘরে ওৎ পেতে ছিল, কি অদ্ভুত!’ অস্থির কন্ঠ মি. রাস্টের। ‘নিজেকে শান্ত করো ম্যাথিউ। কার্লস্কে তার উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে। আগে মিস্টারকে পাকড়াও হতে দাও।’ মৃদুস্বরে বলল জ্যারি। ‘শুনেছি শহরে বোরহানের আবির্ভাব ঘটেছে।’ দাঁড়িয়ে থাকা রবার্টসনের নির্লিপ্ত কন্ঠ। ‘এখন খোদাই জানেন কি হবে!’ ‘আমার কেন জানি মনে হচ্ছে বোরহান এসবের সাথে জড়িত নয়।’ বিড়বিড় করে বলল ম্যাথিউ রাস্ট,‘সে জড়িত থাকলে যেভাবেই হোক আমার র‌্যাঞ্চে তার লোকেদের আগমন আমি ঠের পেতাম। আমার সকল ক্রুদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, ওদের যখন কাজ দেই তখনো কার্লসের সঙ্গে আমার সাাৎ হয় নি। তুমি তো জানো জ্যারি, ওকে আমি অন্যখান থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম।’ ‘তারপরও তোমার র‌্যাঞ্চে একা থাকা উচিত হত না। আমার এখানে এসেছো সেটাই ভাল হয়েছে। তোমার ক্রুরা সবাই ঠিক থকলে তোমার র‌্যাঞ্চও ঠিক থাকবে।’ ‘কিন্তু ভিকিকে নিয়ে চিন্তায় আছি। শেরিফের সাথে কথা হয়েছিল। ওকে ছেড়ে দেয়ারই কথা। কিন্তু….’ ‘চিন্তা করো না, আমার একজন লোককে পাঠিয়ে দিয়েছি চিঠি লিখে। ভিকিকে সঙ্গ নিয়েই আসবে।’ ‘তবে যাই বলো, শেরিফ কার্লসের মুখ থেকে যেভাবেই হোক কথা আদায় করেই ছাড়বে। কি আজব নাম ওদের বসের, “মিস্টার!” হ্যাহ্!!’ ‘ভাবছি কার্লস্ তোমাকে খুন করার পরিকল্পনা দিতে যাচ্ছিল মিস্টারকে। সেেেত্র বলা যায় আমাকেও বাদ দেবে না। কিন্তু শেরিফ যদি পুরো গ্যাংটাকে পাকড়াও করতে সম হয় তাহলে কি মিস্টারকেও ধরতে পারব?’ ‘এত সহজেই সব ইতিহাস হয়ে যাবে ভাবছো কি করে জ্যারি?’ মাথা ঝাঁকাল রবার্টসন। ‘ব্যাটা মিস্টার নিশ্চয়ই কোথায়ও ঘাপটি মেরে ফন্দি আটছে! যেকোন মুহূর্তে বিনামেঘে বজ্রপাত ঘটাবে।’ ‘ভুল বলোনি তুমি রবার্ট। আমাদের আসলে এভাবে বসে থাকাটা ঠিক হচ্ছে না। শেরিফকে সহযোগীতা দেয়া প্রয়োজন….’ ‘কেউ আসছে!’ বাইর থেকে জনসনের কন্ঠ ভেসে এলো। ‘মনে হয় তোমার ছেলে এসে গেছে….’ ম্যাথিউ রাস্টের দিকের তাকিয়ে হাসলো জ্যারি, তারপর তীè স্বরে নির্দেশ দিল, ‘আসতে দাও, ভিকি হতে পারে!’ রবার্টসন বেরিয়ে গেল। কিছুন পর তার সঙ্গে ভিকিও এসে ঘরে ঢুকল। কিন্তু ভিকির অবস্থা দেখে আঁৎকে উঠল ওরা দু’জনে। এগিয়ে গিয়ে চেপে ধরল ওকে। ভিকির হাঁটুতে গুলি লেগেছে। রক্তারক্তি অবস্থা। চেহারায় নির্যাতনের চাপ স্পস্ট। জামা কাপড় ছেঁড়া। ‘শরিফের এসিস্টেন্ট এমনিতেই ওকে ছেড়ে দিয়ে ওদের র‌্যাঞ্চে পৌছে দিতে যাচ্ছিল, মাঝপথে আমাদের পাঠানো লোকের সঙ্গে দেখা। উভয় পরে ভুল বোঝাবোঝিতে সংঘর্ষ বাঁধে দু’দলে। গুলি খেয়ে এরা দু’জনেই আহত হয়েছে কিন্তু আমাদের ক্রু নিরাপদেই ওদের এখানে নিয়ে এসেছে।’ ‘কি বলছো! শেরিফের লোকটাকে কোথায় রেখেছো?’ জ্যারির কন্ঠে অস্থিরতা প্রকাশ পেল। ‘বাঙ্কহাউসে আমাদের ক্রুদের সাথে।’ পাশের ঘর থেকে মিসেস জ্যারি বেরিয়ে আসতেই তার কাঁধে ভিকিকে সপে দিয়ে ম্যাথিউ এবং জ্যারি বাঙ্কহাউসে রওনা হলো। শেরিফের এসিস্টেন্ট লোকটা গুলি খেয়েছে মারাত্মকভাবে। ভয়াবহ জখম হয়েছে সে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার পাশেই ভীষন অস্থিরভাবে ছটফট করছে জনসন। জ্যারিকে দেখতে পেয়ে উঠে দাঁড়ালো সে,বলল, ‘আঙ্কেল, লোকটা বিড়বিড় করে কিছু বলতে চাচ্ছে। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ‘কি বলছো!’ দ্রুত লোকটার পাশে এসে বসলো জ্যারি, লোকটার ঠোঁটের কাছে কান ঠেকিয়ে বোঝার চেষ্ঠা চালালো কি বলতে চাচ্ছে লোকটা। প্রায় ফিসফিসনো, অস্পষ্ট স্তরে লোকটা যাই বলুক না কেন ধীরে ধীরে চেহারার রূপ পরিবর্তন হলো জ্যারির। ভ্র“ঁ কুচকে তীè দৃষ্টি হানলো সে। অবাক হয়ে কিছু বুঝতে না পেরে তার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। আস্তে আস্তে সোজা হয়ে দাঁড়ালো জ্যারি। ‘মৃত্যু শয্যায় কেউ মিথ্যে বলতে পারে না। এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করো, আর রবার্ট- এুনি সশস্ত্র দলকে তৈরী হতে বল। শহরে যেতে হবে।’ বলে বেরিয়ে গেল জ্যারি। পেছনে অবাক বিস্ময়ে মুখ চাওয়া চাওয়ি করল সবাই! সিম্পসন নামের লোকটাকে বিদেয় করে দেয়া হয়েছে অনেকন হল। ইতিমধ্যে রিভ ও ডেভকে ডেকে আনা হয়েছে হোটেলে। ওদের হাতে উন্মুক্ত সিক্সগান। মার্টিনের কামরাতেই বসে আছে বোরহান। মার্টিনকে অনেক কষ্টে জাগিয়ে তোলা হয়েছে। ইতস্তত পায়চারি করছে সে। ‘তুমি একটা অবাক কান্ডই না করলে!’ নিরবতা ভাঙলো বোরহান। পায়চারি থামিয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়াল মার্টিন। ঝুঁকে তীè দৃষ্টি হানল, ‘আমাকে সতর্ক করে দিলেই তো পারতে!’ ‘তাই করতাম যদি জানতাম মেয়েলি ব্যাপারে তুমি…’ ‘দেখো বোরহান, তোমার প্যাঁচাল বন্ধ করো!’ সোজা হলো মার্টিন। ঠোঁটে চুরুট ঝুলালো। ওতে আগুন ধরাতে সাহায্য করল ডেভ। তাকে সুযোগ দিল বোরহান। একটু পরে বলল, ‘ঠিক আছে এবার শোন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রমাণের কোন অভাব হবে না নিশ্চিত থাকো। তুমি বেঁচেছো। এটাই অনেক বড় কথা। এখন দয়া করে মানসিভাবে প্রসতুত হও।’ মাথা ঝাকাল মার্টিন। ইশারায় নিজের অস্ত্রটা চাইল। দেয়া হলো তাকে, ওটা হোলস্টারে গুজে ঠোঁটের চুরুটটা এগিয়ে দিল বোহানের দিকে। ‘আমি প্রস্তুত, এখুনি রওনা হবে?’ ‘হ্যাঁ,’ চুরুটে টান দির বোরহান। ঠোঁটের কোনে ক্রুর হাসি ফুটে উঠল তার। ‘তবে মনে রেখো, মিস্টারকে জীবিত পাকড়াও করতে হবে।’ ‘একটা ফুলের ঠোকাও পড়বে না ওর গায়ে, তোমার খবর কি?’ ‘ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চে আমাদের লোকজন আছে। যদিও দূর্ভাগ্যক্রমে সিম্পসনের কথা…’ ‘সিম্পসন…?’ ‘ঔই রাসলারটা, যে একটু আগে… তো ওর কথা সত্যি হলে ছোটখাট একটা সংঘর্ষ বাধার সম্ভবনা আছে, তবে আশা করা যায় ব্যাপারটা ঘরের ভেতর পর্যন্ত ছড়াবে না।’ ‘কার্লস্রে খবর কি?’ ‘ব্যাটা এরই মধ্যে লাশ হয়ে গেছে বোধহয়। তবে ভিকিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ নির্লিপ্ত স্বরে জানাল রিভ, ‘একটু আগে দেখে এসেছি…’ ‘দাঁড়াও দাঁড়াও!’ উত্তেজিত কন্ঠ প্রকাশ পেল মার্টিনের,‘ভিকিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, অথচ কার্লস্কে মেরে ফেলা… কি বলতে চাচ্ছো?’ ‘সোজা ব্যাপার, কার্লসের ডিনারে বিষ মেশানো হয়েছে এবং এটাই স্বাভাবিক, বুঝতেই পারছো মিস্টার চাইবে এমন একটা কাহিনী সাজাতে যেন শহরবাসীরা মনে করে মুখ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা.. মানে কার্লসের মুখ বন্ধ করে নিজেকে বাঁচাতে চাইছে সে, অন্যদিকে নিজের সাগরেদদেরও একটা ব্যবস্থা সে অবশ্যই করবে যাতে করে প্রয়োজনে নিজে গা ঢাকা দিতে পারে। কারণ, আমাদের উপর তার সমস্ত সন্দেহ। এবং সে বুঝতে পারছে যে আমরা তাকে চিনে ফেলেছি। আর তার ধারনা আমাদের কাছে কোন প্রমান নেই তাই আমরা তার দোসরদের ধরতে চাচ্ছি। তাই সে….’ ‘নিজের চ্যালাচামুন্ডাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে কেননা তার ধারনা-’ বোরহানের কথা কেড়ে নিল মার্টিন, ‘আমরা যদি তার লোকদের ধরতে না পারি তাহলে তারও কিছু করতে পারব না, এই তো?’ ‘ঠিক তাই। আর এখন নিশ্চয়ই সে কোথায়ও আমাদের ধারনাটাকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে!’ ‘তাহলে চলো রওনা দেই, দেরী করাটা ঠিক হবে না আর।’ দরজার দিকে এগোল মার্টিন। ঠিক তখুনী রাতের নিরবতাকে ভেঙে শোনা গেল অসংখ্য লোকজনের উল্লাসিত গুঞ্জন। গুলির শব্দও শোনা গেল গোটা কয়েক। ‘খেলা তাহলে শুরু হতে যাচ্ছে।’ ডেভ বিড়বিড় করল। দশ শেরিফের অফিসের সামনে অসংখ্য জনগনের ঝটলা। সবাই উত্তেজিত চিৎকার চেঁচামেচি করছে। অথচ মাত্র কয়েক মিনিট আগেও এরা গভীর ঘুমের অতল ছিল! এখন এদের সবার মধ্যেই চাপা গুঞ্জন আর অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাতের অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে চাঁদের আলো। চাঁদের ঝকমকে আলোয় শহরের আনাছে কানাছের সমস্ত কিছুই স্পষ্ট নজরে আসছে। ‘প্রিয় শহরবাসী!’ বাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে চেঁচালো শেরিফ, ‘আমাদের বহুদিনের প্রচেষ্টা আজ অনেকাংশে সাফল্যের মুখ দেখেছে। আমরা এতদিন পর শহরে অশান্তি ও উশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী রাসলারদের গ্রেফতার করতে সম হয়েছি। যদিও পালের গদা এখনও নাগালের বাইরে তবুও আপনাদের সহযোগীতা পেলে আমরা তাকেও ধরতে সম হব।’ ‘আমরা সহযোগীতা করব!’ চেঁচালো ভীড়ের মধ্য থেকে অনেকেই। ‘ধন্যবাদ। আপনারা জানেন, এতদিন বিভিন্নভাবে শহরে অশান্তি সৃষ্ঠি করছিল এরা। ব্যাংক ডাকাতী থেকে গরু রাসলিং পর্যন্ত এদেরই কর্মকান্ড। আপনারা এদের কি রকম শাস্তি উচিত বলে মনে করেন?’ ‘এদের ফাঁসিতে লটকাও!’ সমস্বরে জানাল জনতা। ‘রক্ত দিয়ে গোসল কর!’ কেউ কেউ চেঁচালো। হাত উচিয়ে জনতাদের থামিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে শেরিফ বলল, ‘আপনাদের ইচ্ছাই পূরণ হোক। কিন্তু তার আগে আপনারা আমাকে এই অপরাধীদের কাছ থেকে আসল হোতাকে বের করার তথ্য আদায়ে সাহায্য করুন!’ ‘তোমার ইচ্ছা মঞ্জুর!’ জনগনের উল্লাসিত স্বর। ‘তাহলে আপনারা ভোর হওয়া পর্যন্ত অপো করুন। আমি এদের কাছে থেকে যেভাবেই হোক আসল অপরাধীকে পাকড়াও করার উপায় আদায় করব,ধন্যবাদ।’ বলে অফিসের ভেতর চলে গেল শেরিফ। জনতাদের তরফ থেকে সন্তুষ্ট সে। জনতাদের মধ্যে ভাটা পড়ল। নিরুৎসাহিত হয়ে সবাই যার যার ঘরে ফিরে যেতে লাগল। ধীরে ধীরে খালি হয়ে গেল শেরিফের অফিস পাড়া। কিন্তু শেরিফের সশস্ত্র এ্যাসিস্টেন্টরা জেল হাউসের চারিদিকে ঘেরাও দিয়ে পাহারা দিতে লাগল। পুরো ব্যাপারটাই দুর থেকে ল্য করে সন্তুষ্ট হলো মার্টিন ও বোরহান। শেরিফের কাজের প্রশংসা করতে হয় বটে। তবে মিস্টারের লোকগুলোকে একই সেলে রাখাটা ঝুঁকিপূর্ন হয়ে গেছে। অফিসের দিকে এগোল দু’জনে। ব্যাট উইঙের শব্দ পেয়ে মুখ তুলে তাকাল শেরিফ। বোরহানকে অফিসে ঢুকতে দেখে তার ঠোঁটে হাসি ফুটল। তবে মার্টিনকে সঙ্গে দেখে অবাকও হল কমবেশী। ‘আরে বোরহান এসো! তোমার অপোতেই ছিলাম,জানি তুমি আসবে।’ সেলে বন্দি জনা দশেক রাসলারদের আতঙ্কিত চেহারায় জরিপ করল সদ্য আগত আগন্তুকদের। তবে মার্টিনদের নজর গিয়ে স্থির হলো মেঝেতে ফেলে রাখা একটা লাশের উপর। সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা লাশটা। নির্ঘাৎ কার্লস্রে। ‘বসো, নতুন করে কিছু বলার নেই। নিজের চোখেই যা দেখার দেখে নিচ্ছো।’ বন্দিদের দিকে দৃষ্ঠি আকর্ষন করে বলল শেরিফ। ‘হ্যাঁ, সবই তো দেখতে পারছি। কিন্তু হলো কি করে এসব, আর এই লাশ….’ ‘কার্লসের। এদের ঘাাটির খবর আমাকে দিয়েছিল ও। পাশাপাশি মিস্টারের বর্ণনা। ছোট্ট একটা কৌশল করে এদের শহরে এনে দলবলসহ গ্রেফতার করি। যখন এদের নিয়ে ফিরছিলাম এসে দেখি খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে….’ থামল শেরিফ, ‘তৃনভূমীতে একটা লাশ পেয়েছি। আমার এ্যাসিস্টেন্ট-এর। ভিকিকে ছেড়ে দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলাম ওকে। কি হয়েছে বুঝতে পারছি না।’ ‘সবই বুঝলাম। কিন্তু আসল ক্রিমিনালের ব্যাপারে কি করছো?’ বোরহান জানতে চাইল। ‘তুমি আগে দেখে নাও এদের মধ্যে তোমার তালিকাভুক্ত কেউ আছে কিনা। দেখ তো, জলদি!’ ইশারায় সেল দেখাল শেরিফ। ঠিক তখুনী অফিসের ব্যাটউইং দরজা বিস্ফোরিত হল! সবার সতর্ক চাহনী নিপ্তি হল সেদিকে। একজন পাহারাদার। তীব্র উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলল, ‘স্যার, একদল রাইডারকে এদিকেই ছুটে আসতে দেখা যাচ্ছে। কি করব!’ ‘আসতে দাও, সমস্যা করো না।’ নির্লিপ্ত কন্ঠে নির্দেশ দিল শেরিফ, ‘তবে ল্য রেখো সশস্ত্র যেন ঢুকতে না পারে।’ নির্দেশ মাফিক কাজ পেয়ে চলে গেল এ্যাসিস্টেন্ট। সামনে বসা দু’জনের দিকে তাকিয়ে হাসল শেরিফ। ‘সতর্ক হও, বলা যায় না যারা আসছে সেই যদি মিস্টার হয় তাহলে-’ যার যার অবস্থানে নিশ্চুপ বসে রইল সবাই। ঠিক তখুনী ভেসে এলা গুলির আওয়াজ। জেল হাউসের অন্ধকার দু’ঝোপ থেকে সন্তর্পনে বেরিয়ে এল রিভ ও ডেভ। চাঁদের আলোয় ওদের হাতে ঝিলিক মারল একটা কিছু। ুর! দু’পাশে ছড়িয়ে গেল দু’জন। নিঃশব্দে এগোতে লাগল শিকারের দিকে। যেন সাাৎ মৃত্যুদূত ওরা দু’জন! প্রথম সুযোগেই একজনকে ফেলে দিল ডেভ। দ্বিতীয়জনকে ঘায়েল করল রিভ। পিলারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং জেল হাউসের একটা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য দু’জনকেও মুহূর্তেই নিস্তব্ধ করে ফেলা হল। রক্তে হাতজোড়া দু’জনেরই টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। রুমাল দিয়ে হাত পরিস্কার করল দু’জনে। ুরের কাজ শেষ। বেল্টে গোঁজা পিস্তল হাতে নিল এবার ওরা। এবং সংকেত পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়ে রইল। জেল হাউসের সামনের সারিতে আরো জনাচারেক সৈন্য মোতায়েন করা আছে। ওদের কম্ম কাবার করা দরকার। প্রতীার প্রহর গুনতে লাগল দু’জনে, কিন্তু আচমকা একটা গুলির বিকট শব্দ আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দিল! পরণেই কপালে বিশাল একটা ফুটো নিয়ে ধপাস্ করে পড়ে গেল রিভ! আচমকা এমন ঘটায় মূহুর্তের জন্য হচকচিয়ে গেল ডেভ। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই ীপ্র গতিতে মাটিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরা করল সে। মাথার উপর তীè শব্দে উড়ে গেল একটা গুলি। সময় নষ্ট না করে পাল্টা জবাব দিল সেও। গুলি আসছে জেলের সামনে থেকে। সম্ভবত কেউ একজন ওদের দেখে ফেলেছিল। হঠাৎ ওদিক থেকে গুলি আসা বন্ধ হলো। গুলির শব্দের বদলে অসংখ্য ঘোড়ার খুরের শব্দ ভেসে এলো। নিজেকে মুহূর্তের মধ্যে প্রস্তুত করে নিল ডেভ। রিভের হাত থেকে পড়ে যাওয়া অস্ত্রটা তুলে নিল ও। হামাগুড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্ঠা করতে লাগল। কিন্তু শেষ রা বুঝি আর হলো না ওরও… মৃত্যুর স্বাদ চেখে নিতে হলো ডেভকে একসাথে ছুট আসা অসংখ্য গুলি প্রচন্ড ধাক্কায়, গুলিগুলো করা হয়েছে মাটিতে শুয়ে…অব্যর্থ নিশানায়! ‘দু’জনের হাতজোড়া কষ্ঠ করে উপরে তোল বন্ধুরা!’ শান্ত অথচ বিষাক্ত স্বরে নির্দেশ দিল শেরিফ। সাাৎদর্শন অস্ত্র বাগিয়ে মার্টিন ও বোরহানের দিকে তাক করে রেখেছে সে ভয়াবহ যন্ত্রটা। নির্দেশ পালন করলো ওরা দু’জন। একটু আগে সেলের ভেতর রাসলারদের যে দলটা বন্দী ছিল এখন আর ওরা বন্দী নেই। প্রত্যেককেই বাইরে বের করে আনা হয়েছে এবং ওদের প্রত্যেকের হাতেই শোভা পাচ্ছে একেকটা অস্ত্র। শেরিফের ইশারা পেয়ে ওদের মধ্য থেকে দু’জন এসে মার্টিন ও বোরহানকে সার্চ করল। কিছুই না পেয়ে জায়েগায় ফিরে গেল ওরা। অবাক হলো শেরিফ। ‘কি ব্যাপার বন্ধুরা, নিরস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছো!’ মৃদু হাসল বোরহান। জবাবে বলল, ‘বোকামীই করে ফেলেছি!’ কিঞ্চিৎ ভুঁরু কুচকাল শেরিফ। কিন্তু পাত্তা দিল না, বলল ‘বোকামীটা মাত্রাতিরক্তিই হয়ে গেল না? তোমরা জানতেই যে আমি কে… তারপরেও বাঘের খাঁচায় পা রাখতে গেলে কেন, অ্যাঁ?’ ‘হয়ত রাখতাম না, যদি জানতাম এত তাড়াতাড়ি তুমি নিজের আসল চেহারা প্রকাশ করে বসবে।’ মার্টিনের কন্ঠ। বাইরে গোলাগুলির শব্দ থেমে গেছে। নিজের লোকদের দিকে তাকালো শেরিফ,বলল-‘বন্ধুরা, বাইরে আমাদের লোকদের সাহায্য প্রয়োজন। ওদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো, আর ঘোষনা করে দাও – নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গানফাইট স্থগিত করা হল। আমার কিছু দাবী রয়েছে।’ নির্দেশ পেয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল কয়েকজন রাসলার। মুখ ফিরিয়ে সামনে বসা দু’জনের দিকে তাকাল শেরিফ। বাইরে থেকে উৎসাহি জনগন আর রাসলারদের জোড় গলা শোনা গেল। ‘তোমার মতলবটা কি শেরিফ!’ বোরহানের প্রশ্ন। ‘আপাতত তোমাদের খুন করা!’ বলেই ট্রিগারে আঙুলের চাপ বাড়াল শেরিফ। ‘আরে দাঁড়াও দাঁড়াও। এত দ্রুত মিমাংশা করতে চাচ্ছো কেন, আমাদের তো কিছু জানার বিষয় রয়ে গেছে।’ ‘তোমাদের কোন প্রশ্নের জবাব দিয়ে সময় নষ্ঠ করতে চাই না আমি।’ ‘আশ্চর্য! তুমি যদি জানতেই যে আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি তাহলে এখন পর্যন্ত সময় নষ্ঠ না করে অনেক আগেই তো আমাদের ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে পারতে!’ ‘তা ঠিক, কিন্তু তোমাদের আমার প্রয়োজন ছিল।’ ‘মানে!’ ‘নিজের স্বার্থে তোমাদেরকে আমি ব্যবহার করেছি। তোমাদের অজান্তেই। বোরহানকে শহরে জায়েগা দিয়ে ওর মনে জায়গা করে নিয়েছিলাম আমি। আর তোমাকে মার্টিন, এমনভাবে উপস্থাপনা করেছি যাতে শহরবসীরা মনে করত তুমি একজন বাউন্টি হান্টার এবং গ্রীন টাউনে এসেছো কুখ্যাত কারো খোঁজে। যদিও ব্যাপারটা সত্যিই অনেকটা তাই, কিন্তু তোমার “বাউন্টি হান্টার” পরিচয়টুকু বাদে। আমি জানি তুমি ইউ. এস. মার্শাল হ্যারি ল্যাসলোর!’ ‘অবাক ব্যাপার!’ সত্যি সত্যিই অবাক হল মার্টিন, ‘কিন্তু এসবে তোমার লাভটা কি ছিল?’ ‘কি আবার।’ বোরহান বলল, ‘নিজের লোকেদের দিয়ে ঝামেলা বাধিয়ে আমার লোক বলে চালিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করা হত। রাসলিং, ব্যাংক ডাকাতী করিয়ে শহরে এমন একটা ভাব সৃষ্ঠি করা হত যাতে শহরবাসীরা মনে করে গ্রীনটাউন ধ্বংশ করার পায়তারা করছে কেউ আর তাদেরকে প্রতিরোধ করার নাটক সাজিয়ে নিজেকে সৎ ও নিষ্টাবান হিসেবে জাহির করা আর কি!’ ‘ঠিক বলেছো!’ শয়তানি হাসি ফুটল শেরিফের ঠোঁটে। ‘তবে সত্যি কথা বলতে কি, মার্টিন… থুড়ি, হ্যারিকে আমি এ শহরে একদম আশা করিনি। তার আগমন আমার প্ল্যানটাতে গোলমাল বাধিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু বুঝতে পারিনি সে তোমারই আমদানী করা লোক। আমার সন্দেহ তখুনী পাকাপোক্ত হয় যখন তুমি আমাকে বলেছিলে যে তুমি স্যালিম্যানের হোটেলে উঠেছো। তাই আমি লোক দিয়ে মার্টিনের সাপারে কড়া বড়ি মিশিয়ে দিয়ে রাতে তাকে খুন করার জন্য লোক পাঠাই। আমার ধারণা ছিল মার্টিন, মানে হ্যারির সঙ্গে তোমার সম্পর্ক থাকলে তুমি অবশ্যই তাকে বাঁচাবে, এবং হয়েছেও তাই। আর সেই মাফিক আমি বুঝতে পেরেছি যে তোমরা নিশ্চয়ই ধারনা করে বসে আছো যে আমি নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমার লোকদের খুন করে ফেলবো।’ ‘তাহলে কার্লসকে মেরেছো কেন?’ ‘ওকে এমনিতেই মারতে হত। কারণ, একমাত্র ওর সামনেই আমি অনেক সময় মুখোশ খুলে কথা বলেছি। যে কারণে আমাকে শনাক্ত করার ব্যাপারে ওর ভূমিকা জোড়ালো ছিল। তাছাড়া শুধুমাত্র ওর একার অসাবধানতার কারণে তোমরা আজ এতদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছো। আচ্ছা বোরহান,’ আঙুল নাচালো শেরিফ,‘মার্টিনকে তুমি এ শহরে আনালে কেন, অস্থিরতার জন্যে?’ ‘না। আমি খবর নিয়ে জানতে পেরেছিলাম তুমি এ শহরে আসার আগে পশ্চিমের কোন একটা শহরে ছিলে। কিন্তু তোমার অবস্থান কি ছিল জানা যায় নি। তাছাড়া এখানকার অধিকাংশ নাগরিকই পশ্চিমের বাসিন্দা ছিল একসময়। আর তাই আমি হ্যারিকে খবর দিয়ে নিয়ে আসি এ শহরে এজন্যই যাতে সে শহরের তাবত লোকের চেহারা জরিপ করে দেখে বলতে পারে যে এখানকার কারো ব্যাকগ্রাউন্ড আইনের খাতায় তালিকাভুক্ত কিনা। হ্যারি প্রথমেই তোমাকে চিহ্নিত করে বসে এবং আমাকে জানায় একসময় নাকি তুমি টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করতে! সেই থেকেই আমি বুঝতে পারি শহরবাসীরা আইন ভঙ্গকারী ভয়ংকর এক চালবাজ অপরাধীর হাতেই আইন রার দায়িত্ব দিয়ে কত্তবড় মারাত্মক ভুল করে বসেছে যে কিনা আজ এই শহরটাকে একাই গিলতে বসেছে। ‘হাঃ হাঃ হাঃ!’ অট্টহাসিতে ফেটে পড়র শেরিফ। ‘রকই ভক! কি বেলো…. হাঃ হাঃ হাঃ!!’ ‘যথেষ্ঠ হেসেছো ডালটন।’ প্রথমবারের মতন বিরক্তি অনুভব করল বোরহান, ‘আমি নিজেও একসময় আউট-ল ছিলাম, প্রয়োজনের খাতিরে ডজন ডজন মানুষ খুন করেছি, কিন্তু তোমার মতন জগন্যতম নীচ পতঙ্গ আগে দেখিনি!’ ‘আগে দেখোনি, এখন দেখলে তো!’ তাচ্ছিলের স্বরে বলল মার্টিন ওরফে হ্যারি ল্যাসলো। ‘এখন বাদ দাও, আমাদের কৌতুহল মিটেছে। ডালটন, এখন তুমি আমাদেরকে নিঃসংকোচে গুলি করতে পারো!’ হ্যারি এমন একটা কিছু বলবে কল্পনাও করেনি শেরিফ ডালটন। সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে গেল তার। হাতের পিস্তল নাচিয়ে সে সন্দিহান দৃষ্ঠি হানল দু’জনের ওপর। তারপর আস্তে আস্তে চেহারায় কোচকানো ভাব দেখা দিল শেরিফের। ‘দাঁড়াও দাঁড়াও! মনে হয় আমি কিছু বুঝতে পেরেছি… তাই তো বলি- বন্য নেকড়ে এত সহজে কি করে নিজের পরিণতি মেনে নিতে চায়!’ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল ডালটন। ‘এরমানে আমার লোকেরা এতন যাদের সঙ্গে লড়ছিল ওরা তোমাদেরই লোক ছিল? কিন্তু… কিন্তু আমি যাদেরকে বলে রেখেছিলাম এখানে হামলা চালিয়ে এদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে তাদের কি হলো!’ ‘মানে?’ একসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ পেল হ্যারি ওরফে মার্টিন এবং বোরহানের কন্ঠে। ‘আমি জানতাম তোমরা এখানে অবশ্যই আসবে। তাই আমি ওদের খবর দিয়ে রেখেছিলাম। যেন ওরা এসে আক্রমন চালায় আর আমি তোমাদের দু’জনকে…’ বাধা পেল ডালটন। ‘আহত করে “মিস্টার” সাজিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করা। চমৎকার তোমার কৌশল ডালটন, বাহ্!’ মার্টিনের কন্ঠে স্পস্ট টিটকারীর আভাস। এবং ডালটনের হাতের অস্ত্রের তোয়াক্কা না করেই উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, ‘কিন্তু এখন তোমার খেল খতম ডালটন!’ ট্রিগার টেপার সুযোগটাও পেল না ডালটন। ভাল করে মাখিয়ে আনা হাতের তালুতে কলিক্স গুড়ের প্রলেপগুলো তার নাকে চেপে ধরল মার্টিন ওরফে হ্যারি। অন্যদিকের হতভম্ব রাসলারদের দিকে বুটের মধ্যে ভরে আনা অবশিষ্ঠ কলিক্স গুড়ো মুহুর্তেই ছিটিয়ে দিল বোরহান। শেরিফকে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে সবার অগোচরে পায়ের বুট খুলে রেখেছিল সে। সুযোগ পেতেই কাজে লাগিয়েছে। পুরো ঘটনাটা ঘটাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল দু’জনের। এবং তারপর নিশ্চিন্তে সোজা হয়ে দাঁড়াল। জানা আছে এদের সবাই ইতিমধ্যেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। দুপ্দুপ্ করে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল সবাই। অল্পনই নড়াচড়ার সুযোগ পেল, কিন্তু তারপরই পুরোপুরি বেহুশ! দু’মিনিট সময় নিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ল ওরা দু’জনে। তাকাল একে অপরের দিকে। কাজটা দমবন্ধ করে করতে হয়েছে। উৎসাহি দর্শকদের ভীড় উপছে পড়েছে জেল হাউসের সামনে। মোট বারোটা লাশ জড়ো করা হয়েছে প্রাঙ্গনে। প্রচন্ড হৈ চৈ আর চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেও নিরবে চোখের জল ফেলছে বোরহান। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে সে ডেভ ও রিভের লাশের সামনে। আন্ডারটেকারের লোকজন লাশ সরানোয় ব্যস্ত। অন্যদিকে টাউন হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা জীবিত আসামীদের গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে অজ্ঞান অবস্থায়। ইতিমধ্যেই লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে যে মার্টিন ল্যাসলোর আসলে ইউ. এস মার্শাল হ্যারি ল্যাসলোর। এ নিয়েও চলছে গুঞ্জন। কিন্তু এসবের মধ্যে মার্টিন ওরফে হ্যারির কোন মাথাব্যথা নেই। সে অনেক আগেই রওনা দিয়েছে ত্রিপল জে র‌্যাঞ্চের দিকে। এগারো ‘ঝুঁকি নেয়াটা ঠিক হচ্ছে না তোমার জ্যারি। ট্রেইলের ঝোপে ওঁৎ পেতে থাকতে পারে এম্বুশকারীরা,’ শুয়ে থাকা আহত অজ্ঞান ভিকির পাশে বসে আছে ম্যাথিউ রাস্ট। ‘তোমাদের দায়িত্বে জনসনকে রেখে যাব।’ কোমরে গানবেল্ট পরিা করতে করতে জানাল মি জ্যারি। ‘তুমি তোমার ছেলের সঙ্গ নাও।’ তারপর একান্তই বিড়বিড় করে বলতে লাগল,‘ব্যাটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে এখানে। একচ্ছত্র অধিপতি বনতে চাচ্ছে! এর শেষ দেখেই ছাড়ব আজ!’ ‘আমার ভাবতেও অবাক লাগছে এতদিন যার হাতে শহরের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সেই কিনা…’ মুখে চুকচুক শব্দ করে আফসোস করল জ্যানি। মায়ের পাশে এখন বসে আছে ও। ‘অথচ আমরা সবাই বোকার মতন তার উপরই ভরসা করে ছিলাম!’ দরজা খোলার শব্দ হলো। রবার্টসনের হতভম্ব চেহারা নজরে এলো। ‘জ্যারি! চায়নাজোনের একটা দল র‌্যাঞ্চের চারধারে ঘাপটি মেরে বসে আছে। আমাদের দুজনকে মেরে ফেলেছে!’ জানাল হতভম্ব রবার্টসন। তার কথা শেষ হওয়ার পরপরই ভেসে এলো রিভালভারের আওয়াজ। ‘তোমরা এখানেই বসে থাকো। বেরিয়ো না আমি দেখছি কি করা যায়…’ বলেই রবার্টসনকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে এলো জ্যারি। দু’জন বিশ্বস্ত ক্রু সশস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। জানালার কাচঁও আস্ত নেই। সেই ভাঙ্গা ফোঁকর দিয়ে আততায়ীদের হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ক্রু দুজন। ‘জনসন কই?’ জিজ্ঞেস করল জ্যারি। ‘বাঙ্কহাউসে। ওদের গুলি শেষ। কার্তুজের ঘরে যাওয়া যায়নি। আমাদের ক্র-ুদের মধ্যে বেঈমান ছিল।’ ‘কি বলছো!’ প্রায় আর্তনাদ করে উঠল জ্যারি। ‘হ্যাঁ , তবে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে ওরা জন পাঁচেকের বেশী হবে না।’ ঘরের বাতি নেভানো। বাইরে চাঁদের আলোয় হঠাৎ একজনের ছায়ামুর্তিকে দৌড়ে চৌবাচ্চার ওপাশে আড়াল নিতে দেখল জ্যারি জানালার ভাঙ্গা ফোঁকর দিয়ে। আর একটা ছায়ামুর্তি বাঙ্কহাউস থেকে বেরোতে যাচ্ছিল, তাকে ফেলে দেয়া হলো। এরমানে ওখানে আটকা পড়েছে জনসনরা। ‘রবার্ট এভাবে অবরুদ্বো হয়ে বেশিন টিকে থাকা যাবে না, কাবু হয়ে যাব। সিক্সগানের গুলিই শেষ, কি করা যায় তাড়াতাড়ি ঠিক কর।’ জ্যারির কন্ঠে সংকোচ। ক্রু দু’জন থেমে থেমে গুলি করছে। ওদেরকে থামতে বলল রবার্ট। ঝড়ের গতিতে চিন্তা চালাচ্ছে মাথায়। তাকে সুযোগ দিয়ে জানালার সামনে এস দাঁড়ালো জ্যারি। বাইরে সাবধানে উঁকি দিয়ে পরিস্ততি বোঝার চেষ্ঠা করল। থেমে গেছে গোলাগোলি,তেমন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করালের ওপাশে নড়ে উঠল একটা ছাঘামুর্তি। সম্বভবত ওখান থেকেই চিৎকারটা ভেসে এলো,‘তোমাদেরকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে, হাত তুলে বেরিয়ে এসো নচেৎ…’ বিকট শব্দে গুলির আওয়াজ শোনা গেল। ঔই ছায়ামূর্তিটাকে ঝঁপাৎ করে পড়ে যেতে দেখল জ্যারি। র‌্যাঞ্চ হাউসের দিকে ছুটে আসতে দেখা গেল কয়েক জনকে। নিজের অস্ত্র তাক করতে যাচ্ছিল জ্যারি কিন্তুু দেখল এক নাগাড়ে গুলির শব্দের সাথে সাথে হুমড়ি খেয়ে দপাদপ মাটিতে পড়ে গেল ওরা, এমন সময় দড়াম করে বাঙ্ক হাউসের দরজাও খুলে গেল। ওখান থেকে বেরিয়ে এল জনসন এবং তার দলবল। অবাক হলো জ্যারি। তার পাশে এসে রবার্টসন ও দাঁড়িয়েছে, দুজনেই দেখল করালের যেখানে আততায়ীরা লুকিয়ে ছিল সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে আরেকটা ছায়ামূর্তি, চাঁদের আলোয় চেহারা অনেকটা ভেসে উঠল তার। মার্টিন ল্যাসলোর! দু’দিন পর। গ্রীনটাউন। শহরের চারিদিকে উৎসবে মুখর জনতার হৈচৈ। বিপুল ভোটে শহরে শেরিফের দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এক সময়ের কুখ্যাত আউট-ল বোরহানকে। সেই খাতিরে সামাজিক একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে টাউন হলে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে চলছে হালকা ড্রিংকস্ পানের বিরতী। মঞ্চে বোরহানের পাশেই বসে আছে হ্যারি ল্যাসলোর। ওদের সামনের কয়েক গজ দূরে অতিথিদের আসনে মেয়েদের সাথে গল্পগুজবে মত্ত জেনি এবং উল্টোদিকে ছেলেদের ভীড়ে জনসনকে দেখা যাচ্ছে। প্রায়ই জনসন ও জেনির পরস্পরের চোরা চাহনি ল্য করেছে বোরহান ও হ্যারি। ‘কি চমৎকার দেখাচ্ছে ওদের! তাই না?’ মুচকি হেসে বলল হ্যারি ওরফে মার্টিন। ওর দিকে তাকিয়ে হাসল বোরাহান, তবে কিছু বলল না। ‘কিন্তুু দু:খের বিষয় ওদের বিয়েটা দেখে যেতে পারব না…’ বলে সেও বোরহানের দিকে চেয়ে হাসল। তারপর হাতের শ্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে চিয়ার্স করে তাতে চুমুক দিল। ঠিক তখুনি হ্যারির মনে হলো জেনি ওর দিকে তাকিয়েছিল। দৃষ্টিপাত করল ও। দেখল… ক্যালিফোর্নিয়াতে ফিরে যেতে হবে হ্যারিকে। ওখান নতুন দিনের গল্প শুরু হবে। অনেকটা এখানকার মতন। হয়ত কেউ অপো করছে ওর জন্যে। হয়ত। সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অস্তিত্বের অলীক জংশন
→ অস্তিত্বের অলীক জংশন (The Illusory Junction of Existence)
→ ভূতের অস্তিত্ব আছে, কি নেই,সমাধান দিল বিজ্ঞান
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ "অস্তিত্বে তুমি"
→ অস্তিত্ব
→ "অস্তিত্ব সমীপে" লেখক- Hasibur Rahman ভাই
→ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্বে বসবাস
→ অস্তিত্বের ভয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now