বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত্ব

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X ফোনটা প্রায় পাচ মিনিট ধরে বেজেই চলছে। স্ক্রিনে মিথিলার নামটা ভেসে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার রিং হয়ে কেটে গেছে লাইনটা। ধরার সাহস হচ্ছিলনা, তাই ধরিনি। . আমি জানি আজ মিথিলার বিয়ে। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে, মিথিলা কাল বলেছিল ধানমন্ডির কোন এক কনভেনশন হলে তার বিয়েটা হবে। মিথিলা আরো বলেছিল সে বিয়েটা করছেনা, সে পালাবে। পালিয়ে আমাকে বিয়ে করবে, তারপর বেশ কিছুদিন বাহিরে থাকার পর বাবার সামনে দাড়ালে তার বাবা কিছুতেই পারবেন না মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে। এই আশ্বাসই কাল মিথিলা আমাকে দিয়েছিল। প্রায় আধা ঘন্টা এইসব ব্যাপার নিয়েই বকবক করেছিল সে। . -মাহিন! -বলো… -কাল আমি বাথরুমে যাবার নাম করে কোনরকমে ড্রেস চেঞ্জ করেই কনভেনশন হল থেকে পালিয়ে বাইরে চলে আসবো। তারপর আমি সোজা ফার্মগেইট এ চলে যাব। তুমি সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করবে। আচ্ছা? -হুম। -হুম কী? থাকবে তো? আচ্ছা শোন আমি কিন্তু ছ’টা কিংবা পৌনে ছ’টার দিকেই বের হয়ে যাব। তুমি যেন আবার লেইট করোনা। কেউ দেখে ফেললে খুব সমস্যা হয়ে যাবে। প্রতিবার দেখা করার সময় তুমি অনেক লেইট করে আসো। কাল প্লিজ তুমি আগেই এসে বসে থেকো। -হুম… -আচ্ছা, মিরপুর থেকে ফার্মগেইট আসতে কতক্ষন লাগবে তোমার? আচ্ছা যতক্ষনই লাগুক তুমি কিন্তু অনেক আগেই বের হয়ে যাবে। ঠিকাছে? দেখবে একবার বিয়েটা করে ফেললে বাবা আর কিচ্ছু বলতে পারবেনা। দরকার হলে এক বছর বাইরে কাটিয়ে কোলে একটা বাবু নিয়ে বাবার সামনে হাজির হবো। দেখবে বাবা সব ভুলে নাতনি কে নিয়ে খেলা করতে শুরু করবে। বাবা আবার বাচ্চা খুব পছন্দ করে। খুব মজা হবে তাইনা? হিহিহিহ -হুম। -মাহিন! তুমি আসবে তো? -হুম। -আর শোন, বিয়ের পর যেভাবেই হোক চাকুরি কিন্তু ম্যানেজ করতেই হবে। এভাবে টইটই করে ঘুরলে বউকে কী খাওয়াবে? হুম? এইসব কবিগিরি ছেড়ে একজন ভদ্র মানুষ হয়ে যাবে। ঠিকাছে? -হুম। -এত হুম হুম কেন করছ? বিরক্ত হয়ে গেছ নাকি মাহিন? নাকি আমাকে বিয়ে না করে বেচে যেতে চাইছো? মাহিন আমি কিন্তু বলে রাখলাম আমি তোমার না হতে পারলে আমি কিন্তু কারো হবোনা। সোজা বিষ খাবো। . রেগেমেগে কাপাকাপা কন্ঠে কথাগুলো বলে লাইনটা কেটে দিয়েছিল মিথিলা। আমি আর তাকে কল ব্যাক করতে যাইনি। আরো কি কি যেন বলেছিল মিথিলা, ঠিক মনে নাই। আবছা আবছা শুনেছিলাম, মন পর্যন্ত কথাগুলো যেতে পারেনি। আমার মনে তখন মা’র কথাই আসছিল, মায়ের অসুস্থ সেই করুন চেহারা বারবার ভেসে আসছিল মনে। চরম দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি আমি। শুধু মাত্র মেধার জোড়েই ঢাকার এক নামকরা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি, পড়াশোনা করছি। কিন্তু অভাব তো অভাবই। খুব অভাবে বন্ধুদের কাছে টাকা ধার নিতাম, কিন্তু সময় মতো শোধ দিতে পারতাম না। তাই তারাও এখন টাকা ধার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। . খুব খারাপ সময়েই মিথিলা আমার জীবনে লাইফ সাপোর্ট হিসেবেই এসেছিল। ভালবাসে মেয়েটা আমাকে, প্রচন্ড ভালবাসে। আমার সব সমস্যার একটা সমাধান হয়ে গেছিল মিথিলা। তার উচ্চবিত্ত পরিবার আমাকে মেনে নেয়নি, নিতে চায়নি। তাই হঠাত বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে মেয়েটার। . মেয়েটাকে হারালে আমার জীবন কোনদিকে যাবে তা ভাবতেও পারিনা আমি। কোনমতেই মেয়েটাকে হারাতে চাইনা। কিন্তু মাঝে মাঝে কথিন বাস্তবতা সব কিছুকেই হার মানায়। . মিথিলা ফোন করার একটু আগেই বাবা ফোন দিয়েছিলেন। কান্নারত কন্ঠে বলেছিলেন, “বাবা মাহিন, তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। বাবা তুই যেভাবেই পারিস বিশ হাজার টাকা নিয়ে তারাতারি চলে আয়। টাকার জন্য তোর মার চিকিতসা আটকে গেছে বাবা” . বাবার কথাগুলো চাবুকের মত আঘাত করলো আমার মনে। বিশ টাকার টাকা ম্যানেজ করা আমার কাছে মরে যাওয়ার চেয়েও কঠিন কাজ। আবার মা’র চেহারাটা মনে পড়তেই মনে হলো দরকার হলে কিডনি বিক্রি করে হলেও টাকাটা ম্যানেজ করবো। . কিন্তু কিডনি বিক্রি করা অতো সহজ কাজ না। তাই প্রথমে কিছু ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে টাকার কথা বললাম। তারা পারবেনা বলে ফোন রেখে দিলো। তারপর শেষ ভরসা হিসেবে কল দিয়েছিলাম মিথিলাকে। কিন্তু আমার কথাটা শুরু করার আগেই মিথিলা তার বিয়ের খবরটা দিল। আর পালানোর সব প্ল্যানিং করে ফেলল। ওই সময়টা নিজেকে খুব স্বার্থপর লাগছিল আর এত বেশি ছোট লাগছিল যে ইচ্ছে করছিল মাটিতে মিইয়ে যাই। . টাকাটা ম্যানেজ করতে পারিনি আমি। আজ বিকেলের দিকে হঠাত সাইফ এসে আমার হাতে এক হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলল, “মাহিন! বাড়ি যা” . আমি মৃদু হেসে বললাম, “এই এক হাজার টাকা নিয়ে কী করবো রে দোস্ত? আমার মা’র চিকিতসা তো হবেনা” -মাহিন, এই টাকাটা তোর গাড়ি ভাড়া। তোর বাবা কল দিয়েছিল আমাকে। . আমার মনে পড়লো চার্জ শেষ হয়ে ফোনটা সেই কবেই বন্ধ হয়ে গেছে। মা’র চিন্তায় ফোনটা চার্জে লাগানোর কথাই ভুলে গেছিলাম আমি। তাই তারাতারি ফোনটা চার্জে লাগিয়ে দিয়ে সাইফকে বললাম, “কী বলেছে বাবা? আমাকে খুব বকেছে নারে? এমন এক অপদার্থ ছেলে আমি যে মা’র জন্য বিশ হাজার টাকাও ম্যানেজ করতে পারিনা” . হঠাত দেখলাম সিয়াম আমার রুমে ঢুকলো। এসেই আমার হাতটা খপ করে ধরে সোজা নিচে নিয়ে গেল। তার বাইকে তুলে সোজ়া বাইক ছুটলো আমার বাড়ির পথে। এর ফাকে সাইফ আমার হাতে এক হাজার টাকা গুজে দিয়েছে। . বাসায় পৌছাতে আমাদের মোটামুটি পাচটা বেজে গেল। বাইক থেকে নামতেই বাড়ির চেহারাটা বেশ অচেনা মনে হতে লাগলো আমার। সারা বাড়ি ভর্তি লোক গিজগিজ করছে। আমার এক মুহুর্তের জন্য মনে হলো কোন ভুল ঠিকানায় ভুল বাড়িতে এসে পড়েছি আমরা, মরা বাড়ি। কোন মানুষ হয়তো মারা গেছেন। একটু পরেই বাবাকে দেখলাম আমি। নাহ! বাড়ি তো ভুল হয়নি। ঠিক বাড়িতেই এসেছি আমরা। . বাবা আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “বাবা এসেছিস। তোকে ফোন দিচ্ছিলাম কিন্তু কিছুতেই ফোন লাগছিল না। তখন তোর বন্ধু সাইফের নাম্বারটা যে দিয়ে গেছিলি ওটাতে কল দিয়ে জানালাম যে তোর মা মারা গেছেন। তোকে যে তারাতারি খবরটা দেয়” “কী বলছো বাবা? মা মারা গেছেন?” . মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার। কয়েক মুহুর্তের জন্য মনে হতে লাগলো আকাশ থেকে কয়েকশগুন গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্সে ইনফিনিটি কৌনিক বেগে ঘুরিয়ে মহাকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে আমাকে। সব কিছু ভনভন করছে ঘুরছে। . পরের ব্যাপারটুকু আর বিস্তারিত করার প্রয়োজন মনে করছিনা। মায়ের দাফন কাফন শেষ করে বাসায় ফিরলাম আমরা। তখন প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। আমি এসে উঠোনের চেয়ারটাতে বসলাম। আশেপাশে কিছু মানুষ ঘিরে ধরেছে আমাকে। তারা হয়তো মায়ের মৃত্যুতে ছেলে হিসেবে আমার অনুভুতি জানার অপেক্ষায় আছে। . ঠিক সে সময়ই মিথিলা কল দিতে শুরু করলো। . এ পর্যন্ত অনেকবার কল দিয়ে ফেলেছে মিথিলা। ফোন ধরবো কি ধরবোনা ভেবে পাচ্ছিনা। কী বলবো ফোনটা ধরে? মিথিলা আমি আসতে পারছিনা, তোমার বাবার পছন্দের ছেলেকে তুমি বিয়ে করে ফেলো এটা বলবো নাকি ফোন ধরেই হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিবো আমার মা মারা গেছে এই শোকে। নাকি বড়দের মত গুরুগম্ভির ভাব নিয়ে বলবো আজই মা মারা যাওয়া একটা ছেলের উচিত হবেনা আজই পালিয়ে বিয়ে করা। . মাথায় আবার চক্কর দিতে লাগলো আমার। একটু পরেই মিথিলার টেক্সট পেলাম। লম্বা টেক্সট। সেখানে লেখা, “কাপুরুষ! ভয়ে ফোনটাও ধরছোনা। তোমার তো মরে যাওয়া উচিত। আমার লজ্জা হচ্ছে এই ভেবে যে এতদিন তোমার মত একটা কাপুরুষের অপেক্ষায় বসে ছিলাম আমি। আমি পালিয়ে এসেছিলাম ঠিকই, কিন্তু এখন ফিরে যাচ্ছি। তোমার মত একটা কাপুরুষকে আমি কিছুতেই বিয়ে করবোনা। বাবার পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করবো আমি। দোয়া করি যাতে জীবনেও সুখি না হও” . মিথিলার টেক্সট পেয়ে আমার হয়তো খুব দুঃখিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কেন যেন একটু একটু ভাল লাগতে লাগলো। কিন্ত সেই ভাল লাগার স্থায়ীত্ব ক্ষনকাল। মা’র কথা মনে পড়তেই মাথাটা আবার চক্কর দিলো। চোখ ফেটে কান্না আসছে আমার। ইচ্ছে করছে চিতকার করে কান্না করি। মনে হচ্ছিল পৃথিবী বুঝি আমাকে আর চায়না তাই বুঝি এতসব কিছু ঘটে যাচ্ছে আমার সাথে। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অস্তিত্বের অলীক জংশন
→ অস্তিত্বের অলীক জংশন (The Illusory Junction of Existence)
→ ভূতের অস্তিত্ব আছে, কি নেই,সমাধান দিল বিজ্ঞান
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ "অস্তিত্বে তুমি"
→ অস্তিত্ব
→ "অস্তিত্ব সমীপে" লেখক- Hasibur Rahman ভাই
→ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্বে বসবাস
→ অস্তিত্বের ভয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now