বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আজ পুরোনো ছবির এলবাম দেখছিলাম । এলবাম গুলোর বেশির ভাগ ই দুই মামার বিয়ের । সাথে বেশ কিছু ফ্যামেলী পিকচার । প্রথম যখন ছবিগুলো দেখতে থাকি আমার খুব বেশি অন্যরকম লাগেনি । কারন এই অনুভুতিটা আমার অনেক পুরনো । বাসায় আসলে এলবামে বা কম্পিউটারে বসে বেশিরভাগ সময় এ এই ছবি দেখতাম আর এডিট করতাম । আমার পি. সি. তে কম হলেও তিন থেকে পাচ হাজার camera তে তোলা ছবি আছে । বেশির ভাগ ই আমার নিজের তোলা । আজ ছবি গুলো দেখতে দেখতে একসময় বুঝতে পারলাম সময় খুব দ্রুত যাচ্ছে । আমার অতীতটা কত সহজে হারিয়ে গেছে । সাথে প্রিয় মনুষগুলো । শৈশবে কেউ মারা গেলে আমি প্রায়ই ভাবতাম . . . আমার প্রিয় মনুষগুলো যদি হারিয়ে যায় আমি কি করে বেচে থাকব ??? আমার প্রিয় মুহুর্ত গুলো . . . .। কেউ যদি আমায় ছোট থাকতে প্রশ্ন করত . . . তোমাকে সবচেয়ে বেশি কে আদর করে ? বা তোমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় কে ? স্বভাবতই মা'র কথা বলতাম কিন্তু মনে অন্য একটি মুখ ভেসে থাকত তিনি আমার 'নানু' । আমার "নানা- নানু" । যারা আজ আমার কাছে শুধুই ওই এলবামের ছবি । শুধুই ছবি . . . . অতীতের প্রস্নটা আজ খুব যন্ত্রনা দিচ্ছে আমাকে... "আমার প্রিয় মনুষগুলো যদি হারিয়ে যায় আমি কি করে বেচে থাকব ???" -আমি বেচে আছি । আমি অনেক সুখে বেচে আছি । সবাইকে ভুলে । আমার প্রিয় মানুষগুলো. . . . । আমার বড় মামা নেই অনেক দিন. . . । যে পরিবার টাকে শৈশবে স্বর্গ মনে হত আমার ; আজ তা শুধুই ডিজিটাল হার্ডডিস্ক এর ইলেক্ট্রনিক কিছু অনুরন । আমি ভুলে গেছি সব । 2007 (জানুয়ারির এর সেই প্রথম কোন জানাযা যে জানাযায় আমার চোখে জল ছিল । সে প্রথম কোন দাফন . . . যে লাস কবরে রাখতে আমার হাত কাপছিল । বা সেই সকালটা... আমি কান্না চেপে রেখে অদ্ভুত ভাবে কেদেছিলাম সবার সামনে । আমি ভুলে গেছি সব । আমি সব ভুলে গেছি । আমি তাকে ভুলে গেছি যে মানুষটা আমায় প্রথম বর্নমালা শেখায় । যে গনিতের ধাধায় মোহিত করত ক্লাস থ্রি তে থাকা ছোট্ট আমিটাকে । প্রতি সকালে গ্রামের বাজার থেকে ফিরে রুটি / কলা/বিস্কিট বা চানাচুরের "বায়না ছাড়া উপহার" ছিল যার কাছে প্রতিদিনের চাহিদা । আরও ভুলে গেছি প্রতি দুপুরে নামাজের পর ভাঙা ভাঙা কন্ঠে কোরআনের ধ্বনি বা সকালে ঘুম ভেঙে শুনতে পাওয়া তিলাওয়াতরত সেই কন্ঠস্বর যা নানু নানু বলে ডেকে যেত আমাকে । দুপুরের পুকুরে গোসল তার সাথে । হাতে মাজন, মেছওয়াক কাধে গামছা । আর আমার সে অসংঙ্গায়িত আনন্দ । বা শীতের সে সকাল গুলো যে সকালে মলাই খেতে কারো একটা আঙুল ধরে হাটতে হাটতে ভোর-বাজারে উপস্থিত হওয়া । আর . . . . ... . . . . আমি ভুলে গেছি সেই আদর গুলো । আমি ভুলে গেছি সেই দুষ্টুমি গুলো । আমি ভুলে গেছি তাকে । ভুলে গেছি সেই অসম্ভব ভাল মানুষটাকে । যে গনিতের শিক্ষক ছিল, ধার্মিক ছিল, অসম্ভব সরল হৃদয়বান ছিল । আর আমার প্রিয় থেকেও প্রিয় ছিল । আমার নানু ছিল । একটা ঘটনা মনে পড়ে, আমার মা দাদুবাড়িতে । নানু- ছোট নানু আমায় রেখে দিয়েছে । দুপুরবেলা উশৃঙ্খল আমি কারো সাথে ঝগড়া করে এসে মাকে খুঁজছি । মা নেই মনে ছিলনা । না পেয়ে স্বভাবতই বেশি রেগে গিয়েছিলাম । কেউ কিছুতেই আমার কান্না থামাতে পারেনা । যে নানুর হাতের ভাত খাওয়া ছাড়া আমি ভাত খেতামনা তিনি পর্যন্ত আমার কাছে আসতে পারেনি । দুই নানুকে "বুড়া- বুড়ী" বলে বকা দিয়ে ফেলি যা শৈশবের 'আমার' সাথে বেমানান ছিল । জিদ চাপে মনে... মা'র কাছে যাব । অন্য আট-দশটা স্বাধারন জিদ নয়, এটা 'ছেলেবেলার জিদ' । নানু দাদুবাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন । যদিও আমার খারাপ লাগছিল কেননা এখানে থাকার জন্যে আমিই বায়না ধরেছিলাম । দাদুবাড়ি এলাম । ভ্যানওয়ালা ঘটনা বলল । সবাই জানল... আমার একটা কাক্কা আছে... শৈশবে যে আমার আইকন ছিল, যাকে নিয়ে বিশাল বিশাল ধারনা ছিল... নাম সাজ্জাদ । সাজ্জাদ কাক্কা শুধু বলল, আমি আজ যে ভুলটা করেছি তা কোনদিন ভুলতে পারব না । সত্যি আমি বয়ে বেড়াচ্ছি সেই "বুড়া-বুড়ি" কে । সেই ভুলটাকে । আমার চোখের জলে । . . . . . . . . . . . . সময় কত দ্রুত যায় । আজ আমার ঊনিশ বছর । ঊনিশটা বছর আমি পার করেছি । এই'ত সেদিন কলেজে ভর্তি হলাম । আমার পরীক্ষা চলছিল । আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হতে পারে । বৃষ্টি আমায় বরাবরই উদাস করে । আমি কাজে মন দিতে পারিনা, তবুও পড়ছিলাম ।তারপর, . . . . একটা ফোন আসে বাড়ি থেকে । কিছু কথা . . . . এবং নিরবতা । ... . . . কেউ নেই. . . .। কেউ চলে গেছে সকল কে যন্ত্রনা থেকে বাঁচিয়ে । আমার বড় মামা । স্ট্রোক করেছিলেন । অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকতেন । যাকে দেখে রাখত আমার নানু... . .আমার ছোট নানু । আমার প্রানের সে ডাক । আমরা কত ব্যস্ত সবাই । ব্যস্ততা থেমে গিয়েছিল সেদিন আমার । পরীক্ষা মনে ছিলনা । বলেছিলাম বৃষ্টি আমায় উদাস করে । সেদিনও উদাস হয়েছিলাম . . বড্ড বেশিই , তবে বৃষ্টি ছাড়াই । অতীত হাতরে কিছু ঘটনা পেয়েছিলাম সেই রাতে যা আজ হৃদয়ে মুক্তোসম । বয়স তখন আমার কত জানা নেই । প্রতিবেশী বড় ভাইয়ের বাগান দেখে বাগান করার ভূত চেপেছিল । শীতের বিকেল । দারুন হৈ চৈ করে খেলা হচ্ছে ঘরের সামনের আঙিনায় । আর আমি বাগান করার নেশায় বুদ হয়ে মাটি কুপুচ্ছি ছোট হাতে । আমার তখন অনেক কাজ যদিও জানিনা কিছুই । কেউ একজন দূরে বসে আমায় দেখছিল আমি লক্ষ্য করিনি । হঠাত্ চঞ্চল আমিটার কুকর্ম দেখে মা বকা দেওয়া শুরু করে । গোসল শেষে বিকেল বেলা খেলা ফেলে মাটি নিয়ে বসে থাকাটা হয়ত অন্যায়ই ছিল । এসময় আমার মামা কাছে আসে । আমার কথা শুনে মাকে থামায় । মাকে দা আনতে বলে । আর আমার হাতের অজানা কাজগুলোও ফুরিয়ে যায় । সেদিন বাগানের বেড়া তৈরী হল । মাটি আলগা করা হল । পানি দিয়ে গোবর মিশিয়ে মাটি উর্বর করার ব্যবস্থা করা হল । এক কথায় গাছ লাগানোর জন্যে প্রস্তুত । আমি শুধু ছোটাছুটি করছিলাম ; হয়ত আনন্দে । ছেলেগুলোর সবাই বাগানের পাশে । আর আমি অতি আনন্দিত । এমনই হয় বুঝি বড় মামারা ? আমি আর ছোট মামা মিলে গাছ লাগালাম । .. . . . . . বাগানে ডালিয়া ফুটেছিল । গাদা ফুল ছিল । ঘাস ফুল ছিল । আরো অনেক ফুলগাছ । কিন্তু বাগানের একটা অপূর্ণতা ছিল । আমার বাগানে কোন গোলাপ জন্মাতো না । কেন, জানা নেই । তবু শীতের সকালে আমার বাগানের ঘাস ফুলের উপর শিশির আমায় মুগ্ধ করত, রঙীন ডালিয়া দেখে আমার গর্ব হত । মনে আছে 21 ফেব্রুয়ারীর কথা । সেই রাতে না ঘুমিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত পাহাড়া দিয়েছি । বাগানে ফুল ছিল অনেক । সাথে মায়া ছিল । ভালবাসাও বাসা বেধেছিল বাগানে । আজ বাগান টা নেই । আমার প্রিয় হাসনাহেনা গাছটাও নেই । যার জন্য রাতে জানালা খুলে ফুলের ঘ্রানে জেগে থাকতাম আর মার সাথে শুয়ে জোছনা দেখতাম । আমার শৈশবের জোছনা । মা ঘুমিয়ে যেত । পাখি চলে গেলেও যেমন পালক রেখে যায় তেমনি বগানেরপালক হয়ে আজও একটা ক্যকটাস গাছ রয়ে গেছে বাড়ির উঠোনটাতে । যে ক্যকটাসটা আমার ছোট নানুর কাছে শুধুই একটা যন্ত্রনা ছিল । তার একটাই প্রস্ন , ফুল ধরেনা রেখে লাভ কি ?প্রস্নটার উত্তর আমি জানতামনা তখন । কিন্তু, নানু তুমি জাননা, আজ আমি উত্তরটা জানি ।"ফুল ধরেনা রেখে লাভ কি ?... ... . . . আমি ভুলে গেছি সব. . . সেই রাতে বৃষ্টি এসেছিল কিনা জানিনা কিন্তু আমার চোখে শ্রাবন দেখেছিলাম আমি ! সবচেয়ে কষ্ট লেগেছিল . . . দুপুরে পরীক্ষা শেষে সি.এন.জি রিজার্ভ করে বাড়ি পৌছে দেখি কেউ নেই , বাড়ি ফাকা । বুঝি দেরি করে ফেলেছি যা ইচ্ছাকৃত নয়, আমার নিয়তি । কবরস্থানের উদ্দেশ্যে আমি . . . . কিন্তু সবাই ফিরে আসছে । . . . . আমি . . . . . । আমি কাদিনি । আমি ভুলে গেছি । . . . . . . . . . . আমার একলা নানু । আমার ছোট নানু. . . প্রচন্ড নামযি, ধার্মিক, শিক্ষিতা, ভাল রাধুনী, নকশী কাথা সেলাইয়ে তার মত কেউ নেই, সুন্দরী, মায়াধারী, প্রচন্ড ধৈর্যশীল, . . . . . . . .। তার গুনের শেষ নেই আমার কাছে । তাকে যারা চেনে সবার কাছে । আমার সবথেকে প্রিয় মানুষটা । আমি কলেজে পড়ি তখন । নিজের কাজ নিজে করতে জানি । ব্যস্ততা কি জানি । আলসেমি কি বুঝি । বন্ধু মানে প্রান । আড্ডা, গানই জীবন আমার । পড়ালেখা ত আছেই ; সময়ের প্রথম মৌলিক চাহিদা । শৈশব ভুলে গেছি । ভুলে গেছি শৈশবের "স্বর্গ" টাকেও । আমার একলা নানুটাকে ভালবাসি তখনো কিন্তু, শৈশবের সেই আমিটার মত নানু ভাত না খাইয়ে দিলে ভাত খাবনা বলে বায়না ধরিনা । নানু বুকে জরিয়ে না ঘুমালে ঘুমাবনা বলে রাগ করিনা । মার সাথে রাগ করে নানুর আচলের নিচে মুখ গুজিনা । শুধু বাড়িতে গিয়ে প্রথন দেখায় আর বিদেয় বেলা জড়িয়ে ধরি । ফোনে কথা বলি ইচ্ছে হলে । আর বন্ধুরা ত আছেই . . . . . !! কখনো ভাবিনি একটা মানুষ কতটা একলা হতে পারে । কখনো ভাবিনি ছোট্ট বুকে এত ভালবাসা সে কিভাবে জমিয়েছিল । কখনো এতটা গভীরে ভাবা হয়নি । আমি ভুলে গিয়েছিলাম । আমি ভুলে গেছি . . . . . । সময় খুব দ্রুত যায় । আমার এইচ.এস.সি শেষ হল । ভর্তি পরীক্ষার পড়াশুনা । আলসে আমার ব্যস্ত দিন কাটে । ঈদে বাড়ি গেলাম । মজা হল । ঈদ শেষে যার যার স্থানে । আমি শুধু একা দাদুবাড়ি গেলাম । আমার হাতঘড়িটা নানুর কাছে রেখে এসেছি । মা'র কাছে ফোন করেছে নানু । নানুর কাছ থেকে ঘড়ি এনে বাসায় যাওয়ার কথা আমার । ভুলোমনা আমার মনে ছিলনা এ কথা । দাদুবাড়িতে সবার সাথে দেখা করে আনন্দে কাটছিল আমার সময় । বুঝিনি মাত্র দুই মাইল দূরে আমার নানু একলা ঘরে বসে আলোকবর্ষের পথ পাড়ি দেবার পথে হেটে যাচ্ছেন । নিঃসঙ্গতা ছাড়া আমরা তাকে আর কিছুই দেইনি অন্তত সে আমাদের যা দিয়েছে তার তুলনায় । তার কিছু চাওয়ার ছিলনা । নানু আমার পথ চেয়ে বসে ছিল । আমি ঘড়ি আনতে যাব । আমার প্রিয় হাতঘড়ি । নানুকে ফোনে জানিয়ে দিলাম আমি যাচ্ছিনা । পরে একসময় ঘড়ি নিয়ে যাব । তিনি কিছু বললেন না । দাদুবাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় এলাম । রাতে ফোন আসে । নানু অসুস্থ । গ্রামের ডাঃ ; বুঝেনি নানু স্ট্রোক করেছেন । ছোটমামা, আমি এম্বুলেন্স সহ বাড়ি যাই । সেখান থেকে হাসপাতালে । বাড়ি থেকে হাত ঘড়িটা নিতে ভুলিনি । পরের ঘটনাগুলো হাসপাতালের স্বাভাবিক ঘটনা । একসময় মনে হয় নানু সেরে উঠছেন । আমার পরীক্ষা শুরু হয় । সমায়টা ব্যস্ত হয়ে উঠে । কেমন কেটেছে তখন বলতে পারবনা । হাসপাতালে নানু, পরীক্ষা প্রস্তুতি । ইত্যাদি, ইত্যাদি । রাজশাহী, ঢাকা, আন্যান্য পরীক্ষা শেষে ভর্তিযুদ্ধে তখন আমি চট্টগ্রাম । পরীক্ষা শেষ হল । ফেরার পালা . . . গন্তব্য জামালপুর । টিকিট কাটলাম ময়মনসিংহের ! সারারাত জার্নি শেষে সকালে সোজা হাসপাতালে । . . . নানুকে শেষ দেখেছিলাম পাঁচ সাত দিন আগে । কেমন যেন বেশি অসুস্থ দেখাল তাকে । তবুও ভাবছি সেরে উঠছে । আমার মাথা তখন জ্যাম হয়ে আছে তাই ঘন্টাখানেক থেকে জামালপুরের রাস্তায় । তারপর . . . . একদিন । ঊনিশ তারিখ । একুশ তারিখের পর থেকে আবার পরীক্ষা . . ব্যস্ততা । ঊনিশ তারিখে হাসপাতালের কেবিনে অনেকেই আছে , মা , এক মামা, ছোট কাকা তাছাড়া আয়া রাখা আছে । আর সারাদিন কেউ না কেউ আসছেই । দুপুরে নানু আমাকে ডাকল । আমি শুনলাম । কিন্তু তখন সাড়া না দিয়ে একটু পর পাশে গিয়ে বসলাম। নানুর হাত ধরে বললাম, "কিছু বলবে ?" কোন জবাব নেই । হাত নেড়ে না করল । ভেবেছিলাম এমনি । . . . . কিন্তু, কি বলতে চেয়েছিল আসলে ??? আমি ভুলে গেছি । . . . . আমি ভুলে গিয়েছি. . . । সন্ধ্যায় বন্ধুর বাসায় গেলাম । হঠাত্ ফোন আসতে থাকল আমার ফোনে । খেতে বসেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি । তারপর রিকসা নিয়ে হাসপাতাল । ত্রিশ মিনিটে আধঘন্টা হয় কিন্তু রিকসায় সেই আধঘন্টা কত মিনিটে হয়েছে আমি বলতে পারব না ! আমাকে বলা হল, নানু দ্বিতীয় তলাতে আছে তবে কোন কক্ষে জানা নেই । দ্বিতীয় তলায় উঠে যেই কক্ষে প্রথম প্রবেশ করি দেখি মা নানুর পাশে বসে । অক্সিজেন মাক্স লাগনো কিন্তু . . . . . . ! মা কাঁদছে । আমি কাঁদিনি । . . . চোঁখে যে জল ছিল তা কান্না নয় । আমার ভালবাসা . . আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার প্রতি । ** তুমি কি বলতে চেয়েছিলে দুপুরে ?? আমি ভুলে গেছি !! . . . . . . আমার প্রিয় হাতঘড়িটা কোথায় ? ঘড়িটা দারুন । বাইরের থেকে আনা । IMPERIAL ব্র্যান্ডের ব্ল্যাক । ব্যবহার কম হয়নি কিন্তু হাতে পুরোনো লাগেনা । গ্লাসে একটা দাগ ও নেই । দাগ পড়েনা । দাম . . . . . একেবারে কম নয় । আমার হাতে দারুন মানায় । কিন্তু ঘড়িটা কোথায় ??? - বাসার টেবিলের ড্রয়ারে । আমার হাতটা খালি । প্রিয় ঘড়িটা ভাল লাগেনা আর . . . . . (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভূতের অস্তিত্ব আছে, কি নেই,সমাধান দিল বিজ্ঞান
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্তের খোজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ অস্তিত্বের খোঁজে
→ "অস্তিত্বে তুমি"
→ অস্তিত্ব
→ "অস্তিত্ব সমীপে" লেখক- Hasibur Rahman ভাই
→ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্ব
→ অস্তিত্বে বসবাস
→ অস্তিত্বের ভয়
→ অস্তিত্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now