বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্পশির্ত ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান LOTFUR ROHMAN (০ পয়েন্ট)

X -ভিতরে আসতে পারি? -হুমম আসেন। বলেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে তাকালো নিলয়। (আনমনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর) -তুমি এখানে?(নিলয়) -জি স্যার আপনিইতো আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। _ওহ সরি আপনিই তাহলে আমাদের নতুন এইচ আর ম্যানেজার? (নিলয়) -জি স্যার। -কতদিন হল যোগ দিয়েছেন?(নিলয়) -গত ৬ মাস। -এর আগে কোথাও কাজ করেছেন?(নিলয়) -না স্যার। -ঠিক আছে যান। আর হ্যা ফাইলটা নিয়ে যান, এরপর যেন এমন ভুল আর না হয়।(নিলয়) -জি স্যার। (বলেই মেয়েটি চলে গেল।) এতক্ষণ যারা কথা বলছিল তাদের পরিচয়টা জেনে নেই আসুন----- নিলয় এর পুরো নাম হল অবাক রহমান নিলয়।একটি গ্রুপ অফ কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার। কোম্পানির কাজে বছরের বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে থাকে। ক্লান্তহীন এক মানুষ নিলয়,যাকে অফিসের সবাই যন্ত্রমানব বলে থাকে। আর মেয়েটির নাম অর্পা আহমেদ।নিলয় যখন দেশের বাইরে ছিল তখন এইচ আর ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিয়েছে।দুজনের বাড়ি জামালপুরে। তবে কি তারা দুজনে পরিচিত??এটা জানতে চলুন সামনে এগিয়ে যাই-- বেশ কয়েক বছর আগের কথা। নিলয় তখন সম্মান ৩য় বর্ষের ছাত্র। এক অদেখা মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় নিলয়। ফেইসবুকে কথা হত সরাটাক্ষণ। মেয়েটা অফ লাইনে থাকলেও নিলয় বুঝতে পারতো।একটা সময় দুজনের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে।নিলয় মেয়েটিকে ভালবেসে নাম দেয় পরী।দুজনের দিন গুলো খুব ভালই চলছিল। নিলয় এবার দেখা করতে চায় পরীর সাথে।যেই ভাবা সেই কাজ, ফোন দেয় পরীকে--- পরী ফোন ধরেই এতক্ষণে মনে পড়ল আমায়? -নাগো আমার বউটাকে সব সময় মনে পড়ে।(নিলয়) -হুমমম ঢং। আর ঢং করতে হবে না। এবার আমার বলধা গার্ডেন কী বলবে সেটা বলুক। (পরী নিলয়কে বলধা গার্ডেন ডাকতো) -পরী বউ চলনা আমরা দেখা করি। (নিলয়) -দেখা করাটা কি খুব জরুরী? (পরী) -হুম।প্লীজ আমার লক্ষী পরী বউ না কর না প্লীজ।(নিলয়) -ঠিক আছে। কাল সকাল ১১টায় দেখা হবে।খুশিতো?(পরী) -হুম অনেক। আমার পরী বউটাকে ভালবাসি অনেক।(নিলয়) -আমিও বাসি তবে এক চিমটি।(পরী) পরদিন সকালে দেখা করে দুজনে। দেখা করার পর অনেক মজা করে দুজনে। নিলয় পরীর সাথে ছবি তুলতে চায়। কিন্তু পরী রাজি হয় না। এরপর পরীকে হোস্টেলে দিয়ে নিলয় বাসায় চলে আসে।সেদিনের পর থেকেই দুজনের মাঝে দূরত্ব বাড়তে থাকে।নিলয় কিছু বললে পরী পরীক্ষার ব্যস্ততা দেখাতো। পরী তখন এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল। তাই নিলয় মেনে নিত সব কষ্ট হলেও।নিলয় বুঝতে পারতো পরী তাকে পছন্দ করেনি। তাই এমন করছে।দিন দিন পরীর সাথে নিলয়ের দূরত্ব বেড়েই চলে। পরীর পরীক্ষা শেষ হলে বাড়ি চলে যায়। আর নিলয়ের ৩য় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসে। ঠিক এমন সময়ই পরী একদিন নিলয়কে ফোন দেয়। বেশ কয়েকবার রিং হবার পর নিলয় ফোনটা ধরে। -কেমন আছো?(নিলয়) -ভাল। আপনাকে কিছু কথা বলার ছিল...(পরী) -হ্যা বল। (নিলয়) -আসলে ফোনে না সরাসরি বলতে চাচ্ছিলাম।সময় করে একটু দেখা করবেন?(পরী) -ঠিক আছে বিকেল ৪টায় প্রথম দিনের জায়গাটাতে এসো।(নিলয়) বলেই ফোনটা কেটে দেয় নিলয়। ঘড়ি দেখে এখনো ৩ঘন্টা ৪০ মিনিট বাকী ৪টা বাজতে। তবুও রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়ে নিলয়। কলেজে আড্ডা দিয়ে ৪০ মিনিট আগেই পুকুড় পাড়ে চলে আসে।আজ অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিল সে। কারণ আজ তার মনটা অনেক ভাল, তার পৃথিবী, তার ভালবাসার পরী তার সাথে নিজে থেকে দেখা করতে আসতেছে।অপেক্ষার প্রহরগুলো শেষ হতে চায় না, খুবই বিরক্তিকর। কিন্তু নিলয়ের কাছে মনে হচ্ছে শত বিরক্তিকর হলেও, সে হাজার বছর অপেক্ষা করতে রাজি।সকল অপক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরী আসল ২০ মিনিট পর। -কেমন আছো?(নিলয়) -শুনেন এত কথা বলার জন্য এখানে আসিনি। আপনি আমাকে ভুলে যান।আমার চলার পথ থেকে সরে যান।(পরী) -ঠিক আছে।ভুলতে পারব কিনা জানি না, তবে তোমার পথ থেকে সরে যাব আমি। কিন্তু আমার দোষটা কি বলবে?(নিলয়) -আপনাকে আমার ভাল লাগে না। আপনার প্রতি আমার কোন ফিলিংস কাজ করে না। আর কিইবা আছে আপনার? চাললচুলাহীন একটা ছেলে আপনি,আপনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে আমি আমার জীবন নষ্ট ককরতে পারব না।সো গুড বাই।আর হ্যা উল্টা পাল্টা কিছু করবেন না। পরীক্ষা গুলো দিবেন। যদি আমায় একটুও ভালবেসে থাকেন।(পরী) -জীবনটা আমার আমাকেই ভাবতে দাও। চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।(নিলয়) -কি বললাম শুনেন নাই? আমার পথ থেকে সরে যান। ভাল থাকবেন। বিদায়। বলেই চলে গেল পরী। নিলয় শুধু জল ভরা চোখে তাকিয়ে রইল সেদিকে। পরী সেদিন আর পিছু ফিরে চায়নি। চাইলে হয়তো দেখতে পারতো কোন পরাজিত প্রেমিকের অঝোর কান্না। তারপর ৩য় বর্ষ পরীক্ষাটা শেষ করেই নিলয় চলে এসেছিল এই স্বপ্নের ঢাকাতে।প্রথম প্রথম খুব মনমরা হয়ে থাকতো। নিজেকে শেষ করার চেষ্টাও করেছে বেশ কয়েকবার। একবার তো চলেই যেতে চেয়েছিল।কিন্তু বন্ধুদের জন্য তা পারেনি। সময় মত হাসপাতালে নেওয়ার কারণে বেঁচে যায় নিলয়। তারপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে নিলয়। হয়ে যায় এক যন্ত্রমানব। যার মাঝে ফিলিংস বলে কিছু নেই।ওর ফিলিংস বলতে শুধুই টাকা। আজ হয়তো এই যন্ত্রমানবের ফিলিংস কিছুটা জেগে উঠেছে। তাই প্রথম দেখাতে তুমি বলে ডেকেছে। নিলয় অফিসের পিয়নকেও আপনি বলেই ডাকেন।আর একটা বিস্ময়কর ঘটনা হল এই প্রথম কেউ চোখে জল ছাড়া তার চেম্বার থেকে বের হল।আসলে কাজের ভুল না হলে নিলয় কাউকে তার চেম্বারে ডাকে না।তার বিরুদ্ধে কেউ বিচার দিতেও সাহস করে না। কারণ যে বিচার দিবে চেয়ারম্যান স্যার তাকেই চাকুরী থেকে বিদায় করেন। চেয়ারম্যান স্যারের অবিবাহিত কোন মেয়ে নাই, থাকলে আমি নিশ্চিত এ রোবটটাকেই জামাই করতেন। নিলয়কে নিজের ছেলের মত ভালবাসেন তিনি। আজ অফিসের অনেকেই মনে মনে খুশি। কারণ যন্ত্রমানব আজ সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছে এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। নতুন খবর হল এখন থেকে সে সিঙ্গাপুর অফিসেই স্থায়ীভাবে বসবে। তাকে প্রমোশন দিয়ে সিঙ্গাপুর অফিসের এমডি করা হয়েছে।অফিসের সবাই খুশি হলেও আমি খুশি না। কারণ আমি এই লোকটার সাথেই থাকতাম। উনিই আমাকে এই চাকুরীটা দিয়েছেন। যার ফলে নিজের পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারছি।আর বাড়িতেও টাকা দিতে পারি কিছু।উনি চলে গেলেও আমার থাকার জায়গাটা তার বাসাতেই।না এখন আর তার নয় এটা আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। বাবা মা কেউ নেই। আত্মীয় স্বজনরা সব স্বার্থপর তাই তাদের দেখতে পারেন না। আমাকে ছোট ভাই করে দিয়ে গেলেন অপ্রত্যাশিত কিছু।আজ সন্ধ্যা ৬ টায় চলে যাবে এই যন্ত্রমানব। কিন্তু আমি বুঝতেছি না হঠাৎ করেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল??কিছুতেই হিসেব মিলতেছে না। এয়ারপোর্টে বসে আছি আমি ও নিলয় ভাই। বাবু........ -হুম ভাই।(আমি) -কিরে মন খারাপ? -হুমম ভাই।হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন?(আমি) -ধুর পাগলা আমি আবার আসবতো।ভাইকে রেখে যাচ্ছিতো।সময় পেলেই আসব। আর হ্যা এই খাম দুটো রাখ। আমি যখন উড়াল দিব তখন পড়বি ভিতরের কাগজ দুটো।তারটা তাকে পৌছে দিবি। -জি ভাই।(আমি) বাসায় ফেরার পথে খাম দুটো থেকে কাগজ দুটো বের করলাম। একটা আমার প্রমোশন লেটার। আর অন্যটাতে লেখা --- "আমার ভালবাসা থাক সারাজীবন অস্পর্শিত, নাইবা জাগাতে পারলো কোন ফিলিংস। তোমার কথা আজও রাখলাম- সরে গেলাম তোমার পথ থেকে। বিদায়ক্ষণে বলব ভালবাসি পরী বউ অনেক।" আপনারা কি বুঝেছেন ২য় খামটা কাকে দিতে হবে? আমি কিন্তু বুঝে গেছি এই খামটা কাকে দিতে হবে। আমি চললাম তার জিনিস তাকে দিতে....... উৎসর্গঃ আমার কল্পনার পরীকে। (হেটার্সদের বলি এটা কিন্তু কাল্পনিক। বাস্তবে প্রয়োগের কোন দরকার নাই।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অস্পশির্ত ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now