বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় ১ মাস পর আজ কাপড় কাচবো।আমি প্রতি মাসে ১ বারই কাপড় কাচি।আর সারা মাস ধরে যত কাপড় আছে সব গুলা ব্যবহার করি।সবগুলা ময়লা হলে তারপর একসাথে কেচে দেই।কতগুলা কাচতে হবে হিসাব করতে লাগলাম।১১ টা প্যান্ট ৮ টা শার্ট আর ১০ টা টিশার্ট।ভাবছেন আমি কেন কাচবো।একা একা থাকতে গেলে তো এসব করতেই হবে।কি আর করা। অনেক কষ্টে কাপড় গুলা কাচলাম।এখন শুকাতে দেবার জন্য ছাদে উঠলাম।আর মাত্র একটা প্যান্ট দড়িতে দিতে পারলেই শেষ কিন্তু এর মধ্যে হটাৎ একটা ইটের টুকরা এসে লাগলো মাথায়।মনে হলো আমি জ্ঞান হারাচ্ছি।যতটুকু মনে আছে তাতে দেখলাম যে একটা মেয়ে পাশের বাসা থেকে দৌড়ে আসতে লাগলো।তারপর আর কিছুই মনে নেই।
.
জ্ঞান ফিরতেই দেখি আসি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।মাথায় ব্যানডেস করা।
-যাক এতক্ষনে তাহলে আপনার জ্ঞান ফিরলো।আমি তো ভয় পাচ্ছিলাম আপনি আবার মরে টরে গেলেন কি না?
.
তাকিয়ে দেখি সেই মেয়েটা।আমার মনে হয় এই মেয়েটাই ঢ়িল মেরেছে।
-আপনি তাহলে ঢিল ছুড়ে মেরেছিলেন?
মেয়েটা একটু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো।মনে হয় ধরা পড়ে গেছে। মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো
-হ্যা।কিন্তু ইচ্ছা করে মারিনি
-তাহলে কি জন্য মেরেছিলেন?
-আমার বোনের সাথে বাজি ধরে মেরেছিরাম।যদি আপনার গায়ে ঢিলটা লাগাতে পারি তো আমি বাজিটা জিতে যাবো।
.
আল্লাহ এই মেয়ে বলে কি।আমি তো পুরা হা হয়ে গেলাম।হা করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি
.
-এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকবেন না।মুখে মশা মাছি ঢুকবে।
-বাজি ধরার জন্য আপনি একজনকে আহত করবেন?
-আরে আমি কি জানতাম না কি যে আপনি সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন।অবশ্য জানলে ও মারতাম কারন আমার বাজিটা জিততে হতো।
আমার জন্য না হয় একটু আহত হলেন।
আচ্ছা এখন আমি আসি।পরে আবার আসবো।
মেয়েটা আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই হাটা শুরু করলো।আর আমি হা করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।মাথায় তার ছেড়া আছে মেয়েটার নিশ্চিত।এই মেয়ে থেকে একটু দূরে দূরে থাকতে হবে।
.
...২
.
তিন চার দিন তেমন রুম থেকে বের হয়নি।আজকে কলেজে যাবো তার জন্য বের হলাম।কলেজে খুব বেশি দূরে নয়।তাই হেটেই কলেজে যাই। ফুটপাত দিয়ে হাটছিলাম।হটাত করে একটা গাড়ি এসে আমাকে ধাক্কা দিলো। তারপর আর কিছু মনে নেই।
মনে হলো কেউ আমার চোখে পানি ছিটাচ্ছে।চোখ খুলে দেখি আমি রাস্তায় শুয়ে আছি।আর মেয়েটা আমার সামনে দাড়ানো।অনেক কষ্টে উঠে দাড়ালাম।
মনে হলো মেয়েটা আমাকে সাহায্য করতে এসেছে।
-অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
.
মেয়েটা চোখ বড় বড় করে তাকালো।মনে হলো সপ্তম আশ্চর্য দেখছে।
-আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন কেন
-আপনিই তো আমাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসলেন।এখানে এত মানুষ থাকতে আপনিই এগিয়ে আসলেন
.
মেয়েটা এবার মাথা চুলকাতে শুরু করলো।তারপর মাথা নিচু করে বললো আসলে আমার গাড়িটাই আপনাকে ধাক্কা মেরেছে।
.
এবার আমি কি বলবো বা কি বলা উচিত তাই ব্রেনে সার্চ করতে নেমে পড়লাম।আর মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলাম।মেয়েটা এখনো মাথা নিচু করে আছে।আর নিজে নিজে কি যেন বলছে।
.
-কি বলছেন এত আস্তে আস্তে।একটু জোরে বলেন আমি শুনতে পাচ্ছিনা।
.
মেয়েটা তবুও আস্তে আস্তে বলতে থাকলে।আর বাম হাতের দুটো আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলটা একবার ধরছে আবার ছেড়ে দিচ্ছে।মেয়েটার এমন কান্ড দেখে আমি হেসে ফেললাম।
.
মেয়েটা বড় বগ চোখ করে আমার দিকে তাকালো।তারপর বললো
-আসলে আমি ইচ্ছা করে মারিনি। একটা গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলছি।
-আচ্ছা আপনি কি গিনিপিগ বানানোর জন্য আর কাউকেই পাননা?আমাকেই কি সব সময় চোখে পড়ে আপনার।
-আসলে আপনাকে দেখলেই আমার গিনিপিগ বানাতে ইচ্ছা হয়।কিন্তু এবার ইচ্ছা করে কিরিনি।আই সয়ার।
-হুম বুঝলাম।ওকে যান এবারের মতো মাফ করে দিলাম।এখন থেকে একটুু দেখে শুনে গাড়ি চালাবেন।
-ওকে ঠিক আছে।
.
ভেবেছিলাম হয়তো আমাকে গাড়িতে উঠতে বলবে।কোথায় যাবো জানতে চাইবে।তারপর সেখানে আমাকে নামিয়ে দেবে।কিন্তু সে গুড়ে বালি।মেয়েটা সোজা গিয়ে গাড়িতে বসলো।তারপর চলে গেল।
.
....৩
.
কয়েকদিন পর বাইরে যাচ্ছি।রাস্তাটা বাসার পেছন দিয়ে।অনেকটা নির্জন নিরিবিলি পরিবেশ।পুকুরের ঠিক পাশ দিয়ে।সামনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা দৌড়ে আসছে।আসন্ন বিপদ দেখে আমি একটু সাইডে সরে এলাম। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। মেয়েটা এসে সোজা আমার সাথে ধাক্কা খেল।তারপর দুজন সোজা পুকুরে।আমি আবার সাতার জানিনা।কিছুক্ষন পানিকে হাতপা ছুড়লাম।কিন্তু তাতে কোন কাজ হলো না।তারপর আর কিছু মনে নেই।
.
জ্ঞান ফিরতেই মনে হলো কেউ আমার লিপে লিপ দিয়ে আমার ভিতরে অক্সিজেন দিচ্ছে।মেয়েটার মুখ আমার মুখ থেকে এখন মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরে।আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি।এত কাছ থেকে কখনও কাউকে দেখিনি।মনে হলো মেয়েটার ঠোট কাপছে।কারো চোখে পলক নেই।আমি আমার ঠোট দুটো একটু এগিয়ে দিলাম অন্য ঠোটজোড়ার নাগাল পেতে। কয়েক মিলিমিটার দূরত্বটা এখন শূন্য হয়ে গেল।সময়টা কিছুসময়ের জন্য থমকে গেল।মনে হলো শুধুমাত্র আমরা দুজনই এই পৃথিবীতে অবস্থান করছি।এভাবে কতটা সময় কেটে গেল তা কারো খেয়াল নেই।
.
হাটাত পাশে একটা শব্দ হলো।আমরা দুজনই কেপে উঠলাম।তারপর মেয়েটা আমার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।কিন্তু আমি এখনো ঘরের মধ্যে মধ্যে আছি।মেয়েটা কিছু বলছে।কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। শুধু মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি।মেয়েটা আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। আমি সব কিছুই দেখছি কিন্তু কিছুই বলতে পারছি না।আস্তে আস্তে আমার দৃষ্টির বাহিরে চলে গেল
.
....৪
.
আজ সারাটা সময় আমার মাথায় শুধু আজকের ঘটনাটা ঘুরপাক খেতে লাগলো।প্রথম থেকে সবকিছু আবার ভাবতে ছিলাম।রাত ১:৫৭
মনে হলো কেউ আমার জানালায় ঢিল মারলো।মনের ভুল ভেবে পাত্তা দিলাম না।
কিছুক্ষন পর আবার মারলো।কে মারছে দেখার জন্য বাইরে এলাম।হটাত কেউ আমার হাত ধরে দিয়ে এক পাশে নিয়ে গেল।অন্ধকারে মুখটা বুঝতে পারলাম না তবে মনে হলো মেয়েটাই হবে।
হ্যা সেই মেয়েটাই।
আমার কানেকানে বললো
-আমার গিনিপিগ হবে সারা জীবনের জন্য?
-এতবার গিনিপিগ বানিয়ে সাধ মেটে নি?
-নাহ।তার জন্যই তো সারা জীবনের জন্য বানাতে চাই।ওকে তোমাকে দুটো অপশন দেই।যে কোন একটা চুস করবা
-ওকে।দাও।
-আমার গিরিপিগ হবে সারা জীবনের জন্য?
অথবা, সারা জীবনের জন্য আমার গিনিপিগ হবে?
.
আমি আবার হা করে তাকিয়ে থাকলাম মেয়েটার দিকে।মেয়েটা আস্তে আস্তে আমার দিকে এগিয়ে আসলো।আমার দুই পায়ের পাতার উপর ওর দুইটা পা দিয়ে একটু উচু হয়ে আমার দিকে তাকালো।মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরত্ব আমাদের মধ্যে।মেয়েটা আরও এগিয়ে আসতে থাকলো আমার দিকে।আসন্ন বিপদের কথা ভেবে আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now