বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসময়ের প্রেম।

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অসময়ের প্রেম। --সাবিকুন নাহার কেয়া জয়ার সামনে ফাইনাল পরীক্ষা । নিশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই । সারাবছর না পড়লে যা হয়, এই নোট নেই, সেই লেকচার নেই, ঐ টিউটোরিয়ালে এবসেন্ট ব্লা..ব্লা.. ব্লা...এখন এসব কমপ্লিট করতে হিমসিম খাচ্ছে সে । এছাড়া তো একগাদা পড়া বাকিই আছে! এর মাঝে তার ক্লোজ বান্ধবী রুমা ফোন দিয়ে বললো, হলে এডমিট এসে গেছে, নিয়ে যা ।" কিন্তু এডমিট নিতে গেলে আবার লাইব্রেরী ছাড়পত্র লাগে, সেটাও নেয়া হয়নি ! ধুররর...এত টেনশন একসাথে ভাললাগেনা ।এসব ভেবে পড়া ছেড়ে উঠে গেলো জয়া । নাহ...কাল একবার ক্যাম্পাস যেতেই হবে তার । রা.বি তে এখন সব বিভাগেই পরীক্ষার ধুম । সব এডমিট আর ছাড়পত্র নিতে ছোটাছুটি করছে...বাস থেকে নেমে এসবই দেখছিল জয়া ।এমন সময় পেছন থেকে রুমা ডাক দিল । লাইব্রেরীর "ধার শাখা"তে ঢুকতেই দুজনে দেখলো ব্যাজায় রকমের ভীড় । তবুও ঠেলেঠুলে কোন রকমে ভেতরে গেলো । সবাই ডেস্কের উপর ঝুকে আছে অর্থ্যাত্ দরখাস্ত লিখছে । ওরা দুজনে একটু জায়গা করে নিল দরখাস্ত লিখবে বলে । কারন ওটা ছাড়া ছাড়পত্র পাওয়া যাবে না । জয়া এক্সট্রা লুজ পেজ না আনায় একটা খাতা বের করলো লেখার জন্য । এমন সময় রুমা বললো,"ইয়ে..জয়া একটা পেজ দেতো, আমি না খাতা কলম কিছুই আনি নি । " জয়া একটু কপট বিরক্তির ভাব করে, পেজ ও কলম এগিয়ে দিল । একটু পর কোত্থেকে তাদের এক ক্লাসমেট উদয় হয়ে হন্তদন্ত ভাবে বললো, "জলদি জলদি আমাকেও একটা পেজ দেতো ।ছাড়পত্রটা নিয়েই যাই । " এবার জয়া হাসতে হাসতে বললো, "তোরা বরং ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যা ।আর আমি এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পেজ সাপ্লাই দেই সবাইকে ।" ওর কথা শুনে আসে পাশের সবাই হেসে উঠলো । একটু পর জয়া খেয়াল করলো, তার পাশে দাড়িয়ে একটা ছেলে তার দিকে তাকিয়ে আছে । জয়াও মুখ তুলে ছেলেটাকে ভালকরে দেখলো, কেমন যেনো মুখটা কাচুমাচু করে রেখেছে, কিছু বলতে চায় কিন্তু পারছেনা ! "কি....পেজ লাগবে ?", জয়ার প্রশ্ন । "না...মানে...জ্বী আপু", লজ্জিত ভঙ্গিতে বললো ছেলেটা । "হুম এই নাও ।তুমি করে বললাম কারন তোমাকে জুনিয়র মনে হচ্ছে",বলতে বলতে একটা পেজ এগিয়ে দিল ছেলেটার দিকে । "না আপু সমস্যা নাই কারন আমি কেবল ২য় বর্ষে পড়ি । সামনে পরীক্ষা দেবো " ছেলেটি বললো । "আচ্ছা চলি" বলে জয়া ছাড়পত্র নিতে এগুলো অমনি ছেলেটার ডাক,"আপু কলমটা....।" "এ বাবা তুমি কলমটাও আনো নি ? তবে এই নাও ।" এরপর কলমের অপেক্ষা না করে চলে গেল জয়া । জয়া লাইব্রেরি থেকে বের হবে, এমন সময় সেই ছেলে কোথা থেকে দৌড়ে এসে, হাপাতে হাপাতে কলমটা এগিয়ে দিল । জয়া একটু মিষ্টি করে হেসে বললো,"আরে লাগবেনা ।ওটা তোমার কাছেই রেখে দাও।" ছেলেটি কয়েকবার জোর করে হাল ছেড়ে দিল । -তা নাম কি ? কোন ডিপার্টমেন্টে পড়া হয় ? -আমি জারিফ আর পড়ি ফামের্সীতে । -হুম ।আমি জয়া ।অর্থনীতি ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি ।ওকে আজ চলি । একথা বলেই জারিফের চোখের সামনে দিয়ে আস্তে আস্তে ভীড়ে মিলিয়ে গেলো ।তবে নিজের অজান্তে যা রেখে গেল তা অমূল্য জারিফের কাছে । **** জারিফ ছেলেটা খুব আড্ডা বাজ ।সারাদিন ফেসবুক,গল্প,ঘোরাঘুরি¬ এসব নিয়েই মহাব্যস্ত সে । তবে ইদানিং সে বড় চুপচাপ । আগে যে জারিফ আড্ডার মধ্যমনি আজ সে অমনোযোগী শ্রোতা । কারন একটাই, ঐ টানাটানা চোখ, রেশম কালো দীর্ঘ বেনী, অকৃত্রিম হাসি....এসবই তাকে পাগল করে রেখেছে । তবে লজ্জায় মনের কথা কারো সাথে শেয়ার করতেও পারছেনা ।পাছে কেউ তার ভাল লাগাকে পাগলামী ভেবে উপহাস করে ! *** জারিফ ও জয়া উভয়ের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে । কাকতালীয় ভাবে সেদিন জারিফ ও জয়া দুজনারই পরীক্ষা ছিল । মেস থেকে হন্তদন্ত হয়ে বের হবার সময় বেচারা জারিফ মানিব্যাগটা ফেলে চলে আসে । যেটা টের পায় কাজলা গেটে রিকসা থেকে নামার সময় ! এমনিতে আর মাত্র ১৫মিনিট হাতে তার উপর মানিব্যাগটা নেই । নিজের উপর মহাবিরক্ত হয়ে রিকসাওয়ালাকে বললো,"ইয়ে মামা...মানিব্যাগটা রুমে ফেলে এসছি ।কি করি বলেনতো ?" এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন বললো,"ভাড়া কত মামা ? " তারপর ভাড়ার পরিমান শুনে তা মিটিয়ে দিয়ে জারিফের দিকে তাকিয়ে বললো, "এই ছেলে তুমি এত মন ভুলো কেনো ?" কিছুক্ষন আগ থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনায় জারিফ কেবল বোবা দর্শক হয়ে থেকেছে, কিছু বলতে চেয়েও কিছু বলতে পারেনি । কেবলই তার মুগ্ধ দর্শন ছিল ঐ মানুষটির দিকে । কিন্তু এবার সম্বিত ফিরে পেলো । "ইয়ে মানে পরীক্ষার টেনশনে সব গোলমাল করে ফেলেছি ।তাই আর কি ",মাথা চুলকে কোনরকমে জবাব দেয় সে । আসলে এভাবে এই পরিস্থিতিতে সে আবার জয়াকে দেখবে ভাবেনি ।তাই কিছুটা বিস্ময়ের ভাব তার থেকেই গেছিল । তারপর নিরবতা ভেঙে জয়া বলে, "তা পরীক্ষা কি এখানে দাড়িয়ে থেকেই দেবে, না পরীক্ষার হলে যাবে ? " তারপর আবার সেই ভুবন মাতানো বাঁকা ঠোঁটের হাসি । "জ্বী যাবো ।চলেন একসাথেই যাই ।", জারিফের ছোট্ট উত্তর । -একটা কথা বলি ? -বলো । -আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে পারি ? -জয়া কবির লিখে সার্চ দিও । -থ্যাংকস । - হুমম ।এবার চলো । নয়তো আজ আর পরীক্ষা দিতে হবে না । *** মাসখানেক পার হয়ে গেছে । দুজনেরই পরীক্ষা প্রায় শেষ । এরমাঝে জারিফে জয়াকে ফেবুতে এড দিয়েছে । টুকটাক কথাও হয়েছে । তবে বিশেষ কিছু না । তবে এখন প্রায় নিয়মিত । জারিফতো প্রায় সারাদিন জয়ার অপেক্ষায় ফেসবুকে থাকে । আর জয়াও বেশ গুরুত্ব দেয় ওকে । তবে শ্রেফ বন্ধু হিসেবে ।জয়া আদর করে ওকে 'পল্টু' বলে ডাকে ।যা জারিফের খুউউউব পছন্দের নাম । একরাতে ওদের চ্যাটে কথা হচ্ছিল । জারিফ আর জয়া নিজেদের পছন্দ অপছন্দ নিয়ে কথা বলছিল । জারিফ জানায় সে গান গাইতে পছন্দ করে । জয়া শুনে খুশী হয়ে বলে, "পল্টু আমায় গান শোনাবা ?" জারিফ এবার বলে, "চ্যাটে কি গান শোনানো যায় নাকি ?" জয়া বুঝতে পারে জারিফ কি ইচ্ছা । তাই সে জারিফকে বলে,"০১৭...তারপর ?" জারিফ আনন্দে আত্মহারা ।তার এতদিনের সুপ্ত ইচ্ছা আজ পূরন হচ্ছে ।কারন এতদিন সে মনে প্রানে চাইলেও জয়ার কাছে সঙ্কোচে ফোন নম্বর চায়নি । পাছে তাকে অপমান করে কথা বন্ধ করে দেয়, সেই ভয়ে । তারপর ? তারপর ক্যাম্পাসে একসাথে ঘোরা, আড্ডা দেয়া, ফুচকা খাওয়া, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা ইত্যাদি ইত্যাদি । *** ইদানিং জয়া জারিফকে ছাড়া অন্ধ প্রায় । নিজের অজান্তে কখন যে জারিফকে এতটা ভালবেসে ফেলেছে, সেটা জয়া বুঝতেই পারেনি ! আর সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত সব কাজেই জারিফের মতামত চাই, জয়ার । আর জারিফ..সেতো প্রথম থেকেই জয়া ভক্ত! ***** ২ বছর পরের কথা । জয়া একটি সরকারী ব্যাংকে মাত্র জয়েন করেছে । আর জারিফ অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে । দুজনের সর্ম্পক ঠিক আগের মতই আছে । কারন ওদের মধ্যকার কেমিস্ট্রী অন্য সবার থেকে আলাদা । অনেকেই ওদের সর্ম্পকের বোঝাপরা দেখে অবাক হয় । কেউ কেউ হিংসেও করে । তবে ওরা ওদের মতই । জয়ার অপেক্ষা আর ভালবাসা কেবল জারিফের জন্যই । আর জারিফের পথচলা, একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যাওয়া জয়ার জন্যই । স্রোতের বিপরীতে যেয়ে কয়জন ভাল থাকতে পারে ? ওরা ভাগ্যবান বলেই হয়তো পেরেছে । তাই জয়া ও জারিফেরা ভাল থাকুক । সুখে থাকুক ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসময়ের প্রেম।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now