বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকে প্রায় একটি সপ্তাহ হয়ে গেল,সেদিন যাকে এত কষ্ট পেতে দেখেছিলাম সে যে এতো শান্ত হয়ে যাবে ভাবিনি।
তবে সেই দিন এর পর থেকে উনার সামনে আর যাইনি।আজ উনাকে রিলিজ দিচ্ছে ভাবছি শেষ বারের মত তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো। এসব যখন ভাবছিলাম ঠিক তখনি ,,,,,,
নিধির এর বোন: বোন!
আমি:জি আপু?
নিধির এর বোন:আমরা তো চলে যাচ্ছি,তবে তোমাকে যতবার ধন্যবাদ জানাবো ততবারই কম পড়ে যাবে????????????
আমি:না আপি ,এসব বলে আমাকে আর ছোট করবেন না। আমি আপনাদের রিলিজ এর প্রসিডিওর গুলা কমপ্লিট করে দিচ্ছি।
উনার ফাইল গুলো শেষবার এর মত ওকে করে দিয়ে তার সামনে গেলাম।
আমি:আসতে পারি?
উনি অন্য দিকে মুখ করে বসে আছে।অনেক ইতস্তত লাগছে ,তারপর ও বলে উঠলাম,,,,
আমি: আমি কি একটু উনার সাথে কথা বলতে পারি?
উনারা সবাই চলে গেলেন,এখন শুধু উনি আর আমি।
উনি কিছু বলছে না ,আমার দিকে তাকাচ্ছে ও না।অন্যদিকে ফিরে রয়েছে।শেষমেশ আমিই নিরবতা ভেঙে তাকে বললাম,,,,,
আমি:কেমন আছেন?
নিধির:বেঁচে আছি।আপনি কি কিছু বলবেন?
আমি:আপনাকে কিছু বলার ছিল,তবে কথাটা বলার পর আপনার কি আচরণ হবে তা
আমি জেনেই বলছি,
I am sorry।
সেদিন রাতের সব কিছু উনাকে খুলে বললাম,তারপর আমাকে থামিয়ে দিয়ে ,,,
নিধির: আপনিই তাহলে সেই মেয়েটি?
উনাকে আমি উত্তর দিতে যাবো ,তাকিয়ে দেখি তার চোখ ছলছল করছে,আর এবার তার চোখ লাল হয়ে গেছে।আর তার চোখ দেখে আমি আমার চোখ নিচে নামিয়ে ফেলি।
হঠাৎ উনি আমার গলা চেপে ধরলেন।উনার মুখটা আমার কানের কাছে নিয়ে,,,,
নিধির:আমার প্রথম ভুল তোমার মত মেয়েকে বাঁচানো,,,,আমার দ্বিতীয় ভুল তোমার মতো খুনীর রক্ত আমার শরীরে প্রবেশ করানো।আজকে থেকে, এখন থেকে, আমার নাম এর সাথে তোমার মত খুনীর নামটি জুড়ে দিলাম।আমি জানি তোমার রক্ত আমি আমার শরীর থেকে বের করতে পারবো না,তবে তোমার এই রক্ত দেয়া আমি বৃথা যেতে দিবনা।উনি আমার গলাটা ছেড়ে দিলেন এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিলেন।কেনো জানি আমি কিছুই বলতে পারছি না,শুধু চুপ করে আছি। খালি মনে হচ্ছে কারো প্রাণ গিয়েছে আমার জন্য।কেও আমার জন্য তার ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়েছে।নিধির চলে গেলো,আমাকে তার জীবনের সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ বানিয়ে।আমার কষ্ট হচ্ছে,বিবেক আমাকে তাড়া করে বেরাচ্ছে।নিধরের বেড এ বসে আমি কাদছি,ঠিক তখনই,,,,
ডক্টর:মিম?
আমি:জি স্যার,,
ডক্টর:নিধির চৌধুরী ফোন দিয়েছিলেন।উনি বললো উনার সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সার্বিক অবস্থা তুমি উনার বাসা থেকে প্রযোলচ্ণা করো।
আমি:জি স্যার,আমি যাবো ।
তার পরের দিন সকাল বেলা আমি তাদের বাসায় যাই। গিয়ে দেখি আমার হসপিটাল থেকে দেওয়া ফাইল এমন কি মেডিসিন গুলো মাটিতে পরে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে কেও এগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।যখন এসব দেখছিলাম কোনো রুম থেকে চিল্লাচিল্লি এর আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল।আমি সামনে এগুলাম আর দেখি আপু রুম এর দরজার সামনে দাড়িয়ে চিল্লাচ্ছে,,,,,,,
নিধির এর বোন :নিধির,,,,নিধির,,,,,ওষুধ টা কেনো ফেলে দিলি।ওষুধ না খেলে তো তুই ভালো হবি না।
বুঝতে আর বাকি নেই কি হয়েছিল।
আমি:আপু,আমি দেখছি।
আপু চলে গেলো,দরজার পাশে এক মিনিট এর মত দাড়িয়ে রয়েছি, জানি না কি বলব।দরজায় নক করলাম,,,,,
আমি:এই যে শুনছেন,,,
উনি দরজা খুলে দিল সাথে সাথে।
নিধির:মানুষ কতো নির্লজ্জ হলে চলে আসে।অবশ্য ভালই হয়েছে যে তুমি এসে পড়েছো।কমসে কম তোমার নির্লজ্জতার সীমারেখা টা দেখতে তো পেলাম।
কেনো জানি তার কথা শুনে নিজেকে আর বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছে করছে না।কখনও ভাবিনি কেও আমাকে এতটাও ঘৃণা করতে পারে।
আমি : আপনি কী ওষুধ খেয়েছিলেন?ওষুধ এর সাথে রাগ দেখানো আমি মনে করি বোকামি।
নিধির:ভূতের মুখে রাম নাম তাই না! মানুষ কে খুন করে আবার মানুষদের সহানুভূতি দেখানো।ব্যাপার টা কি জমলো?
আমি:আমি কি করতে পারি আপনার জন্য বলুন।আমি চাই না আপনার ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকতে।
নিধির:আপনার সাথে রিলেশন এ যেতে চাই।
(চলবে)
(ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থী)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now