বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্যাপ্টেন ফিরোজ,
একজন নেভির উচ্চ
পর্যায়ের কর্মকর্তা।
কিছুক্ষণ আগেই নেভির
একটি জাহাজ থেকে
বাংলাদেশ
সমুদ্রবন্দরে এসে পাড়ি
জমায়।
আর সেই নেভি টিম'টির
সেকেন্ড কমান্ডো
হিসেবেই নিয়োগ
ছিলেন মিঃ ফিরোজ।
এখন তার বাড়ী ফেরার
পালা।
অবশ্য তার যত্রা থেকে
ফেরার কথা ছিলো আরো
একমাস পরে কোনো এক
কারনেই নির্ধারিত
সময়ের আগেই যাত্রা
শেষ হয়।
তবে আবার কিছুদিনের
মধ্যেই তাকে জাহাজে
ফিরতে হবে।
এখন সে, খুশী মনে
গাড়ীর ছিটে হেলান
দিয়ে,চোখটা ইকটু বন্ধ
করে ভাবছেন সে,তার
প্রিয়তমা স্ত্রী'কে
কিভাবে চমকে দিবেন!
তিনমাস আগে যখন মিঃ
ফিরোজ এই ট্যুরে যান
তখন কি যে কেঁদে ছিলো
মেয়েটা, কে দেখে তার
কান্না! কাঁদতে কাঁদতে
মিঃ ফিরোজে
ইউনিফরমের অনেকটাই
ভিজিয়ে দিয়েছিলো,
তার তা দেখে মিঃ
ফিরোজের সিনিয়র
অফিসার বলেছিলো
"মিঃ ফিরোজ, আপনার
ইউনিফরমের সমুদ্র
দেখে জাহাজের নিচে
যেই সমুদ্র আছে
সেটাকে আমার খাল
মনে হচ্ছে"
মিঃ ফিরোজও মুখে
হাল্কা হাসি নিয়ে
বললেন "তাহলে বুঝুন
স্যার, আমি কতো ভালো
সাতারু! এখানেও
সমুদ্রে থাকি আর
বাড়ীতে তো আপনার
বউমা আছেই।"
কথাটা শুনে অফিসার
হাসতে হাসতে বললেন
"আরে নতুন বিয়ে
করেছেন তো, দু'এক বছর
যেতে দিন সমুদ্র আর
সমুদ্র থাকবে না কুয়োয়
পরিণত হবে"।
হঠাত ড্রাইভারের
ডাকে মিঃ ফিরোজের
ভ্রম কাটলো "স্যার চলে
এসেছি" ফিরোজ
ড্রাইভারকে বিদায়
দিয়ে পাশের সিটে
রাখা গোলাপ ফুলের
তোরাটা নিয়ে গাড়ী
থেকে নেমে বিল্ডিয়ের
লিফটে উঠে পরলেন।
চার তলায় গিয়েই
নিজের ফ্লাটের
কনিংবেল চাপলেন।
কাজের বুয়া এসে দরজা
খুলে দিলো।
ফিরোজ সোজা বেডরুমে
চলে গেলেন।
একে একে বেডরুম,
রান্নাঘর,বাথরুম,
তারপর ফ্লাটের বাকি
রুম গুলোও দেখে
ফেললেন কিন্তু কোথাও
তিনি তার ওয়াইফ'কে
পেলেন না।
কোথায় যেতে পারে এই
বিকেলবেলা?
কাজের বুয়াকে ডেকে
জিজ্ঞেস করতেই সে
বললো "ছার ম্যাডাম তো
পেরায় দিনই বাইরে
যায়, কই যায় বইলা যায়
না সকালে যায় রাইতে
আহে। মাঝে মইদ্ধে
রাইতেও বাইরে থাহে"
মিঃ ফিরোজ বুয়ার
কথায় তেমন কোনো
সাড়া দিলো না, এককাপ
কফি দিতে বলে সে
বেডরুমে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পরে বুয়া কফি
দিয়ে যায়।
মিঃ ফিরোজের মনের
মধ্যে বিভিন্ন ধরনের
চিন্তা আসছে, তার
স্ত্রী কোথায় যায়? তার
অনুপস্থিতিতে কি সে
অন্যকারো সাথে জরিয়ে
গেছে? নাকি অন্যকিছু?
নাহ আর ভাবতে পারছে
না সে।
ভাবতে গেলেই কেমন
যেন মাথার দুইপাশ
ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পরে বুয়ার
ডাকে চিন্তার জগত
থেকে বেড়িয়ে আসলো
ফিরোজ "সাহেব, আপনের
দোয়া আর সাহায্যে
ময়নার বাপ জেল দিয়া
ছাড়া পাইছে। এহন
হইতে আর কোনো
চুরিচামারি করবো না
কইছে। তাই আমারেও
কইছে বাড়ী যাইতে,
আপনে আইয়া পরছেন
এহন তো আমি যাইতে
পারি?? তয় আমি
আরেকজনরে পাডাইতে
পারি ম্যাডামের
দেহাশুনার লইজ্ঞা,
যদি আপনে কন!"
"যেতে যখন চাইছো না
করবো না। এই তিন
মাসের বেতন পেয়েছো
ঠিক মতো?"
"হয় ছার,ম্যাডাম সব
বেতনই ঠিক মতো
দিছে।"
" আচ্ছা তাহলে কবে
যেতে চাচ্ছো?"
"ছার, ময়নার অনেক
সরিল খারাপ, হের
লাইজ্ঞা তাড়াতাড়ি
যাইতে কইছে, আপনে
যদি অনুমতি দেন
তাইলে আইজকাই যাই।
"আচ্ছা তোমার ম্যাডাম
আসলে তার সাথে দেখা
কইরা যাইও। আর এই
টাকাটা রাখো ময়নার
জন্য কিছু নিয়া যাইও।"
কাজের বুয়া চলে গেলো।
মিঃ ফিরোজ বাথরুমে
গিয়ে ফ্রেস হয়ে
আলমীরা থেকে কাপড়
বেড় করতে গিয়ে কিছু
চিঠি আর উপহার পেলো
আলমীরার মধ্যে সব
গুলোই তার স্ত্রী
আশা'কে কেউ
পাঠিয়েছে। একেক করে
সব চিঠি গুলোই সে
পড়লো। তাতে স্পষ্ট বুঝা
যায় আশার সাথে কোনো
এক লোকের শারীরিক
সম্পর্ক চলছে।
মিঃ ফিরোজ সব চিঠি
আর গিফট গুলো পুড়িয়ে
ফেললো তারপর
বিছানায় শুয়ে দুচোখের
পানি ছেড়ে দিলো।
.
রাতে মিঃ ফিরোজের
প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে
পুলিশ এসে দেখলো মিঃ
ফিরোজের স্ত্রীর
ক্ষতবিক্ষত লাশ
বিছানায় পরে আছে আর
তার পাশেই মিঃ
ফিরোজ অজ্ঞান
অবস্থায়।
ফরেনসিক জানায়
মিসেসে ফিরোজকে
ছুড়ির আঘাতে খুন করা
হয়েছে আর তার খুন
অন্যকেউ করেছে কারণ
মিঃ ফিরোজকে মাথায়
আঘাত করে মারার
চেস্টা করা হিয়েছে
কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে
বেচে যায়।
মিঃ ফিরোজ পুলিশকে
জানায় রাতে সে আর
মিসেস ফিরোজ যখন
ঘুমিয়ে ছিল তখন ঘরে
কারো উপস্থিতি সে
টের পায় আর লাইট
জালানোর আগেই তার
মাথার পিছনে আঘাত
করা হয় তারপর আর কিছু
তার মনে নেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now