বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটা যে মানের সুন্দরী ছিল এ মানের সুন্দরীদের অবশ্য আমার পছন্দ না। গ্রেট বিউটি বলাচলে, আমার গ্রেট বিউটি পছন্দ না। তবু মেয়েটার মোধ্য ভালো লাগার একটা বিষয় ছিল। সেটা তার চুল। . আমি মেয়েটার চুলের প্রেমে পড়েছিলাম। সোজাসুজি ছেড়ে দিলে অনায়াসে কোমর ছাড়িয়ে যেত। কপালের উপর দিয়ে একটুখানি প্রায়ই এসে পড়তো বাম চোখের নিচে। . আমি মাঝেমোধ্য তার বাম চোখের উপর এসে পড়া চুলগুলো সরিয়ে দিতাম। আর ও তখন চোখবন্ধ করে, মুখ বাঁকা করে, নিচের ঠোটের উপর উপরের ঠোটের মৃধু চাপ দিয়ে অদ্ভুত এক ভঙ্গিমায় থাকতো। প্রথম প্রথম এ ভঙ্গিমাটা অদ্ভুত লাগলেও ধীরে ধীরে এ ভঙ্গিমাটাই ওকে ভালোবাসার দ্বিতীয় কারন হয়ে দাড়ায়। . তুমি আমাকে ভালোবাস কেন? একবার এমন একটা প্রশ্ন করেছিলাম তাকে। ও আমায় বলল,, "আমি আলাপ করে দেখি," আমি বললাম 'কার সাথে আলাপ করবা?' ও অনেকটা সহজ ভঙ্গিতে বলেদিল,,,'মনের সাথে!' . মাঝেমোধ্যে ও এমন কবিদের মত কথা বলত। এটা বোধয় ভালো লাগার তৃতীয় কারন ছিল। কিন্তু আমাকে কেন ভালোবাসে এ প্রশ্নটা এখনো নৃতাত্ত্বিকদের গবেষনার বিষয়ই রয়ে গেল। . শেষবার যখন ওকে এপ্রশ্নটা করেছিলাম, ও অনেকটা সিরিয়াস হয়ে বলল, "দেখ, আমি মনকে এ প্রশ্নটা করেছিলাম, মনবলেছে জানে না। আর কখনো জানলে জানাবে। সুতরাং এ প্রশ্নটা আর শুনতে চাই না।" . আমি দ্বিতীয়বার তাকে ঐ প্রশ্নটা করার সাহস পাইনি। কিন্ত আমি তাকে কেন ভালোবাসি, এ বিষয়টার উপর প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে বিস্তর লেকচার শুনিয়েছি। . কোন এক প্রেমিক পুরুষ আমায় বলেছিল, "মেয়েদেরকে প্রেমে মজানোর সহজ উপায় হল, 'যত পার প্রশংসা কর, সে তোমার প্রেমে পড়বেই'।" এ থিওরিটা বোধয় ওর জন্য প্রযোজ্য ছিলনা। তাই ওকে যখনই ভালোবাসার কারন সম্পর্কে লেকচার শুনাতাম তখনই রাজ্যের বিরক্তি তার মাঝে ভর করতো। . নাহ! তার নামটা আর গোপন করা চলে না। সে মেয়েটার নাম 'নীলা'। আমি তাকে 'নীল' বলেই ডাকতাম। আকাশের রঙ নীল। তার মনের আকাশে ভালোবাসার ব্যাপ্তিও ছিল বিশাল ঐ নীল আকাশের মত। আমি ছিলাম সে আকাশের নভোচারী। . সেদিন নীলা গাড়ি থেকে নেমে সোজা আমার দিকেই হেঁটে আসছিল। তার বাম চোখের উপর সেই চুলগুলো উড়োউড়ি করছিল, কোমরের নিচের বেনীদুটি এদিক ওদিক দুলছিল। যখন আমার সামনে এসে দাড়ালো, আমি হাত বাড়িয়ে ছিলাম বামচোখেরর উপরের চুলগুলো সরিয়ে দিতে আর সেই অদ্ভুদ মুখভঙ্গিটা দেখতে। . কিন্ত মাঝপথে আমার হাতটাকে বাধা দিল কোন এক পুরুষালি হাত। বাধা দিলনা ঠিক 'হ্যান্ডশেক' করল। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলল - কেমন আছেন? ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকিয়েই মনে পড়ল কোন এক চৈতালি দিনে এই লোককেই নীলা তার স্বামী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। আমি হকচকিয়ে বললাম - হুম, আপনি? - ভালোই, তো? আপনিতো আমাদের বাড়িতে যেতে পারেন! যান না কেন? পাশ থেকেই নীলা বলে উঠল 'সত্যিই কি তুমি ভালো আছ?' আমি নীলার প্রশ্নের জবাবে ফেল ফেল চোখে শুধু নিরবতাই উপহার দিলাম। ভদ্রলোক আবার বলে উঠলেন,,,,, :-চল, আর আপনি! আমাদের বাড়িতে যাবেন কিন্তু! যাবেন? আমি উত্তরে চোট্ট একটা 'হুম' বলেছিলাম শুধু। . নীলা চলে যাচ্ছিল। একহাতে ব্যাগ অন্যহাত খালি। একবার পেছনে ফিরে তাকাল, চুলগুলো চোখের উপরে তখনো ছিল, বেনীদুটিও দুলে উঠেছিল। শুধু বামচোখের উপরের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে সেই অদ্ভুদ মুখভঙ্গিটাই দেখা হলনা আমার।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প
→ অসমাপ্ত প্রেমের গল্প
→ অসমাপ্ত প্রেমের গল্প
→ কিরনের আলো (একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now