বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিল নিলয়। এলাকার সদ্য বখে যাওয়া কিছু ছেলে থাকে, যারা এলাকার কাউকেই পরোয়া করেনা। নিজের যা ইচ্ছে তাই করে। নিলয় ও তেমন।
নিজেকে টিন এজ মাস্তান হিসেবে এলাকার শীর্ষে তুলার জন্য এর মধ্যেই সে বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছে। সিনিওর এক হাবলা প্রেমিক কে মেরে তক্তা বানিয়ে দিয়েছে। বেচারা ওর ক্রাশের সাথে সদ্য প্রেম শুরু করেছিল! নিলয় জানার পরেই ওর গ্যাং নিয়ে গিয়ে কলেজের মোড়েই ছেলেটাকে পিটিয়ে সোজা বানিয়ে দিয়ে এসেছে। বলেছে, আর কোনদিন অবনীর সাথে দেখলে জ্যান্ত বাড়িতে ফিরতে পারবে না সে! ওহ হ্যাঁ, অবনী নিলয়ের ক্রাশের নাম....
রফিক মামার দোকানটা মোড়ের মুখে! নিলয় ডেইলি ওখানে গিয়ে টুলটায় বসে আয়েশ করে সিগারেট আর চা খায়.. রফিক মামা চা টা বেশ ভাল বানায়। নিলয়ের ধারণা পুরা চট্টগ্রামে রফিক মামার চা টায় সেরা! যদিও, নিলয়ের ধারণা কি সেটা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলে অন্যদের(মনে মনে)!
নিলয় এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে গোল্ডলিফ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবনী আসবে এদিক নিয়ে কিছুক্ষন পরেই। নিলয় আজকে অবনীকে প্রপোজ করবে ভেবে রেখেছে! নার্সারী থেকে একগুচ্ছ গোলাপ এনে সে রফিক মামার দোকানে রেখেছে! হাতের গোল্ডলিফ একের পর এক শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু শাল্লার অবনী আসে না...
"অবনী আফা মনে হয় আজকে আর আইবে না মামা..." রফিক নিলয় কে বলে।।
নিলয় মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে বলে, "আসবে, আসবে! আমি দেখছি পড়তে যেতে তারে! আরেকটা চা দেন। চা খাইতে খাইতে ওয়েট করি..."
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল... অবনী তবুও আসে না। এর মধ্যে ২০ কাপের উপর চা, আর ৪ প্যাকেট গোল্ডলিফ শেষ করে ফেলেছে! নিলয়ের মনে অস্বস্তি লাগছে কেন জানি.. এমনটা হওয়ার কথা না। ওর হিসেবে কখনো ভুল হওয়ার কথা না! কিন্তু, আজ হচ্ছে.. অবনী আসছে না। অস্বস্তি টা ওখানেই!
নিলয় উঠল না তবুও। টুলে বসে একের পর এক চা আর সিগারেট খেয়ে যেতে লাগল! ওর অস্বস্তি বাড়ার সাথে সাথে জেদটাও চেপে বসেছে আরো! দেখা যাক.. আজকে কতক্ষন অবনী না আসে!
রফিক মামা নিলয়ের ধৈর্য দেখে নিজেও দোকান বাঁধলেন না! দোকানে রাখা গুচ্ছ গোলাপগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি আফসোস করে বারবার সে কথাটাই নিলয়কে শোনাতে লাগলেন। নিলয়ের বিরক্ত লাগছে যদিও, কিন্তু তবুও কিছু বলল না তাকে! রফিক মামা লোকটাকে নিলয় পছন্দ করে। মামা সরল মানুষ.. প্রিয় সরল মানুষগুলোকে কড়া কথা বলতে নিলয়ের বাঁধে!
অবশেষে অবনী আসল! অ্যাম্বুলেন্সে করে। লাশ হয়ে... জিইসির মোড়ে রাস্তা পাড় হতে গিয়ে বাস পিষে দিয়েছে অবনীকে! নিলয় এক চমক দেখতে পেরেছিল লাশটা! মাথার ওদিকে কাপড় সরে গেছিল, তাই দেখতে পেয়েছিল সুন্দর একটা মুখ কিভাবে বাসের চাকার চাপে মাংসের লাল টকটকে দলায় পরিণত হয়! অবনীর মা অ্যাম্বুলেন্সে হাহাকার করে কাঁদছিলেন.
এতটুকুই প্রয়োজন ছিল নিলয়ের! মাত্রাতিরিক্ত চা আর সিগারেট খাওয়ার ফলে সে অনেক আগে থেকেই মাথা ব্যাথা অনুভব করছিল। এবার দানে দানে তিন দান হয়ে মোড়ের মাঝখানে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল.....
**********
রফিক মামার দোকানে নিলয় এখনো দাঁড়িয়ে থাকে। হাতে চা সিগারেট কোনটায় থাকেনা... মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে সে প্রচন্ড শকে..
শুধু কিছুক্ষন পর পর সে বলে উঠে,
"আমি অবনীকে ভালবাসতাম।"
"আমি অবনীকে ভালবাসতাম..."
রফিক মামা আফসোস করেন খালি... সরল মনের মানুষরা সরল মনে আফসোসই করে যান। কারণ এসব ক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার থাকেনা। কিছুই না!....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now