বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
...হায় কেমন আছেন,
.......ভালো আছি।আপনি?
হুম ভালো আছি,,,,,কি করা হচ্ছে এখন?
....এইতো আপনার সাথে কথা বলা হচ্ছে। তো আপনি কি করেন এখন,এই তো আপনাকে খুব মিস করছিলাম, তাই নক করলাম কথা বলার জন্য।
......হাহাহা, আমাকে আবার কেউ মিস করে তাও আবার আজকে প্রথম শুনলাম।হুম ভালো তো তা আপনার পরিচয়ই তো এখন ও জানা হলো না???ও পাশ থেকে মেসেজের রিপ্লাই আসলো ও আমি হলাম দীপ্ত, আমি কক্সবাজারে থাকি আর বিবিএ থার্ড ইয়ারে পড়ি।
........গুড,আমি কিছু বলার আগেই বলল সে বললো আমি আপনার এডড্রেস সব জানি।আমি বললাম যেমন:আপনি রিমঝিম,আপনি সিলেটে থাকেন এবং ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়েন।আর পড়ালেখার পাশাপাশি ফেসবুকে গল্প ও লিখেন।আমি বললাম বাহ্ বাহ্ বাহ্ এ তোক দেখছি যে আপনি একজন গোয়েন্দা,আমার সম্পর্কে সবই জানেন।আরে না কি যে বলেন!আমি গোয়েন্দাগিরি হতে যাব কেন,আমি তো আপনার গল্প গুলা ফলো করে এতকিছু জেনেছি,আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান।আরে কি বলেন আমি কি কোন রাইটার নাকি যে আপনি আমার ফ্যান হতে যাবেন।আমি তো মাএ ফ্রী টাইমে টুকটাক মনের অনুভুতিগুলো প্রকাশ করি, এর থেকে বেশি কিছু না।দীপ্ত বলল আচ্ছা বাদ দেন তো এসব কথা,আমি বললাম ওকে এই টপিক বাদ।কিছুক্ষন দীপ্তর সাথে চ্যাটিং করে এফবি থেকে বের হয়ে গেলাম।সেদিন থেকে এই দীপ্ত আমাকে একটিভ দেখলেই মেসেজ দিত, মেসেজ সিন না করলে মেসেজ দিতে দিতে ইনবক্স ভরে ফেলতো।অনেক বিরক্তিবোধ করতাম ওর মেসেজ গুলার জন্য,ও প্রতিদিন এ ভাবে মেসেজ দিত।মেসেজ এর রিপ্লাই না দিলে বেশী করে মেসেজ দিত তাই দীপ্তর মেসেজ এর হাত থেকে বাঁচার জন্য রিপ্লাই দিতাম।এভাবে একটু একটু করে দীপ্তর সাথে কথা বলতে বলতে এক সময়,দীপ্ত আমার খুব ভালো ফেরেন্ড হয়ে যায়।আমি আর দীপ্ত এখন অনেক ভালো ফেরেন্ড।সারাদিন দীপ্ত কোথায় কি করে সবকিছু আমার সাথে শেয়ার করতো আর আমি ও কোথায় কিক করতাম না করতাম সব শেয়ার করতাম।আমার আর দীপ্তর শেয়ার থেকে কেয়ারিং দিন দিন বেড়েই চলছে।দীপ্তর সারাদিন একই কথা রিমঝিম আমি তোমাকে সবসময় অনেক মিস করি।আর এগুলা বললেই আমি বলতাম হয়েছে হয়েছে আর ঢং করতেন হবে না ছেলে মানুষের সব ঢং ই আমি বুঝতে পারি।দীপ্ত তখন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলতো আমার সবকিছুই তো তোমার ঢং মনে হয়,রিমঝিম তুৃমি তো আমাকে একটু ও বিশ্বাস কর না।আর বিশ্বাস করবেই বাই কেন! আমি তো তোমার কেউ না, আমি তো তোমার জাস্ট এফবির ফেরেন্ড।এফবির ফেরেন্ড কে না যায় বিশ্বাস করা না যায় ভালবাসা।দীপ্তর একথা গুলো আমার কাছে খুব করুন শোনালো,আমি দীপ্তকে বললাম তুমি কি আমাকে সত্ত্যি ভালবাসো?দীপ্ত বলল রিমঝিম আমি শুধু তোমাকে ভালই বাসিনা, আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকে বেশি ভালবাসি,তোমাকে আমি কোনদিন ও কষ্ট দিব না।একথা গুলো বলেই দীপ্ত কান্না করে দিল, আমি ও দীপ্ত কে বললাম আমি ও তোমাকে অনেক ভালবাসি। দীপ্তর সাথে এখন আমার আগের থেকে ফোনে কথা বলা, এফবিতে চ্যাট করা আরো বেশি বেড়ে গেছে।আমি দীপ্তকে ফোন দেই বা না ই দেই দীপ্ত আমাকে ফোন দিতেই থাকে, আর আমি কিছু বললে দীপ্ত সবসময়ই বলতো রিমঝিম তুমি সবসময় এমন করো কেন। তুমি আমার সাথে কথা বললে মনে হয় তুমি আমার খুব কাছে আছ,আর কথা না বললে আমার খুব কষ্ট লাগে, তখন এই দীপ্তকে আর দীপ্ত মনে হয় না,মনে হয় দীপ্তের এই দেহে প্রানই নেই।আমি বললাম বাহ্ বাহ্ আমার দীপ্ত সোনা তো কবি হয়ে গেছে,আরে রিমঝিম তোমাকে নিয়ে কিছু বলতে গেলেই তুমি আমাকে মাঝপথে থামিয়ে দাও।আমার কি কোনো ফিলিংস নেই না কি শুরু করে দিল ঝগড়া, দীপ্ত আমার সাথে অনেক খুনশুটি করে, আর তার থেকে ও বেশি আমি দীপ্তর সাথে ঝগড়া করি।আমার জিদ আর রাগ ছোট বেলা থেকেই অনেক বেশি, দীপ্ত আমার ব্যাপারে সবকিছু জানে। তাই আমি রেগে গেলে দীপ্ত সবসময় চুপ করে থাকে,আমি কখন ও কখনও রেগে গিয়ে দীপ্তকে এফবি থেকে ব্লক দিয়ে দিতাম।আবার যখন রাগ কমে যেত তখন আবার আনব্লক করে দিতাম।এভাবেই চলছে আমাদের ভালবাসা ও খুনশুটি,অনেক দিন হলো দীপ্ত আমার সাথে মিট করতে চাচ্ছে আমিই শুধু বাহানা করে দীপ্তের সাথে মিট করি না।কালকে রাতে দীপ্ত আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে রিমঝিম তোমার জন্য অনেক বড় সারপ্রাইজ আছে।আমি বললাম তাড়াতাড়ি বল কি সারপ্রাইজ, দীপ্ত আমাকে বললো আমি আজকে সিলেটে এসেছি রাত হয়ে গেছে বলে একটা হোটেলে উঠেছি,কালকে সকালে আমরা মিট করব।আমি তো মহা খুশি সকাল হয়ে গেছে, আজ আমার দীপ্তের সাথে দেখা হবে মন খুলে কথা হবে। আমরা কোথায় দেখা করবো দীপ্ত আমাকে এসএমএস এ বলে দিয়েছে, আমি রেডি হচ্ছি দীপ্তের সাথে দেখা হবে বলে কথা। সাজগোছ করে একটা রিক্সা ডেকে বেড়িয়ে পড়লাম, দীপ্তর আর আমার দেখার করার জায়গাটাতে পৌঁছাতে আর মাএ ১০ মিনিট লাগবে। আমি যে রিক্সায় বসে বসে কত স্বপ্ন দেখছি, তা নিজে ও জানিনা। এইতো পৌঁছে গেছি নির্দিষ্ট স্হানে কিন্তু সামনে অনেক মানুষের ভীড়, বুঝতে পারছি না ওইখানে এত মানুষ কেন।আমি মানুষের ভীড় ঠেলে সামনে যেতেই দেখলাম আমার দীপ্তর নিথর দেহ পড়ে আছে রাস্তার পাশে।দীপ্তর সারাশরীর রক্ত দিয়ে ঢাকা,আমি চিৎকার দিয়ে দীপ্তকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলাম।আর বলতে লাগলাম, এই কি আমার সেই দীপ্ত যে আমাকে নিয়ে সুখে সংসার করার স্বপ্ন দেখতো,এই কি আমার সেই দীপ্ত যে আমাকে পাগলের মত ভালবাসতো।
বি:দ্রভালবাসলেই ঘর বাধা যায় না,কিছু ভালবাসা অসমাপ্ত ই রয়ে যায়।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now