বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসমাপ্ত ভালোবাসা---০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X -প্রতিদিনের মতো আজও একই সময়ে স্কুল যাচ্ছিলাম ।কিন্তু প্রতিদিনের এই চেনা রাস্তাটা কেন এত দুর মনে হচ্ছে,বুঝতে পারছি না ।পাঁচ মিনিটের স্হানে দশ মিনিট হাঁটলাম কিন্তু তারপরও স্কুল পৌছাতে পারছি না একাকীত্ব আজ বড্ড টানছে । -আজ এক অজানা অনুভূতিও অনুভব হচ্ছে ।অবশ্য এর আগে কখনও এই আজব অজানা অনুভূতিকে অনুভব করতে পারিনী ।তাহলে ,আজ হঠাৎ কেন এরকুম হচ্ছে আমার সাথে । -হঠাৎ করেই মনে হলো আমার পিছনে কেউ আছে ।পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখলাম কেউই নেই ,নির্জন এলাকা একটি ।উফফফফফ আর ভাবতে পারছি না ,ভয় পেতে শুরু করলো ,বারবার পিছনে ঘুরছি কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছি না । -এই সময়ে আমার মোবাইলটাকে খুব মিস করছিলাম ।ইসসসস ,যদি স্কুলে মোবাইল ব্যবহার করতে দিত কতই না মজা হতো তাহলে ,পছন্দের গানটা শুনতে শুনতে স্কুলে আসতাম ।কিন্তু কিছু কিছু ভাবনা যে শুধু ভাবনাই থেকে যায়,তা আর পুরন হবার নয় । -অবশেষে স্কুলে পৌছেই গেলাম ।লাস্ট বেঞ্চের অধিকারী গ্রুপটির মধ্যে আমি অন্যতম সদস্য ছিলাম ।গিয়ে লাস্ট বেঞ্চটিতে ,একদম শেষ কর্নার এ জানালার পাশে বসে পড়লাম । -এসেম্বেলী শেষে ক্লাসে গেলাম ।ক্লাস চলছিলো জানালার পাশে তাকাতেই দেখলাম একটা কিউট ছেলে জানালার পাশে তাকিয়ে আছে ।কি তার চোখের চাহনী ছিলো ,আমিও তার দিকে তাকিয়েই আছি ,প্রায় শুভদৃষ্টি চলছিল ,বান্ধবী রাইসার ডাকে চমকে উঠে রাইসাকে বললাম ,দেখ ছেলেটা কত্ত কিউট , আমরা দুজন কিউট ছেলেটার দিকে তাকাতেই ছেলেটা একটা হাসি দিয়ে ,মাথায় হাত দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো ।হয়তোবা খুব লজ্জা পেয়েছিলো । -কোন ক্লাসেই মনোযোগ ছিলনা ,শুধু কিউট ছেলেটার হাসিটা মনের মধ্যে ভেসে উঠছে ।জানালার পাশে তাকিয়েই ছিলাম ,কিন্তু তাকে দেখতে পেলাম না ।তার চোখের দিকে তাকিয়েই হারিয়ে গেছিলাম এক স্বপ্ন রাজ্যে ,কী মায়াবী দুটি চোখ ,আর তার হাসি র টা আরোও ,বাহ,,,এই প্রথম কাউকে দেখে আমি থ হয়ে তাকিয়েই ছিলাম....... -যখন থেকে ওই কিউট ছেলেটাকে দেখছি সেই অনুভুতিটিকে আবার ও অনুভব করতে পারছিলাম ।তাহলে এটি কিসের অনুভুতি ?? -স্কুল শেষে প্রায়ভেট যাচ্ছিলাম ।মাস্তান ছেলেগুলার যন্ত্রনায় আর পারা যায় না ।প্রতিদিন প্রায়ভেট যাওয়ার রাস্তায় মাস্তান গুলা মানে এলাকার বড় ভাইগুলান থাকে ।আজ রয়েছে তারা,,, কিন্তু আজ একটু আলাদা রকম লাগছে ।রাইসা আর আমি হেঁটে হেঁটে প্রায়ভেট যাচ্ছিলাম ।হঠাৎ করেই চুলগুলো বাতাসে উরতে শুরু করলো আর আবার ও সেই অনুভুতি টা হতে শুরু করলো । -খুব ভালো করেই বুঝতে পারলাম যখনই কিউট ছেলেটা আশে পাশে থাকে তখন এই অনুভুতিটা হয় ।তখন রাইসা বলবো - 'দেখ ,দেখ সেই ছেলেটা '! আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে শুধু তার দিকে তাকিয়েই আছি !! তখন মাস্তান ছেলেগুলোন চিৎকার করে বলছে -এই তনয়,,, তনয় ,,ভাবি যাচ্ছে দেখ ?? ভাইয়াগুলোর কথা শুনে একটু লজ্জাই পেলেম ।মুখটা ফিরিয়ে নিচে মুচকি মুচকি একটু হাসতিছি আর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি । তখন রাইসা বললো ,ছেলেটার নাম তনয় । -আমি ; তোকে কে বলল রে ? -রাইসা ; শুনলি না ,ভাইয়াগুলো চিল্লায় চিল্লায় বললো ,তনয় ,ভাবি যাচ্ছে দেখ ?? -আমি ;ওহহহ,,হুম । -রাইসা ;ছেলেটা খুব ভালো ।এরকুম যদি তোর একটা দুলাভাই থাকতো ।ভাইয়াগুলো মনেহয় আমাকে দেখেই ভাবি বললো তাইনা রে । -আমি ; হয়তোবা রে । [রাইসার কথাটা শুনে খুবই খারাপ লাগলো ।রাইসা সুন্দরী বলেই তো ওকে সবাই প্রপোজ করে ।আমিই অযথা ভাবছিলাম ,হয়তো তারা রাইসাকেই ভাবি বলে ডেকেছে ।আমার মতো একটা চেহারা খারাপ মেয়েকে তনয়ের মতো একটা কিউট,স্মাট ছেলে ভালোবাসতে তা তোহ হতেই পারে না ] -রাইসা ;কিরে ,কোন ভাবনায় ডুবতিছিস । -আমি ;না ,রে, কিছুই ভাবিনী । -রাইসা ;আমাকে আর তনয়কে একসাথে কেমন লাগবে রে । -আমি ; মাথাটা নিচু করে ,বাংলার পাঁচের মতো মুখটা লুকিয়ে বললাম ,হুমমম ,,বেশ দেখাবে তোদের কে ? -রাইসা ;তোকে একটা কথা বলি তিনা ? -আমি ;হুম বল ? -রাইসা ;আমি তনয়কে ভালোবেসে ফেলেছি রে ,খুব ,তনয়কে না পেলে বাঁচবো না । -আমি ;রাইসার কথা শুনে 420 ভোল্টের একটা ঝটকা খেলাম ।মুখ শুকিয়ে গেলো ।খারাপ লাগতে শুরু হলো ।বুকের বাম পাশে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করতে লাগলাম ।এত ব্যাথা হয়তো আগে কখন ও পাই নী..... -ওহহহহ,,, ভালো তনয় কী তোকে প্রপোজ করছে রে ? -রাইসা ; না ,রে দোস্ত যে লাজুক ছেলেটা । -আমি ;ওহ,হুমমমম দোস্ত। -প্রায়ভেট পড়তে আর একটুও ভালো লাগছে না ।শুধু বারবার অযথা তনয়ের মুখটা ভেসে উঠছে ।কিন্তু রাইসার কথাগুলো শুনে আরও খারাপ লাগছে । -ভাবতে শুরু করলাম ।আবার ও সেই আজগুবি কথাগুলো ।ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে রাইসা ,আর সবচেয়ে খারাপ চেহারার অধিকারি মেয়েটি আমি তিনা ,।তনয়ের জন্যে কেন আমার ওরকুম অনুভুতি হচ্ছে বারবার ,তাহলে কী আমি ও তনয়কে ভালোবাসি ?? -প্রায়ভেটের সময় শেষ ।আবার একা একা বাসায় যেতে হবে ।রাইসার বাসা আমার অন্যদিকে ।একটা কলেজ মাঠ দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় আসছিলাম ঠিক তখনই তনয় একটা বাইক এ করে চলে গেলো ।বাহ!! ,তনয়কে দেখতে আরোও ভালো লাগছে ।ও একটা হিরোর থেকে কম কিছু না । -অবশেষে বাসার সামনের রাস্তাটাতে পৌছে গেলাম ।আমার বাসার সামনে একটি বড় খেলার মাঠ রয়েছে ।দেখতিছি ,তনয় ফুটবল খেলছে ,নীল রংয়ের টি শার্টে ওকে দেখতে বেশ লাগছে ,যা আমার কল্পনার বাহিরে ।মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়েই রয়েছি ...... -রাতটা কেটে গেলো তনয়ের কথা ভেবে ভেবে ।আবার প্রতিদিনের মতো সকালে স্কুল যাচ্ছি ।কিছুদুর যেতে আবার সেই অনুভূতি ,তার মানে কি তনয় আমার পিছনে রয়েছে ।আজকে আর পিছনে ঘুরে তাকালাম না । -জানালার পাশেই বসে আছি ,বারবার জানালার দিকেই তাকিয়ি রয়েছি কিন্তু আজকে আর তনয়কে দেখতে পেলাম না । -প্রায়ভেট শেষ করে প্রতিদিনের মতোই আজও কলেজের মধ্যের রাস্তা দিয়া বাসায় যাচ্ছিলাম ।কলেজ মাঠ টা অনেক বড় ।আজ সেখানে একটা কনসার্ট হচ্ছে ।গান আমার খুব প্রিয়,।সব বান্ধবীরা সহকারে গেলাম কনসার্ট উপভোগ করতে , -একজন গান গাচ্ছিলেন ।স্টেজে যখন পরের জন উঠলেন গান গাইতে তখন রাইসা আমাকে বলল তিনা ,স্টেজের দিকে দেখ ভালো করে ?? -আমি স্টেজের দিকে তাকাতেই থমকে গেলাম ।এ যে আর কেউ নায়, তনয় ।ওর দিকে তাকিয়েই আছি গান শুরু করলো তনয় ,অসাধারন কন্ঠ তার ।ওর গানের কন্ঠ বার বার মনে হচ্ছে ।যা সুন্দর করে কথা বলে , -কনসার্টটা শেষ পর্যন্ত দেখতে পেলাম না ।তনয়ের গান শেষে বাসায় চলে আসলাম ।পরের দিন স্কুলে গিয়া শুনলাম ,তনয় বাংলাদেশ গিটারিস্ট ব্যান্ড থেকে প্রথম হয়ছে ।তনয় কন্ঠ,গিটার বাজনো ,গান একটিবার শুনার জন্যে লোকে পাগল ।.... -খুব ভালো লাগলো এই কথাটা শুনে ।তখনের এই অনুভূতিটা হয়তোবা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না । -প্রায়ভেট শেষ করে একা একা বাসায় আসছিলাম ।সেদিন রাইসা প্রায়ভেট পড়েনি ।কলেজটা পেরুতেই আবার সেই ভালোবাসার অনুভুতি ।পিছনে ঘুরে দেখলাম তনয় আমার দিকে দৌড়ে আসছে ,হয়তো কিছু বলতে চায় আমাকে । তনয় দিকে একবার তাকিয়ে পিছন ফিরে আবার হাঁটা শুরু করলাম ।তনয় আমার সামনে এসে বললো, -তনয় ; তোমার কী কিছুক্ষন সময় হবে ? -আমি ; পিছনে ,এপাশ-ওপাশ তাকানোর পরে বললাম ,জি ,আমাকে বলছেন ? -তনয় ;হুমমম, ম্যাডাম ,আপনাকেই বলছি ,একটু শুনবা আমার কথা । -আমি ;হ্যা ,শুনবো অবশ্যই ,কিন্তু একটা শর্তে -তনয় ;শর্ত ,,আইচ্চা বলো তাহলে ? -আমি ;আমাকে একটু গান ,গিটার বাজানো শিখাবেন ?আপনি অনেক ভালো গিটার বাজাতে পারেন ,আপনার গান খুব ভালোলাগে । -তনয় ;একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ,,হুম শিখাবো তোহ, -আমি ;হুমম ,বলেন কি যেনো বলতে চাইলেন ? এই কথাটা বলতেই সন্ধ্যের আজান দিয়ে দিলো ।আমি বললাম ,কালকে কথা হবে ,এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে । -তনয় ;আচ্ছা ঠিকাচ্চে ।চকলেট খাবে ? -আমি ;চকলেট ,ওহহ হুম ।... চকলেট নিয়ে তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসলাম ।যখনই পড়ার জন্যে বই এর পৃষ্ঠা খুলছি তখনই তনয়ের মায়াবী মুখটা পৃষ্ঠায় ভেসে উঠছে ।তখন তনয়ের কথা খুব মনে হচ্ছিলো ,তনয় কি এমন কথা বলতে চায় আমাকে ?? -পরের দিন সকাল বেলা_ স্কুল যাচ্ছি আর বারবার পিছনের দিকে তাকাচ্ছি কিন্তু তনয়কে কোথাও দেখতে পেলাম না ।খারাপ লাগছিলো খুব ।হঠাৎ সেই অনুভুতি ।মনে মনে একটা প্রশান্তির আভাস দেখা দিলো ,তনয় আসছে কি তাহলে আমার সাথে কথা বলার জন্যে_ -হুমমম ,আমার ধারনাটাই ঠিক ।তনয় আসছে_ ওকে দেখে আমি হাসতে শুরু করছি ।তখন তনয় এসে বললো_ আমকে দেখেই বুঝি এত হাসি পাচ্ছে তোমার ? -আমি : হুম ,খুব হাসি পাচ্ছে ।পাবে নাই বা কেনো ? টি শার্ট পরতেও পারনো ,উল্টা করে পরেছ ? -তনয় ;ওহহ,, আগে বলবা তো নাকি ? একচুয়ালি একটু তাড়াতাড়ি করতে গেছি আর উল্টো হয়ে গেছে । -আমি ;ওহহহ,, ভালো করে পড়ে নেও , -তনয় ;হ্যা ,পড়ছি ।হাসিটা বন্ধ করলে যে ,তোমার মিষ্টি হাসিটা দেখার কি আর একটি বার সুযোগ হবে আমার_ তখন শুধুই একটু হাসলাম ।স্কুল পৌছাতে দেরি হবে বলে আমি চলে গেলাম ।পিছন ফিরে দেখি ,তনয় এখন ও আমার দিকে তাকিয়েই আছে...............................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসমাপ্ত ভালোবাসা---০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now