বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটি সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে রেডি হয়ে।
পার্কে গিয়ে অপেক্ষা করছে, কারন
আজ ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরতে যাবার কথা
ছিলো দুজনের মেয়েটি পার্কে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর
যখন ছেলেটির নাম্বারে কল দিলো,
তখন ছেলেটির
ফোন বার বার ব্যস্ত দেখাচ্ছিলো,
মেয়েটি কিছুক্ষন
পর পর বার বার Try করে যখন
দেখলো ব্যস্ত দেখাচ্ছে
তখন খুব কষ্ট পেয়ে কাঁদতে লাগলো,
.
দুপুর গিয়ে যখন
বিকেলকে স্পর্শ করলো, তখন মেয়েটি আবার কল
দিলো, কিন্তু ততক্ষণে ছেলেটির ফোন বন্ধ হয়ে গেলো
মেয়েটা আরো বেশি কষ্ট পেয়ে বাসায় চলে আসলো
সারা সন্ধ্যা মন খারাপ করে
বারান্দায় বসে থাকলো
মেয়েটি বার বার ভাবছে পুরুষ মানুষ ধোঁকাবাজ
হাজার কষ্ট চেপে অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলো
রাতের খাবার না খেয়েই বিছানার
এপাশ থেকে অপাশ যাচ্ছে, আর ভেতরে রাগের তীব্রতায় নিজেই
চিন্তা করলো ছেলেটার সাথে আর কোন সম্পর্ক রাখবে না, কারন যে কথা দিয়ে কথা রাখেলো না
যে অন্যের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা
কথা বলতে পারে
সে আর যাই হোক জীবনের সাথে
জড়িয়ে সুখি
করতে পারবে না কখনো।।
মেয়েটার ভাবনার যখন শেষ নেই ঠিক তখনি ছেলেটার
নাম্বার থেকে কল আসলো, কিন্তু
মেয়েটা রিসিভ করলো না, বরং ছেলেটা যখন বার বার কল
দিচ্ছিলো তখন মেয়েটা রেগে ক্ষিপ্ত হতে ফোন টা অফ করে দিলো
পরের দিন মেয়েটা আর তার ফোন অন করলো না
দিন যাচ্ছে রাত যাচ্ছে কারন সময় স্রোত আর সেই
স্রোতে ভেসে ভেসে এক মাস চলে
গেলো, কারো সাথে কারো যোগাযোগ নেই, ছেলেটা
যেমন জানেনা মেয়েটা কেমন আছে, ঠিক তেমনি মেয়েটাও জানেনা ছেলেটা কেমন আছে।।
.
তবে মেয়েটা অনেক জনের কাছ থেকে প্রস্তাব পায়
কিন্তু কারো প্রস্তাব গ্রহন করেনা,
দেখতে দেখতে
আরো চার মাস কেটে গেলো তবুও কেউ কারো
সন্ধান কিংবা খুঁজ পাচ্ছেনা, মাঝে
মধ্যে চিন্তা করতো
হয়তো, অন্য মেয়ে নিয়ে সে সুখে
আছে?, হটাৎ করে
একদিন রাতে মেয়েটার ভাই মেয়েটা জন্য খুব ভাল
একটা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে
আসেন,ছেলে দেখতে যেমন
সুন্দর তেমনি খুব ধনী পরিবারের
কিন্তু মেয়েটা রাজি
হয়নি, তার পরিবারের কেউও তার উপর জুড় করেনি
ভাবনা কষ্ট যন্ত্রনা নিয়েই মেয়েটার দিন কাটছে কারন
কাছে পেয়ে হারানোর ব্যথা আর
সন্তান হারানো ব্যথা
সমান যে হারিয়েছে সে জানে সে কি হারিয়েছে পৃথিবীর বুকে, দিনের পর দিন রাতের পর রাত
অশ্রু যেনো থাকে চোখের কোনে জমাট হয়ে।।
.
এভাবে কেটে গেলো প্রায় আরো দুই মাস, কিন্তু মেয়েটা
মানসিক ভাবে নিজেকে কখনো ভাল রাখতে পারে না
মাঝে মাঝে চিন্তা করে সে যার জন্য অপেক্ষা করছে
সে যদি অন্য কারো হয়ে যায়, তাহলে কি হবে তখন?
.
সেদিন ছিলো শুক্রবার
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো বাহিরে
মেয়েটি বারান্দায় বসে বাহিরের
দিকে তাকিয়ে আছে
হটাৎ করেই মেয়েটির আব্বুর নাম্বারে কল আসলো
মেয়েটির ফোন রিসিভ করতেই অপাশ থেকে মেয়েটির
বান্ধবী বললো, তুই যেভাবে পারিস সকালে কলেজ
ক্যান্টিনে আসবি, অত্যন্ত জরুরী তোর আসাটা
মেয়েটি বান্ধবীকে বললো আচ্ছা ঠিক আছে আসবো
পরের দিন মেয়েটি বেরিয়ে গেলো
কলেজের উদ্দেশ্যে
ক্যান্টিনের সামনে যেতেই তার
বান্ধবী এসে তাকে
নিয়ে ক্যান্টিনের এক কোণে এক
টেবিলে বসলো
ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করেই বললো তোর জন্য একটা
সারপ্রাইজ আছে,মেয়েটি প্রশ্ন করলো কি সারপ্রাইজ
মেয়েটির কথা শুনেই তার বান্ধবী
তার হাতে একটা
.
চিঠি দিলোঃ
প্রিয়াঃ
আমি জানি আমি তোমার কাছে অনেক বড় অপরাধী
কিন্তু এ ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলো না,
কারন
যেদিন তোমাকে নিয়ে ঘুরতে বের
হবার কথা ছিলো
সেদিন সকালেই আব্বু হার্ট এট্যাক
করেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমার ঘরে দুই বোন
তাদের ভবিষ্যৎ এমনকি বিয়ে দেয়া সহ সব দায়িত্ব
আমার প্রান প্রিয় আব্বুর হাতে, উনার কিছু হলে
আমাদের পারিবারিক অবস্থা করুণ হয়ে যাবে তাই সেদিন আব্বুকে নিয়ে হাসপাতালে
যাই এবং সেদিন খুব নিরুপায় হয়ে গিয়েছিলাম নিজেদের
সামর্থ্য এতোটা নেই, তাই সেদিন
ফোন করে আমার
আত্বিয় স্বজন সবার কাছে সাহায্য
চেয়েছিলাম হয়তো তুমি আমার ফোন সেদিন ব্যস্ত দেখেছো
কিন্তু আমি বিপদে পড়ে সবার সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, মাথায় যখন আকাশ ভেঙ্গে
পড়লো তখন দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম,
তবুও তোমাকে
বলতে ছেয়েছি কিন্তু তুমি ফোন রিসিভ করো নাই
জানো আল্লাহর অশেষ করুণায় আব্বুকে ফিরে পেয়েছি, কিন্তু যত দিন তোমার সাথে
কথা হয়নি ততদিন আমি ঘুমাইনি নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছি
চোখের কোনে অশ্রু ছিলো টলমটল আব্বু অনেকবার
জিজ্ঞেস করেছিলেন কাঁদছি কেনো,
কিন্তু আমি আব্বুকে এড়িয়ে গেছি,
জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য
তবুও বুক ভরা আশা আর ভালবাসার পবিত্রতা নিয়ে
এসেছি যদি ক্ষমা করতে পারো তাহলে আমার নাম
ধরে ডাক দিও আমি সামনে এসে
দাঁড়াবো তোমার মেয়েটা চিঠি পড়ে টলমটল করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে পাগলের মতো চিৎকার করে ছেলেটার নাম
ধরে ডাকতে থাকলো, ছেলেটা
ক্যান্টিনের এক পাশে
অন্ধকার এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলো,
মেয়েটার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখে মেয়েটা দুহাত সামনের
দিকে দিয়ে কেঁদে কেঁদে বলতেছে
প্লিজ আমাকে ক্ষমা
করে দাও, প্লিজ আমি জঘন্য অপরাধী যতক্ষণ ক্ষমা
করবে না ততক্ষন নিজেকে ক্ষমা করবো না, ছেলেটা
এসেই মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বললো কাঁদবে না তুমি
কারন তুমি কাঁদলে সব ভালবাসা
অপমানিত হবে আমি ছিলাম আমি আছি আমি থাকবো সারা জীবন...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now