বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশুভ—০৩ (শেষ পর্ব)

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪ ব্যাপারটা খুব অপছন্দ হলেও একদিন নীতিকে নিয়ে বের হলাম। হাতের বস্তায় চিকু। নীতিকে সুস্থ করে তোলার আর কোন উপায় দেখছি না। বাবুকে কেবল ঘুম পাড়িয়ে রেখে এসেছি। বেশিক্ষণ সময় লাগবে না। নীতি কয়েকবার জানতে চেয়েছিল কোথায় যাচ্ছি। কিছুই বলিনি আমি। বাড়ি থেকে দুই মিনিটের দূরত্বে রেল লাইন। ওকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর দূর থেকে ট্রেন আসতে দেখলাম। মুখবন্ধ বস্তাটা আস্তে করে লাইনের ওপর রেখে পিছিয়ে এলাম। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,এমন সময় নীতি বুঝতে পারল কি হতে যাচ্ছে। চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়তে গেল ট্রেনের নিচে। দুই হাতে জড়িয়ে ধরে আটকাতে পারছিনা ওকে। ট্রেন চলে গেলে আমার কোলে ঢলে পড়ার আগে শুনতে পেলাম সে বিরবির করছে, "আমার বাবু ..." নীতির জ্ঞান ফিরল দুদিন পর। কারো সাথে এখন আর কথাই বলেনা। মাঝে মাঝে প্রতিহিংসা নিয়ে বাবুর দিকে তাকায়। রাতবিরাতে উঠে একা একা কাঁদে। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও লাভ হয়নি। ওর ধারণা আমাদের বাবু সেদিন মারা গেছে ট্রেনের নিচে। এটা আসলে অশুভ বিড়ালটা বাবু সেজে আছে। কষ্ট হয় নীতির জন্য। কিন্তু বাবুর যত্ন নিতে গিয়ে আমার দিনরাত এক হয়ে যাচ্ছে। ছেলেটা হয়েছেও আমার জন্যে পাগল। কোল থেকে নামালেই কান্না শুরু করে দেয়। দেখতেও দিনদিন কি যে সুন্দর হচ্ছে! ধবধবে সাদা গায়ের রং। শুধু চোখের রংটা একটু কেমন যেন। আমার বা নীতির কারো মতই না। হালকা সবুজ। তবুও সুন্দর। ওকে যখন কোলে নেই হাতে শরীর ঘষে কি আদুরে শব্দ করে......... অবশেষ আমি নীতি। বিয়ের বেশ কিছুদিন পরে বুঝতে পারি যে আমার স্বামীর মাথায় সমস্যা আছে। ছোটবেলা থেকে অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েও সে মানতে পারেনি তার বাবা মা নেই। অথবা খুব ছোটবেলায় তাকে ফেলে চলে গেছে। আমার মা কে সে প্রায়ই ভাবত তার মা এটা। আমার কেউ নেই। আমাকে বলত, মন খারাপ করোনা। তোমার বাবা মা নেই তাতে কি হয়েছে। আমি তো আছি। প্রথম কারো ভালবাসা পাওয়া তার এই প্রথম। এ কারনে পাগলের মতই ভালবাসে আমায়। ভালবাসত আমাদের পৃথিবীতে আসতে না পারা বাবুকেও। ভেবেছিলাম ভালবাসা দিয়ে তার সব সমস্যা ঠিক করে ফেলতে পারব একদিন। বাচ্চাটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। ঘর ভর্তি করে খেলনা নিয়ে আসত সে রোজ। কিন্তু ঘরের মেঝেতে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পর ওকে হারাই আমরা। আমার স্বামী মানতে পারেনি এটা। বাবুর জন্য কিনে আনা পুতুলটা জড়িয়ে সারাদিন বসে থাকে তারপর থেকে। তাকে খাইয়ে দেয়, গোসল করায়, একটা সত্যিকারের বাচ্চার মত সব কিছুই করায়। সে সিজোফ্রেনিক। এমন অনেক কিছুই দেখতে পায়, শোনে, যার কোন অস্তিত্বই নেই আসলে। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। কোন চিকিৎসাতেই কাজ হচ্ছে না। প্রথম সন্তান হারানো, সাথে স্বামীর পাগল হওয়া, একটা নারীর জন্য কি এই শোকের কোন তুলনা আছে? এখনো গভীর রাতে ওকে পুতুলটা নিয়ে খেলতে দেখি আর কাঁদি আমি। বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে কত সুখের সংসার হত আমাদের। আর, ওর ডায়েরী আমি পড়েছি। আমাদের বাড়িতে কিন্তু কোন বিড়াল ছিলনা কখনোই....... (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অশুভ—০৩ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now