বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশ্রু ভরা এক প্রেমকাহিনী {প্রথম অংশ}

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ALLI HOSSAIN (০ পয়েন্ট)

X লেখক★ রোমান্টিক প্রিয়। নাম ALLI HOSSAIN। সংক্ষেপে A.H। "A.H": আমি একদিন রাস্তায় হাটতে বের হয়ে ছিলাম। তখন দেখি একটি ছেলে মন খারাপ করে বসে আছে। আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেসা করলাম ভাই আপনার কি হয়েছে? ‌ ছেলেটির নাম আমির হামজা। আমির হামজা: ভাই আমার মন খারাপ। A.H: কেন ভাই মন খারাপ কেন? আমির হামজা: ভাই এটি একটি বড় কাহিনী। আর এটা আমার কাহিনী যেটা কেউ জানেনা। A.H: ভাই তাহলে আমাকে বলেন আমি আপনার কষ্ট ভাগ করে নিতে চাই। আমির হামজা: ভাই আপনে শুনবেন। তাহলে শুনেন। আমি যখন খুভ ছোট যখন আমার বয়স ৫ বছর তখন আমি একটি বৃদ্ধ লোককে মরতে দেখি। তিনি নাকি ছিলেন আমার দাদা। যখন আমার বয়স ৭ বছর হয় তখন আমি কিছুটা বুঝতে পারি তখন আমি আমাদের পাশের ঘরের একজনকে জিজ্ঞেস করি আমার ব্যাপারে। তিনি আমাকে বল্লেন কোনো একদিন আমার বাবা মা গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন। তাদের খুভ তাড়া। তখনেই গাড়িটি অ্যাক্সিডেন করে আর আমার মা আর বাবা নাকি মুত্যু বরন করেন। তখন আমার বয়স নাকি ৩ বছরের মতো হবে। যে গ্রমে দুর্ঘটনাটি ঘটে তখন নাকি কেউ আমাদের খুজ নেয়নি। তখন ঐ বৃদ্ধটি আমায় দেখাশুনা করেছিলে। আর গ্রামটি অত্যন্ত দরিদ্র থাকায় আমাকে ভিক্ষা করে খেতে হয়েছিল। এবং ঐ বৃদ্ধার আর কেউ ছিলনা। তাই পরে আমার দায়িত্য কেউ নেয়নি। A.H: তার পরে কি হয়েছিল ভাই? আমির হামজা: তার পরে পেটের দায়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতাম আর একটু আধটু কাজ করতাম। কিন্তু আমার দুটো দিক খুভ ভালো ছিল: গায়ে প্রচুর শক্তি আর তীক্ষ্ণ মেধা। আমি একবার যা পড়ি তা কখনো বোলিনা। একদিন রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম তখন একজন হুজুর গাড়ি থেকে নামলেন বাজার থেকে শাকসবজি ক্রয় করতে। এবং তিনি একটু জুড়ে সূরা ইয়াসি পাঠ করছিলেন। আর আমি শুনেতে থাকি আর আমার সেটা মুখস্থ হয়ে যায়।কৌতুহল বসত আমি আমার মুখস্থটা যাচাই করার জন্য হুজুর কে নিজ থেকে শুনালাম। A.H: তারপরে কি হয়েছে? আমির হামজা: তারপর তিনি অভাগ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন এবং বল্লেন তুমি কে আমি বল্লাম আমার নাম আমির হামজা। তিনি বল্লেন তুমার বাসা কোথায়। আমি বল্লাম আমি ইয়াতিম। আমার বাসা বাড়ি নেই। তখন তিনি বল্লেন তুমি আমার সাথে যাবে। আমি বল্লাম হ্যা যাব। A.H: তারপর কি হয়েছে? আমির হামজা: তার পর তিনি আমাকে তার সাথে নিয়ে যান আর এক মাসে হাফেজ বানান। তিনি ছিলেন অনেক বড়লোক। তাই তার পরিবারকে তিনি অনেক ভালো জায়গায় রাখতেন। তার বাড়ি ছিল পাহাড়ি অঞ্চলে। যখন আমার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয় হুজুর একদিন আমাকে ডেকে বলেন তরতো গায়ে অনেক শক্তি আর অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিছ। এখন আমার একটা কাজ কর। আমি বল্লাম জি হুজুর বলেন কি কাজ? তিনি বল্লেন তুই আমার মেয়ের প্রতিষ্ঠানে যা আর গিয়ে দেখ ওর কোনো কাজে আসতে পারিস কিনা। হুজুর আমাকে এই জন্যে ওনার কলিজার টুকরো মেয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন কারন আমি তখন অত্যন্ত পরিমানে বোকা ছিলাম। বালা যেতে পারে একটা কুকুর তার মনিবের আদেশ যেমন করে পালন করে। যাই হোক আমি সেখানে গেলাম। সেই জায়গা ছিল পাহাড়ি অঞ্চল। আর হুজুরের মেয়ে ছিল আমার মতই মেধাবী। যা সচরাচর কম দেখা যায়। মেয়েটার নাম ফারজানা। ও আমার থেকে কিছুটা চালাক। কিন্তু মনে কিছুটা অহংকার ছিল কার সে ছিল ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে জ্ঞানী। কিন্তু আমিও তার বাবার ছাত্র। সে আমকে নিয়ে খুভ মজা করত তার কারন যখন আমি তাকে প্রথম দেখি তখন যেন কোনো পরী দেখি। আর আমি বলে ফেলি আপনি অনেক সুন্দর। কিন্তু তার মুখ তার বাবা মা এবং তার এক বোনের মতো বান্ধবীই দেখেছে আর কেউ দেখতে পায়নি। শুধু তার চোখ দুটো দেখা যেত। আর এই চোখ দেখেই যেকেউ তার প্রেমে পরে যেত। তার দু চোখ দিয়ে যেন সর্বধাই আলো ঝড়ত। A.H: তারপর কি হয়েছে? আমির হামজা: তারপর যা হয়ে ছিল তা এরকম ঐ এলাকার কোনো ছেলে যদি তাকে প্রেম নিবেদন সে তখন তাকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন করত। কিন্তু কেউ তাকে এই দিক থেকে হাড়াতে পারেনি। আর ঐ ছেলেগুলোও ভালো কোনো উত্তর দিতে পারে না। তখন সে ও তার ফ্রেন্ড সার্কেল তাকে নিয়ে অনেক মজা করত। আর ছেলেরা অনেক লজ্জা পেত। আর এজন্যে তাকে কেউ আর প্রেম নিবেদন ও করতনা। আর এই খবরটা আমি জানতাম না। আর আমি কিছু না ভেবে তাকে একদিন বল্লাম আমার আপনাকে অনেক পছন্দ। A.H: তারপর কি হয়েছে? আমির হামজা: তারপর কাকতালীয় ভাবে সে আমাকে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা না জিজ্ঞেস করে সে আমার বোকামির দুর্বলতাটা প্রোয়োগ করে। সে আমাকে বলে তুমি কি আমাকে পছন্দ কর আমি বল্লাম হ্যা। ফারজানা: তাহলে আমি যা বলব তুমি তা করতে পারবে? আমির হামজা: হ্যা......... আপনি বলেই দেখুন না........ ফারজানা: তাহলে তুমি আমার সাথে আসো। আমির হামজা: আমি তার সাথে গেলাম "সে আমাকে বল্ল ঐ স্থানর একটি নারকেল গাছ আছে তুমি গিয়ে আমাদের জন্য নারকেল পেরে নিয়ে আস। আমি খুশি মনে নারকেল পেরে আনতে যাই। যখন গাছের নিচে যাই তখন দেখি গাছ কমপক্ষে ৫০ ফুট উচু। কিন্তু আমি শারিরীক ভাবে সবল থাকায় আল্লার নাম নিয়ে ওঠে পরি কিন্তু গাছের অর্ধেক ওঠার পর আমার পা প্রচন্ডভাবে ব্যাথা করে। যা ফারজানা ও তার বন্ধুরাও অুভব করেছিলো। কিন্তু তারা আমাকে কোনো দয়া দেখায়নি বরং বল্ল না পেরে আনলে আমাকে ভুলে যাও। কিন্তু কি আর করা আমি অনেক কষ্ঠ করে ডাব পেরে এনে তাদের খাওয়াই। বদলে সে আমাকে বল্ল এটা যেকেউ করতে পারে। আরেকটা করে দেখাও। আমি মনে দুঃখ নিয়ে বল্লাম আর কি করতে হবে। সে বল্ল আজকে আরনা পরের দি আসো। আমি পরের দিন আবার আসলাম সে আমাকে একটা অনেক গভির পুকুরের পাশে নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ ফুট গভিরতা। সময়টা ছিল মাঘ মাসের ৫থেকে ৬দিন। সকাল ১০টা নাগাদ প্রচন্ড শিত। কিন্তু শিতে আমাকে সেরকম কিছু করতে পারেনি।তারপর সে একটা সর্ণের চেইন ঐ পুকুরে ফেলে দিয়ে আমাকে বলে সেটা পানি থেকে নিয়ে আসতে। তখন আমি কিছুটা ভয় পাই ঠিক তখনেই তার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে মজা করতে থাকে। আর আমার কিছুটা রাগ হয়।আর রাগের বসে আমি নেমে পরি আর প্রয় দশ মিনিট যাবত খুজি তারপর পাই। কিন্তু আমি তাকে সেটা দেখাইনি আমি তার সানে ব্যার্থ হই। আর তখন বলি অন্য আরেকা দেন। আর আরেকটা শর্ত রাখি যে সে তার মুখ আমাকে দেখাতে হবে যদি আমি জিতে যাই। A.H: তারপর কি হয়েছে? আমির হামজা: তারপর ঐ দিন আমার প্রচন্ড জ্বর আসে তা প্রায় ১১০° ফারেনহাইট। তারপরও তাদের সামনে সুস্থতার ভান করি।তা না হলে আমকে নিয়ে সবাই মজা করবে। আমি বল্লাম এখন আমাকে কি করতে হবে। তখন তারা আমাকে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে প্রায়া দশটা ঝাল মরিচ খেতে বলে। আমি নিরুপায় হয়ে সেগুলো খাই। তৎখনাত তার ফোনে একটা ফোন আসে যে তার চাচা তাদের এখানে বেড়াতে আসবে। এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠন হতে প্রায় ৭ কিলোমির দূরে। তখন ফারজানা আমার কাছে হেরে গেছে। শর্তমোতাবেক তার মোখ আমাকে দেখাতে হবে। তখন সে বল্ল যে দেখাব একটা কাজ করলে। আর এমন সময় আমার প্রচন্ড জ্বর আর মুখে প্রচুর পরিমাণ ঝাল তবু তার মনে কোনো প্রকার দয়া নেই।প্রক্ষান্তরে তার বন্ধুরা আমার করুন অবস্থা দেখে বলছে বেচারে কে ছেড়ে দে। তারা প্রায় কেদেই ফলবে। কিন্তু সেও ভিতরে অনেকটা কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু সে কষ্টটা প্রকাশ না করে বল্ল আমাকে যদি দেখতে চাও তাহলে আমার চাচাকে এখানে আনতে হবে। তখন তাকে দেখব এই আশায় আমি তার চাচা একটি মোটর সাকেল নিয়ে আনতে যাই। তার চাচা আমার আমার পেছনের সিটে বসে আর যেই আমার গায়ে ধরে সেইমাত্র বলে ওঠে তুমার শরীর এত গরম কেন। আমি বল্লাম ও কিছুনা। আর চলতে থাকি। এক পর্যায়ে আমকর শরির অবশ হয়ে যায় আর আমি বাইক নিয়ে একটা অ্যাক্সিডেন করি। আর এই অ্যাক্সিডেনের কারনে তার চাচাকে কোমায় যেতে হয়। A.H: তার পর কি হয়েছে? আমির হামজা: তারপর কেউ একজন তাকে বলে এটা আমি তার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ইচ্ছে করে করেছি। কারন ঐসময় ঐ স্থানে ও ছাড়া আর কেউ ছিলনা।আর ও জেনে শুনে ফারজানার কাছে এই মিথ্যা টা বলে। আর ফারজানা বিশ্বাস করে কারন আমার কিছুই হয়নি। এই যুক্তিতে সে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমার কথা একটুও বিশ্বাস করেনি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো সে আমার সামনে বিশ্বাস করার ভান করেছিল। আর আমাকে হেসে হেসে বলেছিল যে, তুমি না আমাকে দেখতে চাও। আর আমি বোকার মতো বলে ওঠি হ্যা আমি দেখব। তখন সে বল্ল কাল পাহারের সামনে ঝর্ণার কাছে এসো। আমি তা সুনে সারা রাত ঘুমাইনি জীবনের প্রথম কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়াব। মনে অনেক আশা নিয়ে পাহাড়ের সামনে ঝর্ণা কাছে যাই। আর কাকতালীয় ব্যাপার হলো ঝর্ণা থেকে প্রায় ২০০ মিটার নিচে সমিদ্র আর ঘন জংগল। কিছুক্ষণ পরে সে এসেছে তার বন্ধুদের নিয়ে। আর আমাকে বলেছে তুমি ঐ ঝর্ণার সামনে গিয়ে দাড়াও।আমিও বোকার মতো গিয়ে দাড়ালাম। সরল মন আমার সে আমার কাছে এসে আমার বুকে ধাক্কা মেরে সমুদ্রে ফলে দেয় আর আমি পানিতে পরে যাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অশ্রু ভরা এক প্রেমকাহিনী {প্রথম অংশ}

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now