বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুবই অস্বস্তিতে ভুগছি।পিঠে ফোড়া হয়েছে যেটা হওয়া একেবারেই উচিত হয় নি।এটা এখন কাকে দেখাবো? শাশুড়ি আম্মাকে দেখালে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না।আর শরীফের বাসায় আসতে তো সেই সন্ধ্যা ৭টা।এখন মাত্র ৩টা বাজে।শরীফকে একবার ফোন দিই...
--হ্যা নিয়াসা বল...
--বলছি যে তুই কখন ফিরবি রে?
--কেনো রে কি দরকার?
--ভুলে যাস না আমি তোর বউ। আমার দরকার থাকতে পারে সব কি ডিটেইলসে বলতে হবে নাকি। তুই বাসায় আয় জলদি
--ওলে বাবা আমি তো আমার শ্বশুরের অফিসে কাজ করি যে বললেই ছুটি দিয়ে দিবে।
--ধুত তুই আয় তো।
পিছনে শাশুড়ি আম্মার কন্ঠ শুনলাম
--কি ব্যাপার নিয়াসা তুমি আজকেও শরীফকে তুই তুকারি করছো?তোমাকে না বারণ করেছি
--দুঃখিত আম্মা আর হবে না।
--প্রতিবারই তো বলো।
--এবার একেবারে পাক্কা বলবো না।
--আচ্ছা ছাদে যাও...
--কি জন্য?
--কি জন্য মানে! তোমার মত মেয়ে আমি কোথাও দেখি নি যে কিনা একা ছাদেও যায় না।সারাক্ষণ রুমে বসে কি করো?
--সারাদিন আপনার ছেলের কথা ভাবি।
--ফিসফিস করে কি বলছো?হালকা শীত পড়েছে। ছাদে যাও ভালো লাগবে।
--জ্বী আম্মা।
ছাদে যেতে একদম ভাল্লাগেনা। কেমন যেন হরর হরর ফিল্মের মত লাগে।রিয়েল লাইফে প্রচন্ড ভীতু আমি।এই বাসার ঐতিহাসিক কোনো কাহিনি নেই কিন্তু পাশের বাসার একটা ভয়ংকর কাহিনি আছে।ওই বাড়ির মেয়ে নাকি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরেছিলো।হঠাৎ পাশের ছাদে কাপড় মেলে দিতে একটা মেয়ে আসলো।আর আমি! আমি তখনই পগারপার।
.
.
রাতে শরীফের আগমন।হাতে সেই চিরচেনা ব্যাগ আর একটা গাঁধা ফুল।
--এই নে তোর গাঁধা ফুল।তুই একটা গাধী তাই তোর গাঁধা ফুল পছন্দ।
--উফ তোকে নিয়ে আর পারি না।কোথায় অফিস থেকে আসবি এসে আমাকে আদর করে বলবি 'নিয়াসা সোনা এই নাও ফুল! তারপর একটু জড়িয়ে ধরবি কিনা তা নয়! খাটাসের মত কথা তুই গাধী তাই তোর গাঁধা ফুল পছন্দ। হুহহ
--ওলে বাবালে আসো নিয়াসা সোনা আমার বুকে আসো...
--আওওও
--কি হয়েছে?
--উহ। তুই আগে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে আয় তারপর বলছি।
--ওকে।
.
--নিয়াসা......
--হ্যা বল...
--এটা তো ফোড়া। আর পেকে তো পুজ জমে গেছে। ইইউউ....
--বেশি কথা বলিস না।ওটা এখনই গেলে দে। সেরে যাবে তাহলে...
--তোর মত মেয়ে আমি একটাও দেখি নি তুই কিনা তোর বর কে দিয়ে এখন ফোড়া গেলাবে!ওহহ আল্লাহু বাচাও আমাকে
--খুব ব্যথা করছে রে।
--আচ্ছা কাঁদিস না দেখছি কি করা যায়।
শরীফ আস্তে আস্তে জায়গাটায় হাত দিচ্ছে।ব্যথা +সুড়সুড়ি দুইটাই পাচ্ছি। খুব ব্যথা লেগেছে এবার। শরীফ তড়িঘড়ি করে আমাকে ওর বুকে জড়িয়ে ধরেছে....
--তুমি ঠিক আছো তো নিয়াসা!লাগে নি তো বেশি?
শরীফের বুকের ধুকফুকানি বেড়ে গেছে। আমি শুনতে পাচ্ছি সেটা।
--উফ ছাড় কিছু হয় নি।ওখানে ক্রিম লাগা জলদি।
--আচ্ছা।
.
এখন শীতকাল।আমাদের বিবাহের পাঁচমাস অতিবাহিত হয়েছে।ফেসবুকের তুই তুকারির বন্ধুত্ব বৈবাহিক সম্পর্কে পৌঁছেছে। ইদানীং শরীফের সাথে একটা বিষয় নিয়ে মনমালিন্য চলছে।ওর দেওয়া কথা রাখতে চাইছে না।বিয়ের আগে কথা দিয়েছিলো ও টাক করবে। তারপর সেই টাকে আমি সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে হাটতে বের হবো।কিন্তু ও টাকই করতে চাইছে না।আমার বেস্ট ফ্রেন্ড লাবণী ওর বরকে টাক করিয়ে দিয়েছে। আমিই এখনো করাতে পারলাম না।
রাত্রি বেলা
--নিয়াসা সোনা আমি তোমার ইচ্ছে পূরণ করতে রাজি। তুই প্লীজ রাগ করে থাকিস না।
কিছু না বলেই শরীফকে জড়িয়ে ধরলাম।আমি আর বেস্ট ফ্রেন্ড মিলে করা প্লান টা সাকসেসফুল হতে চলেছে।ওহ শরীফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
--এই নিয়াসা কি করছিস?
--ওহ সরি।
.
পরদিন দুপুরবেলা শরীফকে টাক করিয়ে দিলাম। বাহ কত সুন্দর দেখাচ্ছে। বাপের বাড়িতে থাকাকালীন অনেক ছোট বাচ্চাকে টাক করিয়ে দিয়েছি।যদিও শরীফের টাকের এক জায়গায় কেটে রক্ত বার হচ্ছিল হিহি ওকে বলি নাই নাহলে তো আমাকে এতক্ষণে....!কালসকালে সরিষার তেল মাখিয়ে সকালে হাটতে বের হব। সকালের মিষ্টি রোদ যখন টাকে লাগবে তখন ঝিকমিক রোদ দেখতে কতই না ভালো লাগবে।
.
শরীফকে নিয়ে হাঁটতে বের হলাম।রাস্তার উৎসুক জনতা আমাদের দিকে আগ্রহ ভরে তাকাচ্ছে। আমি একটু পরপর শরীফের টাকের দিকে তাকাচ্ছি। আপসোস টাক তেমন চিকচিক করছে না। বেশ অস্বস্তি লাগছে আমার। ফেরত আসার সময় লাবণীর সাথে দেখা।
--ওই লাবণী...
--আরে নিয়াসা তুই এখানে।দুলাভাইকে টাক করিয়ে দিছিস।
--হ দিছি।বাট তোর বরের মাথায় দেখছি চুল উঠে গেছে।হিহিহি
--ঠিকই বলেছিস।চল বসে গল্প করি।
--চল।
শরীফ আর লাবণীর বরকে অন্য দিকে পাঠিয়ে আমরা গেলাম গল্প করতে।
--নিয়াসা তোকে একটা কথা বলার ছিল
--আরে বল বল এমন করছিস কেনো।
--আমি না সেদিন দুলাভাইকে একটা মেয়ের সাথে বেশ অন্তরঙ্গ হওয়া অবস্থায় দেখলাম। ব্যাপার কি?ওনার কি কোথাও এফেয়ার চলছে নাকি?
--আরে দুররর।কি বলিস!আমার একটা কথায় শরীফ টাক করে ফেলেছে।ও অন্য কোথাও সম্পর্কে জড়াতেই পারে না।
--কি জানি।দেখলাম তাই বললাম।কিছু মনে করিস না।
--হুম আজ তাহলে যাওয়া যাক।
.
বাসায় এসে ততটা ভালো লাগছে না।শরীফ আমার সাথে একদম স্বাভাবিক ব্যবহার করছে।আমাকে ইগনোরও করছে না। এমন হলে তো আমাকে শরীফ ইগনোর করতো।লাবণী তাহলে ওটা কেনো বললো!প্রায় সময় দেখা যায় সন্দেহ করলে সেটা ভুল হয়।আমার ধারণা এটাও ভুল প্রমাণিত হবে।
.
--নিয়াসা কি হয়েছে তোমার?মুড অফ কি জন্য?
--কিছু হয়নি আম্মা।
--যাও রুমে যাও।
.
সন্ধ্যা ৬টা।শরীফ বাসায় এসেছে।হাতে সেই চিরচেনা ব্যাগ।কিন্তু আমার পছন্দের গাঁধা ফুল নেই।
--কি ব্যাপার আজ ফুল আনলেন না যে!
--ওহ সরি নিয়াসা একদম খেয়াল নেই।
কিছু না বলেই জড়িয়ে ধরলাম শরীফকে।ওর গায়ে কেমন একটা গন্ধ আছে যেটা আমার খুবই ভালো লাগে।কিন্তু আজকে কেন জানি মনে হচ্ছে ওর গায়ের গন্ধ অন্য কেউ শুষে নিয়েছে।
.
রাতে খাওয়ার পর বিছানায় আসলাম।শরীফ আগেই চলে এসেছে।আমার অবশ্য আসতে একটু লেইট ই হলো।শরীফকে অস্থির দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে ও কিছু একটা করছিল যেটা আমায় দেখা মাত্রই বন্ধ করে দিলো।কিছু না বলেই শুয়ে পড়লাম।
মাঝরাতে পাশে কথা বলার শব্দে ঘুম ভাঙলো আমার।আমি না জেগেই চোখ বন্ধ করে রইলাম।শরীফ কথা বলছে--'বিশ্বাস করো আমি সব সুন্দর করে সাজিয়ে করবো। দুদিন তো সময় দিবা আমাকে তাইনা। ' না তুমি আগে ঘুমাও। 'আমিও এখনই ঘুমাচ্ছি।
আমার বুকের মধ্যে ধুকপুক করছে।তাহলে কি শরীফ সত্যি অন্য কোথাও সম্পর্কে জড়িয়েছে?ও কি আমাকে ডিভোর্স দিবে?আমি ওকে ছেড়ে থাকবো কি করে!মনে মনে প্রার্থনা করছি এটা যেন সত্যি না হয়। এখন শুধু অপেক্ষা করা শরীফ কখন আমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সেটার।
.
সকালে শরীফ আমার কপালে হালকা চুমু দিয়ে বললো
--আজকে মহারাণীকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?
--I am ok..
--শুনো আজকে মনে হয় আমি বাসায় আসতে পারবো না।আম্মার সাথে থেকো ভালোভাবে।
--হুম
মনে হয় আজকে সেই মেয়ের কাছে যাবে। আনমনেই মন খারাপ হয়ে গেলো।আমাদের গল্পের তাহলে হ্যাপি এন্ডিং হলো না।
.
সারাদিনটা কোনোমতে কাটালাম।সন্ধ্যায় বসে বসে টিভিতে ডোরেমন দেখছিলাম।অসময়ে লাবণীর কল।
--কিরে অসময়ে কল দিলি যে!
--নিয়াসা তুই তাড়াতাড়ি হসপিতালে আয়।দুলাভাই এর অবস্থা খারাপ।
--মানে! কি বলছিস তুই!কি হয়েছে ওর?
--এক্সিডেন্ট করেছে।কান্না থামিয়ে জলদি আয়।
--হুমমমম।
কান, নাক, মাথা দিয়ে মনে হচ্ছে ঝাল বেরুচ্ছে। প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। রওনা দিলাম হসপিতালে।
.
শরীফ বেডে শুয়ে আছে। মাথায় হাতে সাদা ব্যান্ডেজ দেখতে বেশ ভালোই দেখাচ্ছে। কিন্তু ওর এমন অবস্থা হলো কিভাবে!দুচোখ ভর্তি পানি নিয়ে ওর কাছে গিয়ে বসলাম। ব্যান্ডেজ করা হাতে আমার হাত রাখলাম।
--কিভাবে হলো এসব?
--তোমার মনে নেই না কালকে আমাদের একটা স্পেশাল দিন!!!
--স্পেশাল দিন??
রুমে লাবণী আর ওর বর ঢুকলো।আমাকে উদ্দেশ্য করে লাবণী বললো
--এই যে নিয়াসা ম্যাডাম কালকের দিনে আপনারা ফাস্টমিট করেছিলেন।দুলাভাই কালকের দিনে আপনাকে গাঁধা ফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিলো আর আপনি তাকে কষে একটা থাপ্পড় দিয়ে প্রপোজাল একসেপ্ট করেছিলেন।দুলাভাই ভেবেছিলো তোকে সারপ্রাইজ দিবে কিন্তু তোর গাঁধা ফুল আনতে গিয়ে দুলাভাই এর এই অবস্থা।
--আমি তো ভেবেছিলাম সেই মেয়ের সাথে দেখা করতে যাবে।(কান্নাজড়িত কন্ঠে)
--আরে দুরর।ওটা তো তোকে রাগানোর জন্য বলেছিলাম আমরা।
আমি বসে ছিলাম শরীফের একেবারে কাছে।মুখ খানিকটা নিচু ছিল। ফিল্মের মত আমার চোখের কয়েক ফোটা পানি গিয়ে পড়লো শরীফের নাকে। শরীফ আমাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরেছে।আস্তে করে বললো I love u...!বালিশের নিচে পাঁচটা গাঁধা ফুল দেখা যাচ্ছে। এগুলো দিয়ে আজ রাতে প্রপোজ করবে মনে হয়।আচ্ছা আমার কি প্রপোজের পর ওকে থাপ্পড় দেওয়া উচিত? ইশ যদি লাগে!আস্তে করে দিব! কি বলেন!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now