বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"অরুনি ও এক সন্ধ্যা "
-তামিম হাসান
সেই দূর সমুদ্রের ধারে একটা ছোট সসবুজ দ্বীপ ছিলো। বিকেলের শেষ পর্ব চলছে। তখন সন্ধার আগে সমুদ্রের পাড়ে সবুজ ঘাসের উপরে বসে আছে একটা মেয়ে। তার চোখের দৃষ্টি সমুদ্রের নীল জলের দিকে, বাতাসের গতিতে তার চুল গুলো উড়ছে।
রায়হান সমুদ্রের পাড়ে প্রতিনিয়ত বসে এই সন্ধ্যায়,
রায়হান এশিয়া সমুদ্র গবেষনা কেন্দ্রের একজন গবেষক এবং বিজ্ঞানি। এই দ্বীপে এসেছে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাএ, একটি বিশেষ গবেষনা করতে। রায়হান হেটেঁ আসছিলো সমুদ্রে পাড়ে বসার জন্য। দূর থেকে সে দেখতে পেল একটা মেয়ে বসে আছে। রায়হান অবাক হলো এই দ্বীপে সন্ধ্যায় কেন এই মেয়েটা এসেছে। রায়হান মেয়েটার নিকট এসে বলল - আপনি কে?
মেয়েটা বলল - আমি অরুনি,,
রায়হান : আপনি এখানে হঠাৎ এই সময়ে বসে আছেন কেন?
অরুনি : বসে বসে প্রকৃতির মায়াবী রুপ দেখছি। তবে আপনি এখানে??
রায়হান : আমি এখানে রোজ আসি বই পড়ি,,, এই দ্বীপে একটা গবেষনায় এসেছি।
অরুনি : এই অন্ধকারে বই পড়েন কীভাবে??
রায়হান : আপনি উপরে তাকিয়ে দেখুন চাদঁটা কী দারুন!!দেখুন তার আলোটা কতটা উজ্জল। আমি চাদেঁর আলোয় বই পড়ি।
অরুনি : অসাধারন বিষয় দেখছি!"""
রায়হান :
ভালো কথা আপনি এই দ্বীপে কোথায় থাকেন??
অরুনি : আমি এখানে থাকি না। আজকে এসেছি সিয়ানের সাথে। আমার বাবা তার বন্ধুর চাচার ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করেছেন সে হলো সিয়ান! আমার এই বিয়েতে কোনো সম্মতি নেই। একই ভাবে সিয়ানও আমাকে বিয়ে করতে চায় না। সিয়ান তার বান্ধুবি শ্রাবণী কে বিয়ে করতে চায়। সিয়ান আজ আমাকে এখানে রেখে কানাডা চলে গিয়েছে। আর আমি আগামিকাল বান্ধুবি প্রিয়ন্তির সাথে ইংল্যান্ডে চলে যাব।ও জাহাজে চাকরি করে আগামিকাল ও এখান থেকে আমায় নিয়ে যাবে।।
রায়হান : ও আচ্ছা আচ্ছা ভালোই কাহিনী আপনার।
অরুনি : আপনি কোথায় থাকেন??
রায়হান :আমি কখনো বরফের রাজ্যে কখনো দ্বীপে থাকি কোনো ঠিক নেই গবেষনা করতে অনেক জায়গায় আমাকে যেতে হয়।
এখানে আমি আমার ছোট জাহাজে থাকি।
আসলে এই দ্বীপে প্রতিবেশী বলতে আপনি একা, কোনো আপওি না থাকলে আমার জাহাজে চলুন বসে না হয় একটু কফি খাওয়া যাবে।
অরুনি : অবশ্যই চলুন!!
অতপঃর অরুনি হেটেঁ হেটেঁ
রায়হানের জাহাজে এসে পৌছাল। জাহাজটা বেশ বিচিএ ও ছোট, দোতালা জাহাজ। জাহাজের নিচতলায় একটি ল্যাব ও থাকার জন্য কেবিন রুম আছে। দোতালাতে বেশ সাজানো গোছানো কেবিন রুম আছে কয়েকটি। জাহাজের ছাদ একটা বসার জন্য ছাউনি রয়েছে এবং ছাদ থেকে দ্বীপটির সব জায়গা দেখা যায়,।রায়হান কফি তৈরি করে ছাদে উঠল। অরুনি ছাদে উঠে বেশ আনন্দিত ছিলেন। কফির চুমুকে ও চাদেঁর আলোয় আড্ডা টা বেশ কয়েক ঘন্টা জমেছিলো।
রাত সাড়ে নয়টা বেজে গিয়েছে।
রায়হান :রাতে খাবার খাবেন না?
অরুনি : আমি রাতে খাই না।
রায়হান: তাহলে আমি নিচতলার কেবিন রুমে ঘুমিয়ে পড়লাম। আপনি দোতালার কেবিনে শুয়ে পড়ুন,,,শুভ রাএি।
অরুনি : ধন্যবাদ, শুভ রাএি।
রায়হান ও অরুনি দুজনই ঘুমিয়ে পড়ল।
কয়েক ঘন্টা পরে.........
রায়হানের হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, রায়হান পানি খেতে দোতালার রান্না ঘরে আসল। রায়হান দেখল কেবিনে অরুনি নেই তাই জাহাজের সব জায়গায় খুজেঁও তাকে পেল না। নিচতলার সামনের রুমের টেবিলের উপর একটা কাগজ পেল কাগজে লেখা ছিল -রায়হান, আমি চলে যাচ্ছি । আমার বান্ধুবি আমায় নিতে এসেছে।আপনি ঘুমাচ্ছেন তাই আপনাকে ডাকলাম না।।। হয়তো আমাদের আবারও কোথাও দেখা হবে কোনো এক সময়।
ইতি,
অরুনি।
রায়হান ভাবল অরুনি সন্ধ্যায় বলেছিলো সে আগামিকাল যাবে তবে রাতে কেন গেল! দেয়াল ঘড়িতে চোখ পড়তেই রায়হান দেখল ১২টা ১৬ বাজে,,তখন রায়হান বুঝতে পারল আজ আর গতকাল নেই আজকেই আগামীকাল।
" সমাপ্ত "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now