বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ওড়িষ্যার অচেনা কৈলাশ কপিলাস

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ওড়িষ্যার অচেনা কৈলাশ কপিলাস বাঙালির উঠল বাই তো পুরী যাই। মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজাড়িত 'জগন্নাথ ক্ষেত্র' ছাড়াও এখানকার সুনীল সাগর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সেই টানেই বার বার ছুটে আসা আমাদের পাশের রাজ্য ওড়িষ্যায়। পুরাণ মতে, দানবরাজ বলীর তৃতীয় পুত্র কলিঙ্গ এই রাজ্যের গঠন করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে এর নামে এসেছে পরিবর্তন। কোশালো, উড্রা, উৎকল, কলিঙ্গ কিন্তু এখন ওড়িষ্যা। বৈচিত্রময় রাজ্যে রয়েছে প্রকৃতির অনবদ্য সম্ভার। পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য, ম্যানগ্রোভ আর দেবতার নিজস্ব বাসভূমি। কিন্তু জগন্নাথ দেব ছাড়াও এখানে রয়েছে এক কৈলাস। 'ওড়িষ্যার কৈলাস'ও অনেকে বলে থাকেন। ২,১৫০ ফুট উচ্চতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, নির্জনতা এবং পূণ্যভূমির এক অনুপম নিদর্শন। কপিলাস পর্বতমালার উচ্চতম শৃঙ্গে মহাদেবের মন্দির। ওড়িষ্যার সবচেয়ে বড় জেলা ঢেঙ্কানল। যখন কটকে পৌঁছলাম তখন সকাল দশটা। বাসের ভরসায় না থাকাই ভাল। স্থানিয় ট্রাভেলস-এ ফোন করতেই গাড়ী হাজির। ঢেঙ্কানল হয়ে গাড়ী যাবে কপিলাস। রাস্তা মোটামুটি ভালই। কালো পিচের রাস্তার দু'পাশে ছোটখাট গ্রাম আর সবুজের সমারোহ। চলেছি ওড়িষ্যার কৈলাসে। ঢেঙ্কানল যখন এসে পৌঁছলাম তখন দুপুর ১২টা। ভীড়ে ভরা সদর শহর। ওড়িষ্যার বিখ্যাত সম্বলপুরী শাড়ীর ভাল সম্ভার চোখে পড়ল। শহর ছাড়িয়ে একটা সুন্দর রেস্তোরায় দুপুরের লাঞ্চ সারলাম। চড়া রোদলা দিনে হঠাৎ হাজির মেঘলা দিনের আভাস। যাক হাঁসফাঁস করা গরম থেকে রেহাই পাওয়া গেল। গাড়ীর গতি কমেছে উচ্চতার আধিক্যে। চারধারে অসহ্য সবুজের সমারোহ। খানিকটা দূরে গিয়ে থেমে গেল গাড়ীটা। চড়াই ভেঙে এগিয়ে চলা। শরীর জুড়ে একটা হিমেল আমেজ। এর পর পাখীর কলতানে মুখর প্রকৃতির বুক চিরে উঠে যাওয়া সিঁড়ি ধরে উঠতে লাগলাম। প্রজাপতির রঙিন পাখায় তখন রঙের তুফান তুলেছে। ফুলে ফুলে মধুলোভীদের কানাকানি সঙ্গে নিয়ে মূল তোরণদ্বার থেকে ১,৩৫২টি সিঁড়ি পেরিয়ে ওড়িষ্যার কপিলাসে। বিশাল শিবমন্দির। ভগবান চন্দ্রশেখর মহাদেব এখানে পুজো পান, স্নিগ্ধ সবুজের সান্নিধ্যে। অলস দুপুরের একচিলতে রোদ তখন মন্দিরের চূড়োয়। ছায়ামায় মেঘের জাল কেটে সূর্যের হাসিমুখ। বিকেল হবার আগেই নেমে আসতে হবে। কারণ এখানে থাকার জায়গা থেকেও নেই। ওড়িষ্যা পর্যটন দপ্তরের পান্থনিবাসের কটেজটা কখনো বন্ধ, কখনো কপালগুণে খোলা থাকে। এখন বন্ধ রয়েছে। কৈলাসে রাত্রিবাসের সুযোগটা চলে এল। একটা প্রাইভেট হোটেলে থাকার জায়গা জুটে গেল। একটা অসাধারণ ডিয়ার পার্ক রয়েছে এখানে। ঘরফেরা পাখীদের কলতান জানান দেয় দিন ফুরোল। পরদিন ভোরের আলো ছড়াতেই মূল মন্দির থেকে পুবের রাস্তাটা ধরলাম। গরম কফির কাপে চুমুকে শরীরটা এখন চাঙ্গা। আরও এক বিশ্বনাথ মন্দির ও নারায়ণ মন্দির দর্শন সেরে এবার কপিলাস ছেড়ে ২৪ কিমি দূরে মহিমা সম্প্রদায়ের মূল কেন্দ্র জোড়ান্ডায় পৌঁছে গেলাম। মহিমা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা গুরু মহিমা গোঁসাই-এর সমাধীস্থল দর্শন করে একে একে শূন্য মন্দির, ধুত্রি মন্দির দর্শন সেরে চলে এলাম সপ্ত সইয়াতে। শোনা যায়, পান্ডবরা অজ্ঞাতবাসের অনেকটা সময় এখানে ছিলেন। এখানে সূর্য্য মন্দিরটির দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যের ছোঁয়া অসাধারণ। কপিলাসে শিবরাত্রিতে বড় মেলা বসে। পাহাড়ের পদতলে আরণ্যক বাতাবরণে সাত ঋষির ধ্যানমগ্ন মূর্তি দেখতে দেখতে চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানে রামনবমীতে বড় উৎসব হয়। চেনা ওড়িষ্যার অচেনা কৈলাশে কপিলাসে কয়েকটা দিন কাটানো যায় অনায়াসে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ওড়িষ্যার অচেনা কৈলাশ কপিলাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now