বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছোট বেলায় বাবা মারা যায়।মা একাই আমাদের পাঁচ ভাইকে মানুষ করেছে।মানুষ বলতে পড়ালেখা করিয়ে মানুষ না,গাঁয়ে-গতরে মানুষ।পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে হয়ে উঠেনি।পড়ালেখাতো দূরে থাক,পাঁচ ভাইয়ের খাবার যোগাতেই মায়ের হিমশিম খেতে হতো।মা বিধবা হওয়ায় পাড়ার বাজে লোকেদের শকুনের চোখ সবসময়ই মায়ের উপর ছিল।কত লোকই না কতকিছু করতে চেয়েছে,মা ঠিক থাকায় সব ঠিক ছিল।এভাবেই কয়েক বছর চলে যায়।
আমি ছোট হওয়ায় মায়ের সাথে এখন একমাত্র আমিই বাড়িতে থাকি।ভাইয়েরা একটু বড় বড় হতেই ঢাকায় কাজের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।পাড়ার একলোকে ব্যাগের কারখানা,আরো কি কি কাজে ওদের লাগিয়ে দিলো।ভাইদের পাঠানো টাকায় সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফিরে আসে।ভাইয়েরা নিয়মিত টাকা পাঠাতে থাকে সংসারের উন্নতিও হতে থাকে।বেড়ার ঘর থেকে টিনের ঘর হয়।আমিও একটু বড় হই।
আমিও একসময় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই।এলাকার বড়ভাই ট্রাক ড্রাইভার।ওনার ট্রাকের হেল্পার হিসেবে আমার কর্মজীবনের শুরু।প্রথম একবছর কোন টাকা দেয়নি,শুধু থাকা-খাওয়া।বছর গেলে বেতন দেওয়া শুরু হয়।জীবনের প্রথম বেতন পেয়ে কিযে খুশি লাগছিল নিজেও জানি না।মাকে ফোন করে খবর দিলাম,মা তো খুশিতে কেঁদেই দিলেন।আমি সবার ছোট হওয়ায় মা আমাকে সবার থেকে বেশি ভালোবাসে।মা বলে আমি নাকি দেখতে বাবার মত হয়েছি।আমি ভাইদের সবার থেকে লম্বা এবং সুন্দর।
পাঁচ ভাই টাকা পাঠাই।তবুও মায়ের মনে শান্তি নেই।টাকাতে কি শান্তি পাওয়া যায়?আমাদের নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করে তারউপর তিনি একা।তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বড় ভাইকে বিয়ে করানো হবে।লাল টুকটুকে একটা ভাবি আনা হলো।ভাইও অনেক খুশি।এবাবে দু-তিন বছর পর পর মেজো ভাই সেজো ভাইকে বিয়ে করানো হলো।বাকি রইলাম আমি আর আমার চার নম্বর ভাই।এর মধ্যে আমিও যুবকে পরিনত হই।
দুই বছর পর চার নম্বর ভাইকে বিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নেয় মা।মেয়ে দেখে বিয়ে করানো হয়।ভাবির একটা বোনও আছে।আমার খুব পছন্দ হয়েছে।নানা ভাবে দুষ্টুমি করি ওর সাথে।অনেক ভাবে বোঝাতে চেয়েছি যে, আমি ওকে পছন্দ করি।সত্যিই কি কিছু বুঝে না,নাকি বুঝেও বুঝে না ও ই ভালো জানে।ভাবির থেকে ফোন নাম্বার চাইতে গেলে কেন লাগবে জিজ্ঞাস করে।সব খুলে বলি।ভাবিও নাম্বার দিলো,মনে হয় তিনিও আমার পক্ষে আছেন।রাত জেগে কথা হয়।অনেক কিছুর পরে রাজি হয়।চলতে থাকে আমাদের পথচলা।মায়ের জন্য টাকা পাঠানোর সময় ওর জন্য আলতা,লিপস্টিক,চুড়ি পাঠাই।ও মানা করে তবুও আমি পাঠাই।আমার ওকে দিতেই ভালো লাগে।
কয়েক মাস পরে ভাবি আমাদের কথাটা মাকে জানায়।মা ওই বাড়িতে গিয়ে দুই মাস পর বিয়ে ঠিক করে।শুনে আমরা দুজনেই অনেক খুশি হই।
আমি এখন রাতে ট্রাক চালাই আর দিনে বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে থাকি।ট্রাক চালানোর কারণে বেতনও অনেক পাই যে কারণে টাকা
-পয়সার কোন সমস্যা হয়নি।মায়ের জন্য দামি দেখে একটা শাড়ি কিনি।ওর জন্য অনেক কিছু কিনেছি বিয়েতে মেয়েদের যা যা লাগে আর কি।শখ করে ওর জন্য রূপার একজোড়া নূপুর কিনেছি।
আগামীকাল বিয়ের জন্য বাড়ী যাবো।বিয়ের আগে আজই আমার শেষ কাজ।চট্টগ্রামে এক ট্রাক মাল নিতে হবে।গাড়ি ওখানে আরেক ড্রাইভারের কাছে দিয়ে সোজা বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।সব জিনিস-পত্র আমার সাথেই নিয়েছি।
চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম রাত ৮টায়।এক ঘন্টা পর মা ফোন দিয়ে খবর নিলো,একটু পর ওকে ফোন দিলাম।কিছুক্ষণ কথা হলো।বুঝতে পারিনি এটাই ওর সাথে আমার শেষ কথা।হঠাৎ সামনে থেকে একটা ট্রাক এসে আমাদের ট্রাককে মেরে দিলো।কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
পুলিশি নানা জামেলা শেষে আমার লাশ বাড়িতে নেওয়া হলো।আমার সাথে বিয়ের জিনিস-পত্র গুলাও আনা হলো।আমার লাশ দেখে মাকে পাঁচজন মিলে ধরে রাখতে পারছে না।বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে।ইতিমধ্
যে ভাইয়েরাও চলে এসেছে।কে কাকে সান্তনা দিবে?সবাই কেঁদে কেঁদে চোখের জল শুকিয়ে ফেলেছে।শুয়ে শুয়ে আমি সবার কান্না দেখছি।এ কেমন প্রকৃতির নির্মম পরিহাস??কেউ ভাবতেও পারেনি সবার আগে ছোট ভাই কে হারাতে হবে।মা জিন্দা লাশ হয়ে পড়ে আছে। গোসল ওখান থেকেই করিয়ে এনেছে,কবর খোঁড়াও শেষ।পাড়ার সকলকে কাঁদিয়ে,আকাশ-বা
তাস ভারি করে আমি চললাম কবরের উদ্দেশ্যে।
মায়ের জন্য যে শাড়িটা কিনেছি, সে শাড়ি পড়া অবস্থায় মাকে দেখার ইচ্ছে ছিল।ইচ্ছে ছিল লাব্যন্যকে নিজ হাতে নূপুর গুলো পড়িয়ে দেওয়ার।আমার ইচ্ছে গুলো ইচ্ছেই রয়ে গেল।
সেই মেয়েটার কি হলো তা আমার জানা নেই।কিন্তু মা, মা আমাকে ভুলতে পারেনি।আমার মৃত্যুর দশদিন পর্যন্ত কেউ তাকে এক লোকমা ভাত খাওয়াতে পারেনি। শুধু ফলের রস খেয়ে বেঁচে ছিল।দশদিনের মাথায় মা ও আমার কাছে চলে এলেন।প্রিয় ছেলেকে ছাড়া কিভাবে থাকবে,কখনো চিন্তা করেনি?মানতে পারেনি আমার আকষ্মিক মৃত্যুকে।চলে এলেন আমার কাছে।পাশাপাশি মা-ছেলেকে কবর দেওয়া হয়েছে।এখন থেকে মা-ছেলে সারাজনমের মত একসাথে থাকবো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now