বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"সজিব যে কি অবস্থায় আছে,আল্লাহ জানে.কতদিন ধরে যে ওর সাথে কথা হয়না"-এসব ভাবনায় অস্থির হয়ে উঠে কল্পনার মন.সজিব কল্পনার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড.তাদের বন্ধুত্ব প্রায় দুই বছর অতিক্রম করতে চলেছে.কাকতালীয় হলেও সত্য,ওরা একে অপরকে সরাসরি দেখা তো দূরের থাক একে অপরের চেহারাও আজ পর্যন্ত দেখেনি.চেহারা দেখা নিয়ে দুজনেরই কৌতুহল থাকলেও তেমন মাথাব্যথা নেই বললেই চলে.কেননা তাদের বিশ্বাস,না দেখে যখন দুঝনেই এতো বছর ধরে ব্ন্ধুত্বটা ভালোভাবেই নিভিয়ে আসছে তখন বর্তমানে আর না দেখলেই বা সমস্যা কি?কল্পনা ও সজিব এর বন্ধুত্বের সূচনাটা বর্তমানের সবচেয়ে প্রাচীন সার্ভিস সার্কেলের মাধ্যমে.কল্পনা তখন দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তো.একটু রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে বলে নবম শ্রেণিতে উঠেও সার্কেল,ফেসবুক এসব সম্পর্কে কিছুই জানতো না বা বুঝতো না কল্পনা.তাই দশম শ্রেণির প্রথমে এক চাচাতো বোনের কাছ থেকে সার্কেল সম্পর্কে শোনার পর সে ভাবল যে সার্কেলে গল্প,কবিতা এসব পাওয়া যাবে.এর মাধ্যমে যে একজন আরেকজনের সাথে কথাও বলতে পারে তা তার জানা ছিল না.যাই হোক,কৌতুহলী কল্পনা চাচাতো ভাইবোনের সাহায্যে একটা সার্কেল আইডি খুলেই ফেলল এবং খুব দ্রুত অনেক কিছুই শিখে ফেলল.কল্পনা মেয়ে হিসেবে শান্ত এবং একটু বোকা প্রকৃতির.তাই সার্কেল কেউ খুব বিরক্ত করলে সে বিষয়টা মেনে নিতে পারতো না এবং এর ফলে তার মন খারাপ হয়ে যেতো.এ অবস্থায় সে শেষ পর্যন্ত অপরিচিত কোনো আইডি থেকে আসা মেসেজের উত্তর দেওয়াই বন্ধ করে দেয়.একদিন একটা অপরিচিত আইডি থেকে ভদ্র ভাষায় বেশ কয়েকটি মেসেজ আসে.অবশেষে সে আইডি টার সাথে কথা বলে জানতে পারে যে আইডি সজিব নামের একটি ছেলের যে ঢাকায় থাকে এবং একই শ্রেণির মানবিক বিভাগে পড়তো.অন্যদিকে কল্পনা থাকতো চট্টগ্রামে.যাহোক তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বটা বেশ ভালোভাবেই জমে উঠল.সজিবের বেশ কিছু গুণ ছিল যা কল্পনার খুব ভালো লাগতো.যেমন- ধৈর্যশীলতা(কল্পনা আম্মুর মোবাইল থেকে সার্কেল চালাতো তাই মাঝে মাঝে সজিবের মেসেজের সাথে সাথে রিপ্লাই দিতে পারতো না.এমনকি কখনো কখনো দুই-তিন দিন পরে রিপ্লাই দিত.কিন্তু সজিব খুবই ধৈর্যের সাথে কল্পনার রিপ্লাই এর অপেক্ষা করতো এবং সাথে সাথে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করতো.),ক্ষমাশীলতা ( কল্পনা যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ রিপ্লাই নাও দিত তাহলেও সে রাগ না করে কল্পনার কষ্টটা বুঝতো.মাঝেমাঝে উল্টো নিজের অতি ক্ষুদ্র ভূলের জন্য মাফ চাইতো),ধর্মপরায়নতা(কল্পনাকে দুঃখের সময় আল্লাহর কথা বলে অনুপ্রেরণা দিত.কল্পনা নামাজ পড়ে শুনে সে খুব খুশি হয়েছিলো.সে নিজেও ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো.) এবং পবিত্র মনের অধিকারী ( কল্পনার সাথে এতদিন কথা বলার পরেও কখনো এমন কোনো কথা বলেনি যা বন্ধুত্ব ছাড়া অন্যকোনো সম্পর্ক প্রকাশ করে,এমন কোনো কথা বলেনি যা বর্তমানের একটা ছেলে স্বাভাবিকভাবেই একটা মেয়েকে বলে থাকে,এমনকি এতদিন হয়ে যাওয়ার পরেও কখনো কল্পনাকে কল করার জন্য রিকুয়েস্ট করেনি,কখনো মোবাইল নামবার ও খুজেনি.সবসময় বলেছে যে যেটা করার সামর্থ্য তোমার নেই সেটা করার দরকার নেই.)আবার কল্পনার কিছু গুণ সজিবের খুব ভালো লাগে.যেমন-শান্তশিষ্ট,সহজ-সরল,সত্যভাষী,কথা বলার চেয়ে কথা শোনার আগ্রহ বেশি,দোষ করলে ক্ষমা চাওয়া.সজিব যেমন কল্পনার সাথে একজন প্রিয় বন্ধুর মতো সবকিছু শেয়ার করে তেমনি কল্পনাও তার সবকিছু সজিবের সাথে শেয়ার করে.আজ তাদের বন্ধুত্বটা প্রায় দুই বছর হতে চলেছে.অথচ প্রথমদিকে একে অপরের প্রতি যে আন্তরিকতা ছিল তা আজও একই রকম আছে.এই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের দৃঢ়তা আজ আরও বেড়েছে.তাদের মনে হয় তারা দুজন যদি সারাজীবন এভাবে বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে একে অপরের পাশে থাকে তাহলে তারা যেকোনো বিপদ মোকাবেলা করতে পারবে.শুধু একটাই ভয়,নিম্নমানের ভাবনার অধিকারী মা-বাবা যদি এ বন্ধুত্বের সম্পর্ক টাকে খারাপ ভেবে তাদের আলাদা করে দেয় তাহলে তাদের কি হবে!কিন্তু তাদের বিশ্বাস যে,তাদের এই স্বচ্ছ,নির্মল বন্ধুত্বে খারাপ কিছু নেই.তারা পৃথিবীকে চিৎকার করে বলতে চাই যে,"ছেলে মেয়ের মধ্যে ভালোবাসা ছাড়া বন্ধুত্বের সম্পর্ক ও হতে পারে"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now