বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপ্রয়োজনীয় আঁচল

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শেখ মোঃ নাঈম (০ পয়েন্ট)

X বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে,জানালা দিয়ে সে দৃশ্যই দেখছিলাম। বাইরে রাস্তার পাশে ফুটপাতে একটা ৮/৯বছরের ছেলেকে দেখলাম মায়ের আঁচল ধরে কাঁপতে কাঁপতে হেঁটে যাচ্ছে। মা নিজের প্রতি খেয়াল না দিয়েই নিজের যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন যেনো ছেলেটার মাথায় বৃষ্টির ফোঁটা না পড়ে। আচ্ছা মায়েরা কি এমনই হয়? মায়েরা এমন কেন? তাদের কি ঠান্ডা লাগে না? এমনই বৃষ্টির দিনে ঘরের মধ্যে দুষ্টামী করতাম,মা এসে একটু বকেঝকে ঘরের মধ্যে চুপ করে বসিয়ে রেখে একটু পরেই হাতে ডালের বড়া,গরম খিচুড়ি নিয়ে আসতেন। তারপর আমি আর বাবা খেতাম পাল্লা দিয়ে,কিন্তু মাকে খেতে দেখতাম না। খেতে বললে বলতো,"নাহ আব্বু,তুমি খাও। খেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হও,তুমি বড় হলেই তো আমার সব পাওয়া হয়ে যাবে।" তারপর মা কাঁথা সেলাই করতে চলে যেতেন নিজের ঘরে। আচ্ছা, বৃষ্টিতে আমাদের শরীরে আলসেমী আসলেও,মায়েদের কি আসে না? তাদের কি ক্লান্তি লাগে না? আজ যে গল্প বলবো,সেটা কোনো সাহিত্যিকের কল্পনা নয় অথবা কোনো সাজানো গল্প নয়। এ এক সন্তান আর এক মায়ের গল্প। এক মায়ের কিশোরী বয়স থেকেই হাজারো স্বপ্ন দেখার ফসল হলো সে সন্তান। সে সন্তান যখন তার মায়ের গর্ভে এসেছিলো,তখন থেকেই মা তাকে নিয়ে বুকের পাঁজড়ে স্বপ্নের ইচ্ছেঘুড়ি উড়াতো। যখন সন্তান পেটে লাথি দিতো, তখন এক অসীম যন্ত্রণা মায়ের সারাশরীর কব্জা করলেও, তার মন ছিলো সেই স্বপ্নের নেশায় মত্ত। সে চোখ বুজে সেসব সহ্য করতো,কারণ এ আঘাত তো আর অন্য কেউ দিচ্ছে না। এ আঘাত যেনো এক অন্যরকম যন্ত্রণা যা পাওয়ার আশাতেই যেনো প্রহরগোনা। হাসিমুখে চোখে জল দেওয়ার মতো যন্ত্রণা। অতঃপর সেদিন এলো মায়ের জীবনে। একটা হাড় ভেঙে যাওয়াতে সেই মা কিশোরী বয়সে অনেক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছিলেন,কেঁদেছিলেন অনেক।কিন্তু সেদিন সে একসাথে ২২টা হাড় ভাঙার সমান যন্ত্রণাও যেনো সহাস্যে মেনে নিলেন। সন্তানের কান্নাভেজা মুখ দেখে মায়ের হাসি পেয়ে গেলো,আহা তাকে ছাড়া কতটা অসহায় সে নবজাতক। সন্তান কাঁদছে,মা হাসছে। অথচ কি মিল,দুজনের চোখেই জল। একজনের অচেনা জগত দেখার কারণে,আরেকজনের সেই অচেনা অতিথীর আগমনে। যেইমাত্র মা সন্তানকে কোলে তুলে নিলেন,মূহুর্তেই যেনো কান্না থেমে গেলো। তারপর হাঁটি হাঁটি পা পা করে হামাগুড়ি,বসতে শেখা,হাঁটা সব শেখালেন মা। সকালের মিষ্টি রোদে শুইয়ে রাখাসহ আরও কত কি করা। যেদিন সন্তান আধোবুলিতে "মা" বলে ডাক দিলো,মায়ের কলিজার বামপাশটা আনন্দে যেনো সাত আসমানের উপরে আরশে পৌছে গেলো। যেনো স্বর্গের নন্দনকাননের কোনো এক দেবশিশু ডেকে উঠলো। সন্তানও আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। মায়ের বুকে মাথা না রাখলে তার ঘুম আসে নাহ,যেখানেই যাই করুক না কেন,দৌড়ে এসে মায়ের আঁচলের নিচে লুকিয়ে পড়লেই সব ভয় যেনো উবে যেতো কর্পূরের মতো। তার কাছে মনে হতো, এ যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান। তাকে কেউ চাইলেও এখানে এসে কিছু করতে পারবে না। একদিন সন্তান উঠোনে খেলতে গিয়ে পা কেটে ফেললো। একটু রক্ত বের হতে না হতেই মা যেনো পাগল হয়ে গেলেন,হাতের কাছে লতাপাতা খুঁজতে লাগলেন। তাড়াতাড়ি নিজের একমাত্র ভালো শাড়িটারও আঁচল নির্দ্বিধায় ছিঁড়ে নিয়ে সন্তানের পায়ে বেঁধে দিলেন। তার খেয়ালই হলো না যে এই শাড়িটা ছাড়া তার আর তেমন ভালো কোনো শাড়ি নেই। এভাবেই হাজারো না বলা গল্পকে বুকে নিয়ে সন্তান বড় হলো,অনেক বড় হলো। বিয়ে করলো,নিজের সংসার পাতলো। তার নিজেরও সন্তান হলো,সে খুব ব্যস্ত এখন। এখন আর সময় করে মায়ের আঁচলের নিচে শোয়া হয় না আর। আর শোনা হয় না টুনাটুনির গল্প,বাঘরাজ দুধরাজের গল্প,ভূত পেত্নীর গল্প। মা এখন আর আগের মতো কাজও করতে পারেন না,অযথা সংসারে বোঝা হয়েই আছেন। মা তো এখন আর কাজে আসেন না,তাকে অযথা সংসারে রেখেই বা কি হবে? এর চেয়ে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসলে কেমন হয়? অন্তত ঘরে একটা রুম ফাঁকা হবে,অতিথীরা এসে থাকতে পারবে। নাহ আর ভাবতে পারছি না। না জানি আমার মা কেমন আছেন? নাহ,তাঁকে মা বলে ডাকতেও আজ লজ্জা হচ্ছে নিজের উপর। আমি তো বড়লোক। এক বৃদ্ধা,অচল,গরীব মহিলাকে মা কেন ডাকছি? সে আমার অসহায়ত্বের সময়ে আমাকে নিজের সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে বলে কি আমার এখন এই বিশাল অট্টালিকায় তাকে স্থান দিবো? মোটেও না,তাহলে আমার এই বিশাল অট্টালিকায় জায়গা কম পড়ে যাবে। সে নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছে বলে কি এখন তাকে এখানে আনবো? মোটেও নাহ,তাহলে আমার হাজার থালা খাবারেও কমতি পড়বে। তার চেয়ে এগুলো নষ্ট হচ্ছে হোক,তবুও দিবো না সেই অকর্মণ্য মহিলাকে এই খাবারের ভাগ। এভাবেই সুন্দর চিন্তাধারা নিয়ে বেঁচে থাকবে আমার মতো হাজারো সুযোগ্য সন্তান। মানসিক ভারসাম্যহীন নপুংশক এই চিন্তাধারার পরিবর্তন আসবে না,কোনোদিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপ্রয়োজনীয় আঁচল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now