বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আকাশ অনেক মেঘলা তাই রাতটা একটু বেশিই আঁধারে ঘেরা মনে হচ্ছে অথবা আমার চাপা কষ্টগুলো আঁধারিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।আমার আকাশ দেখতে অনেক ভালো লাগে তাই ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছি,যদি আকাশ তার নিজের বিশালতা আমার মাঝে ছড়িয়ে দেয়,যদি তাঁর মতো আমার মনটা হয়ে যায়!এটা বর্ষাকাল তাই আজ সারা দিনটা বর্ষণমুখর ছিল।তবে আজ বর্ষার শেষ দিন।এখন আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না।ভেজা মাটির স্নিগ্ধ মিষ্টি গন্ধটা ভেসে আসছে।আমার বর্ষাকাল ভালো লাগে না কারণ বর্ষাকালে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয় যখন তখন।যদিও বৃষ্টি আমার ভালোই লাগে তবে হঠাৎ বৃষ্টি হলে তা অন্যরকম আনন্দ দেয়,অপ্রত্যাশিত আনন্দ! আর বর্ষাকালে তো হঠাৎ বৃষ্টি হয় না।বর্ষাকালের বৃষ্টি নিয়মের মাঝে পরে যায়।শরৎকালে হুট করে ঝুম বৃষ্টি দেখা যায়।তাই শরতের বৃষ্টি আমার ভালো লাগে
আকাশ দেখতে দেখতে আমার সেই দিনের কথা মনে পরছে
এক বছর আগে শরতের বিকেলের কথা। হাঁটতে বের হয়েছিলাম, আকাশ তখন শুভ্র সাদা ছিলো আর পিচ ঢালা রাস্তা বৃষ্টিতে ভেজা ছিল রাস্তার দুইধারে কাশ বন ছিল।সবমিলিয়ে আমার একটা প্রিয় মুহূর্ত।এরই মাঝে হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি রংধনু তার রং ছড়িয়ে দিয়েছে আকাশ থেকে চোখ সরাতেই নির্জন রাস্তায় হঠাৎ এক ছেলেকে দেখি পিচ ঢালা রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটছে।তাঁর চোখে চোখ পড়তেই চোখটা সরিয়ে নিলাম কিন্তু 10s এর সেই নিরিক্ষনে তার চোখ দুটিকে আমার ভীষণ মায়াবী মনে হলো।পাশ কাটিয়ে চলা শুরু করার আগে পেছন ফিরে আর একটি বার দেখতে চেয়েছিলাম তাকে,তাঁর হাতে কিছু বই আর পিঠে একটা ব্যাগ ছিলো।মুখটা আর দেখা গেলো না।পথ চলতে চলতে তার কথাই ভাবছি কেনো জানি তাকে জানার কৌতূহল হচ্ছিল।হঠাৎ পা বাড়াতেই একটি ডায়েরি চোখে পড়লো।মনে হলো ডায়েরিটি তাঁর হাত থেকেই পড়েছে যেহেতু তার হাতে কিছু বই ছিলো আর রাস্তাটাও নির্জন।সে ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গেছে নিশ্চয়।তাই ডায়েরিটি তখন ফেরত দেওয়ার কথা চিন্তা করা নিছকই ভিত্তিহীন ছিলো তবুও আমার খরকুটো চিন্তাধারার কারণে তাকে খোঁজার চেষ্টা করলাম কিন্তু নাহ্ তাকে আর সত্যিই পেলাম না তাই ডায়েরিটি নিয়ে বাসায় আসলাম।সেই দিন রাতে আর ঘুমাইনি,ডায়েরিটি পড়েছি সারা রাত।তাকে জানার যে আগ্রহ জেগেছিল তা যেনো আরো বাড়িয়ে দিচ্ছিল ডায়েরির প্রতিটি পাতা।মনে হলো তাঁর কাছে থেকে সারাজীবন ঐ কাগজের ডায়েরির পাতার মতো তাঁর মনের প্রতিটি পাতা পড়তে থাকি।
লেখালেখিতে লেখকের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় কারণ একজন লেখক তাঁর নিজের চিন্তা ধারাগুলো তুলে ধরে তার লেখনিতে, কখনো তার কাব্যে কখনো গল্পে আবার কখনো গানে।
তাই বুঝলাম তাঁর ব্যাক্তিত্ব কেমন।
তাঁর নাম কাব্য,ডায়েরিতেই লেখা ছিল।ঐ রাস্তায় আমি প্রায়ই যায় ঐ দিনের পর থেকে ,যদি শরতের হঠাৎ ঝুম বৃষ্টির মতো তার সাথে দেখা হয়েই যায়,অপ্রত্যাশিত আনন্দটি যদি পেয়েই যায়।যদি তার সাথে দেখা হয়ে যায় তাহলে এবার আর তাকে পাশ কাটিয়ে চলে আসা যাবে না,শুধু তার মায়াবী চোখেও আটকে থাকা যাবে না।তাকে আমার আগ্রহের কথা জানাতেই হবে,রাস্তায় পথ চলি আর এসব ভাবতে থাকি।
তার অস্তিত্ব আমার মস্তিষ্কে ছাপিয়ে রয়েছে যা আমাকে তার কথা প্রতি মুহূর্তে ভাবায় এভাবে ছায়া নামক সঙ্গীর মতো সে আমার সাথেই থাকে তবু ও সে আমার শূন্যতার কারণ।আমার সব ভালো লাগা,খারাপ লাগা,সব অভিযোগ আর অভিমানগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে দেই।আজ আর রাত জাগবো না, ঘুম পাচ্ছে।কালকে নাকি পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে।এই এক বছরে সব সম্বন্ধকেই না করে দিয়েছি বিভিন্ন অযুহাতে।বাবা মাকে তো আর বলা যায় না আমি এক অপ্রত্যাশিত আনন্দের প্রতিক্ষায় আছি।এইবার বাবা মা বলেছেন তারা শুধু একবার বাড়িতে আসুক তুমি দেখো তোমার অমতে আমরা বিয়ে দেবো না।তাই রাজি হয়েছিলাম দেখা করতে।তবে অমত করার জন্য ও প্রস্তুত ছিলাম।আজ শরতের প্রথম দিন।পড়ন্ত বিকেলে পাত্র পক্ষ আমাদের বাড়ি এলো।তাঁদের সামনে গেলাম,কারো দিকে না তাকিয়ে অপেক্ষা করছি আমি রাজি নই একথা বলার সুযোগের।কোনো এক মহিলা আমার নাম জানতে চাইলেন।বললাম আমার নাম কথা।মহিলাটি বললেন কথা তোমার যদি কাব্যকে আলাদা করে কিছু বলার থাকে তবে বলতে পারো।আমি কাব্য নামটি শুনে অন্যরকম হয়ে গেলাম আর ছেলেটির দিকে তাকাতেই অপ্রত্যাশিত আনন্দ পেলাম।এই সেই কাব্য!আমাদের ছাদে পাঠানো হলো কথা বলতে।তাঁর মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ।নিরবতার পরে সে বললো আচ্ছা, আপনার প্রিয় রঙ কি?আমি বললাম সাদা আর কালো।
কাকতলীয়ভাবে মিলে গেলো আমাদের পছন্দ।আমি বললাম আপনার ডায়েরিটি আমার কাছে আছে।সে বললো জানি,ডায়েরিটি আপনার কাছেই রেখে দিন।আমি তাঁর প্রথম কথাটিতে একটু অবাক হলাম।সে বললো আপনি এখন অনেক কিছু ভাবছেন তাই না?আপনার সব প্রশ্নের উত্তর এতে আছে একথা বলে একটি চিঠি ধরিয়ে দিলেন।আমি চিঠিটি তখন পড়লাম না।আমরা নিচে চলে আসলাম এবং তাঁরা চলে গেলো।আজ আমি অনেক খুশি।শরতের প্রথম দিনেই আমি আমার অপ্রত্যাশিত আনন্দ পেয়ে যাবো ভাবিনি।রাতে আবার ছাদে গেলাম চিঠিটা হাতে নিয়ে।আজ আকাশে সুন্দর চাঁদ উঠেছে,তারায়ভরা আকাশ আর জোনাকিগুলো জ্বলছে আর একটু দূরেই সড়ক বাতির আবছা আলো দেখা যাচ্ছে এ সবকিছুই যেনো আমার আনন্দে আলো ছড়াচ্ছে
চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলাম শুরুতেই ঐ শরতের বিকেলের কথা লেখা।
প্রিয় কথা,
যেদিন তোমাকে প্রথম দেখি আমি সেই দিনই আটকে গিয়েছিলাম তোমার মায়ায়।সেই দিন তোমার কথা ভাবতে ভাবতে বাসায় গিয়েই লক্ষ্য করলাম আমার ডায়েরিটি নেই।পরের দিন বিকেলে আবারও সেখানে গেলাম।ঐ জায়গাটা আমার ভীষণ প্রিয় তাই প্রতিদিনই শেষ বিকেলে আমি সেখানে যায় আর লেখালেখি করি।তোমাকে ঐ দিনের আগে কখনো দেখিনি তবে পরের দিন আবার তোমাকে দেখলাম।যেখানে বসে আমি লেখালেখি করি সেখানে বসে ছিলে।তোমাকে আমি আর দেখা দেয়নি কারণ তুমি যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে তোমার কথাগুলো বলেছিলে আমি শুনেছিলাম।তুমি তো সেখানে আমার জন্যই যেতে।আমার দেখা পাওয়ার প্রত্যাশায়, পাগলি মেয়ে আমি যদি তখন তোমাকে দেখা দিতাম তাহলে সেটা তো তোমার অপ্রত্যাশিত আনন্দ হতো না।তাই প্রতিদিন সেখানে গিয়ে শুধু তোমার কথাগুলো শুনতাম,কথাগুলো শুনে আমি বুঝেছিলাম তোমার অনূভুতিও ঠিক আমারই মতো,আমি শুধু তোমাকে প্রেমিকা নয় জীবন সঙ্গী করতে চেয়েছিলাম তাই সে সময় দেখা দেয়নি।চাকরির অপেক্ষায় ছিলাম।কিছু মাস আগেই আমি চাকরি পেয়েছি।তারপরে তোমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলাম এবং প্রস্তাব দিলাম আর তারপরেই হুট করে তোমাকে অপ্রত্যাশিত আনন্দ দিতে চলে এলাম।আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি কথা।বাকিটা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তোমার সাথেই কাটাতে চায় এবং মৃত্যুর পরেও তোমার সাথেই থাকতে চায়।
ইতি তোমার
অপ্রত্যাশিত আনন্দ,কাব্য
চিঠিটা পড়া শেষ করে
বাবা মাকে বিয়ের জন্য মত দিলাম।মুঠোফোনে কথা হলো তাদের,কিছু দিনের মধ্যেই তাঁরা আবার আসবেন বিয়ের দিন ঠিক করতে।
সমাপ্তি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now