বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপরিচিতা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X # অপরিচিতা সময়টা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আমি তখন এসএস সি পরীক্ষার্থী। প্রথম সারির ছাত্র ছিলাম তাই আমার উপর চাপ ও একটু বেশি ছিল।যেভাবেই হোক ভালো রেজাল্ট করতেই হবে।তাই ভালোভাবে লেগে গেলাম পড়াশোনায়। কালকে এক্সাম তাই পড়ার টেবিল থেকে উঠতে ভয় করছে।টিভির সামনে আর যাওয়া হয়নি।রাতে একটা ফ্রেন্ড ফোন করে বলল কালকে হরতাল তাই এক্সাম হবেনা। এই খবর শোনে আমি খুবই হতাশ হলাম।এত কষ্ট করে পড়লাম আর কাল নাকি পরীক্ষা হবেনা মনে মনে হরতাল এর চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করলাম। আজ শুক্রবার। গত সপ্তাহের এক্সাম টা আজ হচ্ছে।যথাসময়ে রেডি হয়ে স্কুলের দিকে রওনা দিলাম।সেন্টার আমাদের স্কুলে তাই নার্ভাস হলেও তা প্রকাশ করতে পারলাম না।মনে মনে ঠিকই নার্ভাস ছিলাম। বিশেষ করে এই কথা ভেবে যে,অনেক স্কুল থেকে শিক্ষার্থী আসবে,সাথে মেয়েও। সুন্দরী মেয়েদের সামনে আমি এমনিতেই যেতে পারিনা।ভয়ে হাটু কাঁপে। আমি সহ আমার কাছের কয়েকজন ফ্রেন্ড বাদে বেশিরভাগ ফ্রেন্ডস এরই গার্ল ফ্রেন্ড ছিল।আমি সিঙ্গেল ছিলাম কারন এইসব রিলেশন এর ভুত তখনো আমার মাথায় চাপেনি। ফার্স্ট পরীক্ষা,তাই নার্ভাসনেস কাটাতে ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা দিতে শুরু করলাম। তখনই নজর গেল একজোড়া চোখের দিকে। চোখজোড়া দেখেই আমার ভিতর টা কেমন যেন নাড়া দিয়ে ঊঠল।আমার ফ্রেন্ডস দের কাছে মেয়েদের চোখের আর হাসির প্রশংসা অনেক শুনেছি বিশ্বাস করিনি। এইবার নিজেই তার প্র্যাক্টিক্যাল প্রমাণ পেলাম।চোখজোড়ার বিবরণ আশা করি আপনাদের দেওয়া লাগবেনা। এক্সাম দিয়ে বের হলাম।মোটামুটি ভালোই হয়েছে।৮০+ পাবো আশা আছে। এইসব নিয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে কথা চলছিল। আবারও সেই মেয়েটির আবির্ভাব। এবার একটু কাছ থেকে দেখব মনে হচ্ছে। কিন্তু না তা আর হল কই?অন্যদিক ঘুরে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। এরপরেরদিন ও এক্সাম ছিল তাই আর লেট করিনি দ্রুত বাসায় চলে আসি। পড়তে বসেছি কিন্তু চোখজোড়া সামনে ভেসে উঠেছে।কি আর করা অনেক কষ্টে প্রিপারেশন নিলাম।যদিও আগে থেকেই প্রিপারেশন ছিল। ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছি আর অপলকে দেখছি ঐ মায়াবতী কে।যে এই সুপ্ত মনে ভালোবাসার ফুল ফুটিয়েছে।কবি হতে ইচ্ছে করছে খুব।এক্সামের বেল বেজেছে তাই আর কবি হয়ে উঠা হলনা।অগত্যা,আমার ভাবনার এখানেই অবসান ঘটাতে হল। এক্সাম শেষে দাঁড়িয়ে আছি। উদ্দেশ্য এতক্ষণে পাঠকরা নিশ্চয়ই বুজতে পেরেছেন। আজও দুর থেকে দেখলাম কাছে গিয়ে কথা বলার সাহস টুকু ছিলনা।বন্ধুরা ঠিকই বলে,সাহস না থাকলে প্রেমের দ্বারে কাছে যেতে নেই,এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। নিজেকে নিজেই সাহস দিলাম,আমি পারবই।আমাকে পাড়তেই হবে।সাহস দিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।মানে হরিণী চোখের মায়াবতী চলে গেছে। একা হাটছি আর ৬ দিন বন্ধের কথা শুনে মন খারাপ করে আছি। এতদিন কি করে থাকব? কোনরকমে ৬দিন পার করে আবার এক্সাম দিতে আসিলাম। আজকেও বেশি কিছু হয়নি। ১৪ ফেব্রুয়ারি, এক্সাম শেষে এক গুচ্ছ ফুল হাতে দাড়িয়ে আছি।হঠাৎ এক ফ্রেন্ড এসে বলে,কিরে দোস্ত তুই ফুল হাতে কি করছিস? ভালোই করেছিস আজকে টাকা আনতে ভুলে গেছি। দে আমাকে দে। আমাকে কিছু বলতে না দিয়েই ওর গফ এর জন্য আমার কেনা ফুল নিয়ে গেল। রাগে দুঃখে এদিন ও আর কিছু বলা হলনা। মন খারাপ করে বাসায় ফিরে আসি। আজকে শেষ এক্সাম।সবাই সবার কাছে বিদায় নিচ্ছে।আমার সেদিকে খেয়াল নেই।আমি শুধু সেই মায়াবতী কেই খুজছি। এই তো পেয়েছি তাকে।কিন্তু পাশে এটা কে?আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলেরই কাউকে মনে হচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখতে পারলাম এ টা হচ্ছে সিহাব যে আমার কেনা ফুল নিয়ে গিয়েছিল। মনে মনে ওর উপর অনেক চটেছি। কিন্তু নিজের ভুলটাও সামনে আসতে দেরি করেনি। নিজেকেই গালি দিতে ইচ্ছে করছে খুব। আমার মত অপদার্থের দ্বারা কিচ্ছু হবেনা। খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে, ওগো অপরিচিতা মুখের ঐ পর্দা সরাও মায়াবতীর মুখখানা একটিবার দর্শন করাও খুব করে চেয়েছি পেতে,পাওয়া হলনা অপরিচিতাই রয়ে গেলে চেনা হলনা। THE END আমি এই গল্পে প্রতীকী অর্থে।কেউ রিয়েল ভাববেন না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপরিচিতা
→ অপরিচিতাকে পাওয়ার আশায়
→ অপরিচিতা-২(session-2)
→ অপরিচিতা-১(session-2)
→ অপরিচিতা-৯
→ অপরিচিতা-৮
→ অপরিচিতা-৭
→ অপরিচিতা-৬
→ অপরিচিতা-৫
→ অপরিচিতা-(৩+৪)
→ অপরিচিতা-(১+২)
→ অপরিচিতা
→ অচেনা অপরিচিতা
→ অপরিচিতা ১
→ এক জন অপরিচিতা মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now