বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিক্সায় ওঠো।
'
সকালে ঘুম থেকে উঠে চা না খেলে ভালই
লাগে না।প্রথমে শখ করে খেলেও এটা এখন
নেশা হয়ে গেছে।
প্রতিদিনের মতো আজও চা খেয়ে বাসার
দিকে রওনা দিলাম।তখনি পেছন থেকে
একটা রিক্সা এসে আমার সামনে থামলো।
'
আমি রিক্সা ক্রস করার আগেই কেও একজন
আমাকে রিক্সায় উঠতে বললো।আমি
তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে বসে আছে।তবে
আমার পরিচিত নয় এটা শিওর।আমি বললাম,
-আমি তো আপনাকে চিনি না।অপরিচিত
কারও সাথে আমি রিক্সায় উঠি না।
-তুমি আমাকে চেনো।আর তুমি এখন রিক্সায়ও
উঠবা।
কি বিপদে পড়লাম।চিনি না জানি না,তার
সাথে নাকি রিক্সায় উঠতে হবে।আবার বলে
আমি নাকি চিনি।
-এই তোমার শার্ট এত ময়লা কেন।এমন ময়লা
শার্ট কেন পড়ছো।আমি শার্ট এর দিকে
তাকালাম।হুম,ময়লা একটু হয়েছে কিন্তু বেশি
না।
-আচ্ছা তাহলে আমি শার্টটা চেঞ্জ করে
আসি।
'
উফ বাবা বেচে গেলাম।একবার গেলে আর
আসবো না।মেয়েটা এবার ভাবনায় পড়ে গেল।
আমি তো সেই রকমের খুশি।
-কিছুই করতে হবে না।তুমি উঠে এসো।আর যদি
না উঠো তাহলে কিন্তু আমি লোক জড়ো করে
বলবো যে তুমি আমাকে ডিস্টার্ব করছো।
আমার হাসি মুখে নিমিষেই অন্ধকার নেমে
এলো।বলে কি মেয়েটা।আমি আর কিছু
বললাম না।যত কিছুই করি না কেন এই মেয়ে
আমাকে ছাড়বে না।
"
এই মেয়ের ধান্দা আমি ধরে ফেলেছি।
ছিনতাইকারী নয় তো আবার।প্রথমে ঘুরবে।
তারপর রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে আমার মানিব্যাগ
খালি করবে আর চলে যাওয়ার সময় আমার
ফোনটা নিয়ে চলে যাবে।
'
-আচ্ছা আমার সাথে রিক্সায় ঘুরতে তোমার
কেমন লাগছে?
মেয়েটার কথায় আমি কিছুই বললাম না।
মেয়েটা আবারও বললো,
-সুন্দরী মেয়েদের পাশে বসলে সব ছেলেরই
ভাল লাগে।আর আমি জানি তোমারও ভাল
লাগছে।
আমি কিছু না বললেও কথাটা সত্যি।ওর পাশে
বসে ঘুরতে খারাপ লাগছে না।দেখতেও
মাশাল্লাহ।
'
এই।
'
মেয়েটার কথায় আমার ধ্যান ভাঙল। রিক্সা
একটা রেস্টুরেন্ট এর সামনে এসে থেমেছে।
এই বার আমি শেষ।আমার মানি ব্যাগটা এবার
একদম ফাকা হয়ে যাবে।
আমি মেয়েটার সাথে ভেতরে গেলাম।
:
টাকার চিন্তায় ঠিক মতো খেতেও পারলাম
না।তবে খাওয়া শেষে মেয়েটাই বিলটা
দিয়ে দিল।আমিও একটু স্বস্থি পেলাম।
'
তাহলে চলো এখন বাসার দিকে যাই।আমার
কথা শুনে মেয়েটা কেমন চোখে যেন
তাকালো আমার দিকে।আমি আর কিছু
বললাম না।
মেয়েটা আমার হাত ধরে হাটতে লাগলো।
আমি একটু অসস্থিতেই পরলাম।তবে অনুভুতিটা
খারাপ না।
'
পার্ক এর একটা ব্রেঞ্চে বসে আছি।মেয়েটা
এখনও আমার হাত ধরে আছে।মনে হচ্ছে আমি
মেয়েটার কত দিনের চেনা।
তুমি কি আমাকে এখনও চেনোনি!করুন মুখে
মেয়েটি কথাটি বললো।আমি কিছু না বলে
চেনার চেষ্টা করছি।কিন্তু কিছুতেই মনে
পড়ছেনা।আমি কথা ঘুরিয়ে বললাম,আচ্ছা
এখন আমরা কোথায় যাচ্ছি?আমার কথাটি
মনে হয় ওর পছন্দ হলো না। দাঁড়িয়ে হাটা শুরু
করলো।আমিও ওকে অনুসরণ করলাম।
মেয়েটা আসলেই ভাল।তবে একটু রহস্যময়ী।
এবার আর ও আমার হাত ধরে হাটছে না।
আমারও ভাল লাগছে না।বার বার মনে হচ্ছে
ওই নরম হাতটা ধরতে কিন্তু কোথাও যেন
বাধা পাচ্ছি।
'
মেয়েটা আমার মনের কথা কিভাবে বুঝলো।
হাটতে হাটতে একটা শপিংমলের সামনে
আসতেই মেয়েটা আমার হাত ধরে ফেললো।
আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি
দিয়ে শপিংমলের দিকে এগুতে লাগলো।
এখন কি ওকে শপিং করে দিতে হবে।
অজান্তেই আমার হাত মানি ব্যাগটা স্পর্শ
করলো।তবে টাকার চেয়ে হাত ধরার
অনুভুতিটা আমার কাছে অনেক দামি।
"
এই মেয়েটা কি শার্ট প্যান্ট পড়বে নাকি।
আজ তো সেলোয়ার কামিজ পড়ে এসেছে।
তাহলে এইগুলা কেনার মানে কি।আমি
কিছুটা ধান্দায় পড়ে গেলাম।মেয়েদের এইসব
পোশাক আমার ভাল লাগে না।
মেয়েটা এবারও আমাকে অবাক করে দিয়ে
বিলটা দিয়ে আমার হাত ধরে বেড়িয়ে
পরলো।
"
রিক্সায় বসে আছি।মেয়েটা আমার এককদম
গা ঘেসে বসে আছে।আমি তাকিয়ে আছি
মেয়েটার চোখের দিকে।কেমন যেন মায়ায়
পড়ে যাচ্ছি।
'
যেখান থেকে মেয়েটা আমাকে তুলে নিয়ে
গিয়েছিল সেখানে এসেই রিক্সাটা থেমে
গেল।আমি নামতেই শপিং ব্যাগটা আমার
হাতে দিয়ে বললো,এইটা তোমার জন্যে।আমি
ব্যাগটা নিয়ে কিছু বলতে পারলাম না।
মনে হচ্ছে কি যেন হারিয়ে ফেলছি।মেয়েটা
এবার ব্যগ থেকে একটা কাগজ বের করে
আমার হাতে দিয়ে বললো তুমি চাইলে
সারাজীবন এই হাত ধরে রাখতে পারো।
মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি
পানি টলমল করতেছে।
রিক্সা চলতে শুরু করেছে।আমি কাগজটা
খোলার চেষ্টা করছি।হাত কাপছে কেন
বুঝতে পারতেছি না।কাগজটা খুলতেই ওপরের
লেখাটা দেখে আমি একটু অবাকই হলাম।
"
প্রিয় অবনী।
লেখাটা চেনা চেনা মনে হচ্ছে।কোথাও
যেন দেখেছি।পুরো লেখাটা পড়তেই আমার
সব মনে পড়ে গেল।আরে এটা তো আমার
লেখা।এটা তো আমি অবনীকে দিয়েছিলাম।
তার মানে এটাই অবনী।
আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগের কথা।আমরা
আর অবনীরা পাশাপাশি ফ্লাট এ থাকতাম।
তখন থেকেই ওকে অনেক ভালবাসতাম।যেদিন
আমরা বাসা ছেড়ে দিয়ে এখানে চলে আসি
সেদিন আমি অবনীকে চিঠিটা দিয়েছিলাম।
তার মানে মেয়েটা আমাকে খুজে বের করে
এখানে এসেছে।আমি আর দাড়ালাম না।
"
রিক্সাটা প্রায় অনেক দূরে চলে গেছে।আমি
দৌড়াচ্ছি।যেভাবেই হোক ওকে আর
হারানো যাবে না।আমার দৌড়ানো দেখে
অবনী রিক্সা থামাতে বললো।আমি রিক্সায়
উঠে অবনীর হাতটা শক্ত করে ধরলাম।অবনীর
চোখের পানি আমি এখনও স্পষ্টই দেখতে
পেলাম।মেয়েটা আগের থেকে ওনেক সুন্দর
হয়েছে।অবনী আলতো করে ওর মাথাটা
আমার কাধে রাখলো।হঠাৎ আমার মুখ থেকে
বেড়িয়ে গেল,অবশেষে পাইলাম আমি
উহাকেই পাইলাম।
-------------------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now