বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপেক্ষিত ট্রেন-০১

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X অপেক্ষিত ট্রেন লেখক: নাফিজ আহমেদ বেলা তখন সকাল সাড়ে সাতটা। রিপন দাঁড়িয়ে আছে বালিকা ক্যাম্পাসের সামনে। চোখ দু’টো পথের দিকে নিবদ্ধ—অপেক্ষা করছে বাতাস আর রিপার জন্য। গতকাল পড়ন্ত বিকেলে হঠাৎ রিপার মা ফোন করে জানিয়েছিলেন, রিপা টানা তিনদিন ধরে অসুস্থ। তাই আজ ছুটি নিয়ে বাসায় ফিরতে হবে। মায়ের কণ্ঠে অনুরোধ— “রিপন, তুমি একটু কষ্ট করে ওদের ট্রেনে তুলে দিও। আমি গাড়ি থেকে নামিয়ে নেবো।” রিপন, রিপা আর বাতাস—তিনজনেই একই এলাকার বাসিন্দা, আবার পড়াশোনাও একই মাদ্রাসায়। রিপা আর বাতাস পড়ে সখিপুর দাখিল মাদ্রাসার বালিকা ক্যাম্পাসে, আর রিপন পড়ে পুরুষ ক্যাম্পাসে। এজন্য মাঝেমধ্যেই রিপার মা তাদের খোঁজখবর নেন, প্রয়োজনে রিপনকেই দায়িত্ব দিয়ে দেন। আজও তারই ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে আছে রিপন। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ওপাশে রিপার মা— “দেখেছো ওদের?” “না কাকি, এখনো বের হয়নি। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবো?” “তুমি একটু দাঁড়াও, আমি আবার হোস্টেলে ফোন দিচ্ছি।” আসলে বালিকা ক্যাম্পাস বলে ভিতরে ঢুকতে রিপনের বেশ ইতস্তত লাগছিল। তবুও পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করল। এতক্ষণে সকালের নাশতা সেরে নিলো, আবার ফোন এলো কাকির— “রিপন, ওরা রেডি হয়ে গেছে। তুমি গিয়ে নিয়ে আসো।” “আচ্ছা কাকি, যাচ্ছি।” ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল, রিপা বেঞ্চে বসে আছে। আর বাতাস অফিসে ছুটি নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সামলাচ্ছে। রিপনকে দেখেই রিপা উঠে দাঁড়াল। শেষ দেখা হয়েছিল গত মাসে, তখন একসাথে বাসা থেকে ট্রেনে এসেছিল ওরা। রিপা মৃদু স্বরে বলল, “আচ্ছা, আম্মুর সাথে একটু ফোনে কথা বলা যাবে?” “হ্যাঁ, এই নাও।” রিপা একটু দূরে গিয়ে মায়ের সাথে কথা বলল। আর রিপন দাঁড়িয়ে থাকল বিব্রত ভঙ্গিতে। এতগুলো মেয়েদের ভিড়ে সে একা এক পুরুষ—অস্বস্তি যেন গলার কাঁটা। প্রায় বিশ মিনিট পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো। ঠিক তখনই অফিস থেকে এক শিক্ষক চিৎকার করে উঠলেন— “ওদেরকে কে নিতে এসেছে?” দপ্তরি উত্তর দিল, “এক ছেলে।” “ওকে আমার সাথে দেখা করতে বলো।” হঠাৎ বুক ধক করে উঠল রিপনের। ভয় হলো, না জানি আবার কী ঝামেলা বাধে! সম্মুখে গিয়ে স্যারের সামনে দাঁড়াতেই প্রশ্ন ঝরে পড়ল— “আপনি কে?” “আমার নাম রিপন। আমি এখানকার পুরুষ ক্যাম্পাসে পড়ি।” “ওদের কি হন আপনি?” “চাচাতো ভাই।” “ছবি দেওয়া আছে?” “না, স্যার।” স্যার কড়া গলায় বললেন, “বালিকা ক্যাম্পাস থেকে কাউকে নিতে হলে আগে ছবি জমা দিতে হয়।” ঘাবড়ে না গিয়ে রিপন দ্রুত ফোন দিল রিপার বাবাকে। “কাকা, আমি রিপন বলছি। অফিসের স্যার আপনার সাথে কথা বলতে চান।” “দাও।” স্যার ফোনে বললেন, “আপনার মেয়েকে এই ছেলের সাথে পাঠাতে কোনো সমস্যা হবে না তো?” “না না, ও আমার ভাইপো। নিশ্চিন্তে পাঠান।” অবশেষে স্যারের অনুমতি মিলল। রিপন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। গেট পেরিয়ে রিপা আর বাতাসকে নিয়ে বেরোল। এবার শুধু ট্রেনে তুলে দেওয়াই বাকি। ট্রেন ছাড়বে সকাল ১০টা ৪৫-এ। অথচ তখন বাজে প্রায় সাড়ে আটটা। দেরি হলে আরেক বিপত্তি—কারণ এ ট্রেন মিস হলে তাদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। রিপনের বুকের ভেতর কেবল একটাই প্রার্থনা— “হে আল্লাহ! আজ যেন ট্রেনটা কোনোভাবেই মিস না হয়।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপেক্ষিত ট্রেন-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now