বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুর দুইটা বেজে উনিশ মিনিট, আমার সামনের টেবিলটাতে দুগ্লাস পানি রাখা। একগ্লাস পানি হাতে নিয়ে এক চুমক খেয়ে আবার আগের যায়গাতেই রেখে দিলাম। মোটামুটি লাঞ্চ টাইম চলে তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই খাবার দোকান গুলোতে ভীর এট্টু বেশিই। টি এস সি মোড়ের পাশে মামা রেস্টুরেন্ট এন্ড বিরিয়ানি হাউজে এক প্লেট খিচুড়ি, সাথে এক টুকরা মুরগির মাংস-এক টুকরা আলুর ঝোলের জন্য অর্ডার দিয়ে বসে আছি। উদ্দেশ্য দুপুরের খাবার সেরে পার্কের ব্রেঞ্চে লম্বা একটা ঘুম দেয়া, দুপুরবেলা ব্রেঞ্চগুলো দেখলে মনে হয় এই ব্রেঞ্চ গুলো বানানো হয়েছে ঘুমনোর জন্য। হুমায়ূন স্যারের থিওরি অনুযায়ী এই বেঞ্চ গুলোতে খুব ভাল ঘুম দেয়া যায়। আজ একটা এক্সপেরিমেন্ট চালালে মন্দ হয় না।
গাছের ছায়ার নিচে খোলামেলা জায়গায় ঘুমানোর ব্রেঞ্চ ঠিক করলাম , আজ বোধ হয় কোন কারনে স্কুল বন্ধ... স্কুলের ড্রেস পড়া স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে কোন বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়ে কে ঘুরতে দেখা জাচ্ছে না। দুপুর আর বিকেলের মাঝামাঝি সময় কিন্তু আশেপাশে দেখে মনে হচ্ছে আর কিছুক্ষনের মধ্যেই মাগরিবের আযান দিয়ে দিবে। অবস্থা দেখে আজ সত্যি সত্যিই মনে হচ্ছে মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে। আকাশে বিভিন্ন রকমের মেঘ, মেঘের থেকে গর্জন বেশি... আর ঐ মেঘের গর্জন ই বলে দিচ্ছে “আপনাকে চারদিক থেকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ...পার্কের ব্রেঞ্চে ঘুমনো নিষেধ... ঘুমনোর চেষ্টা করবেন তো ঝুম বৃষ্টি নামানো হবে।”
যে হারে লীলুয়া বাতাস বঁইচে তাঁতে কেউ না চাইলেও তাঁর ঘুম পেয়ে যাবে , এবার আমি সব জল্পনাকল্পনা কাঁটিয়ে ব্রেঞ্চে মাথা রাখতে যাব তখনি বৃষ্টি শুরু । কেউ কথা রাখেনি কিন্তু প্রকৃতি তাঁর কথা রেখেছে । বর্ষাকাল চলে ,এই সময়ে নিজের শত্রুকে ভরসা করা গেলেও বৃষ্টিকে একদমই ভরসা করা যায় না ... যেকোন মুহূর্তে বৃষ্টি তাঁর লীলা খেলা শুরু করে দিতে পারে। মিনিট খানেকের মধ্যেই “যত গর্জে তত বর্ষে না” কথাটিকে ভুল প্রমান করে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল কিন্তু আমার অবস্থান ঠিক সেই আগের যায়গাতেই আছে।
পাশে কদম গাছ, গাছ ভর্তি কদম ফুল সাথে ঝুম বৃষ্টি। এভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এমন দৃশ্য উপভোগ করার জন্য প্রকৃতি যেন নিজের দুহাঁতে সব কিছু সাজিয়ে দিয়েছে। আমিও এমন সুযোগ লুফে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে প্রকৃতির লীলাখেলা উপভোগ করতে লাগলাম। আমার ঠিক সামনে দিয়েই এক চাওয়ালা মামা যাচ্ছে, মাথায় টুপির মতন করে একটা পলি ব্যাগ দিয়ে ঢাকা। দুচোখে অনেক বিস্ময় নিয়ে আমাকে দেখছে ...তিনি একবার আমার দিকে আসতে গিয়েও কি মনে করে যেন আর আসলেন নাহ।
বিকেল ৫টা ,আমার অবস্থান নতুন করে বলার কিছু নেই তবে আমি যে ব্রেঞ্চটাতে বসে ছিলাম সেটার কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। সেটাতে এখন আর আমি একা না, আমার পাশে আরো একজন আছে। মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে আগুনের গোলা বের করে আমার ভেজা কাপড় শুঁকানোর , অথবা আমাকে ভস্ম করার ব্যার্থ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয় টা আমি খুব ভালই উপভোগ করতেছি। কেউ আমাকে ভস্ম করতে চাঁচ্ছে কিন্তু আমি হচ্ছিনা জিনিস্টা ভাবলেও ভাললাগে।
কে বলবে এই পাশে বসে থাকা রক্তজবা রঙের শাড়ি পড়া মেয়েটিই আমাকে বারোমাস বসন্তের আবেশে রাঙিয়ে রাখে। তাঁর হাতের উপরে আমার হাত ,আমাদের নিরব গল্প চলে “এই আর একটু আগে আসলেই দেখতে আজকের বৃষ্টি সৌন্দর্য পৃথিবীর সব কিছুকে হার মানাবে শুধু তোমাকে ছাড়া, তোমার কাছে হয়তো তার পরাজয় তাইত তুমি আসতেই চলেগেল সে”, কথা টুকু শুনের একটা ভুবন ভুলানো মিস্টি দিয়ে সে আমার দিকে ফিরে চাইল ...সে হাসলে গালে টোল পরে , কাঁদলে চোখে মায়া ঝরে। সে আর কেউ না সে আমার নীল সুমুদ্রের বুকে যেন রূপোলী জ্যোস্নার আলো, সে আমার মেহেক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now