বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব: ৩
লেখক: অলিভার কুইন (শুভ)
মা ঘুমাতে চলে গেল। খাওয়ার সময় ঐশী
প্রসঙ্গটা আবার তুলল। গলাটা নিচু করে
জিঙেস করল:- হসপিটালে কেন গেছ সত্যি
করে বল?
-এমনি।
-এমনিহলে ঐটা বলার সময় তোমার গলা
কেপে উঠতনা।
-কই গলা কাপল?
-কেপেছে। আমি দেখেছি। সত্যিটা বল
এখন।
-বললাম তো একটু অসুস্থ হয়ছি তাই।
-একটু অসুস্থ হলে সারাদিন সারারাঁত
হসপিটালে কি?
-সারাদিন কোথায়? আমি তো একটু পার্কে
ঘুরছিলাম একা একা।
-মিথ্যে বলে পার পাবেনা। সত্যিটা আমি
জেনেই ছাড়ব। খাওয়া শেষ, এইবার ঘুমাতে
যাও, গল্পের বই পড়ে রাঁত জাগবেনা।
-ওকে মহারাণী। তুমিও যাবে কি আমার
সাথে? দু'জন একসাথে জড়িয়ে ধরে ঘুমাব?
-ইস, শখ কত?
শুভ ঐশীকে জড়িয়ে ধরে ঠোটে কিস করার
জন্য ধীরে ধীরে নিজের ঠোটটা এগিয়ে
নিয়ে যেতে লাগল। ঐশী চোঁখ বন্ধ করে
ফেলল। অনেক্ষণ পরও যখন শুভর ঠোটের
স্পর্শ পেলনা, তখন চোখ খুলল সে। দেখল,
শুভ এক নজরে তাকিয়ে আছে তার দিকে?
-ওভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
-তুমি কি জান, তুমি কত সুন্দর?
-হয়েছে, আর বলতে হবেনা। ভেবেছিলাম,
একটু আদর করবে। সেই সুভাগ্য আমার নেই।
শুভ ঐশীকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে
রুমে যেতে লাগল। ঐশী বলল:- এই কি করছ?
ছাড়।
-আদর করার জন্য রুমে নিয়ে যাচ্ছি।
-লাগবেনা আদর। তুমি নিজে গিয়ে শুয়ে
পড়। আমি আমার রুমে যাব।
-ওকে যাও" ঐশীকে ছেড়ে দিয়ে নিজের
রুমে চলে এল শুভ।
রুমে এসে শুয়ে পড়ল শুভ। তারপর ভাবতে
লাগল। ঐশীকে মিথ্যে বলা উচিত হয়নি
তার। সত্যি কথাটায় বলে দেওয়া উচিৎ
ছিল। একদিন তো সবাই জেনেই যাবে যে
তার কিডনি দুইটা ড্যামেজ হয়ে গেছে।
আজ সারাদিন সে হাসপাতালে ছিল।
শরীরের বিভিন্ন টেস্ট করল। কিন্তু
রেজাল্ট পেল নেগেটিভ। ডাক্তারের
পরামর্শ নিল। কিডনি প্রতিস্থাপন করার
মতো অত টাকা সে পাবেনা। ডাক্তার
বলেছে ডায়ালাইসিস করে বাঁচিয়ে রাখা
যাবে, কিন্তু এতেও প্রতি সপ্তাহে
কমপক্ষে দশহাজার টাকা লাগবে।
এতটাকা সে কোথায় পাবে? সবদিকদিয়ে
বাঁচার আশাটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে শুভর। এই
কথাগুলো ঐশীকে বললে সে সামলে নিতে
পারতনা, না বলে একপ্রকার ভাল করেছে।
চিন্তা করতে করতে সারারাত ঘুমাতে
পারলনা সে।
পরদিন শুভর আম্মু ফোন করে আরেকটা
খারাপ নিউজ দিল। তার আব্বুর চোখ
পরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। চোঁখ
প্রতিস্থাপন করতে হবে। এতটাকা নাই, তাই
অপারেশন হয়নি। টেনশনের উপর টেনশন। কি
করবে সে কিছুই বুঝতে পারলনা।
ঐশী এসে স্বান্তনা দিতে লাগল। শুভর
মলিন মুখটা দেখে সে জিঙেস করল:- শুভ,
কি হয়েছে বলবে?
-ঐশী, আমার আব্বু চিরতরে অন্ধ হয়ে গেল।
আব্বুর অপারেশন হয়নি।
-তোমার আব্বুকে আমাদের এইখানে নিয়ে
এস। আমার আব্বুকে বলে অপারেশন করাব।
-কিন্তু তোমার আব্বুর টাকায় আমি আমার
আব্বুর অপারেশন করবনা।
-পাগলামি করনা শুভ। প্লিজ নিয়ে এস।
-কিন্তু আব্বুর সামনে আমি কি করে যাব?
-তোমার আব্বু তোমাকে চোখের সামনে
না যেতে বলেছে, কিন্তু এখন তো তোমার
আব্বু চোঁখে দেখেনা। তুমি একবার চেষ্টা
করে দেখ।
-ঠিক আছে, আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।
-হুমমমম...... যাও।
বাড়িতে এসে শুভ তার আব্বুকে সব বুঝাল।
কিন্তু কোনমতে রাজি করাতে পারলনা।
বরং শুভকে অপমানিত হয়ে বাড়ি থেকে
বের হয়ে আসতে হল। শহরে ফিরে এল সে।
হসপিটালে গিয়ে এক ডাক্তারের সাথে
তার আব্বুর ব্যাপারে কথা বলল। তারপর
বাসায় ফিরল। ঐশী বা কারও সাথে কথা
বললনা। রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর
চিন্তা করতে লাগল। গভীররাতে উঠে
সে দুইটা চিঠি লিখল। একটা ঐশীর জন্য,
আরেকটা তার বাবার জন্য। তারপর চিন্তা
করতে করতে সারারাত কাটিয়ে দিল।
সকালের দিকে শুভ তার আম্মুকে ফোন
দিল। ফোন রিসিভ করে মা বলল:- হ্যালো
শুভ।
-হ্যালো মা" বলে ফুফিয়ে কেঁদে ফেলল
শুভ।
-কি ব্যাপার কাদছিস কেন?
-এমনি মা, কেমন আছ?
-ভাল আছি বাবা, তুই কেমন আছিস?
-আমি? হ্যা মা ভাল আছি।" বলতে গিয়ে
গলাটা কেপে উঠল তার।
-আমি জানি তোর মন খারাপ শুভ।
-না মা, মোটেওনা। মা, কাল আব্বুকে
বুঝিয়ে এইখানের হসপিটালে নিয়ে
আসবে।
-কিন্তু তোর বাবা রাজি হবে তো?
-আমার কথা না বললে রাজি হবে। বলবে,
শহরে একটা খুব ভাল ডাক্তার এসেছে। যে
টাকার জন্য না, মানুষের সেবার জন্য
চিকিৎসা করে।
-ঠিক আছে, আমি বুঝিয়ে বলব।
-ওকে মা, রাখি তাহলে। ভাল থেকো।
বিষন্ন মনে পার্কে বসে আছে শুভ আর
ঐশী। শুভ বলল:-বাবা দিবসে তোমার
আব্বুকে কিছু গিফট করবেনা?
-করব, একটা দামি কিছু গিফট করতে হবে।
-আমিও একটা দামি জিনিস আমার আব্বুকে
গিফট করব।
-কি?
-এখন বলা যাবেনা। বাবা দিবসের দিন
দেখবে।
-ওকে।
-তোমায় খুব সুন্দর লাগছে আজ।
-মনে হয় প্রথম দেখতেছ।
-না, শেষবার দেখতেছি।
-মানে?
-মানে? মানে হল.... মা....নে..." বলতে
বলতে ঠোটটা এগিয়ে নিয়ে গেল ঐশীর
মুখের দিকে। তারপর আলতো করে চুমু খেল
তার কপালে। আচমকা শুভর এই আলতো
ছোয়ায় শিহরণ বয়ে গেল ঐশীর সারা
শরীরে। চোখ বন্ধ করে ফেলল সে।
নিঃশ্বাস বেড়ে গেল তার। বুক উঠানামা
করতে লাগল ঘনঘন। ঐশীও শুভকে জড়িয়ে
ধরে আলতো করে কিস করল গালে। তারপর
বলল:-তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি শুভ।
-আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি ঐশী।
এইবার চল, বাসায় ফেরা যাক।
-হুমমমম.... চল।" দু'জনে বাসার দিকে পা
বাড়াল।
পরদিন সকাল থেকে শুভকে খুজে পাওয়া
গেলনা। সারাদিন বাসায় ফিরেনি, রাঁতেও
না। ফোনও তার অফ। ঐশী খুব টেনশন করতে
লাগল। এর পরের সকালে সে শুভর রুমে ঢুকল।
দুইটা চিঠি পেল। একটা তার নামে, অন্যটা
শুভর আব্বুর নামে। তার নামের চিঠিটা সে
খুলে পড়তে লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now