বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপারেশন 97......
জুলহাজ ফয়সাল
তিন
অয়নকে কোথাও না দেখে ওর উপর
রাগ হল ও তাহলে আমাকে মিথ্যা
বলেছে। রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে
মেয়েটা কর্ণারের এক টেবিলে গিয়ে
বসল টেবিলটায় আলো খুব কম।
আমার আনিজি লাগা সত্ত্বেও
ওখানে গিয়ে বসে পড়লাম। একটা
ছোকরা ওয়েটার আমাদের দিকে
এগিয়ে আসলো, মেয়েটা আমাকে
জিজ্ঞাসা করল আমি কি খাব। আমি
ধন্যবাদ দিয়ে বললাম আমার একটা
কফি হলেই চলবে । মেয়েটা বলল
কফি তো একবার খেয়েছই এবার
অন্যকিছু খাও বলে একগাদা
খাবারের অর্ডার দিয়ে দিল। প্রায়
সাথে সাথেই ছোকরা খাবার নিয়ে
হাজির। এত দ্রুত খাবার আনতে
দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
খাবার দিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটা
বলল, এক্সকিউজ মি আমি একটু
হাতমুখ ধুয়ে আসছি। মেয়েটা চলে
যাওয়ার সাথেই এক বৃদ্ধ আমার
কাছে এসে বলল, কিরে তুই একাই
এতকিছু খাবি আমাকেও শরিক কর
বলে বার্গারটা নিয়ে পাশের টেবিলে
চলে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে
পড়লাম। অয়ন তাহলে ছদ্মবেশে
এসেছে যদিও ছদ্মবেশটা অনেক
পুরোনো। কিন্তু তবুও আমি ধোঁকা
খেয়েছি কারণ বৃদ্ধটাকে বাহিরে
দেখেছিলাম অথচ ভাবতেও পারিনি ও
অয়ন।
ও যাওয়ার একটু পরেই মেয়েটা এসে
পড়ল। ও বার্গারটা নেই দেখে হাসতে
হাসতে বলল, ওয়াও, তুমি এটা খেয়ে
ফেলেছ? এটা আমার জন্য অর্ডার
করেছিলাম। এটা আমার খুবই প্রিয়
একটা খাবার। আমি লজ্জায় লাল
হয়ে গেলাম। কি বলব বুঝতে না পেরে
অয়নকে দেখিয়ে বলে ফেললাম
বৃদ্ধটা হঠাৎ করে এসে ওটা চেয়ে
বসল। মায়া লাগায় আর না করতে
পারিনি। মেয়েটা বৃদ্ধকে দেখে কেমন
সন্দেহের চোখে তাকাল। তবে তাকে
ওটা খেতে দেখে আর কিছু বলল না।
তাহলে আমরা আসল কথায় এসে
পড়ি কি বল? আমি বললাম অবশ্যই
আসলে আমিও সেটাই চাচ্ছিলাম।
মেয়েটা বলল খুব ভালো তবে আমি
আগে যেটা বলব সেটা হল কারো
সাথে এই ব্যাপারে কোন কথা বলা
যাবেনা কারণ এটা খুব গোপন একটা
সংঘ। আর খুব গোপন একটা কাজ
করার জন্য তোমাকে প্রয়োজন।
আমি বললাম আমাকে কেন? তারপর
হঠাৎ আমার সন্দেহ হল, এরাই কি
তাহলে ব্যাংক হ্যাকের চেষ্টা
করেছিল? কিছুদিন ধরে কেউ বেশ
কয়েকবার ব্যাংক হ্যাকের চেষ্টা
করেছে কিন্তু আমার জন্য পারেনি।
বাংলাদেশের ব্যাংক গুলো
নিরাপত্তার জন্য যে কয়জন বড় বড়
হ্যাকার আছে তাদের মধ্যে আমিও
একজন। তবে এটা তো খুবই
সিক্রেট। সরকারের হাই লেভেলের
কয়েকজন ব্যাতিত আর কেউ চিনেনা
আমাদের। যদি আমার ধারণা সত্যি
হয় তাহলে এরা আমাকে খুজে পেল
কীভাবে? আমি চিন্তিত হয়ে গেলাম।
তুমি কি কিছু ভাবছো? মেয়েটা বলল,
তোমাকে চুজ করার কারণ শুধুমাত্র
তুমিই পারবে সাহায্য করতে। ওহ
আচ্ছা আমি বললাম তো কি সাহায্য
করতে পারি? সেটা আমি তোমাকে
বলতে পারব না আসলে আমি জানিও
না। সেটা আমাদের লিডার নিজেই
তোমাকে বলবে। তবে তুমি যদি
সাহায্য করতে রাজি হও তাহলে তুমি
যত টাকাই চাও পাবে। আমার হঠাৎ
করেই রাগ উঠে গেল। আমি বললাম,
তোমাদের লজ্জা থাকা উচিত যার
কাছ থেকে সাহায্য চাচ্ছ তাকে একটু
সম্মান করতে হয়। আজ সারাদিন
আমাকে দৌড়িয়ে এখন আমার কাছে
সাহায্য চাইছ? আমি টিটকারির একটা
হাসি দিয়ে উঠে পড়লাম। চলে আসার
জন্য ঘুরেছি আর মেয়েটা বলল
শুনো! আমি দাঁড়িয়ে গিয়ে ওর দিকে
ঘুরলাম। আমাকে এর জন্য দুষো না
আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।
মেয়েটার কণ্ঠ শুনে মনে হল সম্ভবত
মেয়েটা সত্যিই নির্দোষ। তবুও
আমি কিছু না বলে ঘুরে দাঁড়ালাম।
এখন আমার কিছু জরুরী কাজ করতে
হবে তবে তার আগে অয়নের সাথে
দেখা করা জরুরি।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now