বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপারেশন 97......
জুলহাজ ফয়সাল
#শেষ_পর্ব
ড্রোনগুলোর খুব দ্রুত টার্গেটের
দিকে যাচ্ছে, অথচ আমি এখনো
ড্রোনগুলোর কমান্ড নিজ হাতে
নিতে পারিনি। এখন মাত্র একটা পথই
বাকি আছে আর তাহলো, পুরো
সার্ভারের সিস্টেম পালটে
সার্ভারটার কন্ট্রোলই হাতে নিয়ে
নেয়া। যাতে ড্রোনগুলোকে ওরা
কন্ট্রোল করতে না পারে। সার্ভারের
কন্ট্রোল নিতে পারলে আশা আছে
ড্রোনগুলোর কমান্ডিং সিস্টেম ও
সামনে এসে পরবে। এমন সময়
আরিফ মেসেজ দিল ওদের ট্রাক
করে ফেলেছে। কোথায় আছে সেটাও
বলল। সুতরাং পুরো সার্ভারটা এখনি
হ্যাক করতে হবে ওরা কিছু বুঝে
উঠার আগেই।
আমি আল্লাহর নামে পুরো
সার্ভারটাই হ্যাক করলাম। আর সাথে
সাথে স্ক্রিনে ড্রোনগুলোর
কমান্ডিং সিস্টেম ভেসে উঠল।
ড্রোনগুলোর কন্ট্রোল নিতে পেরে
খুশিতে লাফিয়ে উঠে শুকরিয়া
জ্ঞাপন করলাম। কেন যেন চোখে
পানি এসে পরেছে। এতক্ষনণে
খেয়াল করলাম মেয়েটা আমাকে
জড়িয়ে ধরে আছে। আমি চুপ করে
রইলাম। বুঝতে পারছি ওকে আমার
প্রতি দুর্বল করতে গিয়ে আমিই ওর
প্রতি দুর্বল হয়ে পরছি। ওকে
ছাড়িয়ে নিয়ে সরাসরি ল্যাপটপের
দিকে তাকালাম। ওর দিকে না
তাকিয়েও বুঝতে পারছি ওর চেহারা
লজ্জায় লাল হয়ে আছে।
আমি ড্রোনগুলো সরাসরি ভারত
মহাসাগরের দিকে অটো কমান্ড
দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম। এখন আর কেউ
চাইলেও ওগুলোর কন্ট্রোল নিতে
পারবেনা। ওগুলো ভারত মহাসাগরে
গিয়ে একে একে সব ধ্বংস হয়ে
যাবে। যাক আলহামদুলিল্লাহ
বাংলাদেশকে অবশেষে ভয়ংকর
ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করতে
পেরেছি। এখন আরেকটা কাজ বাকি
আছে সেটা হলো, হ্যাক হওয়া
টাকাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা।
আমার বিশ্বাস ওরা এখনও টাকা
ক্যাশ করেনি। ওরা টাকাগুলো
ট্রান্সফার করার সময় আমি খেয়াল
করেছিলাম কোথায় ট্রান্সফার
করেছে। আমি ওই ব্যাংকের সার্ভারে
প্রবেশ করলাম, যা ভেবেছিলাম তাই
টাকা এখনও ক্যাশ করেনি হয়ত
একেবারে সবকাজ শেষ করে করবে।
কিন্তু টাকা সরাতে গিয়ে আমি থেমে
গেলাম সরাবো কোথায়, এখনি
বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে সরানো
ঠিক হবেনা। এমন সময় মনে হলো
আমার দুঃসম্পর্কের এক কাজিন
দুবাইয়ের এক ব্যাংকের অফিসার।
ওর সাথে ইমেইলে মাঝে মাঝে কথা
হয়। আমি দ্রুত সংক্ষেপে একটা
ইমেইল করলাম, বললাম টাকাগুলো
যেন সাথে সাথেই ক্যাশ করে ফেলে।
তারপর টাকাগুলো দুবাই ব্যাংকে
ট্রান্সফার করলাম।
আহ! নিজেকে এখন খুব হালকা
লাগছে। মনে হচ্ছে পাহাড় সমবোঝা
মাথা থেকে সরে গেছে। সবকাজ শেষ
বাংলাদেশ এখন "অপারেশন 97"
থেকে নিরাপদ। কিন্তু এখনো একটা
কাজ বাকি আছে সেটা হলো
হেমচন্দ্র সিংকে পাকড়াও করা যাতে
ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করতে
পারে। আমরা ঘর থেকে বের হয়ে
বাকি পাঁচজনকে অতর্কিত আক্রমণ
করে কাবু করে ফেললাম যদিও
একজনকে গুলি করতে হয়েছে।
তারপর বাড়ির সামনে পার্ক করা
একটা গাড়ি আরিফের দেয়া ঠিকানা
অনুযায়ী রওয়ানা হলাম।
বাড়িটার চারপাশে পাঁচিল দেয়া। গেট
ও বন্ধ তাই পাঁচিল টপকে ওপাশে
নামলাম। ওপাশে নামতেই আকাশে
হেলিকপ্টরের আওয়াজ পেলাম।
সাথে সাথে একটা গাছের আড়ালে
লুকালাম। হেলিকপ্টর বাড়ির সামনে
খোলা জায়গায় নেমেছে। হেমচন্দ্র
সিং তাহলে হেলিকপ্টরে পালাতে
চাচ্ছে তার আগেই ওকে ধরতে হবে।
আমরা পিছন দিক দিয়ে বাড়িটায়
ঢুকলাম। ভিতরে ঢুকেই সরাসরি
হেমচন্দ্র সিংয়ের সামনে পরলাম।
হেমচন্দ্র সিংকে দেখে বুঝা যাচ্ছে
রাগে ফেটে আছে। আমাকে দেখে
প্রায় হুংকার দিয়ে উঠল, এই সবকিছু
তাহলে তোর কাজ? আমি বাঁকা একটা
হাসি দিয়ে বললাম কেন সন্দেহ
আছে? লোকটা আমাকে হিন্দিতে
বিশ্রী কিছু গালি দিয়ে বলল, দেশকে
তো বাঁচিয়েছিস এবার দেখি তোকে
কে বাঁচায়। তারপরের ঘটনাগুলো এত
দ্রুত ঘটে গেল যে কিছুই বুঝতে
পারলাম না। হেমচন্দ্র সিং পিস্তল
উঠানোর আগেই আমি গুলি করি।
আমার গুলির পরপরই আরেকটা
গুলির শব্দ পেলাম আর এই গুলিটার
আগেই কেউ আমার মাথার পিছনে
কিছু দিয়ে আঘাত করে, পুরো
দুনিয়াটা আরো একবার অন্ধকার
হয়ে গেল। লুটিয়ে পরার আগে শুধু
এটুকু খেয়াল আছে যে হেমচন্দ্র
সিংকেও লুটিয়ে পরতে দেখেছি।
আমি এখন হাসপাতালে শুয়ে আছি।
পুরো পাঁচদিন পর আজ সকালে
জ্ঞান ফিরেছে। আমার পাশে অয়ন,
আরিফ আর অহনা বসে আছে।
সকালে প্রধানমন্ত্রী সহ বেশকিছু
মন্ত্রী আমাকে দেখে গেছে। সবাই
মোটামুটি আমাকে নিয়ে গর্ব করেছে।
সরকার দুবাই থেকে টাকা ফিরিয়ে
এনেছে। আমার হঠাৎ গায়েব হওয়া
তারপরই টাকা হ্যাক হওয়ায়
হাইকোর্ট আমাকে সন্দেহ করে
ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। সকালের
খবরে আমার ওয়ান্টেড পোস্টার
দেখেছি। এর দায় থেকে আমাকে
মুক্তি দিয়ে মিথ্যা দায়ের জন্য
ক্ষমা চেয়েছে।
অয়ন বলল এই তৃতীয়বারের মত
মৃত্যুর সাথে সাক্ষাত করে আসলি
বুঝলাম না মৃত্যু বারবার তোকে ছেরে
দিচ্ছে কেন। ওর কথায় সবাই হেসে
দিলাম। আমি বললাম হয়তোবা
আমাকে পছন্দ হচ্ছেনা। আচ্ছা
সেদিন রাতে পরে কী হয়েছিল?
জানতে চাইলাম আমি। আরিফ বলল
তোর গুলি সরাসরি হেমচন্দ্র
সিংয়ের ডান চোখে গিয়ে ঢুকে ও
তৎক্ষণাৎ মারা যায়। আর তুই
হেমচন্দ্রকে গুলি করার পরপরই ওর
একজন লোক তোর মাথায় আঘাত
করে তোকে আঘাত করার সাথে
সাথেই অহনা তোকে আঘাত করার
কারনে ওর পিস্তল দ্বারা তোর
আঘাতকারীকে গুলি করে। ওর
পিস্তলের সবগুলো গুলি শেষ হবার
পরও থামেনি। তোকে যেটা দিয়ে
আঘাত করা হয়েছিল সেটা দিয়ে ওর
মাথা ছেঁচে যাওয়ার পর ও একের পর
এক আঘাত করতে থাকে মনে হচ্ছিল
ওকে খুনের নেশা পেয়ে বসেছে।
অনেক কষ্টে ওকে ছাড়িয়েছি।
আমি অহনার দিকে চাইলাম ওর মুখটা
আবারও লজ্জায় লাল হয়ে আছে। ও
মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে চেয়ে রইল
কিন্তু এবার আর আমি অন্যদিকে না
ওর দিকেই চেয়ে রইলাম।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now