বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকার রাতের আলো

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X অন্ধকার রাতের আলো ---মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। শাহাবৃদ্ধি গ্রামের রাতগুলো বরাবরই ছিল শান্ত, কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই শান্তির ওপর এক অদৃশ্য আতঙ্ক নেমে এসেছে। চারদিকে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনা এমনভাবে বেড়ে গেছে যে গ্রামের মানুষ নিজেরাই পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। যুবকরা এগিয়ে এসেছে বেশি, তবে বয়সের ভার পেরিয়েও কিছু বৃদ্ধ তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা, কাদামাটি, হঠাৎ বৃষ্টি—সবই পাহারার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও গ্রামের মানুষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য এই কঠিন দায়িত্বকে সাদরে নিয়েছে। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে সানলাইট ব্যাটারির টর্চ, আবার কারও কাঁধে বৃষ্টির ছাতা বা মাতলা। সবাই মিলে এপাড়া–ওপাড়া ঘুরে দেখছেন, রাতের নিস্তব্ধতায় যেন কোনও অশুভ ছায়া লুকিয়ে না থাকে। সেদিন রাতেও পাহারা চলছিল, তবে বৃষ্টির কারণে তেমন নিয়মিত ছিল না। হালকা কুয়াশা আর অনবরত ঝিরঝিরে বৃষ্টি যেন পাহারাদারদের চোখকে ভারী করে দিচ্ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে গ্রামের এই শিথিল সুযোগই কাজে লাগাল একদল মুখোশধারী ডাকাত। রাতের অন্ধকারে তারা চুপিসারে প্রবেশ করল রমিজ উদ্দিন ভূঁইয়ার বাড়িতে। তাদের হাতে বড় দা, লাঠি, পাইপগান আর নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র—চোখে মুখোশ, আর গলায় রূঢ় গর্জন। মুহূর্তেই তারা পুরো পাড়াকে ঘেরাও করে ফেলল। রমিজ উদ্দিনের বাড়ির ভেতরে প্রথমেই তারা ঢুকে পড়ে মতিনের ঘরে। মতিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু’জন তাকে ঝাঁপটে ধরে হাত-পা বাঁধতে শুরু করল। আরেকজন চিৎকার করে বলল, “চুপচাপ যা আছে দে, না হলে একদম খতম করে দিব!” মতিনের স্ত্রী আতঙ্কে কেঁপে উঠলেন। তার শিশুপুত্র আর স্বামীকে দেখে বুকের ভেতরটা কেমন ভেঙে পড়ছে। আঁচলে মুখ ঢেকে কাঁপা গলায় তিনি অনুনয় করলেন, “নিয়ে যান যা আছে, কিন্তু আমার স্বামী আর বাচ্চাদের কিছু করবেন না। আমি আপনাদের পায়ে ধরি।” এমন সময় হঠাৎ তাদের চার বছরের ছেলে লতিফ ঘুম ভেঙে জেগে উঠল। বাইরে আলো-ছায়ার বিচিত্র খেলা আর ভিতরে অপরিচিত লোকদের দাপাদাপিতে সে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল। চৌকির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার ভয় এমন চরমে ওঠে যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে এক ডাকাতের উপর প্রসাব করে ফেলে। মুহূর্তেই সেই ডাকাত ক্ষিপ্ত হয়ে লতিফকে আঘাত করতে এগিয়ে যায়। কিন্তু আরেক ডাকাত তার হাত ধরে থামিয়ে দেয়। “ছেলেটা ভয়ে করেছে, পাপ করিস না। চুপ।” তার কণ্ঠে অদ্ভুত একটা কঠোরতা আর মানবতা একসঙ্গে মিশে ছিল। লতিফ মায়ের কোলে গিয়ে আরও জোরে কাঁদতে লাগল। তার কাঁপুনি যেন ঘরের অন্ধকারকেও কাঁপিয়ে তুলছিল। মতিনের স্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরে প্রার্থনা করছিলেন—কখন যেন এই ভয়াবহ রাতের ইতি ঘটে। ডাকাতরা ঘরে ঘরে ঢুকে চাল–ডাল, স্বর্ণ–রূপা, যেটুকু পাওয়া যায় সব নিয়ে যায়। পুরো পাড়ায় তখন শুধু কান্না, আহাজারি আর অসহায় মানুষের অবশ হয়ে যাওয়া নীরবতা। রাত শেষে যখন ভোরের আলো ধীরে ধীরে হামাগুড়ি দিয়ে গ্রামে ঢুকল, তখন পাহারাদারদের দল দৌড়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে ডাকাতরা অনেক দূরে পালিয়েছে। গ্রামের লোকজন একে অন্যের ঘরে ছুটে গিয়ে ক্ষতি–ক্ষয়ক্ষতির খবর নিচ্ছে। কেউ মতিনের ঘরে ঢুকে দেখে শিশুটি এখনও মায়ের বুকে লুকিয়ে আছে, ভয় কাটেনি এখনো। মতিনের মুখ ফ্যাকাসে, দড়ির দাগ পড়েছে কবজি আর গোড়ালিতে। সেই দিনের পরে গ্রামের মানুষ আরও একতাবদ্ধ হলো। পাহারা বাড়ল, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হলো, আর প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জন্ম নিল একটাই উপলব্ধি—অন্যায় যতই ভয়ংকর হোক, মানুষের পাশে দাঁড়ালে ভয়কে জিতিয়ে দেওয়া যায়। লতিফের ভয় অথবা তার মায়ের অসহায় আবেদন সেই অন্ধকার রাতের স্মৃতি হয়ে রইল, কিন্তু সেই রাতই গ্রামকে শিখিয়ে গেল একের পাশে অন্যের থাকার শক্তি কতটা মূল্যবান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্ধকার রাতের আলো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now