বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকার পেরিয়ে

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাহীন মিয়া (০ পয়েন্ট)

X পর্ব – ১ শাহিনের বয়স তখন মাত্র সতেরো। গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিল সে, হাতে একটা পুরোনো ফাইল — ভেতরে ভর্তি কাগজপত্র। চোখে ছিল ছোট্ট একটা স্বপ্ন, আর বুকভরা আশা। সকালে কলেজ থেকে ডাক এসেছিল — “ভর্তি হওয়ার জন্য নিয়ে আসুন আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভর্তি ফি।” শাহিনের মনে হচ্ছিল, অবশেষে তার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে এসএসসি পর্যন্ত সে ভালো রেজাল্ট করেছিল, সবাই বলত — “শাহিন বড় কিছু হবে।” কিন্তু তার জীবনটা অন্যরকম হিসাব করেছিল। ফাইল হাতে নিয়ে কলেজে পৌঁছেই বুঝল, ভর্তি ফি ৬৫০০ টাকা। শাহিনের পকেটে ছিল মাত্র ৫০০। সেই টাকা দিয়ে সে শুধু ভর্তি ফরম কিনল, আর বাকিটা কবে, কীভাবে হবে — তা কারো উত্তর নেই। বাবার পুরনো অসুখের জন্য ঘরে জমে থাকা ঋণ পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মা প্রতিদিন গার্মেন্টসে অতিরিক্ত শিফট করছে, শুধু খাবার আর ঔষধের টাকার জন্য। কলেজের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে শাহিন অনেকক্ষণ ভাবল। ভিতরে সহপাঠীরা ভর্তি হয়ে হাসি-আনন্দে মেতে উঠছে, আর সে দাঁড়িয়ে আছে একা, যেন তার জন্য ভেতরে কোনো জায়গাই নেই। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথে মাথা নিচু ছিল তার। মা দরজা খুলে জিজ্ঞেস করল, — “ভর্তি হলো?” শাহিন জোর করে হাসল, বলল, — “কাল যাব, আজ শুধু ফরম কিনলাম।” কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে জানত, হয়তো সেই ‘কাল’ কোনোদিনই আসবে না… **শাহিন মিয়া থেকে সাব্বির হাসান হওয়ার কারন…,,, ভর্তি না হওয়ার পরও বন্ধুরা যেন সেই কষ্টটা বুঝল না। ফেসবুকে তারা কলেজ-লাইফের ছবি পোস্ট করত, ক্লাসের মজা, টিফিনের আড্ডা, ফ্রেশার পার্টির সাজসজ্জা— আর শাহিন চুপচাপ মোবাইল স্ক্রল করত। তার পুরনো ফেসবুক আইডির নাম ছিল “Shahin Mia”। সেই আইডিতে ১২০০+ বন্ধু, কিন্তু তাদের মধ্যে কতজন আসলেই তার? যেদিন টাকা ধার চাইতে ইনবক্স করল, ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই রিপ্লাই করল না। আর যারা করল, তারা নানা অজুহাতে এড়িয়ে গেল। তখনই শাহিন বুঝল, এই ভার্চুয়াল ভিড় শুধু খুশির মুহূর্তে সাথে থাকে, দুঃখের দিনে সবাই অদৃশ্য হয়ে যায়। এক রাতেই সে সিদ্ধান্ত নিল — এই পুরনো আইডি ডিলিট করবে। পরদিন ভোরে নতুন আইডি খুলল: “Sabbir Hasan” — নতুন নাম, নতুন প্রোফাইল ছবি, নতুন শুরু। কেউ জানল না এই নামের পেছনের মানুষ আসলে সেই পুরনো শাহিন। সে নিজের সব ছবি, পুরনো পোস্ট আর স্মৃতি ফেলে দিয়ে শুরু করল এক নীরব জীবন — যেখানে আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না, আর কারো সামনে নিজের কষ্ট লুকাতে হবে না। এখন সে ফেসবুকে শুধু কিছু গান শোনে, গল্প পড়ে, আর মাঝে মাঝে নিজের লেখা পোস্ট করে— কোনো ছবি ছাড়া, কোনো ট্যাগ ছাড়া। মানুষ শুধু পড়ুক, কিন্তু তাকে চিনতে না পারে… ঠিক যেমন সে চায়।,,, যদি আপনাদের ভালো লাগে রিভিও,পাই তবে আমার লাইফ নিয়া লেখারএই গল্পের আরো পার্ট আনব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্ধকার পেরিয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now