বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পৃথিবীতে " অনুমান " শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। কারণ সমস্ত বিশ্বজগতের সব ঘটনাই সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখে যায় না। যার ফলে আমরা একে একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠির অনুমানের ভিত্তিতে ঘটনা গুলো বিবেচনা করি। অনুমানের ভিত্তিতে যে ফলাফল উপস্থাপন করি তা যে শতভাগ সত্য সেটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় না। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে অনুমান একটি নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এটা সত্য। পবিত্র কুরআনেও অনুমানের কথা বলা হয়েছে।
সুরা আন-নিসার ১৫৭ নং আয়াতে আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِى شَكٍّ مِّنْهُ ۚ مَا لَهُمْ بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا
ওয়াকাওলিহিম ইন্না-কাতালনাল মাছীহা‘ঈছাবনা মারইয়ামা রাছূলাল্লা-হি ওয়ামাকাতালুহু ওয়ামা-সালাবূহু ওয়ালা-কিন শুব্বিহা লাহুম ওয়া ইন্নাল্লাযীনাখতালাফূফীহি লাফী শাক্কিম মিনহু মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিন ইল্লাততিবা-‘আজ্জান্নি ওয়ামাকাতালূহু ইয়াকীনা-।
"আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।"
মহান আল্লাহ তাআ'লা মসীহ ঈসা(আ) কে তুলে নিলেন আসমানে। তখন তারা এমন ধাঁধায় পতিত হয়েছিল, তখন বলতে লাগল তারা ঈসা মসীহকে হত্যা করেছিল। অথচ তারা সন্দেহের মাঝে পড়ে ছিল। তারা যা বলেছিল সবই অনুমানের ভিত্তিতে বলেছিল। অথচ ঈসা নবী এখনো জীবিত আছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ থেকে কি এটা বলতে পারি না? অনুমান করা ধাঁধা ছাড়া কিছুই না। তবে কেন আমরা ধাঁধার মাঝে ডুবে থাকব?
*********************************
সুরা আল-আন'আম এ ১১৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِى الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
ওয়া ইন তুতি‘ আকছারা মান ফিল আরদিইউদিললূকা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ইয়ঁ ইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়া ইনহুম ইল্লা-ইয়াখরুসূন।
"আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।"
এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় অধিকাংশ মানুষ অলীক কল্পনা অনুসরণ করে আর অনুমান ভিত্তিক কথা বলে। যার ফলে মানুষ বিপদগামী হয়ে পড়ে আর অন্যকেও বিপদগামী করে দেয়।
অনুমান হলো মানুষকে বিপদগামী করার হাতিয়ার।
********************************
অনেক মানুষেরা এটা মনে করে যে, তারা মরে গেলেই শেষ। পরজগৎ বা পরকাল বলে কিছু নাই। এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআ'লা সুরা আল-জাসিয়াহর ২৪ নং আয়াতে বলেন,
وَقَالُوا مَا هِىَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَآ إِلَّا الدَّهْرُ ۚ وَمَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ
ওয়া কা-লূমা-হিয়া ইল্লা-হায়া-তুনাদ্দুনইয়া-নামূতুওয়া নাহইয়া-ওয়ামা-ইউহলিকুনা ইল্লাদ্দাহরু ওয়ামা-লাহুম বিযা-লিকা মিন ‘ইলমিন ইনহুম ইল্লা-ইয়াজু ন্নূন।
"তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।"
এ আয়াত থেকে এটা বলা যায় যে, অনুমান হলো জ্ঞানহীন ধারণা। এর কোন ভিত্তি নেই।
***********************************
মহান আল্লাহ তাআ'লা সুরা আয-যারিয়াতের ১০ নং আয়াতে বলেন,
قُتِلَ الْخَرّٰصُونَ
কুতিলাল খাররা-ছূন।
"অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক"
অর্থাৎ অনুমানকারীদের উপর আল্লাহর লানত। তিনি তাদের ধ্বংসের কথা বলছেন।
★★★★★★★★★★★★
এছাড়া আল্লাহ তাআ'লা অজ্ঞাত বা অস্পষ্ট ধারণাকে কিভাবে পেশ করতে হয় তা পবিত্র কুরআন এ বলেছেন।
সুরা কাহাফের ২২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
سَيَقُولُونَ ثَلٰثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًۢا بِالْغَيْبِ ۖ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِمْ مَّا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ ۗ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَآءً ظٰهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِمْ مِّنْهُمْ أَحَدًا
ছাইয়াকূলূনা ছালা-ছাতুর রা-বি‘উহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকূলূনা খামছাতুন ছা-দিছুহুম কালবুহুম রাজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকূলূনা ছাব‘আতুওঁ ওয়া ছা-মিনুহুম কালবুহুম কুর রাববীআ‘লামুবি‘ইদ্দাতিহিম মা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লা-কালীলুন ফালা-তুমারি ফীহিম ইল্লা-মিরাআন জা-হিরাওঁ ওয়ালা-তাছতাফতি ফীহিম মিনহুম আহাদা-।
"অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না।"
অর্থাৎ কোন সংখ্যাসূচক অজ্ঞাত বিষয় হলে আমাদের বলা উচিত, আমার পালনকর্তা সে সব সংখ্যাই ভাল জানেন।
******************************
আমরা প্রায় আনুমানিক কথা ব্যবহার করি সময় বা কালের জন্য। এ বিষয়টি সম্পর্কে আল্লাহ তাআ'লা সুরা কাহাফের ২৬ নং আয়াতে বলেন,
قُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا ۖ لَهُۥ غَيْبُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ۖ أَبْصِرْ بِهِۦ وَأَسْمِعْ ۚ مَا لَهُمْ مِّنْ دُونِهِۦ مِنْ وَلِىٍّ وَلَا يُشْرِكُ فِى حُكْمِهِۦٓ أَحَدًا
কুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-লাবিছূ লাহূগাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আবসির বিহী ওয়া আছমি‘ মা-লাহুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ইউশরিকুফী হুকমিহীআহাদা-।
"বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না।"
অর্থাৎ কোন আনুমানিক বিষয় সম্পর্কে বলতে হলে আমাদের উচিত এভাবে বলা,
- একমাত্র আল্লাহই ঐ সময় বা কাল সম্পর্কে ভাল জানেন।
পরিশেষে এটা বলে যাই, আমরা কখনো অনুমান করে কিছু বলব না। কেননা, মহান আল্লাহ তাআ'লা অনুমানকারীর ধ্বংস কামনা করেন।
****************সমাপ্ত**************
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now